থ্যাঙ্ক গড। বের করুন, বের করুন।
সাবধানে পেইন্টিংটা বের করা হলো। পকেট থেকে ছোট একটা ক্যাটালগ বের করলেন ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো। মাসাকি শিমজুর শিল্পকর্মের কালার প্লেট রয়েছে। ওটায়। ক্যাটালগের পাতা ওল্টাচ্ছেন তিনি। আমি এক্সপার্ট না, তবে দেখে মনে হচ্ছে স্টাইলটা শিমজুরই।
ছবিটা উল্টো করল পিট। এদিকে কি যেন লেখা রয়েছে।
ঝুঁকে লেখাটা পড়ার চেষ্টা করলেন ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো। আজিমা আইল্যানড, বাই মাসাকি শিমজু। উত্তেজনায়, উল্লাসে তার গলা কেঁপে গেল, পেয়ে গেছি, সুমার কমান্ড স্টোরের হদিস পেয়ে গেছি। এখন শুধু স্যাটেলাইট ফটোর সাথে তীরের রেখাগুলো মেলাতে হবে।
সাড়ে চারশো বছর আগে আঁকা আজিমা নামে দ্বীপটার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে পিট। দ্বীপটা কোনদিনই টুরিস্টদের আকৃষ্ট করবে না। সফেন সাগর থেকে খাড়া আকাশের দিকে উঠে এসেছে পাহাড়ের পাথুরে প্রাচীর। সৈকতের কোন চিহ্নমাত্র নেই কোথও, গাছপালাও নেই বললে চলে। গোটা দ্বীপটা গম্ভীর দর্শন, পরিত্যক্ত ও নির্জন। কারও চোখে ধরা না পড়ে আকাশ বা সাগর থেকে দ্বীপটায় পৌঁছানোর কোন উপায় নেই। বলা যায়, প্রকৃতির তৈরি একটা দুর্গ। ঘাঁটি হিসেবে ভাল জায়গাই বেছে নিয়েছে হিদেকি সুমা।
ওই পাথরের রাজ্যে ঢোকা অসম্ভব একটা ব্যাপার, চিন্তিত স্বরে বলল পিট। কেউ চেষ্টা করলে স্রেফ মারা পড়বে।
চেহারা থেকে উল্লাসের ভাবটুকু মুছে গেল, পিটের দিকে ঝট করে তাকালেন ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো। ও কথা মুখেও আনবেন না, বিড়বিড় করলেন তিনি। এমনকি চিন্তাও করবেন না।
মাইনিং এঞ্জিনিয়ারের চোখের দিকে তাকাল পিট। কেন? ওখানে তো আর আমাদেরকে যেতে হচ্ছে না।
আপনার ভুল হচ্ছে, হাতের উল্টোপিঠ দিয়ে কপালের ঘাম মুছলেন ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো। বুইক ও টিম হোন্ডা অকেজো হয়ে যাবার পর মি, রেইমন্ড জর্ডান আমাদেরকে ছাড়া আর কাদের পাঠাবেন? চিন্তা করে দেখুন।
কথাটা ঠিক, ভাবল পিট। হঠাৎ করে জর্ডানের উদ্দেশ্যটাও পরিষ্কার হয়ে গেল। ওদের তিনজনকে গুরুত্বপূর্ণ কোন কাজ না দিয়ে বসিয়ে রেখেছেন তিনি, প্রয়োজনের সময় সুমার নিউক্লিয়ার বা ডিটোনেশন সেন্টারে পাঠাবেন বলে।
.
৩৮.
ডেস্কের ওপর খোলা ফাইলটার দিকে তাকিয়ে থাকলেন প্রেসিডেন্ট। তারপর মুখ তুলে যখন তাকালেন, চেহারা সম্পূর্ণ ভাবশূন্য। আসলেই ওরা ওগুলো ফাটিয়ে দেবে? ব্যাপারটা কোন রকম ধোকা নয়?
না, ওরা ধোকা দিচ্ছে না, রেইমন্ড জর্ডান মাথা নাড়লেন।
এ কল্পনার অতীত একটা ব্যাপার। কিন্তু কেন? এমন তো নয় যে আমাদের যুদ্ধজাহাজ ওদের দ্বীপগুলোকে ঘিরে রেখেছে।
কাল্পনিক আতঙ্ক থেকে এ এক ধরনের আত্মরক্ষার চেষ্টা, ডোনাল্ড কার্ন বললেন। চীন ও রাশিয়ায় গণতন্ত্র আসতে যাচ্ছে, পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো স্বাধীনতা পাচ্ছে, কালোদের দাবি মেনে নেয়া হচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকায়, শান্তি আসছে মধ্যপ্রাচ্যে, কাজেই দুনিয়ার দৃষ্টি এখন শিল্প সমৃদ্ধ জাপানের ওপর। ওদের অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য ও বাণিজ্য নীতিই সবার একমাত্র আলোচ্য বিষয়। ওদের আচরণে অনেকেই অসন্তুষ্ট, অনেকেরই চোখ টাটাচ্ছে। আবার এ-ও সত্যি, একের পর এক যতই মার্কেট দখল করছে জাপানিরা, ততই গোঁয়ার হয়ে উঠছে।
ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ওরা কোন নীতি মেনে চলে না, বললেন রেইমন্ড জর্ডান। লাভটাই আসল কথা। এ কথা শুধু জাপানিদের বেলায় সত্যি নয়, আমেরিকান ব্যবসায়ীদের বেলায়ও সত্যি। তবে জাপানিদের কাছে আমেরিকানরা। মার খাচ্ছে, ওদের মত বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলতে পারছে না। জাপানিদের সঙ্গে কেউই পারছে না। ফলে সবাই মিলে জাপানি পণ্য বর্জন করার জন্যে চাপ দিচ্ছে সরকারগুলোকে। ট্রেড এমবারগো আরোপ করার জন্যে কংগ্রেস সুপারিশ করতে যাচ্ছে, প্রস্তাব তোলা হবে জাপানি করপোরেশনগুলো জাতীয়করণ করার। টোকিও আপোষে রাজি হবে বলে মনে হয়, কিন্তু হিদেকি সুমা ও জাপানের বেশিরভাগ শিল্পপতি পাল্টা আঘাত হানতে চাইবে।
কিন্তু তাই বলে নিউক্লিয়ার গ্রেট…।
ওরা আসলে সময় পাবার জন্যে খেলছে, ব্যাখ্যা করলেন রেইমন্ড জর্ডান। ওদের মূল প্ল্যানটা বিশাল, অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য গড়ে তোলাটা সেই প্ল্যানের অংশবিশেষ। জাপানের সবগুলো দ্বীপের ডাঙা বা মাটি এক করলে আকারে সেটা আমাদের ক্যালিফোর্নিয়ার সমান হবে, তা-ও বেশিরভাগটা পাহাড়ী এলাকা। ওইটুকু জায়গায় বাস করে সাড়ে বারো কোটি মানুষ। ওদের আসল উদ্দেশ্য হলো, নিজেদের সুশিক্ষিত লোকজনকে অন্যান্য দেশে পাঠিয়ে কলোনি গড়ে তোলা, যারা জাপানের প্রতি অনুগত থাকবে। ব্রাজিলের দিকে তাকান, এরই মধ্যে একাধিক
কলোনি তৈরি করেছে তারা। তাকান ক্যালিফোর্নিয়া ও হাওয়াই-এর দিকে, একই অবস্থা। অস্তিত্ব রক্ষাটাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় জাপানিরা, আর ওদের বৈশিষ্ট্য হলো ভবিষ্যতের প্ল্যান করে কয়েক দশক আগে। ব্যবসা-বাণিজ্যের সাহায্যে গোটা দুনিয়ায় নিজেদের একটা সমাজ গড়ে তুলতে চেষ্টা করছ ওরা, যে সমাজ শুধু জাপানি শিল্প ও সংস্কৃতির চর্চা করবে। বেশিরভাগ জাপানি যেটা বোঝে না তা হলো, দুনিয়াজোড়া সেই জাপানি সমাজের অধিপতি হতে চায় সুমা।
খোলা ফাইলের ওপর আবার একবার চোখ বুলালেন প্রেসিডেন্ট। অন্যান্য দেশে অ্যাটম বোমা পাঠিয়ে তা কি সম্ভব? জাপানিরা বোকা নাকি!
