আপনমনে হাসল পিট। ব্যাপক প্রতিরক্ষা ও অ্যালার্ম সিস্টেম সবই ভল্টের বাইরে, ভেতরে কিছুই রাখা হয়নি। অনেক সিকিউরিটি সিস্টেমে এ ধরনের ত্রুটি লক্ষ্য করা যায়।
স্ক্রীনে ছোট একটা তার বাঁধল টিমোথি, তারপর নিঃশব্দে মেঝেতে নামিয়ে রাখল সেটা। লিভার টেনে হেজঅগের অ্যাংকর প্রং রিলিজ করল, ভল্টে নামিয়ে রাখল নকল কমপ্রেসরের পাশে। তারপর ধীরে ধীরে নিচে নামল ও, একটা গড়ান দিল কংক্রিটের মেঝেতে। ভেতরে ঢুকছি, স্টেসিকে জানাল শুনতে পাচ্ছি।
বল্টের চারদিকে টর্চের আলো ফেলল টিমোথি। কংক্রিটের চার দেয়ালের ভেতর অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ি-বোমাগুলোকে ভীতিকর লাগল ওর। দাঁড়াল ও, হারনেসটা খুলে ফেলল। পায়ে বাধা ছোট টুলকিটটা খুলে ফেল্ডারে রাখল। গাড়ির ভেতর কি আছে না দেখেই হুডটা খুলে ফেলল ও।
বম্ব ইউনিটের দিকে তাকিয়ে থাকল টিমোথি, নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করছে। এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে কোডেড রেডিও সিগন্যালের সাহায্যে বিস্ফোরণ ঘটানো যায়। শুধু এটুকুই জানে ও। আকস্মিক নাড়াচাড়ার ফলে ডিটোনেশন মেকানিজম সচল হবে বলে মনে হয় না। সুমার অণু বিজ্ঞানীরা এমন একটা বোমাই তৈরি করবে যেটা খারাপ রাস্তায় গাড়ির ঝাঁকি হজম করার শক্তি রাখে। তবু কোন ঝুঁকি নিতে রাজি নয় টিমোথি, বিশেষ করে ডিভাইন স্টারের বিস্ফোরণের কারণ এখনও যেহেতু জানা যায়নি।
কমপ্রেসর থেকে প্রেশার হোস সরাবার কাজে হাত দিল টিমোথি। তার সন্দেহই সত্যি প্রমাণিত হলো। সাবধানে সংযোগগুলো কাটল টিমোথি, নতুন করে জোড়া লাগাল নকল কমপ্রেসরের সাথে, ওগুলোর সার্কিট না ভেঙে। কমপ্রেসরের মাউন্টিং ব্র্যাকেটে বোল্ট আছে, তবে ওগুলো সময় নিয়ে সরালেও হবে। বোমাটা গাড়ি থেকে বের করে এনেছি, রিপোর্ট করল ও। এবার ওটার জায়গায় আমাদেরটা রাখব।
ছয় মিনিট পর নকল কমপ্রেসর জায়গা মত বসিয়ে সংযোগগুলো জোড়া লাগাল টিমোথি। স্টেসিকে বলল, বেরিয়ে আসছি।
আমি তৈরি।
ভেন্টিলেটরের ফাঁক গলে পিছিয়ে আসছে টিমোথি, হঠাৎ কি যেন একটা দেখতে পেল ও, এতক্ষণে অন্ধকারে চোখে পড়েনি।
কে যেন বসে রয়েছে গাড়িটার সামনের সীটে।
ভল্টের চারদিকে টর্চের আলো ফেলল টিমোথি। এখন চারটে গাড়িতেই ওদেরকে দেখতে পাচ্ছে ও। স্টিয়ারিং হুইলের পিছনে বসে আছে। ভল্টটা ঠাণ্ডা, কিন্তু টিমোথির মনে হলো একটা তন্দুরের ভেতর রয়েছে ও। এক হাতে এখনও ধরে আছে টর্চটা, অপর হাতে উল্টোপিঠ দিয়ে মুখের গাম মুছল। সামনের দিকে বুকিল ও, ড্রাইভারের দিকে জানালা দিয়ে গাড়ির ভেতরে তাকাল।
হুইলের পিছনে বসা কাঠামোটাকে যান্ত্রিক মানুষ বলা ঠিক হবে না। আবার রোবট বললেও বাড়িয়ে বলা হয়। তবে আসলে ওটা রোবটই। মাথা মানে কমপিউটরাইজ ভিজুয়াল সিস্টেম, ধাতব একটা শিরদাঁড়ার ডগায় বসানো হয়েছে। আর বুক মানে বাক্স ভর্তি ইলেকট্রনিক্স। থাবা আকৃতির ইস্পাতের হাত তিন আঙুলে ধরে আছে স্টিয়ারিং হুইল। হাত ও পায়ে মানুষের মতই জয়েন্ট রয়েছে, তবে মিল বলতে ওইটুকুই।
প্লীজ রিপোর্ট, আবেদন জানাল স্টেসি, টিমোথির ফিরতে দেরি হচ্ছে দেখে অস্থিরতা অনুভব করছে।
ইন্টারেস্টিং একটা জিনিস পেয়েছি, বলল টিমোথি।
আগে তুমি উঠে এসো, তাগাদা দিল স্টেসি।
লাইন টেনে যেভাবে নিচে নামতে সাহায্য করেছিল টিমোথিকে, সেই একই পদ্ধতিতে লাইন টেনে ওকে উপরে উঠে আসতে সাহায্য করছে স্টেসি। ডাক্ট থেকে শ্যাফটে চলে এল টিমোথি, রশি টানতে নিষেধ করল স্টেসিকে। প্রথমে ভল্ট থেকে হেজঅগটা তুলল, তারপর জায়গামত বসিয়ে দিল স্ক্রীনটাকে। ও এসেছিল, তার কোন প্রমাণ রাখা চলবে না।
আবার লাইন টানতে শুরু করল স্টেসি। অ্যাটম বোমাটা টিমোথির সামনে, সেটার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে, ভাবছে জীবনের মেয়াদ সম্পর্কে।
আমি তোমার পা দেখতে পাচ্ছি, অবশেষে বলল স্টেসি। টিমোথির হাত ও পায়ের পেশী অনুভূতি হারিয়ে ফেলেছে, পরিশ্রমে ও উত্তেজনায় বুকের ভেতর লাফাচ্ছে হৃৎপিণ্ড।
হাত বাড়িয়ে পিটের কাছ থেকে বোমাটা নিয়ে ইউনিলিটি রুমে তুলল স্টেসি, নরম একটা কাপড়ে জড়িয়ে রেখে দিল ব্যাগের ভেতর। কামরায় উঠে এসে নাইলন লাইন রিলিজ করল টিমোথি, খুলে ফেলল হারনেস ট্রিগার টেনে হেজঅগের জ্যামিং প্রং রিলিজ করল স্টেসি, লাইন টেনে তুলে নিল ম্যাফট থেকে, রেখে দিল ব্যাগের ভেতর। নাইলন টেনে তুলে নিল শ্যাফট থেকে, রেখে দিল ব্যাগের ভেতর। নাইলন স্যুট খুলে টেনিস সোয়েটার ও শর্টস পরছে পিট, প্যানেলটা রিসীল করার জন্যে ডাক্ট টেপ ব্যবহার করল সে।
কোন ঝামেলা হয়নি? জানতে চাইল টিমোথি।
মাথা নাড়ল স্টেসি। গাড়ি পার্ক করার পর দুএকজন লোক পাশ দিয়ে হেঁটে গেছে। হোটেল স্টাফরা এদিকে কেউ আসেনি। ব্যাগটার দিকে তাকায় সে, একটা আঙুল তাক করল সেদিকে। ওটার ভেতর অ্যাটম বোমা আছে, না জানলে তুমি বিশ্বাস করতে?
মাথা নাড়ল টিমোথি। করতাম না। ওটার ক্ষমতা জানো? মুহূর্তে গোটা হোটেলটা বাস্প করে দিতে পারে।
নিচে কোন সমস্যা হয়নি? জানতে চাইল স্টেসি।
না। তবে আমাদের বন্ধু সুমার একটা নতুন চমক আবিষ্কার করেছি আমি, বলল টিমোথি, স্যুট আর হারনেস ব্যাগে ভরল। গাড়িগুলোতে রোবোটিক ড্রাইভার রয়েছে। ডিটোনেশন পয়েন্টে দিয়ে যাবার জন্যে রক্ত মাংসের মানুষ দরকার নেই।
