কয়েক সেকেন্ড কোন শব্দ নেই আর। তারপর শোনা গেল একই ধরনের আরও একা ডাইভ দেয়ার শব্দ। পাশে এসে থামল অ্যালের আইবিস। ব্যস্ত হাতে হারনেস খুলে ফেলল পিট। মাথাটা অর্ধেক ডুবে আছে পানিতে, শ্বাস ফেলার জন্যে কাত করে রেখেছে সেটা। অ্যালের ফিউজিলাজের তেমন একটা ক্ষতি হয়নি, আইবিস থেকে প্রায় অনায়াসে বেরিয়ে এল সে। কাদা আর পানির উপর দিয়ে পিটের সাহায্যে এগিয়ে আসছে।
দুজন একসাথে পুকুরের কিনারায় উঠল। কোথাও লেগেছে? জানতে সাহায্যে করার জন্যে ধন্যবাদ।
বিল পাঠিয়ে দেব, বলল অ্যাল, কাদা ভর্তি বুট জোড়ার দিকে তাকিয়ে আছে
হেলমেট খুলে পুকুরে ফেলে দিল পিট, তাকাল দোমড়ানো-মোচড়ানো আইবিসের দিকে। যে-কোন মুহূর্তে ধাওয়া শুরু করবে ওরা। সুইচ টিপে সিগন্যাল পাঠাও। প্লাস্টিক এক্সেপ্লোসিরে টাইমারও সেট করো। জলদি।
রালফ আর বেনেটে সঙ্কেত পাঠাল অ্যাল, নিরাপদে পৌঁছেছে ওরা। তারপর আইবিসে রাখা প্লস্টিক এক্সপ্লোসিভের প্যাকেট খুলে টাইমারের কাটা ঘোরাল।
সামান্য খোঁড়াচ্ছে পিট, বাগানে ঢুকে এদিক-ওদিক তাকাল। চারদিকে কোন মানুষ জন নেই। সশস্ত্র লোকজন বা রোবোটিক প্রহরীরা উদয় হয়নি। বিল্ডিংগুলোর বারান্দা ও জানালায় প্রাণের কোন লক্ষণ নেই। টারবাইন এঞ্জিনের গর্জন বা ঝপাৎ করে ডাইভ দেয়ার আওয়াজ কেউ শুনতে পায়নি, এ অবিশ্বাস্য। আশপাশে মানুষ না থেকে পারে না, অন্তত বাগানের মালিরা তত থাকবে। দেখেই বোঝা যাচ্ছে, ফুলগাছের নিয়মিত যত্ন নেয়া হয়।
গা ঢাকা দেয়ার জন্যে দুমিনিট সময় দিলাম তোমাকে, ফিরে এসে বলল পিট। তারপরই ফাটবে ওগুলো।
বনভূমির দিকে ছুটল পিট। আমি লুকাচ্ছি।
হঠাৎ একটা ইলেকট্রনিক কণ্ঠস্বর শুনতে পেয়ে স্থির হয়ে গেল পিট। ওখানেই দাঁড়াও।
দাঁড়াল বটে পিট, তবে আধ সেকেন্ডের জন্যে। বিদ্যুৎগতি প্রতিক্রিয়া হলো, স্যাৎ করে ঢুকে পড়ল একটা ঝোঁপের ভেতর, দেখাদেখি অ্যালও। এক ঝোঁপ থেকে আরেক ঝোপে সরে যাচ্ছে ওরা, অচেনা শত্রুর কাছ থেকে যতটা দূরে সরে পরা যায়। মাত্র পঞ্চাশ মিটারের মত এগিয়েছে, সামনে হঠাৎ একটা উঁচু বেড়া দেখতে পেল, গায়ে-মাথায় ইলেকট্রিফায়েড তার আর ইনসুলেটর গিজগিজ করছে।
বৃথা চেষ্টা, বিড়বিড় করল পিট, পরমুহূর্তে বিস্ফোরিত হলো আইবিস দুটো, পাঁচ সেকেন্ডের ব্যবধানে।
কিসের একটা শব্দ পেয়ে দুজনে একযোগে ঘাড় ফেরাল ওরা। সতর্ক হয়ে থাকা সত্ত্বেও, যান্ত্রিক মানুষগুলোকে দেখে বিহ্বল হয়ে পড়ল ওরা। একটা ঝোঁপ থেকে বেরিয়ে অর্ধবৃত্ত রচনা করে দাঁড়াল তারা। টেলিভিশন বা সিনেমায় যেমন দেখা যায়, এগুলো সে ধরনের রোবট নয়। এগুলোর গায়ে অনেকগুলো যান্ত্রিক হাত রয়েছে, রয়েছে ভিডিও ক্যামেরা, স্পীকার, কমপিউটার, চারটি করে অটোমেটিক রাইফেল। সবগুলো পিট বা অ্যালের পেটের দিকে তাক করা।
প্লীজ, নড়বে না। তা না হলে তোমাদের আমরা খুন করব।
কথা বলার সময় ওদের জিভ আর ঠোঁট নড়ে কি? জিজ্ঞেস করল অ্যাল, চোখে অবিশ্বাস।
মাঝখানের রোবটটার দিকে তাকিয়ে আছে পিট। ওর মনে হলো, দূর থেকে একজন কন্ট্রোলার অত্যন্ত সফিসটিকেটেড একটা টেলিপ্রেজেন্স সিস্টেমের সাহায্যে পরিচালনা করছে ওটাকে।
বিভিন্ন ভাষা বুঝতে পারি আমরা, সেভাবেই আমাদেরকে তৈরি করা হয়েছে, ফাঁপা গলায় বলল মাঝখানের রোবটটা। তোমাদের পালাবার কোন উপায় নেই। আমাদের রাইফেলগুলোকে তোমাদের বডি গাইড করছে।
চেহারায় অস্বস্তি, পিট ও অ্যাল দৃষ্টি বিনিময় করল। সাবধানে, ধীরে ধীরে, মাথার উপর হাত তুলল ওরা। লক্ষ্য করল, ওদের দিকে তাক করা রাইফেলগুলো এক চুল নড়ছে না।
শুরু হবার আগেই ব্যর্থ হয়ে গেছে আমাদের অপারেশন। ঠিক বলিনি? জানতে চাইল অ্যাল।
সামনে বারোটা রাইফেল, পিছনে ইলেকট্রিফায়েড বেড়া, কাজেই পালাবার কোন সুযোগ নেই। পিট শুধু আশা করল, রোবটগুলোর কন্ট্রোলার অন্তত বুঝতে পারবে যে ও আর অ্যাল আসলে কোন হুমকি নয়।
ওদেরকে বলার সময় হয়েছে, আমাদেরকে লীডারের কাছে নিয়ে যাক? জিজ্ঞেস করল অ্যাল।
বলে দেখতে পারো। কিন্তু বলতে গিয়ে গুলি খেলে আমাকে দায়ী করতে পারবে না।
.
৪৫.
এডো সিটির তলায় অনুপ্রবেশ করা সহজ কাজ নয়, তবে ওদের জন্যে তেমন কোনো সমস্যা হলো না। হলিউডের একজন মেকআপ এক্সপার্টকে টোকিওতে পাঠিয়েছেন রেইমন্ড জর্ডান, সে-ই ওদের চেহারা বদলে দিয়েছে। স্টেসি, ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউমো ও ড. টিম ওয়েদারহিলকে পুরোপুরি জাপানি বলে চালিয়ে দেয়া যায়। ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো জাপানি ভাষা জানেন, কাজেই তাঁকে স্টেসি ও টিম ওয়েদারহিলের বস্ বানানো হয়েছে। বিজনেস স্যুট পরে আছেন তিনি। সুমা এঞ্জিনিয়ারিং ইনেসপেকশন টিমের সদস্যরা হলুদ জাম্পস্যুট পরে, ওরা দুজনও তাই পরেছে।
টিম হানামুরার রিপোর্টে সিকিউিরিটি সিস্টেম সম্পর্কে প্রচুর তথ্য পাওয়া গিয়েছিল, আইডেনটিফিকেশন কার্ড আর পাস কোড পাওয়া গেল একজন ব্রিটিশ ডীপ কাভার এজেন্টের কাছ থেকে। এই ব্রিটিশ অপারেটর সম্ভাব্য সব রকম উপায়ে সাহায্য সহযোগিতা করছেন রেইমন্ড জর্ডানকে। চেক পয়েন্টগুলো পার হয়ে আসতে ওদের তিন জনের কোনো অসুবিধে হলো না। অবশেষে টানেলের ঢোকার মুখে পৌঁছে গেল ওরা। অপারেশনের এটাই সবচেয়ে বিপজ্জনক মুহূর্ত।
