বাস্টার্ড! হিসহিস করে উঠল স্টেসি। তার মানে শেষ মুহূর্তে ভাবাবেগে আক্রান্তহতে পারে মানুষ, এ কথা ভেবে কোন ঝুঁকি নিচ্ছে না সুমা। অকস্মাৎ দলত্যাগী কেউ বোমাটা না ফাটাবার সিদ্ধান্ত নিল, সে-ধরনের কিছু যাতে না ঘটে তার জন্যেই এই ব্যবস্থা। টার্গেট এরিয়ায় যাবার পথে পুলিশ যদি গাড়িগুলোকে থামায়, জেরা করার জন্যে কাউকে পাবে না তারা।
বোকা হলে কি এতটা পথ পাড়ি দিতে পারত? বলল টিমোথি। নোংরা কাজটা করার জন্যে বোবটাকে কাজে লাগাচ্ছে, সত্যি বুদ্ধি রাখে লোকটা। রোবোটিক্সে গোটা দুনিয়াকে নেতৃত্ব দিচ্ছে জাপান, খোঁজ নিলে দেখা যাবে এডো সিটির বিজ্ঞানী ও এঞ্জিনিয়াররাই ওগুলোর ডিজাইন তৈরি করছে।
হঠাৎ রক্তশূন্য হয়ে গেল স্টেসির চেহারা। ডিটোনেশন সেন্টারেও যদি মানুষের বদলে রোবট থাকে?
ব্যাগটা বন্ধ করল টিমোথি। সেটা জর্ডানের সমস্যা। তবে আমার ধারণা, ওখানে ঢোকা প্রায় অসম্ভব একটা ব্যাপার।
তুমি বলতে চাইছ সুমাকে আমরা ঠেকাতে পারব না? সে তার কমান্ড সেন্টারের বাকি কাজ নির্বিঘ্নে সারতে পারবে? ফাটাবার জন্যে তৈরি করে ফেলবে বোমাগুলো?
সত্যি বোধহয় তাকে ঠেকানোর কোন উপায় নেই, গম্ভীর সুরে বলল টিমোথি। আমরা তাকে নাগালের মধ্যে পাচ্ছি কোথায়?
.
৪২.
ছোট্ট একটা কিমানো পরে আছে তোশি কুদো, কোমরের কাছে ঢিলে করে বাঁধা। স্টীম রুম থেকে বেরিয়ে এল হিদেকি সুমা, বড় একটা নরম তোয়ালে বাড়িয়ে ধরে তার উদ্দেশ্যে মাথা নত করল তোশি। তোয়ালেটা কোমরে জড়িয়ে বালিশবহুল একটা নিচু চৌকিতে বসল উয়ামাদা। হাঁটুগেড়ে নিচু হলো তোইআমা, তার পা টিপতে শুরু করল।
মুরো কামাতোরি বসে আছে কাছাকাছি একটা টেবিলে। তার পরনে ঢোলা আলখেল্লা, রঙচঙে এক ঝাঁক পাখি উড়ে বেড়াচ্ছে সারা গায়ে। টেবিলে তার উল্টো দিকে বসেছে রয় ওরশিয়া। দুজনেই নিঃশব্দে চুমুক দিচ্ছে চায়ের কাপে। হিদেকি সুমা প্রথমে কথা বলবে, তার অপেক্ষায় রয়েছে ওরা।
কিছুক্ষণ ওদের দিকে তাকালই না সুমা। রাগে ফুলে আছে তার চেহারা। উদ্বিগ্নযৌবনা তোশির উত্তেজক সেবাও তাকে শান্তি দিতে পারছে না আজ। চোখ নামিয়ে রেখেছে মুরো কামাতেরি, সুমার দিকে তাকাচ্ছে না। চলতি হপ্তায় দুবার সুমাকে হতাশ করেছে সে।
তাহলে তোমার টিম ব্যর্থ হয়েছে? অবেশেষে হিসহিস করে উঠল হিদেকি সুমা।
ব্যাপারটাকে আকস্মিক দুর্ঘটনা বলতে হয়, জবাব দিল মুরো কামাতোরি, এখনও টেবিলের দিকে তাকিয়ে আছে।
আকস্মিক দুর্ঘটনা? ধমকের সুরে বলল সুমা। আমি তো দেখতে পাচ্ছি। সর্বনাশ হয়ে গেছে!
ডার্ক পিট, অ্যাডমিরাল স্যানডেকার আর অ্যাল জিওর্দিনে, তিনজনই ওরা ভাগ্যগুণে বেঁচে গেছে!
কিসের ভাগ্য! বলো শত্রুপক্ষকে ছোট করে দেখার পরিণতি। কয়জন লোককে হারিয়েছ তুমি
সাতজন, লীডারকে নিয়ে।
আশা করি কেউ ধরা পড়েনি।
লাশ নিয়ে বাকি সবাই ফিরে এসেছে, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পৌঁছানোর আগেই। এমন কোন সূত্র রেখে আসেনি যার সাহায্যে ধাওয়া করতে পারবে।
কিন্তু তবু রেইমন্ড জর্ডান বুঝতে পারবেন কারা দায়ী, বলল রয় ওরশিয়া।
তাতে উদ্বিগ্ন হবার কিছু নেই, বলল কামাতোরি। তার মেইট টিম এখন আর আগের মত কাজ করবে না। জাপানে তার অপারেশন থামিয়ে দেয়া হয়েছে।
চায়ের বদলে তোশির হাত থেকে সাকি নিল সুমা। রেইমন্ড জর্ডান এখনও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারেন, তার অপারেটররা যদি আমাদের কমান্ড সেন্টারের অবস্থান জেনে ফেলে।
চব্বিশ ঘণ্টা আগে আমি যোগাযোগ কেটে দেয়ার পর রেইমন্ড জর্ডান ও ডোনাল্ড কার্ন অন্ধকারে হাবুডুবু খাচ্ছেন, জোর দিয়ে বলল রয় ওরশিয়া। লোকেশন সম্পর্কে কোন ক্লু ওদের হাতে নেই।
কিন্তু আমরা জানি গাড়ি-বোমাগুলো খুঁজে পাবার চেষ্টা করছে ওরা, বলল সুমা।
ধোঁয়ায় ঝাপসা আয়নায় ছায়া দেখে ধাওয়া করছেন রেইমন্ড জর্ডান, নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলল কামাতোরি। গাড়িগুলো গোপনে, সুরক্ষিত অবস্থায় লুকানো আছে। খুবই কড়া পাহারায় রাখা হয়েছে ওগুলো। এক ঘণ্টা আগের খবর জানি আমি, ওগুলোর কাছাকাছি যেতে পারেনি কেউ। যদি ধরেও নেয়া হয় ভাগ্যগুণে দুএকটা গাড়ি-বোমা পেয়ে যাবে ওরা, তারপর বোমাগুলো অকেজোও করতে পারবে, তবু তাতে আমাদের তেমন কোন ক্ষতি হবে না। দুনিয়ার অর্ধেকটায় ইলেকট্রোম্যাগনেটিক শীল্ড তৈরি করার জন্যে যে-কয়টা দরকার তারচেয়ে অনেক বেশি গাড়ি-বোমা আছে আমাদের।
কেজিবি বা ইউরোপিয়ান কমিউনিটি ইন্টেলিজেন্স এজেন্সিগুলোর তৎপরতা সম্পর্কে রিপোর্ট আছে? জানতে চাইল সুমা।
সম্পূর্ণ অন্ধকারে আছে ওরা, জবাব দিল রয় ওরশিয়া। কারণটা আমরা জানি, না রেই জর্ডান কিছুই ওদেরকে জানাননি।
চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছে কামাতোরি, কাপের কিনারা দিয়ে তাকিয়ে আছে। বন্ধুর দিকে। তুমি তাকে হারিয়ে দিয়েছ, সুমা। আমাদের রোবোটিক টেকনিশিয়ানরা উইপর সিস্টেমে ইলেকট্রনিক্সের কাজ প্রায় শেষ করে এনেছে। শিগগির, খুব শিগগির, এমন একটা পজিশনে পৌঁছে যাচ্ছ তুমি, অধঃপতিত পশ্চিমা দুনিয়াকে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দিতে পারবে।
সুমার পাথুরে চেহারায় নিমিষের জন্যে সন্তুষ্টির একটু ভাব ফুটে উঠেই মিলিয়ে গেল। বেশিরভাগ লোক অগাধ টাকা কামাতে পারলে আর কিছু চায় না, টাকাকেই তারা ক্ষমতা বলে মনে করে, কিন্তু হিদেকি সুমা শুধু টাকা বা টাকার কারণে প্রাপ্ত ক্ষমতায় তৃপ্ত নয়। একচ্ছত্র আধিপত্য চাই তার। চাই গোটা দুনিয়ার ওপর ছড়ি ঘোরাবার ক্ষমতা। আমার মনে হয় এবার সময় হয়েছে, বিদ্রুপাত্মক কৌতুকের সুরে বলল সে অতিথিদের জানানো দরকার কেন তাদেরকে এখানে ধরে এনেছি আমরা।
