পিটের বক্তব্য জার্মান ভাষায় অনুবাদ করল লেফটেন্যান্ট, তারপর সামরিক কায়দার স্যালুট করল পিটকে, বলল, আফটার ইউ, স্যার।
আমি মাঝখানে থাকব, বলল পিট। মি. ম্যানকিউসো দুমিটার পিছনে, আমার বাম দিকে। অ্যাল, আমার ডান দিকে। পাঁচিল থেকে অস্বাভাবিক কোন মেকানিজম বেরিয়ে এসেছে কিনা, নজর রাখবে।
ডাইভ লাইট অন করল পিট, সেফটি লাইন ঠিকমত আটকানো আছে কিনা দেখে নিল টান দিয়ে, তারপর ঝাঁপিয়ে পড়ল পানিতে।
ঠাণ্ডা পানি। কমপিউটারের ডিজিটাল রিডআউট-এর দিকে তাকাল পিট। পানির তাপমাত্রা ১৪ সেলসিয়াস বা ৫৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট। কংক্রিটের মেঝেতে কাদা জমে পিচ্ছিল হয়ে আছে। সতর্ক থাকল পিট, জমে থাকা কাদায় যেন ফিনের বারি না লাগে। পানি ঘোলা হয়ে গেলে পিছনের লোকজন সামনের দৃশ্য দেখতে পাবে না।
ডাইভ লাইট উপর দিকে তাক করল পিট, বাংকারের সিলিঙের দিকে তাকাল। নিচের দিকে ঢালু হয়ে নেমে গেছে ওটা, ক্রমশ পুরোপুরি ডুবে গেছে, সরু হতে হতে পরিণত হয়েছে একটা টানেলে। সাবধান হওয়া সত্ত্বেও ঘোলা হয়ে গেল পানি, তিন মিটারের ওদিকে দৃষ্টি চলে। দাঁড়াল পিট, সঙ্গীদের আরও কাছাকাছি থাকতে বলল। তারপর আবার এগোল।
আরও বিশ মিটার এগিয়ে আবার থামল পিট, শরীর মুচড়ে ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো আর অ্যালের খোঁজে পিছন দিকে তাকাল। ম্লান আভার মত দেখা গেল ওদের লাইট। কমপিউটার চেক করল ও। প্রেমার রিডআউট-এ দেখা গেল মাত্র ছয়মিটার গভীরে রয়েছে ও।
আরও খানিক এগোবার পর আন্ডারওয়াটার টানেল সরু হতে শুরু করল, একই সাথে উঁচু হয়ে যাচ্ছে মেঝেটা। সাবধানে এগোল পিট, ঘোলা পানিতে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকায় টান পড়ছে চোখের চারপাশের শ্রেণীতে। খালি হাতটা মাথার ওপর লম্বা করল, পানির ওপর উঠে যাওয়ায় বাতাস লাগল আঙুলে। চিৎ হলো ও আলোটা তাক করল উপর দিকে। পাতালের আজব এক প্রাণীর মত পানি উপর ছোট একটা চেম্বারে উঠে মাস্ক ও রেগুলেটারসহ রাবার হেলমেট পরা পিটের মাথাটা। ফিন পরা পা দুটো হালকাভাবে নাড়ল পিট, মৃদু ধাক্কা খেল কংক্রিটের একটা সিঁড়িতে। হামাগুড়ি দিয়ে সমতল একটা মেঝেতে উঠে এল।
যা দেখবে বলে ভয় করেছিল, অন্তত এখুনি সেরকম কিছু চোখে পড়ল না। জার্মান নেভি টিমের লাশগুলো কোথাও নেই। কংক্রিটের মেঝেতে শ্যাওলা জমেছে, শ্যাওলার ওপর তাদের ফিনের দাগ দেখা গেল। কিন্তু লোকগুলোর কোন চিহ্ন নেই।
চেম্বারের দেয়ালগুলো সাবধানে পরীক্ষা করল পিট। বিপজ্জনক কিছু পেল না। দূর প্রান্তে, ডাইভ লাইটের আলোয় দেখা গেল একটা মরচে রঙা ধাতব দরজা। ফিন পরে থাকায় আড়ষ্ট ভঙ্গিতে হাঁটছে। দরজার গায়ে হেলান দিল। কব্জাগুলো সহজেই সচল হলো, ভেতর দিকে খুলে যাচ্ছে কবাট দুটো। কাধ সরিয়ে নিতেই আবার দ্রুত বন্ধ হয়ে গেল, প্রীঙের চাপে।
হ্যালো, কি পেলাম এখানে আমরা? আকুসটিকস স্পীকার থেকে ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসোর কণ্ঠস্বর ভেসে এল।
দরজার ওদিকে কি আছে বলতে পারলে তিন দিনের বেতন পুরস্কার পাবেন, বলল অ্যাল।
পায়ের ফিন খুলে দরজাটা আবার খানিকটা খুলল পিট, নিচের চৌকাঠ পরীক্ষা করল। ধাতব চৌকাঠ ধারাল ছুরির মত, মরচে ধরে গেছে। ফোন আর সেফটি লাইন কেন ছিঁড়েছে, তার ব্যাখ্যা পাওয়া গেল।
মাথা ঝাঁকাল অ্যাল। ডাইভাররা ভেতরে ঢোকার পর স্ত্রীঙের টানে আপনা থেকেই বন্ধ হয়ে যায় দরজা, ধারাল চৌকাঠ ও কবাটের মধ্যে পড়ে ছিঁড়ে গেছে।
পিটের দিকে তাকালেন ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো। আপনি তখন বলছিলেন, ধাঁধার অর্ধেক সমাধান করে ফেলেছেন।
হ্যাঁ, বলছিল। জবাব দাও, সবজান্তা। নেভির ডাইভাররা মরল কিভাবে? নাকি তারা মরেনি?
গ্যাস, বলল পিট। পয়জন গ্যাস, দরজা পেরিয়ে ভেতরে ঢোকার সঙ্গে, সঙ্গে আক্রান্ত হয় ওরা।
পানি থেকে উঠে এল টিমের বাকি সদস্যরাও।
মি. ম্যানকিউসো, বলল পিট, আপনার কাজ, কাউকে ভেতরে ঢুকতে দেবেন না। শুধু আমি আর অ্যাল ঢুকব। যাই ঘটুক, লক্ষ রাখবেন সবাই যেন শুধু ট্যাংকের বাতাসে শ্বাস নেয়। কোন অবস্থাতেই রেগুলেটর ভোলা চলবে না।
মাথা ঝাঁকিয়ে সিঁড়ির দিকে এগোলেন ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো।
পিটের মত অ্যালও তার পায়ের ফিন খুলে ফেলল। কোন কথা হলো না। দরজাটা ঠেলে অর্ধেকটার মত খুলল পিট, এমন হালকা পায়ে ভেতরে ঢুকল যেন রশির উপর দিয়ে হাঁটছে। চেম্বারের বাতাস শুকনো, হিউমিডিটি নেই বললেই চলে। ভেতরে ঢুকে থামল পিট, আলো ফেলল চারদিকে, সাবধানে খুঁজছে কিছু। সরু তার থাকতে পারে, পায়ে বাধলে হোঁচট খেতে হবে। থাকতে পারে কেবল, চলে গেছে এক্সপ্লোসিভ ডিটোনেটারে বা পয়ঃজন গ্যাস কন্টেইনারে। ওর প্রায় পায়ের সামনেই পড়ে রয়েছে ধূসর রঙের একটা সরু ফিশ লাইন, ছিঁড়ে দুটুকরো হয়ে গেছে। অস্পষ্ট আলোয় কোন রকমে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে।
এক প্রস্থ লাইনকে অনুসরণ করল আলোটা। ওটার গায়ে লেখা রয়েছে ফসজীন। ভাগ্যকে মনে মনে ধন্যবাদ দিল পিট। ফসজীন বিপজ্জনক, তবে শুধু ফুসফুসে প্রবেশ করলে।
তোমার কথাই ঠিক, বলল অ্যাল। গ্যাসই।
আমাদের মত সাবধান হলে নেভির লোকগুলো মরত না।
আরও চারটে পয়ঃজন গ্যাস বুবি ট্র্যাপে পেল পিট, দুটো ক্যানিস্টারের মুখ খোলা। ঠিকমতই কাজ করেছে গ্যাস। কয়েক ফুট ব্যবধানে পড়ে রয়েছে কুণ্ডলী পাকানো নেভি ডাইভারদের লাশগুলো। সবাই তারা যার যার এয়ার টাংক ও ব্রিদিং রেগুলেটর খুলে ফেলেছিল। কারও পালস দেখতে গিয়ে সময় নষ্ট করল না পিট, মুখের নীলচে রঙ আর দৃষ্টিহীন বিস্ফারিত চোখই বলে দিচ্ছে মারা গেছে তারা।
