প্ল্যানে কিছু দেখানো হয়নি, বললেন মেল পেনার।
এই মাপের একটা আন্ডারগ্রাউন্ড ফ্যাসিলিটিতে আউটসাইড ভেন্টিলেশন থাকতেই হবে।
আমাদের এঞ্জিনিয়াররা সন্দেহ করছে, সারফেসের কয়েকটা বিল্ডিং আছে যেগুলো ভেস্ট ও এগজস্ট ডাক্ট হিসেবে কাজ করছে।
ডাক্ট হলে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে দেখতে পারি, হেসে উঠে বলল পিট। আমর অভিজ্ঞতা আছে।
এক্ষেত্রেও, কাঁধ ঝাঁকিয়ে বললেন মেল পেনার, তেমন কোন তথ্য নেই আমাদের হাতে। এমন হতে পারে, এড়ো থেকে পাম্প করে নিচে পাঠানো হয় বাতাস। দূষিত বাতাস বের করে দেয়া হয় পাইপের সাহায্যে।
আমরা কি জানি, দ্বীপটায় বন্দী করে রাখা হয়েছে লরেন আর সিনেটরকে? জিজ্ঞেস করল পিট।
নিশ্চিতভাবে জানি না, তবে আন্দাজ করা যায়। জায়গটাকে সম্পূর্ণ নিরাপদ বলে মনে করছে ওরা, আসলেই তাই, কাজেই ওখানেই ওদেরকে রাখার কথা।
এত কথায় কাজ কি, ভেতরে ঢোকার কি প্ল্যান করা হয়েছে তাই বলুন, তাগাদা দিল অ্যাল।
ভেতরে ঢুকে সেন্টারের ইলেকট্রনিক সিস্টেম অচল করে দেয়ার একটা প্ল্যান তৈরি করা হয়েছে। তবে আমরা জানি না কি ধরনের সিকিউরিটি বা মিলিটারি টেকনলজির সাহায্য পাচ্ছে সুমা। ধরে নিচ্ছি, অত্যাধুনিক সেনসরি গিয়ার ব্যবহার করছে সে। ল্যান্ড অ্যান্ড সী ডিটেকশন-এর জন্যে রাডার ইকুইপমেন্ট, আন্ডারগ্রাউন্ড অ্যাপ্রোচ-এর জন্যে সোনার সেনসরপুরোটা তীর ঘিরে লেয়ার ও হিট ডিটেকশন সিস্টেম। সশস্ত্র রোবটও থাকবে।
সারফেস-টু-সী ওসারফেস-টু-এয়ার মিসাইল? পিটের প্রশ্ন।
কাঁধ ঝাঁকিয়ে চুপ করে থাকলেন মেল পেনার।
এ দেখছি বহুত শক্ত নারকেল, ভাঙা অসম্ভব, হতাশ গলায় বললেন টিমোথি ওয়েদারহিল।
পেনারের দিকে সকৌতুকে তাকাল অ্যাল। আমার তো মনে হচ্ছে, একটা ন্যাভাল ক্যালিয়ার এয়ারক্রাফট, অন্তত পাঁচটা স্পেশ্যাল ফোর্স অ্যাসল্ট টিম আক্রমণ না করলে ওখানে পা ফেলার কোন উপায় নেই।
আরও একটা উপায় আছে, বলল পিট। অ্যাটম বোমা ফেলা।
আমাদের এসব প্রস্তাব যেহেতু প্র্যাকটিক্যাল নয়, সেহেতু আমাদের প্ল্যানটা নিয়েই আলোচনা করা যাক, গম্ভীর সুরে বললেন মেল পেনার।
সেটাই তো জানতে চাইছি, প্ল্যানটা কি? নড়েচড়ে বসল অ্যাল।
কে কে যাচ্ছি আমরা মরতে? জানতে চাইলেন ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো। নিশ্চয়ই টানেল দিয়ে যেতে হবে?
আপনারা পাঁচজনই, শান্ত গলায় বললেন মেল পেনার। তবে টানেল দিয়ে নয়।
আমরা কি কালো নিনজা স্যুট পরে টানেলের ভেতর দিয়ে বাদুড়ের মত উড়ে যাব? বলল পিট, ব্যঙ্গটুকু চাপা থাকল না।
আপনি ও মি. অ্যাল আকাশ থেকেই দ্বীপে নামবেন। নামার পর একটা ডাইভারশন ক্রিয়েট করবেন, অপর দলটা যাতে এডো সিটি থেকে ভেতরে ঢোকার সুযোগ পায়।
দোহাই লাগে, প্যারাসুট নিয়ে নামতে বলবেন না, কাতর অনুনয় করল অ্যাল। আমার দুচোখের বিষ।
আচ্ছা! পিট উদ্বিগ্ন। দ্য গ্রেট ডার্ক পিট ও অ্যাল দ্য ম্যাগনিফিসেন্ট সুমার প্রাইভেট রিসর্ট দুর্গে ঘণ্টা, ড্রাম ও বিউগল বাজিয়ে উড়ে যাবে। তারপর সামুরাই স্টাইলে খুন হয়ে যাবে স্পাই হিসেবে ধরা পড়ে। ধরেই নিয়েছেন, আত্মহত্যা করতে রাজি হব আমরা, তাই না, মি, মেল পেনার?
খানিকটা ঝুঁকি আছে, স্বীকার করি আমি, গা বাঁচানোর সুরে বললেন মেল পেনার। তবে আপনাদেরকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়ার কোন ইচ্ছে, আমার নেই।
পিটের দিকে তাকাল অ্যাল। তোমার অনুভূতিও কি আমার মত, আমাদেরকে ব্যবহার করা হচ্ছে?
খুঁটি হিসেবে।
পিট জানে ডিরেক্টর অভ ফিল্ড অপারেশনস মেল পেনারের মাথা থেকে প্ল্যানটা বেরোয়নি। প্ল্যানটা তৈরি করেছেন ডোনাল্ড কার্ন, প্রশংসা করেছেন রেইমন্ড জর্ডান, অনুমোদন দিয়েছেন ওঁদের প্রেসিডেন্ট। স্টেসির দিকে তাকাল ও। তার চেহারায় লেখা রয়েছে যেয়ো না। দ্বীপে পৌঁছালাম আমরা, তারপর কি হবে? জানতে চাইল ও।
যতক্ষণ সম্ভব ধরা না পড়ার চেষ্টা করবেন, লুকিয়ে থাকবেন। তারপর আমরা পুরো টিমটাকে তুলে আনার জন্যে একটা রেসকিউ মিশন পাঠাব।
কিন্তু ধরা না পড়ার চেষ্টা সম্ভবত দশ মিনিট সফল হবে।
কাঁধ ঝাঁকিয়ে মেল পেনার বললেন, কেউ আপনাদের কাছ থেকে মিরাকুলাস কিছু আশা করছে না।
তো? জিজ্ঞেস করল পিট।
তো কি?
আকাশ থেকে পড়লাম আমরা লুকোচুরি খেলোম, এই ফাঁকে তিনজন সবার চোখকে ফাঁকি দিয়ে ষাট কিলোমিটার টানেল ধরে ছুটবে? এই আপনার প্ল্যান?
হ্যাঁ। পিটের দৃষ্টি এড়িয়ে যাচ্ছেন মেল পেনার।
আপনারা পাগল নাকি! মুখে যা-ই বলুক, পিট জানে সুমার আস্তানায় পৌঁছানোর সহজ বা নিরাপদ কোন উপায় নেই। আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ও, ওই দ্বীপে লরেনের থাকার ক্ষীণ সম্ভাবনাও যদি দেখতে পায়, যাবে ও।
অ্যালের জানতে চাইল, মেইনল্যান্ডে আপনারা ওদের পাওয়ার সোর্স বিচ্ছিন্ন করছেন না কেন? তাহলেই তো সব সমস্যার সমাধান হয়ে যায়?
কন্ট্রোল সেন্টার স্বয়ংসম্পূর্ণ, মেল পেনার বললেন। ওদের নিজস্ব জেনারেটিং স্টেশন আছে।
অ্যালের দিকে তাকাল পিট। তুমি কি বলো, অ্যাল দ্য ম্যাগনিফিসেন্ট?
ওখানে গেইসা আছে?
ক্ষীণ হাসি দেখা গেল মেল পেনারের ঠোঁটে। সুমা সম্পর্কে জানা গেছে, সে শুধু সুন্দরী মেয়েদের কাজ দেয়।
পিট জানতেন চাইল, কিভাবে উড়ে যাব আমরা? যদি আকাশে থাকতেই গুলি খাই?
