কমিউনিকেশন লাইনও? জানতে চাইল পিট। ছোট একটা নুড়ি পাথর কুড়িয়ে নিয়ে ছুঁড়ে দিল ও, ছলকে ওঠা পানি ও খুদে ঢেউগুলো দেখছে।
লিড ডাইভারের সাথে ফোন ছিল, সেটাও ছিঁড়ে গেছে। প্রথমে দুজন লোকের একটা টিম পুকুরটায় নামে। একটু পরই একটা আন্ডারওয়াটার টানেল পায় ওরা, পশ্চিম দিকে চলে গেছে। সাঁতরে নব্বই মিটারের মত এগোয় তারা, তারপর রিপোর্ট করে ছোট একটা চেম্বারের সামনে শেষ হয়েছে টানেল, দরজাটা স্টীলের। এর খানিক পর ফোন লাইন আর সেফটি লাইন ঢিলে হয়ে গেল। কি হয়েছে দেখার জন্যে আরেকটা টিম পাঠালাম আমি। প্রথমটার মত এটাও গায়েব হয়ে গেল।
মাথা ঘুরিয়ে জার্মান নেভির ডাইভ টিমের দিকে তাকাল পিট। বন্ধুদের হারিয়ে শোকে কাতর সবাই। পোর্টেবল কমান্ড পোস্ট-এর সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে ওরা। ফোল্ডিং চেয়ারে বসে রয়েছে পুলিশ বিভাগের আন্ডারওয়াটার রেসকিউ ডাইভাররা। ইউনিফর্ম ছাড়াও তিনজন লোককে দেখা গেল, ওরা সরকারী অফিসার, ওদের সাথেই এখানে পৌঁছেছে পিট ও নেভির দল। শেষ লোকটা কখন নেমেছে? জানতে চাইল ও।
আপানারা পৌঁছানোর চার ঘণ্টা আগে, ন্যাভাল টিমের লীডার জবাব দিল। লেফটেন্যান্ট হেলমুট রেইনহার্ট বলে নিজের পরিচয় দিয়েছে সে। আমার বাকি লোকেরা নিচে নামার জন্যে অস্থির হয়ে আছে, অনেক কষ্টে ঠেকিয়ে রেখেছি ওদের। কি ঘটছে ওখানে না জেনে আর কাউকে পাঠাতে পারি না। কিন্তু ওই ব্যাটা হাঁদারাম পুলিশের লোকগুলো নিজেদেরকে অমর বলে মনে করে। আমার কথা শুনবে না, নিজেদের একটা টিম পাঠাবার প্ল্যান করছে।
কোন কোন লোক জন্মই নেয় আত্মহত্যার করার জন্যে, বলল অ্যাল। এই যেমন আমি।
জ্বী? হাঁ করে তাকিয়ে থাকল লেফটেন্যান্ট।
ওর কথায় কান দেবেন না, বলল পিট। মাঝে মধ্যে মতিভ্রম ঘটে ওর। পুকুরের কিনারা থেকে সরে এল পিট, ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসের সামনে দাঁড়িয়ে বলল, বুবি-ট্র্যাপ।
মাথা ঝাঁকালেন ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো। আমার তাই ধারণা। ফিলিপাইনের ট্রেজার টানেলের মুখে বোমা পুঁতে রাখা হয়েছিল, মাটি খুঁড়তে শুরু করলেই ফেটে যাবে। পার্থক্য হলো, আবার ফিরে গিয়ে গুপ্তধন উদ্ধার করার প্ল্যান ছিল জাপানিদের, আর নাৎসীদের বুবি-স্ট্র্যাপ মানে হলো সার্চ টিমের সাথে গুপ্তধন ধ্বংস করা।
আমার লোকজন যেভাবেই মারা যাক, অন্তত বোমায় মারা যায়নি, বলল লেফটেন্যান্ট রেইনহার্ট।
কি করা যায় ফ্রেডি ম্যানকিউসের সাথে পরামর্শ করছে পিট, দুটো দলের মধ্যে তর্কযুদ্ধ বেধে গেল। পুলিশের ডাইভাররা পুকুরে নামবে, নেভির লোকেরা বাধা দিচ্ছে।
ইতোমধ্যে দুপক্ষই জেনেছে, জার্মানির শিল্প ও সংস্কৃতি মন্ত্রীর ব্যক্তিগত আমন্ত্রণে ডার্ক পিটের নেতৃত্বে নুমার এই বিশেষ দলটির আগমন ঘটেছে। ওদের আগমনের কারণটাও ব্যাখ্যা করা হয়েছে সবিস্তারে।
যুদ্ধের পরপর বহু নাৎসী অফিসারকে ইন্টারোগেট করা হয়, তার রেকর্ড বার্লিন আর্কাইভ ও যুক্তরাষ্ট্রের লাইব্রেরি অভ কংগ্রেসে সংরক্ষিত আছে। সে-সব রেকর্ড থেকে জানা যায়, পাতালের একটা গোপন এয়ারফিল্ডে আঠারো হাজার মূল্যবান শিল্পকর্ম লুকানো আছে। আলোচ্য পুকুরটি সেই গোপন এয়ারফিল্ডের প্রবেশপথ হলেও হতে পারে, পানির তলায় গোপন টানেল থাকা সম্ভব।
দুপক্ষের ঝগড়া থামাবার জন্যে একটা আপোস প্রস্তাব দিল পিট। লেফটেন্যান্ট হেলমুট বলল, শুনতে আপত্তি নেই।
সাতজনের একটা টিম গঠন করব আমরা, বলল পিট। আমরা থাকব তিনজন। কারণ, মি, ম্যানকিউসো একজন মাইনিং এঞ্জিনিয়ার, টানেল কনস্ট্রাকশন–এর এক্সপার্ট। আমি আর মি. অ্যাল আন্ডারওয়াটার স্যালভেজ-এর অভিজ্ঞ। দুজন থাকবেন লেফটেন্যান্ট রেইনহার্ট-এর লোক, বোমা বা বিস্ফোরক অকেজো করার অভিজ্ঞতা আছে তাদের। বাকি দুজন থাকবেন পুলিশের লোক, রেসকিউ ডাইভার ও মেডিকেল ব্যাকআপ হিসেবে।
সঙ্গত প্রস্তাব, কারও আপত্তি থাকার কথা নয়। লেফটেন্যান্ট রেইনহার্ট ইতস্তত না করে রাজি হয়ে গেল। পরিষদের একজন অফিসার জানতে চাইল, কে আগে নামবে?
আমি, ইতস্তত না করে বলল পিট।
উপস্থিত সবাই শ্রদ্ধা মেশানো নতুন দৃষ্টিতে তাকাল ওর দিকে।
এয়ার ট্যাঙ্কের সাথে জোড়া লাগানো মাইক্রোইলেকট্রনিক কমপিউটারে সময় বেঁধে নিল পিট, তারপর শেষ বারের মত চেক করল রেগুলেটর ও বয়অ্যানসি কমপেনসেটর। কৃষক কওসেনের খেত থেকে মই বেয়ে নিচে নামার পর এবার নিয়ে চারবার কালো পানির দিকে তাকাল ও। না, পানিতে নামতে ভয় পাচ্ছে না। ভাবছে, অর্ধেক দুনিয়া পাড়ি দিয়ে এসে, এত ঝুঁকি নিয়ে শেষ পর্যন্ত কোন লাভ হবে কিনা। আঠারা হাজার শিল্পকর্ম, তার মধ্যে মাসাকি শিমজুর আঁকা আজিমা দ্বীপ সত্যি কি আছে?
আপনার কি মনে হয়, পানির তলায় কি ঘটছে? জিজ্ঞেস করলেন ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো।
ধাঁধার অর্ধেক সমাধান করতে পেরেছি বলে মনে হয়, বলল পিট। কিন্তু লাইন কাটছে কিভাবে? এটা একটা রহস্যই বটে।
আত্মহত্যা যখন করতেই হবে, দেরি কিসের? জানতে চাইল অ্যাল।
লেফটেন্যান্ট রেইনহার্টের দিকে তাকাল পিট। রেডি, জেন্টেলমেন? সবাই যে যার সামনের লোকের দুমিটারের মধ্যে থাকতে চেষ্টা করবেন, প্লীজ। আমার টিম আপনাদের সাথে আকুসটিকস স্পীকারের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখবে।
