.
“উইলিয়াম বললেই খুশি হবো,” হ্যান্ডশেক করতে করতে লোকটা বলল। লোকটা জাতিতে ইংরেজ তবে এখন এখানকার-ই নাগরিক। ব্রিটিশদের দখলকৃত সব এলাকাতেই এরকম অসংখ্য মানুষ দেখা যায়। দেরি করার জন্য দুঃখিত। আসলে হঠাৎ বাতাস পড়ে যাওয়ায় দ্বীপে পৌঁছাতেই দেরি হয়ে গিয়েছিল।” কার্ট বলল।
কেনসিংটন পেঁতো হাসি হাসলেন, “বাতাস সবসময়ই পড়ে যায়। এজন্যেই সম্ভবত মোটর বোট আবিষ্কার করা হয়েছে।”
কথাটায় সবাই হেসে দিল। কথা বলতে বলতে ওরা ভবনের ভেতরে ঢুকে পড়ল। কেনসিংটন পিছনের দরজাটা বন্ধ করে দিলেন। তবে ফেরার আগে আবারও তিনি দরজায় লাগানো ফিনিশীয় জানালার একটা পাত টেনে সরিয়ে, বাইরের দিকটা দেখতে লাগলেন। তারপর সন্তুষ্ট হয়ে ওদেরকে মেইন হলে নিয়ে আসলেন। মেইন হলটাও দারুণ। অনেক খরচ করে বানানো বোঝ যায়। আগামী পরশু নিলামের অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে দেখা গেল। সেটা ছাড়িয়ে ওরা কেনসিংটনের অফিসে চলে এলো। তৃতীয় তলার শেষ মাথায় একটা ছোট চারকোণা রুমে ওনার অফিস। মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত বিভিন্ন পুরাকীর্তি ম্যাগাজিন হাবিজাবি গাদাগাদি হয়ে আছে। ছোট্ট একটা জানালা একপাশে। তাতে গাটু কাঁচ বসানো।
“আঠারো শতকে এটা একটা আশ্রম হিসেবে ব্যবহৃত হতো।” কেনসিংটন ব্যাখ্যা করলেন।
তিনজন বসতেই বাইরে ফ্লাডলাইট জ্বলে উঠল। সাথে শোনা গেল যন্ত্রপাতির আওয়াজ। হাতুড়ি পিটানোর শব্দ আর মানুষের চিৎকার।
“এই রাতের বেলাও কাজ চলছে?” কার্ট প্রশ্ন করল।
“আসলে দিনে পর্যটকরা আসে। তাদের যাতে সমস্যা না হয় তাই রাতেই কাজ করা হয়। পুরো চত্বরটাই সংস্কার করা হচ্ছে।”
“সংস্কারটা রাস্তায় করলে আরো ভালো হতো। আরাম করে চলাচল করতে পারতাম।” জো বলল।
কার্ট কেনসিংটনকে ওর একটা কার্ড দিল।
“NUMA” কার্ডটা পড়তে পড়তে উচ্চারণ করলেন কেনসিংটন। “আপনাদের সাথে তো আগেও কাজ করেছি। এখনও মনে পড়ে মাঝে মাঝে। এবার কীভাবে সাহায্য করতে পারি?”
“আমরা আসলে নিলামের আগে যে একটা পার্টি হবে ওটা সম্পর্কে জানতে চাই।” কেনসিংটন কার্ডটা নামিয়ে রাখলেন, “হ্যাঁ। ব্যাপারটা দারুণ মজার হবে। পরশু রাতে নিলাম অনুষ্ঠান। তার আগে ক্রেতা আকর্ষণ করার জন্যে জিনিসগুলো ঝেড়ে মুছে সবাইকে একবার দেখানো হবে। আপনাদেরকে দাওয়াত দেয়ার ইচ্ছা ছিল কিন্তু এটা আসলে আগে থেকেই নির্ধারিত কিছু মানুষের জন্যে।”
“এই পার্টিতে হবে টা কি?”
“এখানে আসলে অতিথিরা ঠিক করতে পারবেন তারা কোনটা কিনবেন, আর একে অন্যের সাথে পরিচিতও হতে পারবেন, তাতে জানা হয় যে কার সাথে প্রতিযোগিতা করে তাকে জিনিসটা কিনতে হবে।” বলতে বলতে দাঁত বেরিয়ে গেল কেনসিংটনের, “একবার যদি দুজনের মধ্যে অহংবোধের লড়াই বেধে যায়, তাহলে আর ভাবতে হবে না। যে কোনো পুরাকীর্তির-ই আকাশচুম্বী দাম উঠে যায়।
“বুঝতে পারছি।” কার্ট বলল।
“শোনেন, একটা জিনিস গত একশো বা হাজার বছরেও কেউ দেখেনি, সেই জিনিস এক নজর দেখার জন্যে পকেটের পয়সা খরচ করতে কারো আপত্তি নেই।”
“হুম, আর যদি সেটা বাড়ি নিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয়া হয়, তাহলে তো পুরো পকেট উপুড় করে দিতেও আপত্তি হবে না।”
“ঠিক। আর এটা অবৈধ কোনো কাজও না। আর এটা যাদুঘরের উন্নতির স্বার্থেই করা হচ্ছে। আমাদের যাদুঘরটা ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান। শুধু টিকিট বেচা টাকায় আমাদের পোষায় না। তাই সবকিছু চালাতে টাকা লাগবেই।” কেনসিংটন বললেন।
“যা যা জিনিস বেচবেন তার কি কোনো লিস্ট আছে?” কার্ট জিজ্ঞেস করল।
“হ্যাঁ। কিন্তু আসলে আপনাকে দেখানো যাবে না। নিয়ম নেই। আর কিছু ঝামেলাও আছে।”
“নিয়ম?”
“আর কিছু ঝামেলা।” কেনসিংটন আবার বললেন।
“বুঝলাম না।”
কেনসিংটনের কপালে ঘাম জমেছে। আপনি তো সমুদ্রের নানা জিনিস উদ্ধার করেন। আপনি বুঝবেন। কিছু একটা উদ্ধারের ঘটনা জানাজানি হলেই জিনিসটা আসলে কার তা নিয়ে টানাটানি লেগে যায়। মনে করেন একটা
স্প্যানিশ জাহাজ থেকে স্বর্ণ উদ্ধার হলো। তাহলে সেটা আসলে কার হবে? উদ্ধারকারী দল বলবে এটা তাদের। স্প্যানিশরা বলবে ওদের জাহাজ অতএব ওদের। ইনকাদের বংশধররা বলবে আমরা মাটি খুড়ে এই স্বর্ণ বের করেছিলাম, এটা আমাদের। স্বর্ণ নিয়েই এতো গ্যাঞ্জাম, আর পুরাকীর্তির কথা বাদই দিলাম। শুনেছেন নাকি যে মিসর নাকি ইংল্যান্ডের কাছ থেকে রোজেটা পাথর ফেরত নেয়ার জন্য মামলা করবে? রোমের কাছে ল্যাটেরান ও বেলিস্কটাও ফেরত চাইবে। এটা আসলে ছিল কর্ণাক-এর আমুন এর মন্দিরের বাইরে। দ্বিতীয় কনস্টানটিয়াস ওটা নিয়ে যায়। তাঁর ইচ্ছা ছিল কনস্টানটিনোপল-এ নিয়ে যাওয়া। কিন্তু শেষমেশ রোমেই থেকে যায়।”
“তার মানে আপনি বলতে চাচ্ছেন…”।
কেনসিংটন ভনিতা বাদ দিয়ে সরাসরিই বলে দিলেন, “জিনিসগুলোর অস্তিত্ব প্রকাশিত হবার সাথে সাথে কাড়াকাড়ি শুরু হবে। দুনিয়া ব্যাপী মামলা লড়ার আগে অন্তত একটা রাত আমরা আরামে থাকতে চাই।”
গল্পটা ভালোই। অর্ধেকটা সত্যি হলেও হতে পারে। তবে কেনসিংটন কিছু লুকাচ্ছেন। “মি, কেনসিংটন,..” কার্ট বলতে গেল।
“উইলিয়াম বলবেন প্লিজ।”
“এসব করার কোনো ইচ্ছে ছিল না কিন্তু আমার আর কোনো উপায় নেই।” কার্ট বলে ডা. আমব্রোসিনির দেয়া ছবিগুলো বের করে ডেস্কের ওপর ফেলল।
