“সেটা কীভাবে সম্ভব?” গামায় জিজ্ঞেস করল।
“কেউ জানে না। কিছু মনে না করলে এব্যাপারে আপনাদের সাহায্য কী পেতে পারি?” রেজা জিজ্ঞেস করল।
পল একবার তার স্ত্রীর দিকে তাকাল। চোখে চোখে কথা হলো দুজনের। “অবশ্যই। সাহায্য করতে পারলে খুশি-ই হবে। যদি আপনি আমাদেরকে হোটেলে পৌঁছার জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করতে পারেন, তাহলে আমরা ওখান . থেকে আমাদের জিনিস পত্র নিয়ে আপনার সাথে যোগ দিতে পারি।”।
“চমৎকার। এই রাস্তার মাথাতেই আমার ল্যান্ড রোভারটা আছে।” হাসি মুখে বললেন রেজা।
.
১৬.
ভ্যালেটা বন্দর, মাল্টা
ভ্যালেটা বন্দরে আসলে মনে হবে যেন ভুল করে অতীতে চলে আসা হয়েছে। যখন মাল্টা শাসন করতে বেশ কিছু ক্ষমতাধর ব্যক্তি। আর এটার মতো একটা ক্ষুদ্র বন্দরও আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য আর ভূমধ্যসাগর নিয়ন্ত্রণের জন্যে খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সী ড্রাগন বন্দরের মুখে ঢুকতেই দেখলো এটার চেহারা এখনো সেই স্বর্ণালি অতীতের মতোই ঝলমল করছে। উনিশ শ আশি, নব্বই, এমনকি সত্তরের দশকে জন্ম নিলেও কার্টের এখানে থাকতে কোনো আপত্তিই থাকতো না। সামনে তাকাতেই কার্থেলাইট গীর্জার গম্বুজ চোখে পড়ল। ওটার পিছনেই সূর্য ডুবছে। ওটার চারপাশ জুড়ে আরো অনেক প্রাচীন ভবন আর গীর্জা দাঁড়িয়ে আছে। শুধু এই বন্দরের নিরাপত্তার জন্যেই আলাদা রক্ষীদল আর চার চারটা দুর্গ তৈরি করা হয়েছিল। এখান থেকে এখনও চোখে পড়ে সেগুলো।
ফোর্ট মানোয়েল বানানো হয়েছে লম্বা খাড়িটার একটা বাকের মুখে। আর ফোর্ট সেইন্ট এলমো উপদ্বীপটার একদম মাথায় অবস্থিত। পাঁচ হাজার বছর বয়স হয়ে গিয়েছে এগুলোর। বাইরের পাথরের দেয়াল ক্ষয়ে গেছে, দেখতে ভয়ঙ্কর লাগে। ঠিক এটার উল্টোদিকে বন্দরের ডান দিকে হলো ফোর্ট রিকাসোলি। এই দুৰ্গটা দেখতে অন্যগুলোর চেয়ে কিছুটা আলাদা। আকারেও ছোটখাটো। এটার দেয়াল একেবারে বন্দরে ঢোকার মুখ পর্যন্ত বিস্তৃত। একটা ছোট বাতিঘরও আছে দেয়ালের শেষ মাথায়। আর একেবারে বন্দরের ভেতরের দিকে আছে ফোর্ট সেইন্ট অ্যাঞ্জেলো। একদম পানির কিনার থেকে সোজা ওপরে উঠে গেছে।
শুধু দুর্গগুলোই না এখানকার বাঁধ, দালালনকোঠা, বা প্রাকৃতিকভাবেই দুকূলে সৃষ্ট খাড়া তীর সবই একই রকম তামাটে পাথরে তৈরি। এ থেকেই বোঝা যায় মাল্টা একসময় শৌর্যে বীর্যে কতটা এগিয়ে ছিল।
এজন্যেই দেখে মনে হয় পুরো দ্বীপটাই বোধহয় একই সাথে একটাই পাথর কেটে কেটে বানানো হয়েছে। সবকিছুতে এতো মিল।
চারপাশ দেখতে দেখতে জো বিস্মিত হয়ে বলল, “ভেবে পাচ্ছি না বাইরের কারো পক্ষে এই দ্বীপ দখল করা কীভাবে সম্ভব?”
“নির্বোধ লোকদেরকে বোকা বানিয়ে। আর সেজন্য লাগে বিভ্রান্ত করা আর শয়তানি চাল। নেপোলিয়ন মিসর যাওয়ার পথে রসদপত্র কেনার উদ্দেশ্যে এই দ্বীপে আসেন। স্থানীয়রা দেখলো টাকা কামানোর এই সুযোগ, তাই তাঁকে বাধা দিল না। যেই না তার জাহাজ এই দুর্গের আওতার বাইরে চলে গেল ওমনি উনি মাটিতে সৈন্যবাহিনী নামিয়ে লোকদের ঘরে ঘরে আক্রমণ শুরু করলেন।” কার্ট বলল।
“এতো দেখি ট্রয়ের ঘোড়ার মতো অবস্থা, শুধু ঘোড়ার বদলে এখানে জাহাজ।” জো মন্তব্য করল।
সী ড্রাগন ইতোমধ্যে বন্দরের ভেতরের দিকে চলে এসেছে। নোঙ্গর করার জায়গা খুঁজছে। বন্দরের এই দিকটা অবশ্য বেশ আধুনিক। ছোট ঘোট ট্যাংকার থেকে তেল নামানো হচ্ছে, পাশেই কয়েকটা প্রমোদরী আর বিশাল দুটো মালবাহী জাহাজ। সী ড্রাগনও এগুলোর পাশেই থামল।
ঘাটে পুরোপুরি লাগার আগেই কার্ট আর জো লাফ দিয়ে জাহাজ থেকে নেমে তড়িৎ নেমে পড়ল রাস্তায়।
“দুজন লোককে সব সময় পাহারায় রেখো। আশেপাশে বিপজ্জনক লোকে ভরা।” যেতে যেতে চেঁচিয়ে বলল কার্ট।
“তোমাদের মতো নাকি সবাই?” রেনল্ডসও জবাব দিল চিৎকার করে। কার্ট হাসলো।
“বেশি ঝামেলা করো না। পুলিশে ধরলে জামিন করানোর টাকা কিন্তু নেই।” রেনল্ডস আবারও বলল।
কার্ট জবাবে কিছু না বলে হাত নাড়লো। ও আর জো যাচ্ছে মাল্টা সমুদ্ৰতাত্ত্বিক যাদুঘরের কিউরেটরের সাথে দেখা করতে। এমনিতেই দেরি হয়ে গেছে।
“কিউরেটর সাহেব কি এখনও আছে বলে মনে হয়?” জো জিজ্ঞেস করল। একটা ট্যাক্সি ধরার চেষ্টা করছে।
কার্ট আকাশের দিকে তাকাল। সন্ধ্যা হতে দেরি নেই। “বলতে পারছি না। থাকতেও পারে।”
ক্যাব ড্রাইভার দেখা গেল দারুণ পটু। গিজগিজে সরু সরু গলি ধরেও সবচে কম সময়ে ওদেরকে যাদুঘরের সামনে এনে নামিয়ে দিল। গেটের পাশেই গ্রিক সমুদ্র দেবতা পসাইডনের একটা মূর্তি।
ট্যাক্সি ভাড়া মিটিয়ে কার্ট আর জো সামনে বাড়লো। একপাশে নতুন কি যেন বানানো হচ্ছে। সেদিকটা ঘেরা। ওরা সেটা পেরিয়ে যাদুঘরের মূল ভবনের সিঁড়ি বেয়ে উঠে এলো।
মূল ভবনটা এক কথায় দুর্দান্ত। দুপাশেই পাথরের সিংহ মূর্তি। সামনেটা দেখেই কাটের নিউ ইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরির কথা মনে পড়ে গেল। দরজার কাছে পৌঁছাতেই সিকিউরিটি আটকালো ওদের। কার্ট আর জো নিজেদের পরিচয় আর আসার উদ্দেশ্য বলতেই সিকিউরিটি ভেতরে ফোন করল ওদের কথা জানানোর জন্যে।
কিছুক্ষণ পরেই দুই কনুইতে ছাপ্পাওয়ালা টুইডের জ্যাকেট পরা রাশভারী একজন লোককে দেখা গেল দরজায়।
কার্ট হাত বাড়িয়ে বলল, “ড. কেনসিংটন?”
