কেইটেন প্রজেক্ট আবার কী? জানতে চাইলেন সিনেটর।
দুনিয়াকে ব্ল্যাকমেইল করার একটা প্ল্যান, তিক্তস্বরে ব্যাখ্যা করল পিট।
আশ্চর্য! বিস্ময় প্রকাশ করল লরেন। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের হত্যাকাণ্ড ও ধ্বংসযজ্ঞ থেকে কিছুই আপনারা শেখেন নি? মিথ্যে গর্ব আর লোভের বশে আবার আপনারা নিজেদের সর্বনাশ করতে চান? যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউরোপ একযোগে ঝাঁপিয়ে পড়বে জাপানের ওপর, এই সরল সত্যটা আপনি উপলব্ধি করতে পারছেন না?
সুমার ঠোঁটে বাঁকা হাসি। কী মূল্য দিতে হবে, এটা বুঝতে পারলে সবাই ওরা পিছিয়ে যাবে, দৃঢ় আত্মবিশ্বাসের সুর তার গলায়। সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে ঘোষণা করবে, সমস্যাটা তারা কূটনৈতিক পদ্ধতির সাহায্যে সমাধান করবে। এছাড়া আর কি-ই বা তাদের করার আছে?
জাপানকে এর জন্যে চড়া মুল্য দিতে হবে, বললেন সিনেটর ডিয়াজ। আমার ধারণা, এটা আপনার ব্যক্তিগত পাগলামি। সরকার বা জনসাধারণ কিছুই জানে না। ব্যক্তিগত ক্ষমতার লোভ আপনাকে এ পথে নিয়ে এসেছে।
ধন্যবাদ, সিনেটর। সম্পূর্ণ শান্ত সুমা। আপনি ঠিকই ধরেছেন। আপনার দৃষ্টিতে আমি একটা ক্ষমতালোভী ম্যানিয়াকই। আপনার অভিযোগ আমি অস্বীকার করব না। তবে এ কথা বলব, ইতিহাসের অন্যান্য ম্যানিয়াকদের মতোই, আমিও আমার দেশকে রক্ষা করতে চাই, রক্ষা করতে চাই জাপানের সার্বভৌমত্ব। অস্তিত্ব বজায় রাখতে হলে জাপানকে পেতে হবে অবাধ বাণিজ্যের সুযোগ, পশ্চিমা অপসংস্কৃতির বদলে গোটা বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে জাপানি কালচার। সেজন্যে প্রয়োজনে আমরা শক্তি প্রয়োগ করতেও পিছপা হব না।
অপসংস্কৃতি বলতে আপনি কী বোঝাতে চান? প্রশ্ন করলেন সিনেটর। তার দিকে ঘৃণাভরে তাকাল সুমা। নিজের দেশের দিকে তাকান, সিনেটর। ড্রাগ অ্যাডিক্টদের দখলে চলে গেছে গোটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট। নেপথ্যে থেকে দেশটাকে শাসন করবে ইহুদি আর মাফিয়া। হত্যা-খুন-ধর্ষণ-সন্ত্রাস প্রতিটি রাজ্যে প্রতি মুহূর্তে বাস্তবতা। আপনাদের কালচার পাঁচমেশালি, তাই জাতিগত দাঙ্গা লেগেই আছে। আপনাদের পতন ঘটছে, যেমন পতন ঘটেছে গ্রীস, নোম ও ব্রিটেনের। এই পতন প্রক্রিয়া থামানোর কোনো উপায় নেই।
কিন্তু জাপানি কালচার জাপানিদের জন্যে অন্যান্য জাতি তা গ্রহণ করবে কেন? সব জাতিরই তো গর্ব করার মতো নিজস্ব সংস্কৃতি আছে। তাছাড়া, সমাজ যদি কালচারের প্রতিচ্ছবি হয়, জাপানি কালচারেরই বা অবস্থা কী? আপনাদের ক্রিমিন্যালেরা এতো শক্তিশালী, বলা যায় আড়াল থেকে ওরাই সরকারকে চালায়। মন্ত্রী বলুন, প্রধানমন্ত্রী বলুন, সবাই ঘুষখোর। শুধু লাভের জন্যে এমন কোনো দেশ নেই যাদের কাছে আপনারা হাইলি সিক্রেট মিলিটারি টেকনলজি বিক্রি করছেন না। সুযোগ পেলেই আপনারা অন্য দেশের গোপন প্রযুক্তি চুরি করছেন। তারপরও বলছেন, জাপানি কালচার শ্রেষ্ঠ?
রাগে লালচে হয়ে উঠল সুমার মুখ। জাপানে এ সব যা দেখছেন, সেই পশ্চিমা অপসংস্কৃতির অনুপ্রবেশের ফল। আমাদের কালচার আবার নিখাদ হয়ে উঠবে। পয়তাল্লিশ বছর আগে আমরা ছিলাম পরাজিত একটা জাতি, যুক্তরাষ্ট্র সেই থেকে আমাদের মাথার ওপর ছড়ি ঘুরিয়েছে। আজ, হঠাৎ করে, বিজয়ী জাতি হিসেবে উদয় হয়েছি আমরা। শিল্প বা বাণিজ্যে আমরা অপরাজেয়, অন্যান্য যে-কোনো জাতির চেয়ে কারিগরি জ্ঞানে শ্রেষ্ঠ। জাতি হিসেবে আমরা কঠোর পরিশ্রমী, এ সবের সাথে এখন যোগ হয়েছে পারমাণবিক শক্তি। কে আমাদের ঠেকায়?
কিন্তু আপনি কি দুনিয়ার সবাইকে চিরকালের জন্য জিম্মি করে রাখতে পারবেন? জিজ্ঞেস করল পিট। তাছাড়া জাপানের সরকার ও জনসাধারণ আপনাকে ছাড়বে কেন, তারা যখন দেখবে সুপার পাওয়ারগুলো জাপানের দিকেও অরহেড তাক করে রেখেছে? রাশিয়ায় বা যুক্তরাষ্ট্রের কোথাও যদি দুর্ঘটনাবশত আপনার একটা গাড়ি-বোমা ফেটে যায়, আবার একটা নিউক্লিয়ার অ্যাটাকের ঝুঁকিতে পড়বে জাপান, সে কথা ভেবে দেখেছেন?
মাথা নাড়ল সুমা। আমাদের ইলেকট্রনিক সেফগার্ড রাশিয়া বা যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে অনেক বেশি অ্যাডভান্সড। আমি নিজে ব্যক্তিগতভাবে কারেক্ট কোড প্রোগ্রাম না করতে কোনো বিস্ফোরণ ঘটবে না।
শব্দ করে দম ছাড়ল লরেন। অসম্ভব, অবিশ্বাস্য আপনি একটা পারমাণবিক যুদ্ধ শুরু করতে পারেন না।
হেসে উঠলো সুমা। পারমাণবিক যুদ্ধ বলতে রাশিয়া বা যুক্তরাষ্ট্র যা বোঝে, আমরা বোকার মতো সে রকম কিছু করতে যাচ্ছি না। আমরা অ্যাটম বোমা ফাটালে কোনো শহর ধ্বংস হবে না, মানুষও তেমন একটা মরবে না। ওগুলো ফাটানো হবে নির্জন এলাকায়, বিশাল একটা ইলেকট্রেম্যাগনেটিক ফোর্স তৈরি করার জন্যে, উন্নত বিশ্বের অর্থনীতি পুরোপুরি ধ্বংস করার লক্ষে।
তার মানে সত্যি বোমাগুলো আপনি ফাটিয়ে দেবেন, তাই না?
কেন ফাটাব না, ফাটাবার জন্যেই তো ওগুলো তৈরি করে বিভিন্ন দেশে পাঠানো হয়েছে। তবে আক্রমণটা হবে বিশেষ ধরনের। আমরা কাউকে জানে মারব না। মারব ভাতে। প্রথমে অকেজো করা হবে যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটো ও রাশিয়ার কমিউনিকেশন ও উইপন সিস্টেম। জাপানি শিল্পপতি ঠাণ্ডা চোখে তাকিয়ে আছে পিটের দিকে। তবে আমার বিজয় দেখার জন্যে আপনি উপস্থিত থাকবেন না, ডার্ক। সত্যি আমি দুঃখিত।
