লিখেছে, আজিমা দ্বীপে খোঁজ করুন।
সামান্য কাঁধ ঝাঁকাল পিট। তাহলে সমস্যাটা কি?
আজিমা বলে কোন দ্বীপের অস্তিত্ব নেই, হতাশ সুরে বললেন রেই ট্যাবট। চোখ ফিরিয়ে ট্রফি ভর্তি কাঁচের শো-কেসটার দিকে তাকালেন। আমেরিকান ফেনসিং ক্লাব-এর দুটো ট্রফি দেখে বিস্মিত হলেন তিনি।
আপনি ফেনসার নাকি?
সময় পেলে একটু চর্চা করি, বলল পিট। অস্তিত্ব নেই, এমন একটা দ্বীপের কথা কেন বলবে হানামুরা? জিজ্ঞেস করল ও। কন্ট্রোল সেন্টারটা ওখানেই, সম্ভবত এ-কথাই বলতে চেয়েছে সে।
প্রাচীন পেইন্টিং সম্পর্কে তার আগ্রহ ছিল। জাপানি আর্ট সম্পর্কে তার জ্ঞান আছে দেখেই সুমার অফিসে মাইক্রোফোন রেখে আসার প্ল্যানটা করা হয়। মাসাকি শিমজুর পেইন্টিং সংগ্রহ করে সুমা, এ আমি জানতাম। সেজন্যেই শিমজুর একটা পেইন্টিং নকল করে জিমকে দিয়ে পাঠানো হয়। দ্বীপের উপর আঁকা শিমজুর সব পেইন্টিংই সুমার কাছে আছে, নেই শুধু আজিমা। শুধু এই একটাই যোগাযোগ দেখতে পাচ্ছি আমি।
তাহলে আজিমার অস্তিত্ব না থেকে পারে না।
আমারও তাই বিশ্বাস, কিন্তু আজিমা নামে কোন দ্বীপ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। প্রাচীন ও আধুনিক কোন চার্টেই নেই ওটা। এমন হতে পারে, নামটা আসলে আর্টিস্টের দেয়া, মাসাকি শিমজুর। ওই নামটাই ক্যাটালগে রাখা হয়েছে।
হানামুরার ছারপোকা থেকে কিছু পাওয়া গেল?
সুমা, তার কসাই মুরো কামাতেরি, বুড়ো কোরোরি ইয়োশিশু আর ধনকুবের ইচিরো সুবোই একসাথে বসে আলোচনা করছিল, অনেক তথ্য পাওয়া গেছে।
ইচিরো সুবোই, সিকিউরিটি ও এসপিওনাজ জগতের কিং বলা হয় তাকে, সেও হাত মিলিয়েছে সুমার সাথে? জানতে চাইল পিট।
গলায় গলায় ভাব দুজনের, বললেন রেইমন্ড জর্ডান। জাপানি রাজনীতিকদের গোপন করে নিউক্লিয়ার বোমা তৈরির জন্যে কিভাবে ফান্ড সংগ্রহ করা হয়েছে, আলোচনার সময় ব্যাখ্যা করছিল সে। সাংকেতিক নাম কেইটেন প্রজেক্ট সম্পর্কেও এই প্রথম জানতে পারলাম আমরা।
চেয়ারে নড়েচড়ে বসল পিট। আপনি আমাকে শুধু কয়েকটা তথ্য দিতে এসেছেন, মি. জর্ডান? বিশ্বাস হয় না।
আমি আমার অসহায়ত্বের কথা জানাতে এসেছি আপনাকে, মি. ডার্ক পিট। মিস লরেন ও মি. ডিয়াজকে উদ্ধার করব, আবার একই সাথে কেইটেন প্রজেক্ট ধ্বংস করব, এত লোকবল আমার নেই।
কোনটাকে ফার্স্ট প্রায়োরিটি দিচ্ছেন? জানতে চাইল পিট।
প্রেসিডেন্ট প্রথমে চান, কেইটেন প্রজেক্ট ধ্বংস করা হোক। তারপর ওদেরকে উদ্ধার করা যাবে।
তার মানে আবার রহস্যময় আজিমা দ্বীপে ফিরে আসছি আমরা, কর্কশ স্বরে বলল পিট। শিল্পীর শুধু এই ছবিটাই সুমার কাছে নেই, বলছেন?
হ্যাঁ, ওটার জন্যে সে পাগল।
কোন সূত্র আছে, কোথায় ওটা পাওয়া যেতে পারে?
আজিমা পেইন্টিং শেষবার দেখা গেছে বার্লিনের জাপানি দূতাবাসে, জার্মানির। পতনের ঠিক আগে। পুরানো ওএসএস রেকর্ড দেখা যায়, ইটালি থেকে যে-সব শিল্প লুট করেছিল নাৎসীরা, আজিমাকে সেগুলোর সাথে রাখা হয়, তারপর ট্রেনে করে পাঠিয়ে দেয়া হয় জার্মানির উত্তর-পশ্চিমে, রাশিয়ানদের ভয়ে। তারপর ওটা ইতিহাস থেকে গায়েব হয়ে গেছে।
আজিমা দ্বীপ পাওয়া যাচ্ছে না, ছবিটাও নিখোঁজ, বলল পিট। কাজেই সূত্রই কোন কাজে আসছে না। তবে আপনাদের স্পাই প্লেন আর স্যাটেলাইটের সাহায্যে সুমার গোপন আস্তানার খোঁজ পাওয়া সম্ভব। একটা নিউক্লিয়ার প্ল্যান্ট ছোটখাট কোন ব্যাপার নয়।
প্রধান দ্বীপ জাপানের চারটে হোনস, কাউউশু, হোক্কাইডু আর শিকোক। সবগুলোকে ঘিরে আছে প্রায় এক হাজার ছোটখাট দ্বীপ। নির্দিষ্ট দ্বীপটা খুঁজে বের করা সহজ কাজ নয়।
তীর থেকে দশ মাইল বা আরও বেশি দূরে, এ-ধরনের দ্বীপগুলোকে প্রথমেই বাদ দিয়ে বাকিগুলোর ওপর নজর রাখা হয়েছে। কিন্তু কোন সন্দেহজনক তৎপরতা বা কাঠামো চোখে পড়েনি। স্বাভাবিক, কারণ আমাদের ধারণা গোটা স্থাপনাই মাটির তলায়। আরও একটা কথা প্রায় সব কয়টা দ্বীপই ভলকানিক ব্লক-এ তৈরি, আমাদের সেনসর পেনিট্রেট করতে পারে না। আমি কি আপনার প্রশ্নের উত্তর দিতে পেরেছি?
পিট বলল, মাটি ও পাথর না তুলে টানেল তৈরি করা সম্ভব নয়।
জাপানিদের দ্বারা সম্ভব হয়েছে বলে মনে হয়। স্যাটেলাইট ফটো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, টানেল তৈরির জন্যে কোথাও মাটি বা পাথর কাটা হয়নি, এমন একটা রাস্তার চিহ্নও পাওয়া যায়নি যেটা কোন প্রবেশ পথের দিকে গেছে। এক সেকেন্ড চুপ করে থেকে খুক করে কাশলেন রেইমন্ড জর্ডান। কাজেই, চারদিকে অন্ধকার দেখছি আমি।
আপনি আমার কাছ থেকে খানিকটা আলো পাবার আশা নিয়ে এসেছেন? জানতে চাইল পিট।
রেইমন্ড জর্ডান হাসলেন না। শুধু বললেন, আপনি বুদ্ধিমান মানুষ।
আপনি চান জাপানে যাই আমি, দ্বীপগুলোয় ঘুরঘুর করি?
না, বললেন রেইমন্ড জর্ডান। আপনাকে আমি জার্মানিতে যাবার অনুরোধ করছি। একটা লুফটফ বাংকারে ডাইভ দেয়ার জন্যে।
.
৩৬.
ডাইভ দেয়ার পর স্রেফ গায়েব হয়ে গেছে ওরা।
মাটিতে একটা হাঁটুগেড়ে পুকুরের কালো পানির দিকে তাকাল পিট।
আধ ডোবা ট্রাক্টরটা ছাড়া আর কিছু দেখতে পেল না।
ওদেসেফটি লাইন ছিঁড়ে গেছে, আবার বলল অফিসার। জার্মান ন্যাভাল ডাইভ টিমের নেতৃত্ব দিচ্ছে সে, একটা নাইলন লাইন উঁচু করে দেখাল পিটকে। দেখে মনে হলো, ধারালো ক্ষুর দিয়ে কাটা হয়েছে ওটা। কিভাবে ছিঁড়ল? আমরা জানি না!
