সামনের বাঁকটা এখনও দুশো মিটার দূরে। ওখানে পৌঁছানোর আগেই কিছু একটা করা দরকার, কারণ পরবর্তী বুলেটের ঝাঁকগুলো রাস্তা থেকে ঝেটিয়ে বিদায় করবে ওদেরকে। শত্রুপক্ষকে কিছু বুঝতে না দিয়ে অকস্মাৎ দ্রুত হুইল ঘোরাল পিট, দুটো রাস্তা পেরিয়ে উঠে এল গ্লাস মোড়া কিনারায়। সময়ের হিসেবটা নিখুঁত হয়েছে। এক ঝাঁক বুলেট ছুটে এল, কিন্তু একটাও লাগল না। রাস্তার কিনারা থেকে ঢাল বেয়ে নেমে এল স্টেশন ওয়াগন, অগভীর একটা গর্তে পড়ল ওরা, গর্তের ভেতরে পানি। দুতিনবার পিছনে গেল চাকা, তারপর গর্তের আরেক প্রান্ত দিয়ে উঠে এল বেল্টওয়ের সমান্তরাল অপর একটা রোডে।
ঘটনা দ্রুত মোড় নেয়ায় শত্রুপক্ষ হতভম্ব হয়ে পড়ল, গাড়ি থামাতে বাধ্য হলো তারা, ফলে সময় নষ্ট হলো। আবার এক হয়ে ধাওয়া শুরু করল তারা, তবে ইতোমধ্যে দশ-বারো সেকেন্ড এগিয়ে গেছে পিট।
লম্বা একটা এভিনিউ পেরিয়ে এসে আবাসিক এলাকায় ঢুকে পড়ল স্টেশন ওয়াগন। তীক্ষ্ণ কয়েকটা বাঁক ঘুরল পিট, ভাঙা উইন্ডস্ক্রীন দিয়ে ভোরের ঠাণ্ডা বাতাস এসে আঘাত করছে মুখে। দুবার বাম দিকে, তারপর ডান দিকে ঘুরল ও। আবাসিক এলাকা, কাজেই ভ্যান থেকে গুলি হচ্ছে না। আবার বাক নেয়ার সময় পিছনে তাকিয়ে পিট দেখল, ভ্যানগুলোকে দেখা যাচ্ছে না। বাঁক ঘুরেই হেডলাইট অভ করে দিল ও, গাড়ি চালাচ্ছে অন্ধকারে। জানা সমস্ত কৌশল কাজে লাগাবার চেষ্টা করছে। মাঝে মধ্যে ব্যবধান বাড়ছে মাত্র, কিন্তু খসাতে পারছে না।
আরেকটা বাঁক ঘরে শহরের প্রধান এভিনিউয়ের দিকে ফিরে যাচ্ছে পিট। দ্রুত পিছিয়ে গেল একটা গ্যাস স্টেশন, থিয়েটার, কয়েকটা মুদি দোকান। হার্ডওয়্যার স্টোর খুঁজছি আমরা, দেখতে পেলে বললেন, বাতাস আর টায়ারের শব্দকে ছাপিয়ে উঠল ওর কণ্ঠস্বর।
কি খুঁজছি? অ্যাডমিরালের গলায় অবিশ্বাস।
হার্ডওয়্যারের দোকান। এটা শহর, না থেকে পারে না।
অসকার ব্রাউনস্ হার্ডওয়্যার এমপোরিয়াম, ঘোষণা করল অ্যাল। বেল্টওয়ে থেকে ছিটকে বেরিয়ে আসার সময় সাইনবোর্ডটা দেখেছি আমি।
যে প্ল্যানই করে থাকো, থমথমে গলায় বললেন অ্যাডমিরাল, জলদি ম্যানেজ করো। গ্যাস গজের লাল আলো জ্বলতে দেখলাম এইমাত্র।
ড্যাশ ইন্সট্রুমেন্টের দিকে তাকাল পিট। এমটি লেখা ঘরে কাঁপছে কাঁটা। তার মানে ফুয়েল ট্যাঙ্ক সেলাই করেছে ওরা।
রাস্তার ডান দিকে ব্রাউন এমপোরিয়াম এগিয়ে আসছে, বলল অ্যাল, খোলা উইন্ডস্ক্রীন দিয়ে হাত লম্বা করে দেখাল।
আপনার কাছে টর্চ আছে? অ্যাডমিরালকে জিজ্ঞেস করল পিট।
গ্লাভ কমপার্টমেন্ট।
বের করুন।
ভিউ মিররে তাকাল পিট। দুই ব্লক পিছনে বাঁক ঘুরছে প্রথম ভ্যানটা। রাস্তার বাম দিকে নর্দমার ঢাকনির উপর গাড়ি তুলল ও, তারপর ভন ভন করে ডান দিকে হুইল ঘোরাল।
আড়ষ্ট হয়ে গেলেন অ্যাডমিরাল।
কর্কশ আওয়াজ বেরুল অ্যালের গলা থেকে, ওহ, নো!
একপাশে কাত হলো স্টেশন ওয়াগন, পরমুহূর্তে ফুটপাথের উপর দিয়ে ছুটল, প্লেন গ্লাস ভেঙে ঢুকে পড়ল হার্ডওয়্যার স্টোরে। প্রথমে বিধ্বস্ত হলো সামনের কাউন্টার, দেরাজ থেকে অন্ধকারে ছড়িয়ে পড়ল খুচরো পয়সা আর টাকা। দাতাল রেদা ভর্তি একটা র্যাক ধরাশায়ী হলো। একটা প্যাসেজে ঢুকে পড়ল গাড়ি, দুপাশের র্যাক থেকে বুলেটের মত ছুটল নাট-বল্টু, পেরেক, স্ক্রু আর গজাল।
প্যাসেজে চলে এল ও, কি যেন খুঁজছে। একটা তার ছিঁড়ে গেল, সঙ্গে সঙ্গে কর্কশ শব্দে বেজে উঠল সিকিউরিটি অ্যালার্ম।
সামনে একটা ডিসপ্লে কেস দেখে ব্রেক করল পিট, পরমুহূর্তে সামনের কাঁচ চুরমার হয়ে গেল। গাড়ির একটা মাত্র হেডলাইট মিটিমিট করে জ্বলছে, তার আলোয় দেখা গেল বিধ্বস্ত ডিসপ্লেতে বিশ কি ত্রিশটা হ্যান্ডগান ছড়িয়ে রয়েছে, পাশের বড় একটা কেবিনেটে দাঁড়িয়ে রয়েছে সারি সারি রাইফেল ও শটগান।
৪০. যে যার অস্ত্র বেছে নিন
৪০.
যে যার অস্ত্র বেছে নিন, অ্যালার্মের কর্কশ আওয়াজকে ছাপিয়ে উঠল পিটের চিৎকার, লাথি মেরে খুলে ফেলল গাড়ির দরজা।
দ্বিতীয়বার বলতে হলো না অ্যাডমিরালকে, বগলে টর্চ জে অ্যামুনিশন কেবিনেট হাতড়াতে শুরু করলেন। তোমাদের কি পছন্দ বলছ না যে? পিটের মত তিনিও চিৎকার করলেন।
ছোঁ দিয়ে এক জোড়া কোল্ট কমব্যাট কমান্ডার অটোমেটিক পিস্তল তুলে নিল পিট। ফরটিফাইড অটোমেটিক! ক্লিপ ইজেক্ট করল ও।
সঠিক ক্যালিবার খুঁজে পেতে কয়েক সেকেন্ড সময় নিলেন অ্যাডমিরাল। পিটের দিকে দুটো বাক্স ঠেলে দিলেন তিনি। উইনচেস্টার সিলভার টিপস। ঘুরলেন অ্যালের দিকে। তোমার কি দরকার?
তিনটি রেমিং-১১০০ শটগান নামিয়েছে অ্যাল র্যাক থেকে। টুয়েলভ গজ, ডাবল-অটো লোড।
সরি, কঠিন সুরে বললেন অ্যাডমিরাল। অল্প সময়ের নোটিসে আমি শুধু নাম্বার-ফোর ম্যাগনাম বাকশট ম্যানেজ করতে পেরেছি। শটগান কেসিঙের কয়েকটা বাক্স ঠেলে দিলেন অ্যালের দিকে। নিচু হয়ে ছুটলেন তিনি, ঢুকে পড়লেন পেইন্ট সেকশনে।
তাড়াতাড়ি করুন, টর্চটা নেভান, তাঁকে সাবধান করল পিট, বেল্টের বাঁট দিয়ে অবশিষ্ট হেডলাইটটাও ভেঙে ফেলল।
ভ্যানগুলো কাছাকাছি দাঁড়িয়েছে, দোকানের ভেতর থেকে লোকগুলোকে দেখতে পাচ্ছে না ওরা। আততায়ীরা নিজেদের গাড়ি থেকে দ্রুত নেমে ছড়িয়ে পড়ল। হার্ডওয়্যারের দোকানের দিকে ছুটে এল না, দাঁড়িয়ে পড়ল।
