অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে লরেন। তাকে বিস্মিত করাই উদ্দেশ্য ছিল কামাতোরির। আলখেল্লার ভেতর থেকে হাতটা বের করে খপ করে লরেনকে ধরে ফেলল সে, অপর হাত দিয়ে এক টানে খুলে ফেলল কোমরের কাছে কিনোর বধানটা। ধস্তাধস্তি শুরু করল লরেন, কিন্তু ইতোমধ্যে তাকে প্রায় বিবস্ত্র করে ফেলেছে কামাতোরি। গায়ে প্রচণ্ড শক্তি রাখে লোকটা, একটা মেয়ের পক্ষে তার সঙ্গে পারা সম্ভব নয়।
ঠোঁট টিপে হাসল কামাতোরি। সময়টা আপনি যাতে উপভোগ করতে পারেন, সেজন্যে আমার ক্ষমতায় যতটুকু কুলায় সব আমি করব। এমন হতে পারে, আমি হয়তো আপনাকে শেখাব, ঠিক কোন কোন ক্ষেত্রে একটা পুরুষের সাথে পার্থক্য রয়েছে একটা মেয়ের, কথা শেষ করে ঘুরল সে, দরজায় সজোরে টোকা দিল। বাইরে থেকে খুলে গেল দরজা, দ্রুত বেরিয়ে গেল কামাতোরি। লরেন বুঝল, মুক্তি পাবার আগে নরকযন্ত্রণা ভোগ করতে হবে তাকে।
.
৪৩.
দেখুন এবার, বলে টেবিলের উপর থেকে এক টানে কাপড়টা তুলে নিলেন মেল পেনার, যেন জাদু দেখাচ্ছেন ওদেরকে। সোসেকি আইল্যান্ড, অনেক কাল আগে যেটাকে আজিমা দ্বীপ বলা হত।
টেবিলের উপর মডেলটার দিকে তাকিয়ে থাকল স্টেসি, বলল, অদ্ভুত সুন্দর তো। এত নিখুঁত, দেখে মডেল বলে মনেই হচ্ছে না।
মডেল বানানো আমার হবি, বললেন ডাইরেক্টর অভ ফিল্ড অপারেশনস, মেল পেনার।
টেবিলের উপর ঝুঁকে সাগর থেকে উঠে আসা খাড়া পাহাড় প্রাচীরের দিকে তীক্ষ্ণদৃষ্টিতে তাকালেন ড. টিমোথি ওয়েদারহিল। আকারে এটা কত বড়?
চৌদ্দ কিলোমিটার লম্বা, সবচেয়ে চওড়া জায়গাটা পাঁচ কিলোমিটার।
পালউ-এর কোরব দ্বীপে, ছোট্ট একটা বিল্ডিঙে রয়েছে ওরা। দ্বীপটার দিক থেকে চোখ ফেরাতে পারছে না স্টেসি। এত সুন্দর লাগছে দ্বীপটাকে, যেন এক টুকরো স্বর্গ।
এক গ্লাস পানিতে লেবু নিঙড়ে চুমুক দিচ্ছে পিট। সুইমিং ট্রাঙ্ক আর নুমা টি শার্ট পরে আছে ও, পায়ে লেদার সান্ডেল। বাইরে থেকে দেখে স্বর্গীয় উদ্যান বলে মনে হলেও, ভেতরে ঘুরে বেড়াচ্ছে একটা দানব, মন্তব্য করল ও।
আপনার ধারণা সুমার পারমাণবিক অস্ত্রের গুদাম ওডিটোনেশন সেন্টার এই দ্বীপটার নিচে? প্রশ্ন করলেন ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো। পাঁচজনের ঘরটায় সবার শেষে যোগ দিয়েছেন তিনি।
সাগর থেকে ওঠা খাড়া পাহাড়গুলোর দিকে তাকাল আবার স্টেসি। জাহাজ ভেড়ার কোন জায়গা নেই। নির্মাণ কাজের সমস্ত উপকরণ আকাশ পথে আনতে হয়েছে ওদের।
কিভাবে তৈরি করল, আমাদের স্পাই স্যটেলাইটকে ফাঁকি দিয়ে? প্রশ্নটা টিমোথি ওয়েদারহিলের।
হাত বাড়িয়ে মডেলের একটা অংশ, খানিকটা সাগর, তুলে নিলেন মেল পেনার। খুদে এটা টিউবের দিকে আঙুল তাক করলেন তিনি। এটা একটা টানেল, ব্যাখ্যা করার সুরে বললেন। এডো সিটির নিচে, পাতালের প্রায় শেষ মাথায়, একটা টানেল তৈরি করেছে সুমার এঞ্জিনিয়াররা। উপকূলের দিকে দশ কিলোমিটার এগিয়েছে ওটা, তারপর আরও পঞ্চাশ কিলোমিটার এগিয়ে সোসেকির নিচে সীফ্লোরে পৌঁছেছে।
সুমার প্রশংসা করতে হয়, বলল পিট। আপনার স্যাটেলাইটে অস্বাভাবিক কোন তৎপরতা ধরা পড়েনি, কারণ এডো সিটি তৈরি করার সময় যে মাটি সরানো হয় তাদের সাথে সারানো হয় টানেল কাটার মাটিও।
পারফেক্ট কাভার, বলল অ্যাল।
এ এক বিস্ময়কর কীর্তি, মন্তব্য করলেন মাইনিং এঞ্জিনিয়ার ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো। যদি এদিক থেকে শুরু করা হয়, এ ধরনের একটা টানেল তৈরি করতে কম করেও সাত বছর লাগবে।
মাথা নাড়লেন পেনার। চব্বিশ ঘণ্টা কাজ করলে, আধুনিক বোরিং ইকুইপমেন্ট ব্যবহার করলে, সুমার এঞ্জিনিয়াররা চার বছরেই শেষ করতে পারবে ওটা। কথা শেষ করে দ্বীপের একটা অংশ তুলে নিলেন তিনি, ভেতরে দেখা গেল গোলকধাঁধার মত অসংখ্য প্রাসেজ আর কামরা। এখানে আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, ফ্যাসিলিটির ইন্টেরিয়ন লেআউট। রয় ওড়শিয়ার পাঠানো খসড়া স্কেচ দেখে বানিয়েছি তো, আকার-আকৃতির মধ্যে কিছু ত্রুটি থাকতে পারে। উপস্থিত সবাইকে একটা করে ফোল্ডার দিলেন তিনি। এগুলো এডো সিটি ও কন্ট্রোল সেন্টার-এর প্ল্যান, টানেলটাও দেখানো হয়েছে।
ড্রইং-এর ভাঁজ খুলে লেআউট দেখল সবাই। প্রতিটি প্যাসেজ, শাখা টানেল, ল্যাবরেটরি ইত্যাদির নাম রেখা রয়েছে, মনের পর্দায় গেঁথে নিচ্ছে ওরা।
দ্বীপটার সারফেস থেকে সেন্টারটা বোধহয় প্রায় তিনশো মিটার নিচে, মন্তব্য করলেন ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো।
স্টেসি বিড়বিড় করল, দ্বীপে কোন এয়ারস্ট্রিপ বা ডক নেই। ঢাকার মাত্র দুটো পথ হেলিকপ্টার, টানেল।
গ্লাসে শেষ চুমুক দিল পিট। তুমি যদি পাহাড় বেয়ে উঠতে পারো, তাহলে সাগরপথেও যাওয়া যায়। তবে সুমার ডিফেন্স সিস্টেম তোমাকে দেখে ফেলবে।
সারফেসে এই বিল্ডিংগুলো কি? জানতে চাইলেন টিমোথি ওয়েদারহিল।
সুমার টপ এক্সিকিউটিভরা ওখানে বিশ্রাম নেয়, বিজনেস কনফারেন্সের আয়োজন করে। রাজনীতিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে গোপন বৈঠকও হয় ওখানে।
শিমজুর পেইন্টিঙে কিন্তু দেখানো হয়েছে দ্বীপটায় কোন গাছপালা নেই, বলল ডার্ক। কিন্তু এখানে দেখছি দ্বীপের অর্ধেকটাই গাছপালার ঢাকা।
সুমার লোকজন গত বিশ বছর ধরে লাগিয়েছে ওগুলো, বললেন মেল পেনার।
চিন্তিতভাবে নাক চুলকাচ্ছন ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো। সারফেস বিল্ডিং আর কন্ট্রোল সেন্টারের মাঝখানে এলিভেটর নেই?
