সামনে এসে মাথা নত করল তোশি কুদো। তার পরনে নীল সিল্ক কিমোনো। দেরি হবার জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন মি, সুমা। তবে একটু পরই এসে পড়বেন তিনি। আপনাদের কী দেব, বলুন?
আপনি চমৎকার ইংরেজি বলেন, প্রশংসা করল লরেন।
লাজুক হাসি দেখা দেয় তোশির ঠোঁটে। ফ্রেঞ্চ, স্প্যানিশ, জার্মান ও রুশ। ভাষাও জানি আমি।
ধন্যবাদ, ডিনারের আগে আমার কিছু দরকার নেই, বলল লরেন।
গার্ডদের নির্দেশে লরেন ও সিনেটর ডিয়াজকেও কিমোনো পরতে হয়েছে। আমার দরকার আছে। কারণ আমি খুব অস্বস্তিবোধ করছি। কী দিতে পারেন আপনি, শুনি?
জিন, ব্র্যান্ডি, হুইস্কি, শ্যাম্পেন, লেমন জুস।
জিন।
তোশি একজন ওয়েটারকে ইঙ্গিত করল, ট্রে হাতে অপেক্ষা করছে সে।
টেবিলটা ছজনের জন্যে সাজানো হয়েছে দেখে লরেন জানতে চাইল, মি. সুমা ছাড়া আর কে যোগ দেবেন আমাদের সঙ্গে?
মি. সুমার ডান হাত মি. মুরো কামাতোরি ও দুজন বিদেশি অতিথি।
বিদেশি জিম্মি, সন্দেহ নেই, বিড় বিড় করলেন সিনেটর ডিয়াজ। ওয়েটারের ট্রে থেকে জিন ভর্তি একটা গ্লাস তুলে নিলেন তিনি, এগিয়ে গিয়ে একটা ছবির সামনে দাঁড়ালেন। পাখির চোখ দিয়ে দেখা একটা জেলেদের গ্রাম। কত দাম এটার? জানতে চাইলেন তিনি।
ছয় মিলিয়ন মার্কিন ডলার, মার্জিত কণ্ঠস্বর, বিশুদ্ধ ইংরেজি উচ্চারণ।
দুজনেই ওরা ঘুরে দাঁড়ালো। হিদেকি সুমাকে দেখামাত্র চিনতে পারলেন সিনেটর ডিয়াজ। বহু পত্র-পত্রিকায় তার ছবি দেখেছেন। গুহা আকৃতির কামরায় ধীর পায়ে ঢুকলো সুমা, তার ঠিক পেছনেই রয়েছে কামাতোরি। সুমার ঠোঁটে স্মিত হাসি। দ্য লিজেন্ড অভ প্রিন্স জেনজি, ছবিটার নাম বলল সে। আঁকা হয়েছে চৌদ্দশো পঁচাশি সালে শিল্পীর নাম টয়োমা। আপনার রুচির মধ্যে কমার্শিয়াল একটা ভাব আছে, সিনেটর ডিয়াজ। সবচেয়ে দামী ছবিটাই আপনার দৃষ্টি কেড়েছে।
এগিয়ে এসে হাতটা বাড়িয়ে দিল সুমা। হিদেকি সুমা। মাথাটা নত করল সে। আশা করি আমার প্রধান সহকারী মুরো কামাতোরির সাথে আগেই আপনার পরিচয় হয়েছে।
হ্যাঁ, তিক্ত কণ্ঠে বললেন সিনেটর। আমাদের জেলার।
এবং অত্যন্ত অস্ত্র, যোগ করল লরেন।
কিন্তু ভারী যোগ্য, বিদ্রুপাত্মক সুরে বলল সুমা। কামাতোরির দিকে ফিরল। সে। আমাদের দুজন অতিথিকে যে দেখছি না?
কামাতোরি কিছু বলার আগে পায়ের শব্দ ভেসে এলো। ঘাড় ফিরিয়ে তাকালো সবাই কামরায় ঢুকল পিট ও অ্যাল, সঙ্গে দুজন রোবট সেন্ট্রি। এখনো ওরা ওদের ফ্লাইং স্যুট পরে আছে, তবে গলায় রঙচঙে একটা নেকটাই রয়েছে। কিমোনো পরার নির্দেশ পালন করে নি ওরা, শুধু ফিতে কেটে গলায় বেঁধে নিয়েছে।
ওরা তোমাকে সম্মান দেখাতে রাজি নয়, হিসহিস করে বলল কামাতোরি। ওদের দিকে এগোল সে, তবে একটা হাত বাড়িয়ে তাকে বাধা দিল সুমা।
পিট! হাঁপিয়ে উঠল লরেন। অ্যাল! ছুটে এলো সে, পাগলের মতো চুমো খেলো পিটের মুখে। ওহ্ গড! কাউকে দেখে এতো খুশি হই নি কখনো। এরপর অ্যালের হাত ধরে চাপ দিল সে। তোমরা এখানে কীভাবে এলে?
একটা জাহাজ থেকে উড়ে এসেছি, হাসি মুখে বলল পিট।
কানে এলো, এখানে নাকি অনেক রকম সার্কাস দেখানো হয়, তাই চলে এলাম, বলল অ্যাল, সে-ও হাসছে।
ডার্ক, মি. অ্যাল, বলল সুমা। আপনাদের মতো বিখ্যাত লোকদের সঙ্গে পরিচিত হয়ে সত্যি আমি নিজেকে সম্মানিত মনে করছি।
কার সঙ্গে কথা বলছি আমরা? জানতে চাইল অ্যাল। সার্কাসের কোন জোকার?
আমি হিদেকি সুমা। ওয়েলকাম টু সোসেকি আইল্যান্ড।
আপনার সঙ্গে পরিচিত হয়ে খুশি হয়েছি, এ কথা বলতে পারছি না বলে আমি দুঃখিত, মি. সুমা। আপনার অগাধ টাকা থাকতে পারে, কিন্তু সে তো চোর ডাকাতদেরও থাকে। আপনার ক্ষমতাও অনেক, তবে শয়তানের ক্ষমতাও কম নয়।
অপমানিত হতে অভ্যস্ত নয় সুমা, হতভম্ব হয়ে পিটের দিকে তাকিয়ে থাকলো সে।
সুমা কামরায় ঢোকার পর টেবিলের ওপর ট্রে রেখে বেরিয়ে গেছে ওয়েটার। তোশি সেদিকে এগোচ্ছে দেখে নড়ে উঠল অ্যাল। চমৎকার জায়গা, সুন্দরভাবে সাজানো, বললো সে। আরো ভাল লাগছে সুন্দরী সঙ্গিনী থাকায়।
সিনেটর ডিয়াজ হ্যান্ডশেক করলেন পিটের সাথে। আবার দেখা হওয়ায় ভারী ভালো লাগছে, বললেন তিনি। আরো খুশি হতাম যদি পেছনে করে একটা ডেল্টা টিম নিয়ে আসতেন।
ওদেরকে রিজার্ভ রাখা হয়েছে, শেষ চাল দেয়ার জন্যে।
এসব কথা শুনতে না পাবার ভান করে একটা সুদৃশ্য চেয়ারে বসল সুমা। ড্রিঙ্কস, জেন্টলমেন?
টেকুইলা মার্টিনি, অর্ডার দিল পিট।
আপনি, মি. অ্যাল? জিজ্ঞেস করল তোশি।
আ বার্কিং ডগ, যদি জানে কীভাবে তৈরি করতে হয়।
খানিকটা জিন, সামান্য ড্রাই ভারমুখ, সামান্য সুইট ভারমুথ…, তোশি শুরু করল।
রীতিমত একটা প্রতিভা, বলল লরেন। কয়েকটা ভাষায় কথা বলতে পারেও।
ওকে আমার খুব পছন্দ হয়েছে, বলল অ্যাল, কাতর দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তোশির দিকে। চোখাচোখি হতে ক্ষীণ একটু হাসল মেয়েটা।
এসব ঠাট্টা-ইয়ার্কি রাখুন তো! প্রায় গর্জে উঠলেন সিনেটর ডিয়াজ। এমন ভাব দেখাচ্ছেন, আমরা যেন কোনো বন্ধুর ককটেল পার্টিতে এসেছি। ইতস্তত করলেন এক সেকেন্ড, তারপর সুমার দিকে ফিরে সরাসরি জানতে চাইলেন, ব্যাখ্যা করুন, কেন আমাদেরকে কিডন্যাপ করা হয়েছে? এই মুহূর্তে উত্তর চাই আমি।
