এরপর কী ঘটবে? জানতে চাইলেন প্রেসিডেন্ট।
বিস্ফোরণের সাহায্যে কমান্ড সেন্টার কিছু সময়ের জন্যে অচল করে দেওয়া হবে। তারপর ওরা মিস লরেন ও মি, ডিয়াজকে উদ্ধার করবেন। সব কিছু যদি প্ল্যান মতো চলে, হিদেকি সুমাকে গ্রেফতার করবেন ওঁরা। ওঁদের কাছ থেকে সিগন্যাল পাবার পর পানির ওপর মাথা তুলবে আমাদের একটা সাবমেরিন, ডেল্টা টিম পাঠানো হবে দ্বীপ থেকে ওদেরকে উদ্ধার করে আনার জন্যে। তারপর দ্বীপ থেকে ওদেরকে উদ্ধার করে আনার জন্যে। তারপর দ্বীপে নামবে আমাদের মেরিন কমান্ডোরা, পুরোপুরি ধ্বংস করে দেবে কমান্ড সেন্টার।
.
৪৬.
গ্রেফতার করার ঘটনাটার ভিডিও টেপে দেখে পিট ও অ্যালকে চিনতে পারল রয় ওরশিয়া। খবরটা সঙ্গে সঙ্গে মুরো কামাতোরিকে জানালো সে।
ডার্ক পিটকে খুন করার দায়িত্ব আগেই দেওয়া হয়েছে কামাতোরিকে, খবরটা শুনে উল্লাস অনুভব করল সে। ওরশিয়াকে বিদায় করে দিয়ে ধ্যানে বসল, ধ্যান ভাঙার পর প্ল্যান করতে বসল কীভাবে মারা যায় শত্রুকে। বিড়াল যেমন ইঁদুরকে নিয়ে খেলে পিটকে নিয়ে সে রকম একটা খেলা খেলতে ইচ্ছে হলো তার। তাতে প্রমাণ হয়ে যাবে পিটের মতো দক্ষ ও যোগ্য একজন শত্রুর সাথে লড়ার ক্ষমতা তার আছে কিনা। ডার্ক পিট নাকি একাই একশো। দেখা যাক। সুমার বিরোধিতা করেছে, এমন বহু লোকের সঙ্গে এ ধরনের খেলা খেলেছে কামালোরি, কেউ তারা যোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রমাণ করতে পারে নি নিজেকে।
পিট ও অ্যালকে একদল সেন্ট্রি রোবট সারাক্ষণ পাহারা দিয়ে রাখছে। ওদেরকে যারা গ্রেফতার করেছে, সেই রোবটদের একটার সাথে খানিকটা বন্ধুত্ব পাতাবার চেষ্টা করল অ্যাল। আলাপটা এভাবে শুরু করল সে, কেমন আছ, মনা?
আমার নাম মনা নয়, ইংরেজিতে বলল রোবট। আমার নাম মুরাসাকি। মুরাসাকি মানে হলো লালচে-বেগুনি।
লালচে-বেগুনি? কিন্তু তোমার গায়ে তো হলুদ রঙ। মনা নামটাই তোমাকে মানাবে।
আমাকে তখনো পুরোপুরি তৈরি করা হয় নি, একজন শিন্টো প্রিস্ট ফুল আর খাদ্যবস্তু প্রসাদ হিসেবে বিতরণ করে আমার নাম রাখেন মুরাসাকি।
পিটের দিকে ফিরল অ্যাল। আমার সঙ্গে ঠাট্টা করছে নাকি?
পিট কিছু বলল না।
তুমি তাহলে, ফিরল আবার অ্যাল। সত্যি ইয়ার্কি মারছে, না?
কী করে বলি। তুমি বরং জিজ্ঞেস করে দেখো, পালাতে চেষ্টা করলে কী করবে সে।
মুরাসাকি জবাব দিল, আমি আমার সিকিউরিটি অপারেটরকে সতর্ক করব, গুলি করব খুন করার জন্যে, যেভাবে আমাকে কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
তোমার লক্ষ্য কি অব্যর্থ? জানতে চাইল পিট। কার্পেটের ওপর শুয়ে আছে ও।
আমার কর্মসূচিতে ব্যর্থ হবার কোনো নির্দেশ নেই।
পরিস্থিতি বোঝা গেল, হতাশ গলায় বললো অ্যাল।
দ্বীপ ছেড়ে তোমরা পালাতে পারবে না, আর দ্বীপে লুকাবারও কোনো জায়গা নেই।
বাইরে থেকে নক হলো, স্লাইডিং দরজা একপাশে সরিয়ে ভেতরে ঢুকল এক লোক। রোবটের পাশে দাঁড়ানো অ্যালের দিক থেকে পিটের দিকে তাকালো সে, বলল, আমি মুরো কামাতোরি। মি. হিদেকি সুমার প্রধান সহকারী।
অ্যাল জিওর্দিনো, এক গাল হেসে একটা হাত বাড়িয়ে দিল সে, যেন কতদিনের বন্ধু তারা। বিশ্রামরত ওই ভদ্রলোক আমার বন্ধু, মি. ডার্ক পিট। বিনা নিমন্ত্রণে উদয় হওয়ায় দুঃখিত আমরা, তবে…।
তোমাদের পরিচয়, কীভাবে সোসেকি দ্বীপে এসেছ, এ সবই আমরা জানি, অ্যালকে বাধা দিয়ে বলল কামাতোরি। ভুল বোঝানোর জন্যে মিথ্যে গল্প বানিয়ে কোনো লাভ হবে না। একটা খবর শুনে মনে ব্যথা পাবে তোমরা, তবু না বলে পারছি না। ডাইভারশন ক্রিয়েট করে কোনো লাভ হয় নি। এভো সিটি থেকে টানেলে নামার খানিক পরই তোমাদের তিন বন্ধু ধরা পড়ে গেছে।
নিস্বব্ধতা নামল কামরার ভেতর। কামাতোরির দিকে কঠিন দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে অ্যাল। তারপর চোখ ফেরালো পিটের দিকে, চেহারায় প্রত্যাশা। সম্পূর্ণ নির্লিপ্ত পিট। এখানে পড়ার মতো কিছু নেই নাকি? একটা গাইড হলেও চলত দ্বীপটায় হোটেল-মোটেল কি আছে জানতে পারলে ভবিষ্যতে কাজে লাগবে।
পিটের দিকে ঠাণ্ডা চোখে কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে থাকল কামাতোরি। প্রায় এক মিনিট পর নড়ে উঠল সে। এগিয়ে এসে কাছাকাছি দাঁড়াল, ঝুঁকল ওর দিকে। হান্ট গেম পছন্দ কর তুমি, ডার্ক? হঠাৎ জিজ্ঞেস করল সে।
তেমন না। শিকার যদি পাল্টা গুলি করার সুযোগ না পায়, সেটাকে স্পোর্ট বলি কী করে?
তার মানে কি রক্ত ও মৃত্যু তুমি অপছন্দ কর?
বেশিরভাগ মানুষই কি তাই করে না?
সম্ভবত শিকার হতে চাচ্ছ তুমি?
আমেরিকানদের তো চেনো না। আন্ডারগডদের সাথে আমরা আবার ভালো পারি।
চোখে খুনের নেশা, পিটের দিকে কটমট করে তাকিয়ে থাকল কামাতোরি। তারপর বলল, মি. সুমা তোমাদেরকে ডিনার খাওয়ার দাওয়াত দিয়ে সম্মানিত করেছেন। সাতটার সময় তোমাদেরকে ডাইনিং রুমে নিয়ে যাওয়া হবে। ক্লজিটে কিমোনো পাবে। পরার মধ্যে যেন কোনো খুঁত না থাকে। ঝট করে ঘুরলো সে, ঝড়ের বেগে বেরিয়ে গেল কামরা ছেড়ে।
কী ব্যাপার, পিট? কী নিয়ে কথা বললে তোমরা? অ্যালের চোখে কৌতূহল।
ঘুমোবার জন্যে চোখ বন্ধ করল পিট। ওর মতলব খুব খারাপ। খরগোশ মারার মতো আমাদেরকে শিকার করতে চায়। বোধহয় জবাই করবে।
যেন একটা রাজ দরবারে ঢুকল ওরা। ডাইনিং রুমের সিলিং বারো মিটার উঁচু মেঝেতে লাল সিল্ক দিয়ে বোনা ব্যাম্বো কার্পেট, দেয়ালগুলো পালিশ করা রোজউড দিয়ে ঢাকা। অসংখ্য কাগুঁজে লণ্ঠনের ভেতর জ্বলছে মোমবাতি, গোটা কামরা তাতেই আলোকতি হয়ে আছে। জাপানি শিল্পীদের আঁকা পেইন্টিং দিয়ে সাজানো দেয়াল। ভেতরে ঢুকে মুগ্ধ বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকল লরেন। তার আশপাশে হাঁটাহাঁটি করছেন সিনেটর ডিয়াজ, তিনিও ডাইনিং রূমের সাজসজ্জা দেখে প্রভাবিত হয়ে পড়েছেন। কামরার মাঝখানে একটা সেরামিক টেবিল, লম্বা নয়, কয়েকবার বাঁক নিয়ে এদিক ওদিক ঘুরে গেছে। চেয়ারগুলো এমনভাবে ফেলা হয়েছে, অতিথিরা পরস্পরের সাথে যথেষ্ট দূরত্ব রেখে বসতে পারবেন, মুখোমুখি বা পরস্পরের দিকে পেছন ফিরে।
