জাপানের সরকার বা সাধারণ জাপানিদের দোষ দিতে পারি না, বললেন রেইমন্ড জর্ডান। আমি প্রায় নিশ্চিত, ওদের প্রধানমন্ত্রীকে অন্ধকারে রাখা হয়েছে। অসৎ ও উচ্চাভিলাষী শিল্পপতি, বিবেকবর্জিত ফাইন্যান্সার আর আন্ডারওয়ার্ল্ডের। লীডাররা যে গোপনে অ্যাটম বোমা বানিয়ে ফেলেছে, এ-খবর তার জানা নেই।
তাহলে প্রধানমন্ত্রীর সাথে মিটিঙে বসতে হয় আমাকে, বললেন প্রেসিডেন্ট। আমরা কি জানতে পেরেছি, তাকে বলি।
মাথা নাড়লেন রেইমন্ড জর্ডান। এখনি সে ধরনের কোন পরামর্শ আমি দেব না, স্যার। তার আগে কেইটেন প্রজেক্টটা ধ্বংস করতে চাই আমরা।
শেষবার যখন কথা হলো, ওদের কমান্ড সেন্টারের লোকেশন আমরা জানতাম না।
নতুন তথ্য পেয়েছি আমরা, কমান্ড সেন্টারের অস্তিত্ব খুঁজে নেব।
জানা গেছে, ডিটোনেশনের জন্যে গাড়ি-বোমাগুলো কোথায় পাঠানো হবে?
ইয়েস, স্যার, জবাব দিলেন ডোনাল্ড কার্ন। আমাদের একটা টিম গাড়ির একটা চালান অনুসরণ করে জানতে পেরেছে।
নিশ্চয়ই ওগুলো জনবহুল এলাকায় পাঠানো হবে?
জী-না, স্যার। পাঠানো হবে এমন সব জায়গায়, বিস্ফোরণে যাতে খুব কম লোক মারা যায়।
মানে?
যুক্তরাষ্ট্র ও শিল্পসমৃদ্ধ দেশগুলোর, ব্যাখ্যা করলেন ডোনাল্ড, এমন সব এলাকায় ফাটানো হবে ওগুলো, যেখানে লোকবসতি নেই বললেই চলে। ফাটানো হবে সবগুলো প্রায় একসাথে। ফলে মাটিতে একটা ইলেকট্রোম্যাগনেটিক পালনস সেট অভ করবে, যেটা উঠে যাবে অ্যাটমসফেয়ার-এর। এতে সৃষ্টি হবে ছাতা আকৃতির চেইন রিয়্যাকশন, ফলে দুনিয়া জোড়া স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন সিস্টেম অচল হয়ে পড়বে।
সমস্ত রেডিও, টেলিভিশন ও ফোন নেটওঅর্ক স্রেফ অস্তিত্ব হারাবে, যোগ করলেন রেইমন্ড জর্ডান। ফেডারেল ও লোকাল গভর্নমেন্ট, মিলিটারি কমান্ড, পুলিশ ডিপার্টমেন্ট, ফায়ার ডিপার্টমেন্ট, অ্যাম্বুলেন্স, পরিবহন, সবই অচল হয়ে পড়বে, কারণ কানে কিছু না শুনতে পেলে কাজ করা সম্ভব নয়।
যোগাযোগবিহীন বিশ্ব, বললেন প্রেসিডেন্ট। কল্পনা করা যায় না।
পরিস্থিতি আরও খারাপ, মি. প্রেসিডেন্ট বললেন ডোনাল্ড কার্ন। আপনি জানেন, স্যার, কমপিউটার ডিস্কের সামনে একটা ম্যাগনেট ধরলে কি হয়?
সব মুছে যায়।
মাথা ঝাঁকালেন ডোনাল্ড কার্ন। পারমাণবিক বিস্ফোরণ থেকে যে ইলেকট্রো ম্যাগনেটিক পালস সৃষ্টি হবে সেটাও তাই করবে। প্রতিটি বিস্ফোরণের চারদিকে কয়েকশো মাইল পর্যন্ত প্রতিটি কমপিউটারের মেমোরি সম্পূর্ণ মুছে যাবে।
চোখে অবিশ্বাস, ডোনান্ডের দিকে তাকিয়ে থাকলেন প্রেসিডেন্ট। মাই গড।
জ্বী, স্যার, গোটা দেশ অচল হয়ে যাবে। কমপিউটার ব্যবহার করছে এমন প্রতিটি ব্যাংক, বীমা কোম্পানি, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, সুপারমার্কেট, ডিপার্টমেন্ট স্টোর-তালিকাটা অসম্ভব লম্বা_ সব বন্ধ হয়ে যাবে।
প্রতিটি ডিস্ক, প্রতিটি টেপ?
সমস্ত বাড়ি ও অফিসে, বললেন রেইমন্ড জর্ডান। আধুনিক মোটরগাড়িতে কমপিউটার ব্যবহার করা হচ্ছে, ব্যবহার করা হচ্ছে ট্রেনে ও প্লেনে। বিশেষ করে প্লেনগুলো হঠাৎ বিপদে পড়তে পারে। ক্রুরা ম্যানুয়াল কমান্ড গ্রহণ করার আগেই মাটিতে খসে পড়বে। অচল হয়ে পড়বে মাইক্রোওয়েভ ওভেন, ভিডিও ক্যাসেট রেকর্ডার, যে-কোন সিকিউরিটি সিস্টেম। আমরা কমপিউটার চিপস-এ নির্ভরশীল হয়ে পড়েছি, কিন্তু কখনও ভেবে দেখিনি যে ওগুলো কি অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে।
হাতের কলমটা ডেস্কের উপর বার কয়েক ঠুকলেন প্রেসিডেন্ট। তারপর বললেন, সেক্ষেত্রে সিরিয়াস না হয়ে উপায় নেই আমার। ওদের পরমাণবিক অস্ত্রের গুদাম ও কমান্ড সেন্টারে আঘাত হানব আমরা নিউক্লিয়ার, ইফ নেসেসারি।
আমি আগেই বলেছি, মি. প্রেসিডেন্ট, শান্তকণ্ঠে বললেন রেইমন্ড জর্ডান, সে পরামর্শ আপনাকে আমি দেব না। তবে যদি দেখি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে, তখন অবশ্য আলাদা কথা।
প্রেসিডেন্ট জানতে চাইলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আছে, কি করে বুঝব?
আরও এক হপ্তা সুমার কমান্ড সেন্টার কাজ শুরু করতে পারবে না। আমাদের একটা পেনিট্রেমন প্ল্যান রয়েছে, ভেতরে ঢুকে সব গুঁড়িয়ে দেয়া সম্ভব। অপারেশনটা সফল হলে, আন্তর্জাতিক নিন্দা এড়াতে পারব আমরা। জাপানে আমরা একবার অ্যাটম বোমা ফেলেছি, দুনিয়ার লোক সে-কথা আজও ভুলতে পারেনি। যে কারণেই হোক, আবার যদি ফেলি, মানুষ কি ভাববে সহজেই তা অনুমান করা যায়। তাছাড়া, জাপান এখন আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র, ভুলে গেলে চলবে না।
আরও ত্রিশ মিনিট আলোচনার পর চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন প্রেসিডেন্ট। চারদিন। আপনাদের আমি ছিয়ানব্বই ঘণ্টা সময় দিলাম।
দুজনের মুখই গম্ভীর হাসি, ডোনাল্ড কার্ন ও রেইমন্ড জর্ডান পরস্পরের দিকে তাকালেন। ওঁরা ওভাল অফিসে আসার আগেই সুমার ওপর হামলার পরিকল্পনা করে এসেছেন। শুধু একটা ফোন করলেই অপারেশনের কাজ শুরু হয়ে যাবে।
.
৩৯.
উডমটর, মেরিল্যান্ড। ভোর চারটে, গভর্নমেন্ট রিজার্ভেশন-এর কাছে ছোট একটা ল্যান্ডিং স্ট্রিপ, দেখে মনে হয় পরিত্যক্ত। ভোরের নিস্তব্ধতাকে চুরমার করে দিয়ে একটা জেট ট্রান্সপোর্টার প্লেন এসে নামল। তিন মিনিটের মধ্যে প্যাসেঞ্জার ডোর খুলে বেরিয়ে এল দুজন আরাহী, প্রত্যেকের হাতে একটা করে সুটকেস। রানওয়ের শেষ মাথা পর্যন্ত হেঁটে এল তারা। ওখানে দাঁড়িয়ে রয়েছেন অ্যাডমিরাল স্যানডেকার। পিট ও অ্যালের সাথে হ্যান্ডশেক করলেন তিনি।
