এছাড়া কোনো উপায় নেই, ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো বললেন, তাকালেন হাতঘড়ির দিকে। মি, পিট ও মি, অ্যাল যদি দ্বীপে পৌঁছে থাকেন, সুমা সিকিউরিটি সিস্টেমকে যদি ব্যস্ত রাখতে সমর্থ হন, প্ল্যাস্টিক বসিয়ে পালাবার যথেষ্ট সময় পাব আমরা।
ছ নম্বর বোতামে চাপ দিলেন টিমোথি ওয়েদারহিল। মাঝখানের ফ্লোরে উঠে দেখা যাক।
ব্রিফকেসটা তুলে বগলের নিচে চেপে ধরলেন ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো। এক ছোঁড়া অটোমেটিক উইপনকে আড়াল করে রেখেছে ব্রীফকেসটা।
একটু পরই ছ তলায় পৌঁছে গেল এলিভেটর। খোলা দরজা দিয়ে বেরিয়ে এলো ওরা। সবার আগে রয়েছেন ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো, তিনি দাঁড়িয়ে পড়তে বাকি দুজন তার সঙ্গে ধাক্কা খেল।
ওদের সামনে গম্বুজ আকৃতির বিশাল একটা গ্যালারি। অসংখ্য কমপিউটার আর ইন্সট্রুমেন্টাল কনসোল একটা অর্ধবৃত্ত রচনা করেছে। টেকনিশিয়ান ও এঞ্জিনিয়াররা সবাই একেকটা রোবট, অত্যন্ত ব্যস্তভাবে যে যার কাজ করছে। কারও মুখে কথা নেই, কেউ কাউকে নির্দেশ দিচ্ছে না। রোবটগুলো বিভিন্ন আকৃতির।
প্রথম বারই সোনা পেয়ে গেছে ওরা। ভাগ্য ওদেরকে সরাসরি সুমার নিউক্লিয়ার কমান্ড সেন্টারের ইলেকট্রনিক ব্রেনের ভেতর নিয়ে এসেছে। গোটা কমপ্লেক্সের কোথাও কোন মানুষ নেই।
বেশিরভাগ রোবটের পায়ে চাকা রয়েছে। কয়েকটা শুড়বহুল অক্টোপাসের মত দেখতে, আটটা করে বাহু।
আমরা গুরুত্ব হারিয়েছি, এ-ধরনের কোন অনুভূতি হচ্ছে আপনার? ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসোকে জিজ্ঞেস করল স্টেসি।
ওদের সাথে লাগতে যাওয়া উচিত হবে না, ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো ফিসফিস। করলেন। চলুন, এলিভেটরে ফিরে যাই।
প্রশ্নই ওঠে না, প্রতিবাদ করলেন টিমোথি। এই কমপ্লেক্সটাই ধ্বংস করার জন্যে এসেছি আমরা। মানুষের কাজে বাধা দেয়ার জন্যে প্রোগ্রাম করা হয়নি ও গুলোকে। চারদিকে কোথাও যোবাটিক সিকিউরিটি গার্ডও দেখতে পাচ্ছি না। সত ডার্ক ও মি. অ্যালের কৃতিত্ব, ও গুলোকে ব্যস্ত রেখেছেন। আমার কথা হল, সুযোগ যখন পাওয়া যখন পাওয়া গেছে, আসুন, রোবটদের এই ঘাঁটিটাকে চাদে পাঠিয়ে দিই।
এলিভেটর রওনা হয়ে গেছে, বলল স্টেসি, ডাউন লেখা বোতামটা চেপে ধরল আঙুল দিয়ে। এই মুহূর্তে যাবার কোন জায়গা নেই আমাদের।
কথা বাড়িয়ে আর সময় নষ্ট করলেন না ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো। মেঝেতে ব্রিফকেসটা রাখলেন, টেপ ছিঁড়ে পা থেকে খুলে নিলেন সি-এইট প্লাস্টিক এক্সপ্লোসিভের প্যাকেট। ওরা দুজনও জাম্পস্যুট ইউনিফর্মের ভেতর থেকে একটা করে প্যাকেট বের করল।
স্টেসি, আপনি কমপিউটার সেকশন আমার দায়িত্ব।
যে যার টার্গেটের দিকে এগোল ওরা। কেউই পাঁচ কদম এগোতে পারেনি, একটা যান্ত্রিক কণ্ঠস্বর ভেসে এল, যে যেখানে আছ সেখানেই দাঁড়াও। তা না হলে এখুনি মারা যাবে তোমরা। নিখুঁত ইংরেজিতে দেয়া হলো নির্দেশটা।
বিস্ময়ে পাথর হয়ে গেলেও, উপস্থিত বুদ্ধি হারালেন না ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো। আমরা টেস্ট এঞ্জিনিয়ার, বললেন তিনি। ইন্সপেকশনে এসেছি। আমাদের পাস কোড দেখতে ও শুনতে চাইলে বলো।
এদিকে মানুষের কোন কাজ নেই, কারণ রোবটরাই নিখুঁতভাবে সব করতে পারে।
কিন্তু আমাদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে ফাইবার অপটিক কমিউনিকেশন চেক করার…।
ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসোর কথা শেষ হলো না, খুলে গেল এলিভেটরের দরজা। কন্ট্রোল সেন্টারের মেঝেতে বেরিয়ে এল রয় ওরশিয়া। বীরত্ব দেখাতে গিয়ে মরো না, সাবধান করল সে, উল্লাসে চকচক করছে তার চেহারা। তোমাদের অপারেশন ভেস্তে গেছে। কেইটেন প্রজেক্ট ধ্বংস করতে ব্যর্থ হয়েছে তোমরা। মৃত্যুর জন্যে তৈরি হও।
ক্যাম্প ডেভিডে প্রেসিডেন্টের সাথে ব্রেকফাস্ট সারলেন রেইমন্ড জর্ডান এবং অ্যাডমিরাল স্যানডেকার। কিচেন থেকে বেরিয়ে এলেন প্রেসিডেন্টের স্পেশ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ডেইল নিকোলাস, হাতে এক গ্লাস দুধ। বাইরে অপেক্ষা করছেন ডোনাল্ড কার্ন, রেইমন্ড জর্ডানকে জানালেন তিনি।
উনি সম্ভবত সোসেকি দ্বীপের সর্বশেষ খবর নিয়ে এসেছেন।
ডেইল নিকোলাসের দিকে তাকিয়ে প্রেসিডেন্ট বললেন, দ্রলোককে তাড়াতাড়ি নিয়ে এসো। ভাল কথা, কিচেনে বলে দাও তার জন্যে ব্রেকফাস্ট পাঠাতে।
ডোনাল্ড কার্ন শুধু এক কাপ কফি নিলেন, বসলেন কাছাকাছি একটা সোফায়। চোখে প্রত্যাশা, একদৃষ্টে তাকিয়ে আছেন তাঁর দিকে প্রেসিডেন্ট। তবে রেইমন্ড জর্ডান তাকিয়ে আছেন ফায়ার প্লেসের গনগনে আগুনের দিকে।
ওরা ঢুকেছে, ঘোষণা করলেন ডোনাল্ড কার্ন।
সবাই? কোনো বিপদ হয় নি? জানতে চাইলেন প্রেসিডেন্ট।
হ্যাঁ, তিনজনই। কোনো সমস্যা হয়েছে কিনা এখনো আমরা জানি না। তবে রহস্যময় একটা ব্যাপার ঘটেছে। টানেল দিয়ে ভেতরে ঢুকেছে ওরা, এই রিপোর্ট দেয়ার পরপরই আমাদের ব্রিটিশ কন্ট্রাক্ট যোগাযোগ কেটে দেয়। কেটে দিল, নাকি ছিঁড়ে গেল, বোঝা যায় নি।
সামনের দিকে ঝুঁকে জর্ডানের সাথে করমর্দন করলেন প্রেসিডেন্ট। কংগ্রাচুলেশন্স।
সময়ের আগে হয়ে যাচ্ছে, মি. প্রেসিডেন্ট, রেইমন্ড জর্ডান বললেন। ওদেরকে আরো অনেক বাধা পেরুতে হবে।
আমার লোকদের খবর কী? গুরু গম্ভীর সুরে জানতে চাইলেন স্যানডেকার।
সেফ ল্যান্ডিং-এর সিগন্যাল পেয়েছি আমরা, জবাব দিলেন ডোনাল্ড কার্ন। আশা করি ওঁরা আহত হন নি বা সুমার সিকিউরিটি গার্ডের হাতে ধরা পড়েননি।
