কংগ্রাচুলেশন্স, বললেন তিনি। অত্যন্ত সফল একটা অপারেশনের জন্যে।
রেজাল্ট কি এখনও তা আমরা জানি না, বলল পিট। ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো পেইিটিং-এর যে ছবি ট্র্যান্সমিট করে পাঠালেন, তার সাথে কোন দ্বীপের মিল পাওয়া গেছে?
যায়নি মানে! দ্বীপটাকে আজিমা বলতে স্থানীয় জেলেরা, অনেক কাল আগে। কিন্তু চার্টে ওটা আছে সোসেকি আইল্যান্ড হিসেবে। আজিমা নামটা লোকে ভুলেই গেছে।
কোথায় সেটা? জানতে চাইল অ্যাল। অ্যাডমিরালের পিছু পিছু হেঁটে এসে একটা সেশন ওয়াগনে উঠল ওরা। ড্রাইভিং সীটে বসল পিট, ওর পাশে অ্যাডমিরাল। অ্যাল বসল ব্যাকসীটে।
এডো সিটির পূর্ব দিকে, তীর থেকে প্রায় ষাট কিলোমিটার দূরে।
হঠাৎ পিটের চেহারায় উদ্বেগের ছায়া পড়ল। লরেনের কোন খবর, অ্যাডমিরাল?
মাথা নাড়লেন অ্যাডমিরাল। আমরা শুধু জানি মিস লরেন ও মি. ডিয়াজ বেঁচে আছেন, ওঁদেরকে গোপন একটা আস্তানায় আটকে রাখা হয়েছে?
উদ্ধার করার কোন চেষ্টা হচ্ছে না? বাঁক নিয়ে ওয়াশিংটনের রাস্তাটি ধরল পিট।
গাড়ি-বোমার হুমকি যতক্ষণ থাকবে, প্রেসিডেন্টের হাত বাঁধা।
ঘুমাব, মুখের সামনে হাত তুলে হাই তুলল অ্যাল, আসলে প্রসঙ্গ বদলে পিটকে শান্ত করতে চাইছে সে। আমার সাঙ্তিক ঘুম পেয়েছে।
ম্যানকিউসো জার্মানিতে রয়ে গেলেন কেন? জানতে চাইলেন অ্যাডমিরাল স্যানডেকার।
জাপানি দূতাবাসের পেইন্টিংগুলো টোকিওতে পৌঁছে দেবেন উনি, বলল পিট। ডোনাল্ড কার্ন ফোনে তাঁকে সে নির্দেশ দিয়েছেন।
মুচকি হাসলেন স্যানডেকার। জার্মানদের তাই বোঝানো হয়েছে। আসলে ম্যানকিউসো ওগুলো ওয়াশিংটনে নিয়ে আসছেন। সময় ও সুযোগ মত প্রেসিডেন্ট ওগুলো শুভেচ্ছার নিদর্শন হিসেবে জাপানিদের উপহার দেবেন।
কোথায় যাচ্ছি আমরা, জানতে চাইল পিট।
চুপ করে থাকলেন অ্যাডমিরাল, কি যেন ভাবছেন। ডার্কের মনে হলো, শুনতে না পাবার ভান করছেন ভদ্রলোক। প্রশ্নটা আবার করল ও। কোথায় যাচ্ছ? শুনে খুশি হবে বলে মনে হয় না। আবার প্লেনে চড়তে হবে তোমাদের।
মানে? কোথায়?
প্রথমে লস এঞ্জেলসে। তারপর প্যাসিফিকে।
লস এঞ্জেলসে কেন? প্যাসিফিকের ঠিক কোথায়?
লস এঞ্জেলসে স্টেসি ফক্স তোমার পার্টনার। তারপর পালাউ-এ যাচ্ছ। মেল পেনারের সাথে দেখা করতে।
কখন প্লেনে চড়ব আমরা?
হাতঘড়ি দেখলেন অ্যাডমিরাল। এক ঘণ্টা পঞ্চাশ মিনিট পর তোমাদের ফ্লাইট। ডালেস থেকে একটা কমার্শিয়াল এয়ারলাইনের প্লেনে…।
তাহলে তো ওখানেই ল্যান্ড করলে পারতাম আমরা, বললল পিট। গাড়িতে উঠতে হত না।
সিকিউরিটির কথা ভেবে এই ব্যবস্থা, বললেন অ্যাডমিরাল ডোনাল্ড কার্ন চাইছেন আর সব সাধারণ প্যাসেঞ্জারের মত টিকেট কেটে প্লেনে চড়ো তোমরা।
কিন্তু আমাদের কাপড়চোপড় দরকার…।
এয়ারপোর্টে এতক্ষণে পৌঁছে গেছে দুটো সুইকেস।
অসহায়ভাবে কাঁধ ঝাঁকিয়ে রিভার ভিউ মিররে তাকাল পিট। বেল্টওয়েতে উঠে আসার পর থেকে একজোড়া হেডলাইট অনুসরণ করছে ওদেরকে। শেষ কয়েক কিলোমিটার একই দূরত্ব বজায় রাখছে আলো দুটো। গতি সামান্য বাড়ালো ও। পিছিয়ে পড়ল জোড়া হেডলাইট, তারপর আবার এগিয়ে এল।
কি ব্যাপার, পিট? জানতে চাইলেন অ্যাডমিরাল।
ফেউ।
ঘাড় ফিরিয়ে পিছন দিকে তাকাল অ্যাল। একাধিক গাড়ি। তিনটে ভ্যানের একটা কনভয় দেখতে পাচ্ছি আমি।
পিট চিন্তিত, তাকিয়ে আছে মিররে। যারাই পিছনে লাগুক, কোন ঝুঁকি নিতে রাজি নয়। গোটা একটা প্লাটুন পাঠিয়েছে।
ছোঁ দিয়ে কার ফোনের রিসিভার তুলে নিলেন অ্যাডমিরাল স্যানডেকার, লাইনটা নিরাপদ। সঙ্কেতের ধার ধরলেন না, রিসিভারে বললেন, দিস ইজ অ্যাডমিরাল স্যানডেকার। আমরা বেল্টওয়েতে রয়েছি, যাচ্ছি দক্ষিণে, মর্নিং সাইড এর দিকে। আমাদের পিছনে ফেউ লেগেছে…।
বলুন ধাওয়া করছে, বাধা দিল পিট। দ্রুত চলে আসছে ওরা।
অকস্মাৎ এক পশলা বুলেট এসে লাগল গাড়ির ছাদে। কারেকশন, অদ্ভুত শান্ত গলায় বলল অ্যাল জিওর্দিনো। ধাওয়ার বদলে বলুন হামলা।
সিট থেকে মেঝেতে নেমে গেলেন অ্যাডমিরাল, দ্রুত কথা বলছেন মাউথপীসে। অ্যাকসিলারেটরে পা চেপে ধরেছে পিট। বেল্টওয়ে ধরে ঘণ্টায় একশো পঞ্চাশ কিলোমিটার গতিতে ছুটল স্টেশন ওয়াগন।
ডিউটিতে রয়েছে একজন এজেন্ট, অ্যাডমিরাল জানলেন। হাইওয়ে পেট্রলকে মেসেজ পাঠাচ্ছে সে।
তাড়াতাড়ি করতে বলুন, আবেদন জানায় পিট, শত্রুপক্ষের লক্ষ্য ব্যর্থ করার জন্যে হাইওয়েরে তিনটে লেনের একটা থেকে আরেকটায় চলে যাচ্ছে দ্রুত।
আরও এক পশলা গুলি হলো। সিটগুলোর মাঝখানে আগেই বসে পড়েছে অ্যাল। পিছনের জানালার কাঁচ ভেঙে গেল, বুলেটগুলো ছুটল তার মাথার উপর দিয়ে, ভেঙে ফেলল সামনের উইন্ডস্ক্রীনের অর্ধেকটা। এটাকে ঠিক ফেয়ার প্লে বলা যায় না। ওদের কাছে অস্ত্র আছে, আমাদের কাছে নেই, অ্যালের সুরে অভিযোগ।
চট করে ঘাড় ফিরিয়ে তার দিকে তাকাল পিট। বসে না থেকে আন্তর্জাতিক আদালতে চিঠি লেখো।
সামনে বাক, সতর্ক করলেন অ্যাডমিরাল।
রিয়ার ভিউ মিররে তাকাল পিট। ভ্যানগুলো অ্যাম্বুলেন্সের মত রঙ করা। লাল ও নীল আলোও জ্বলছে-নিভছে। তবে সাইরেন বাজছে না। কালো পোশাক পরা লোকগুলোকে দেখতে পেল ও, জানালা দিয়ে অটোমেটিক উইপন বের করে রেখেছে। প্রতিটি ভ্যানে সম্ভবত চারজন করে লোক। সব মিলিয়ে বারো জন।
