কোন অসুবিধেই হবে না। পৌঁছানোর অপারেশনটা ষোলো আনা নিরাপদ।
তাই যেন হয়, বলল পিট। তা না হলে যারা এই প্ল্যানটা তৈরি করেছেন, তাদের সাথে আমি দেখা করতে চাইব।
.
৪৪.
মেল পেনার ঠিকই বলেছেন, আকাশ থেকে ওদেরকে গুলি করে নামাবার প্রায় কোন সম্ভাবনাই নেই। ইউএস নেভির ডিটেকশন অ্যান্ড ট্র্যাকিং শিপ রালফ আর. বেনেট এর ল্যান্ডিং প্যাড থেকে আলট্রালাইট পাওয়ার গ্লাইডার নিয়ে আকাশে উঠবে ওরা। গ্লাইডারগুলো কালো রঙ করা, আকৃতিও অদ্ভুত, ফলে রাডারে ধরা পড়বে না।
জাহাজটার রাডার সিস্টেম ছয়তলা উঁচু, অ্যান্টনার সংখ্যা আঠারো হাজার। রাডারের আসল কাজ রাশিয়া ও অন্যান্য দেশের মিসাইল টেস্টের ইন্টেলিজেন্স ডাটা সংগ্রহ করা। প্রেসিডেন্টের নির্দেশে কামছাইকা পেনিসুলা থেকে সরিয়ে আনা হয়েছে রালফ আর. বেনেটকে। ওটার নতুন মিশন, পাওয়ার গ্লাইডার পাঠানো এবং সোসেকি দ্বীপের চারধারে কি ঘটছে তা মনিটর করা।
খোলা ডেকে নুমার দলটার সঙ্গে দাঁড়িয়ে রয়েছেন লেফটেন্যান্ট কমান্ডার রেইমন্ড সিম্পসন। শক্ত-সমর্থ গড়ন, কঠিন চেহারা, বয়েস তবে পঁয়ত্রিশ ছত্রিশ। মেইন্টেন্যান্স ক্রুদের ওপর কড়া নজর রাখছেন তিনি। ক্রুরা খুদে প্লেনটার ফুয়েলিং ট্যাঙ্কের চারধারে ব্যস্ত, চেক করছে ইন্সট্রুমেন্ট ও কন্ট্রোল।
টেস্ট ফ্লাইট ছাড়া ম্যানেজ করতে পারব বলে মনে করেন? জিজ্ঞেস করল পিট।
অনায়াসে। আমাকে বলা হয়েছে, দুজনই আপনারা দক্ষ পাইলট। উপুড় হয়ে শুয়ে হাসলেন লে. ক, রেইমন্ড সিম্পসন।
আগে কখনও আলট্রালাইট এয়ারক্রাফট দেখেনি পিট। এক ঘণ্টা হলো জাহাজটায় ল্যান্ড করেছে ওদের টিল্ট-রোটর প্লেন। তার মধ্যে চল্লিশ মিনিট ক্লাস করতে হয়েছে। এই চল্লিশ মিনিটে যা কিছু শিখেছে তাই সম্বল করে একশো কিলোমিটার উড়ে যেতে হবে ওদেরকে, আহত না হয়ে ল্যান্ড করতে হবে বিপজ্জনক পাহাড়বহুল সোসেকি দ্বীপে।
বিদঘুটে এই পাখিগুলো কদ্দিন হলো বাজারে এসেছে? জানতে চাইল অ্যাল।
নাম হলো আইবিস এক্স-টোয়েনটি, শুধরে দেয়ার সুরে বললেন রেইমন্ড সিম্পসন। বাজারে ছাড়া হয়নি, এখনও এক্সপেরিমেন্টাল।
ওহ্ গড! গুঙিয়ে উঠল অ্যাল। তার মানে নিরাপদ কিনা বলার উপায় নেই।
ও গুলোর টেস্টিং প্রোগ্রাম এখনও শেষ হয়নি। দুঃখিত, আরও ভাল কিছু অফার করতে পারছি না আমরা। ওয়াশিংটন কর্তৃপক্ষ জরুরি তাগাদা দিলেন, আঠারো ঘণ্টার মধ্যে দুনিয়ার অর্ধেক পথ পাড়ি দিয়ে ডেলিভারি দিতে হবে ওগুলো।
ও গুলো উড়ে, স্বভাবতই? জিজ্ঞেস করল পিট।
কি যে বলেন! উড়বে না কেন! আমি নিজে দশ ঘণ্টা উড়েছি। সুপার এয়ারক্রাফট। ওয়ান-ম্যান রিকন্ডিশন ফ্লাইটস হিসেবে ডিজাইন করা হয়েছে। অত্যাধুনিক টারবাইন এঞ্জিনের সাহায্যে চলে, স্পীড প্রতি ঘণ্টায় তিনশো কিলোমিটার, রেঞ্জ একশো বিশ কিলোমিটার। দুনিয়ার সবচেয়ে উন্নতমানের পাওয়ার গ্লাইডার আমাদের এই আইবিস।
অবসর নেয়ার পর আপনি হয়তো ডিলারশিপ খুলে বসবেন, শুকনো গলা বলল অ্যাল।
জ্বী? তাঁকে যে মৃদু খোঁচা মারা হয়েছে, বুঝতে সময় নিলেন লে. ক. সিম্পসন।
রাডার শিপ-এর স্কিপার, কমান্ডার হারপার, সিঁড়ি বেয়ে ল্যান্ডিং প্যাডে নেমে এলেন, হাতে বড় একটা ফটো। ভদ্রলোক দীর্ঘদেহী, মাংসল, ভুড়ি বিশিষ্ট। আমাদের আবহাওয়া অফিসাররা জানিয়েছেন, ফ্লাইটের সময় ফোর-নই টেইল উইন্ড পাবেন, কাজেই ফুয়েল কোন সমস্যা হবে না।
ছোট্ট করে মাথা ঝাঁকিয়ে পিট বলল, স্যাটেলাইট থেকে যদি নিরাপদ একটা ল্যাণ্ডিং সাইট পেতাম, ভাল হত।
একটা বাল্কহেডের গায়ে স্যাটেলাইট ফটোটা মেলে ধরলেন স্কিপার। পেয়েছেন। একটা দ্বীপটায় ঘাসে ঢাকা সমতল জায়গা বলতে এই একটাই, ষাট মিটার লম্বা ও বিশ মিটার চওড়া।
সরে এসে ফটোর দিকে ঝুঁকল পিট ও অ্যাল। ফটোয় চারকোণা লন দেখা যাচ্ছে, মাঝখানে একটা বাগান, শুধু পূর্ব দিকে খোলা। বাকি তিনটে দিক ঘন গাছপালা ও প্যাগোড়া ধাচের ছাদসহ বিল্ডিং দেখা যাচ্ছে। বিল্ডিংগুলোর ঝুল বারান্দা থেকে খোলা ব্রিজ নেমে এসেছে একটা পুকুরে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামীর মত পরস্পরের দিকে তাকিয়ে আড়ষ্ট হাসল পিট ও অ্যাল।
উদ্ধার টিম না পৌঁছানো পর্যন্ত লুকিয়ে থাকুন, বিড়বিড় করল অ্যাল।
হুম। পৈতৃক প্রাণটা না এবার হারাতে হয়। পিট গম্ভীর।
কমান্ডার হারপারের চেহারায় অস্বস্তি। আপনারা কি অপারেশনটা বাতিল করতে চান?
প্রশ্নটা ওঠে না, তাড়াতাড়ি বলল পিট।
আপনাদেরকে তাগাদা দিতে চাই না তবে আর মাত্র আধ ঘণ্টার মধ্যে সূর্য ডুবে যাবে। পথ চিনতে হলে দিনের আলো দরকার হবে আপনাদের।
এই সময় ক্রুদের চীফ এগিয়ে এসে জানাল, পাওয়ার গ্লাউড়ার আকাশে ওড়ার জন্যে সম্পূর্ণ তৈরি। ভঙ্গুর ভোট এয়ারক্রাফটার দিকে তাকাল পিট। টারবাইন এঞ্জিনের জোরালো ধাক্কা না পেলে ঠিক একটা ইটের মত খসে পড়বে ওটা।
প্রিফ্লাইট চেক শেষ করে ল্যান্ডিং প্যাড থেকে নেমে একপাশে দাঁড়াল ফ্লাইট ক্রুরা। গুড লাক, বললেন স্কিপার হারপার, হ্যান্ডশেক করলেন ওদের সঙ্গে। পুরোটা পথ আপনাদেরকে মনিটর করব আমরা। ল্যান্ডিং করার পর সিগন্যাল ইউনিট অ্যাকটিভেট করতে ভুলবেন না। আপনারা নিরাপদে নামতে পেরেছেন, ওয়াশিংটনকে রিপোর্ট করতে চাই আমরা।
