আপনি যদি বলেন, শ্রদ্ধায় মাথা নত করল ওরশিয়া, হাসছে সে।
নিজেকে যেন হারিয়ে ফেলেছে লরেন। কিডন্যাপ করার পরপরই তাকে ইঞ্জেকশন দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়। মাত্র দুঘণ্টা আগে ঘুম ভেঙেছে তার। ড্রাগ-এর প্রভাব থেকে মুক্ত হয়ে দেখল, দামী আসবাবে সাজানো একটা বেডরুমে রয়েছে সে, সংলগ্ন বাথরুম ও বাথটাব সম্পূর্ণ মার্বেল পাথরে তৈরি। একটা দেয়াল আলমিরা খুলে দেখল, কয়েকটা সিল্ক কিমোনো ভেতরে, যেন তার মাপেই তৈরি করা হয়েছে। নিচের দেরাজটাও খুলল সে, তারই মাপের ফিমেল আন্ডারওয়্যার রয়েছে বেশ কয়টা, সাথে সান্ডেলও আছে।
গোটা ব্যাপারটা হতবুদ্ধিকর। যারাই তাকে কিডন্যাপ করে আনুক, মেরে ফেলার কোন ইচ্ছে তাদের নেই। অন্তত এখুনি নয়। মন থেকে সমস্ত দুশ্চিন্তা ঝেড়ে ফেলে বাথটাবের ঠাণ্ডা পানিতে আধশোয়া হয়ে থাকল সে, বিশ মিনিট পর ড্রায়ার-এ চুল শুকিয়ে ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসল একগাদা দামী কসমেটিকস ও পারফিউম নিয়ে। সাদা ও রঙিন গোলাপ আঁকা কাপড়ের তৈরি একটা কিমোনো পরল লরেন, এই সময় মৃদু নক করে ভেতরে ঢুকল মুরো কামাতোরি। একটা হাত আলখেল্লার ভেতর ঢুকিয়ে রেখেছে সে।
শরীরের ওপর কিমোনোটা টান টান করল লরেন, কোমরে বেল্ট বাঁধল, তারপর জানতে চাইল, এটাই কি জাপানিদের রীতি? কোন ভদ্রমহিলা না ডাকলেও তার ঘরে ঢুকে পড়বে?
মাফ করবেন, হাসি চেপে বলল কামাতোরি। সম্মানীয় কংগ্রেস সদস্যকে অশ্রদ্ধা করার কোন ইচ্ছে আমার নেই বা ছিল না।
কি চাও তুমি?
আপনি আরামে আছেন কিনা দেখার জন্যে আমাকে পাঠালেন হিদেকি। আমার নাম মুরো কামাতোরি। আমি মি. সুমার বন্ধু, দেহরক্ষী ও সহকারী।
লরেন কঠিন সুরে বলল, আমার ধারণা আমাকে কিডন্যাপ করার জন্যে সেই দায়ী।
আপনার এই অসুবিধে নিতান্তই সাময়িক, কথা দিচ্ছি, বলল মুরো কামাতোরি।
কি কারণ, কেন আমাকে জিম্মি রাখা হয়েছে? প্রতিশোধ ছাড়া বিনিময়ে আর কি আশা করে সে মার্কিন সরকারের কাছ থেকে?
মি. সুমা চান কংগ্রেস ও প্রেসিডেন্টের কাছে আপনি তার একটা মেসেজ নিয়ে যাবেন।
মি. সুমাকে বলো, নিজের রেকটামে চোখা একটা লাঠি ঢুকিয়ে মেসেজটা নিজেই ডেলিভারি দিক।
কৌতুক বোধ করল কামাতোরি। কি আশ্চর্য! সিনেটর ডিয়াজও একই কথা বললেন। তবে তার ভাষায় আরও বেশি ঝাঁঝ ছিল।
সিনেটর ডিয়াজ? ফাটল ধরল লরেনের সাহস ও আত্মবিশ্বাসে। তাকেও তোমরা কিডন্যাপ করেছ?
হ্যাঁ, আপনাদের দুজনকে একসাথে আনা হয়েছে এখানে। হাসছে কামাতোরি।
এখানে মানে কোথায়? তীক্ষ্ণকণ্ঠে জানাতে চাইল লরেন।
জাপানের উপকূল থেকে খানিকটা দূরে, একটা আইল্যান্ড রিসর্টে।
সুমা একটা উন্মাদ।
ঠিক উল্টো, বলল কামাতোরি। তাঁর মত সুস্থ ও ঠাণ্ডা মাথার লোক খুব কমই আছে। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে কিছু নিয়ম-নীতি ও শর্ত ঘোষণা করবেন তিনি, পশ্চিমা দুনিয়ার কর্ণধাররা তার ওই নির্দেশ মেনে নিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতি পরিচালনা করবেন ভবিষ্যতে।
লালচে হয়ে উঠল লরেনের মুখ। এ দেখছি শুধু পাগল নয়, বোকাও।
মি. সুমা বোকা? তার মতো টাকা দুনিয়ার আর কারও নেই। এত সম্পত্তি ইতিহাসে আর কারও ছিল না। পাগল বা বোকা হলে এসব তিনি অর্জন করতে পারতেন না। শিগগিরই আপনারা উপলব্ধি করবেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ও অর্থনীতির ওপর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ রয়েছে তার। কিমোনোর ওপর ফুলে থাকা লরেনের স্তন জোড়ার ওপর চোখ বুলাল কামাতোরি। নিজের ভাল করবেন, সময় থাকতে যদি তার বন্ধু হবার সুযোগটা হাতছাড়া না করেন। এতদিন আমেরিকার সেবা করেছেন, ভাল কথা; কিন্তু যদি নিজের ভাল চান তাহলে এখন থেকে মি. সুমার সেবা করতে হবে আপনাকে।
লরেন বিশ্বাস করতে পারছে না, এসব প্রলাপ সত্যি সত্যি শুনছে সে, দুঃস্বপ্ন দেখছে না। আমার বা সিনেটর গ্রাফটনের যদি কোন ক্ষতি হয়, তোমাদেরকে চরম মূল্য দিতে হবে। প্রেসিডেন্ট এবং কংগ্রেস…।
মুসলিম টেরোরিস্টরা বহু বছর ধর আমেরিকানদের জিম্মি রাখছে, আপনরা। কিছুই করেননি বা করতে পারেননি, হেসে উঠে বলল বেনামি। আপনাদের প্রেসিডেন্ট জানেন কারা আপনাদেরকে কিপন্যাপ করেছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত আপনাদেরকে উদ্ধার করার কোন চেষ্টা হয়নি। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, উদ্ধারের কোন চেষ্টা করা যাবে না, মিডিয়াকেও কিছু জানানো নিষেধ।
তুমি মিথ্যে কথা বলছ। আমার বন্ধুরা হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকতে পারেন না।
বন্ধু বলতে কি ডার্ক পিট আর অ্যাফ্রেড জিওর্দিনোকে বঝাচ্ছেন আপনি? জানতে চাইল কামাতোরি।
তুমি তাদের চেনো?
হ্যাঁ, তা বলা যায়। একটা ব্যাপারে নাক গলাতে চেয়েছিল, অ্যাক্সিডেন্ট করেছে।
ওরা কি আহত? দ্রুত জানতে চাইল লরেন।
ঠিক বলতে পারছি না। শুধু একুটু বলতে পারি, বোধহয় অক্ষত অবস্থায় পালাতে পারেনি।
লরেনের ঠোঁট কাঁপছে। কি বলবে ভেবে পাচ্ছে না। তারপর জানতে চাইল, আমাকে কেন? সিনেটর ডিয়াজকেই বা কেন?
জাপানের সাথে সারা বিশ্বের একটা অর্থনৈতিক যুদ্ধ শুরু হয়েছে, বলল মুরো কামাতোরি। আপনারা দুজন সে যুদ্ধের নগণ্য খুঁটি মাত্র। কাজেই মি, সুমা অনুমতি না দেয়া পর্যন্ত আপনারা মুক্তি পাচ্ছেন না। কেউ জানে না কোথায় আপনারা আছেন। তার মানে কেউ এসে আপনাদেরকে উদ্ধার করে নিয়ে যাবে, সে আশাও ত্যাগ করুন। আমাদের ডিফেন্স সিস্টেম এমনই, কোন সেনাবাহিনীও ভেতরে ঢুকতে পারবে না তবে, সুখবর হলো, পরশুই আপনাদেরকে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে প্লেনে করে ওয়াশিংটনে পাঠিয়ে দেয়া হবে।
