ব্লু প্রিন্টের এক জায়গায়, আঙুলের টোকা দিল টিমোথি। ভেন্টিলেটর দিয়ে। ঢুকব আমরা।
ভাগ্য ভাল যে আছে একটা।
রাখতে হয়েছে বাধ্য হয়ে। ভেন্টিলেশন-এর ব্যবস্থা না থাকলে কংক্রিটের গায়ে ফাটল ধরতে পারে, ক্ষতি করতে পারে হোটেলের ভিতে।
কোত্থেকে শুরু হয়েছে?
ছাদ।
আমাদের সরঞ্জামের জন্যে অনেক দূর হয়ে যায়।
সেকেন্ড আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিং লেভেল থেকে আমরা একটা ইউটিলিটি রুম। হয়ে ভেতরে ঢুকতে পারি।
চাও আমিও ঢুকি?
মাথা নাড়ল টিমোথি। একা আমি ঢুকব, তুমি থাকবে লাইনের দায়িত্বে।
ভেন্টিলেটর ডাক্ট-এর ডাইমেনশনগুলো পরীক্ষা করল স্টেসি। কোনরকমে ভেতরে হয়তো গলতে পারবে, কিন্তু তারপর আটকে যাবে না তো? আশা করি তোমার ক্লসট্রোফোবিয়া নেই।
.
কাঁধে ব্যাগ, হাতে র্যাকেট, পরনে টেনিস টাস, দেখে বোঝাই যাচ্ছে হোটেলের কোর্টে টেনিস খেলতে যাচ্ছে ওরা। খালি একটা এলিভেটরের জন্যে অপেক্ষা করল কিছুক্ষণ, তারপর নেমে এল সেকেন্ড-লেভেল পার্কিং গ্যারেজে। ইউটিলিটি রুমে ঢুকে ভেতর থেকে দরজায় একটা তালা লাগিয়ে দিল পিট।
কামরার ভেতর বাষ্প ও পানির পাইপ, ডিজিটাল-ডালসহ বিভিন্ন ধরনের ইন্সট্রুমেন্ট রয়েছে, টেম্পারেচার ও হিউমিনিটি মনিটর করে। এক সার র্যাকে ঝাঁটা, ক্লিনিং সাপ্লাই, তার ইত্যাদি দেখা গেল। ব্যাগ ভুলে এরই মধ্যে ইকুইপমেন্টগুলো বের করতে শুরু করেছে স্টেসি। এক প্রস্থ নাইলনে তৈরি স্যুটটা পরে নিল পিট। বড়ি হারনেস ও ডেল্টা বেল্ট বাঁধল কোমরে।
এরপর স্টেসি স্প্রিং-পাওয়ারড পিস্টন টিউবের সাথে জোড়া লাগাল বীনব্যাগ গান নামে একটা ব্যারেল। ওটার সাথে জোড়া লাগাল একটা হেজাগ জিনিসটা অদ্ভুত, চারদিকে গোল বলবেয়ারিঙের মত দেখতে হুইল, মাঝখানে একটা পুলি তিন প্রস্ত নাইলন লাইন খুলে হেজাগ আর বীনব্যাগ গান সংযুক্ত করল স্টেসি।
শেষ বারের মত ব্লু প্রিন্টে চোখ রেখে ভেন্টিলেশন সিস্টেমটা দেখে নিল টিমোথি। ছাদ থেকে নেমে এসেছে খাড়া একটা শ্যাফট, প্রতিটি সিলিং ও পার্কিং এরিয়ার মেঝের মাঝখানে একটা করে ছোট ডাক্ট আড়াআড়িভাবে মিলিত হয়েছে ওটার সাথে। গাড়ি-বোমাগুলো রয়েছে একটা ভল্টে, ওটার দিকে যে ডাক্টটা এগিয়েছে সেটা রয়েছে ওদের পায়ের তলার মেঝে ও নিচের বেসমেন্টের সিলিঙের মাঝখানে।
ব্যাটারি চালিত ইলেকট্রিক করাত দিয়ে শিট-মেটাল দেয়ালে বড় একটা গর্ত তৈরি করল টিমোথি, তিন মিনিট পর ঢাকনিটা সরিয়ে ছোট্ট একটা টর্চ জ্বেলে ডাক্টের ভেতর আলো ফেলল। এক মিটারের মত নেমে গেছে, তারপর বাঁক নিয়েছে ভল্টের দিকে, বলল ও।
তাহলে কত দূরে? জানতে চাইল স্টেসি।
ব্লু প্রিন্টের দেখা যাচ্ছে প্রায় দশ মিটার।
বাঁক নেয়ার সময় যেখানে খাড়া থেকে আড়াআড়ি হয়ে গেছে ডাক্ট, হামাগুড়ি দিয়ে জায়গাটা পার হতে পারবে তুমি?
শুধু যদি দম বন্ধ করে রাখি, সামান্য হেসে জবাব দিল টিমোথি।
রেডিও পেক, বলল, স্টেসি, মাথায় গলাল একটা মিনিয়েচার মাইক্রোফোন ও রিসিভার সেট।
কব্জিতে বাঁধা খুদে ট্র্যান্সমিটার অন করল টিমোথি, মুখের সামনে তুলে ফিসফিস করল, টেস্টিং, টেষ্টিং। আমার গলা শুনতে পাচ্ছ?
পরিষ্কার। আমারটা?
পরিষ্কার।
টিমোথিকে একবার আদর ও আশ্বাসসূচক আলিঙ্গন করল স্টেসি, তারপর ভেন্টিলেটরের দিকে ঝুঁকে বীনব্যাগ গানের ট্রিগার টেনে ধরল। স্প্রিং বহুল পিস্টন অন্ধকারে ছুঁড়ে দিল হেজঅগটাকে, বাঁকের কাছে বাড়ি খেয়ে গতি কমলেও, রোলার বেয়ারিং হুইলগুলো সাবলীলভাবে বাঁক ঘুরতে সাহায্য করল ওটাকে। বাঁক ঘুরে এগিয়ে যাচ্ছে ওটা, কয়েক সেকেন্ড শুনতে পেল ওরা আওয়াজটা, টেনে নিচ্ছে তিনটি নাইলন লাইন। তারপর মৃদু একটা ধাতব শব্দ হলো, তার মানে ভল্টের দেয়ালে লাগানো ফিল্টার স্ক্রীনে ধাক্কা খেল জিনিসটা। এরপর আরেকটা ট্রিগার টানল স্টেসি, এক জোড়া রড হেজঅগ থেকে বেরিয়ে ডাক্টের দুদিকে শক্তভাবে আটকে গেল।
হারনেসে ক্লিপ দিয়ে রশি আটকাল টিমোথি, ছোট টর্চটা খুঁজে নিল কোমরে। ব্যাগ থেকে এয়ারকন্ডিনিং কমপ্রেসরটা বের করল। খাড়া শ্যাফটে ঢুকল ও নিচের দিকে মাথা দিয়ে ধীরে ধীরে নেমে যাচ্ছে, মাথার সামনে রয়েছে কমপ্রেসরটা। একটা লাইন শক্ত করে ধরে আছে স্টেসি, একটু একটু করে ছাড়ছে। খাড়া শ্যাপটে জায়গার কোন অভাব নেই, তবে আড়াআড়িভাবে ডাক্টে ঢোকার সময় শরীরটা সাপের মত সংকুচিত করতে হলো টিমোথিকে। চিৎ হয়ে ডাক্টে ঢুকল ও। কব্জিতে বাঁধা রেডিওতে বলল, ঠিক আছে, স্টেসি, টানো এবার।
কেমন লাগছে?
বোকার মত প্রশ্ন কোরো না।
হাতে দস্তানা পরল স্টেসি, নাইলনের একটা রশি ধরে টানতে শুরু করল। রশিটা হেজঅগের গুলিতে জড়ানো আছে, বাধা আছে টিমোথির কোমরের হারনেসে। স্টেসি ওটা টানতে শুরু করায় সরু ভেন্টিলেশন ডাক্ট দিয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে টিমোথি।
স্টেসিকে সাহায্য করার তেমন কোন উপায় নেই টিমোথির। রশিতে টান পড়ছে, অনুভব করে নিঃশ্বাস ছাড়ল ও। নাইলন স্যুটের ভেতর ঘামতে শুরু করেছ। এরই মধ্যে। হেজঅগ আর পিেন্টলেটর স্ক্রীনে দেখতে পাচ্ছি আমি, আট মিনিট পর রিপোর্ট করল টিমোথি।
আর পাঁচ মিনিট পর ওখানে পৌঁছে যাবে ও। ভল্টে টিভি ক্যামেরা আছে কিনা ব্লু প্রিন্টে তা দেখানো হয়নি, তবু অন্ধকারের ভেতর তীক্ষ্ণদৃষ্টিতে তাকায় ওটার খোঁজে। পকেট থেকে ছোট্ট একটা সেনশন বের করল, লেজার বা হিটসিকিং স্ক্যানার আছে কিনা পরীক্ষা করার জন্যে।
