পিটের পিছনে, দুহাত দূরে দাঁড়িয়ে পড়লেন রেইমন্ড জর্ডান। স্টাজের গায়ে অনেক আঁচড়ের দাগ দেখা যাচ্ছে। ফেটে গেছে উইন্ডস্ক্রীনের কাঁচ, বাম দিকের হেডলাইট তারের মাথায় ঝুলছে।
সাধারণ একটা ট্রাউজার ও হাতে বোনা সোয়েটার পরে আছে পিট। ব্যাকব্রাশ করা চুল, তবে এলোমেলো হয়ে আছে। একটা ক্রোম রিমে হেডলাইটের লেন্স ক্রু দিয়ে আটকাচ্ছে ও।
কথা বলতে যাবে রেইমন্ড জর্ডান, তার আগে পিটই মুখ খুলল, আগের মতই পিছন ফিরে রয়েছে। গুড ইভনিং, মি. জর্ডান। আপনি আসায় আমি খুশি হয়েছি।
হতভম্ব হয়ে গেলেন রেইমন্ড জর্ডান। আগের মতই নির্লিপ্ত ও ব্যস্ত পিট, এখনও আগন্তুকের দিকে তাকায়নি।
আমার নক করা উচিত ছিল, বললেন রেইমন্ড জর্ডান।
কি দরকার। আপনি যে এসেছেন, আমি জানতাম।
অতীন্দ্রিয় কোন ব্যাপার, নাকি মাথার পিছনে দুটো চোখ আছে?
জানতে চাইলেন রেইমন্ড জর্ডান, সাবধানে পিটের দৃষ্টিপথে চলে আসছেন।
মুখ তুলে নিঃশব্দে হাসল পিট। পুরানো হেডলাইটের রিফ্লেক্টরটা তুলে সামান্য নাড়ল ও, রূপালি গায়ে জর্ডানের ছবি ফুটে উঠল।
হ্যাঙ্গারের ভেতর আপনার বেড়ানোটা দেখে ফেলেছি আমি। ঢোকার কৌশলটাও ছিল প্রফেশনালদের মত।
তার মানে ব্যাক-আপ ক্যামেরাটা আমার চোখে পড়েনি।
রাস্তার ওপারে। টেলিফোন পোলের মাথায় ছোট একটা বাক্স। ইনফ্রারেড। দরজার কাছে কেউ এলেই অস্পষ্ট অ্যালার্ম বাজে।
আপনার কালেকশন অদ্ভুত, কত বছর লেগেছে?
গত দশ বছরে গাড়ির সংখ্যা দ্বিগুণ করেছি আমি। হাতের কাজ শেষ করে সিধে হলো পিট। বলুন, কফি না অন্য কিছু?
কিছুই নয়। আপনাকে আমি ডিসটার্ব করলাম না তো?
উপরে আসুন, প্লীজ, বলে সিঁড়ির দিকে এগোল পিট। ডেপুটি ডিরেক্টরকে না পাঠিয়ে হেডম্যান স্বয়ং চলে এসেছেন দেখে নিজেকে আমি সম্মানিত মনে করছি।
পিটের পিছু পিছু সিঁড়ি বেয়ে ওঠার সময় রেইমন্ড জর্ডান বললেন, মনে হলো কথাটা আমার নিজেরই আপনাকে জানানো উচিত। মিস লরেন ও মি. ডিয়াজকে দেশ থেকে বের করে নিয়ে গেছে ওরা।
ঝট করে ঘুরে দাঁড়াল পিট, একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকল, হঠাৎ স্বস্তি ফুটে উঠল চেহারায়। লরেন বেঁচে আছে!
ওরা উন্মাদ একদল টেরেরিস্ট নয়, বললেন রেইমন্ড জর্ডান। অপহরণের জন্যে যে বিরাট আয়োজন করা হয়েছিল, তা থেকেই আমি বুঝে নিয়েছি ওদেরকে অত্যন্ত যত্ন করে রাখা হবে।
এত বাধা পেরিয়ে ওরা বেরিয়ে গেল কিভাবে?
নিউপোর্ট নিউজ, ভার্জিনিয়া এয়ারপোর্ট থেকে একটা প্রাইভেট জেটে করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ওদেরকে। জেটটার মালিক সুমার একটা আমেরিকান করপোরেশন। এক হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকার সবগুলো এয়ারপোর্টে খোঁজ নিতে হয় আমাদের, প্রতিটি প্লেনের রেজিস্ট্রেশন চেক করে দেখতে হয়। সুমার একটা প্লেন পাওয়া গেল বটে, স্যাটেলাইটের সাহায্যে আমরা সেটার ফ্লাইট পথ-ও আবিষ্কার করলাম, কিন্তু ততক্ষণে সেটা জাপানের উদ্দেশ্যে বেরিং সী-তে রয়েছে।
আপনাদের কোন একটা বিমান ঘাঁটি থেকে সামরিক প্লেন পাঠিয়ে বাধা দেয়া গেল না?
জাপানের এয়ার সেলফ-ডিফেন্স ফোর্স-এর এক স্কোয়াড্রন এফ এস এক্স ফাইটার জেট ওটাকে এসকর্ট করে নিয়ে যায়।
তারপর? সিঁড়ির মাথায় উঠে এসে জানতে চাইল পিট।
ওদেরকে আমরা হারিয়ে ফেললাম।
প্লেন ল্যান্ড করার পর?
হ্যাঁ, টোকিও ইন্টারন্যাশনালে। পিটের পিছু পিছু স্টাডিতে ঢুকে ধপ করে একটা চেয়ারে বসে পড়লেন রেইমন্ড জর্ডান।
কেন, জাপানে আপনাদের লোকজন কি করছিল? ভদ্রলোকের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে পিট।
মার্ভিন শওয়াল্টার ও জিম খুন হওয়ার পর…।
দুজনেই ওরা মারা গেছে?
টোকিও পুলিশ রয় জিমের লাশ পেয়েছে একটা নর্দমায়, গলা কাটা অবস্থায়। মার্ভিনের মাথা পাওয়া গেছে দূতাবাসের কাঁটাতারে আটকানো অবস্থায়, ধড়ের কোন চিহ্ন নেই। কয়েক ঘণ্টা আগে। আরও খারাপ খবর হলো, রয় ওরশিয়াকে স্লিপার বলে সন্দেহ করছিল। প্রথম থেকেই আমাদের সব তথ্য ফাঁস করে দিচ্ছিল সে। ঈশ্বরই বলতে পারবে সুমা কতটুকু কি জানে। ক্ষতির পরিমাণ কোনদিনই হয়তো জানা যাবে না।
মার্ভিন শওয়াল্টার আর জিম হানামুরাকে এভাবে কেন খুন করা হলো? কে দায়ী?
প্রাচীন জাপানে এভাবে খুন করা হত। পুলিশের প্যাথলজিস্ট বলছে, ওদের মাথা কাটা হয়েছে সামুরাই তলোয়ার দিয়ে। সুমার ডান হাত ও প্রধান খুনী প্রাচীন মার্শাল আর্টের ভক্ত বলে শোনা যায়, কিন্তু প্রমাণ করা সম্ভব নয় যে সে-ই ওদেরকে মেরেছে।
ধীরে ধীরে একটা চেয়ারে বসল পিট। জাপানে তাহলে কাজ করার মত কেউ থাকল না।
খুন হবার আগে মস্ত একটা উপকার করে গেছে হানামুরা। একটা সূত্র দিয়ে গেছে সে, ওটা ধরে ডিটোনেশন সেন্টারে হয়তো পৌঁছানো যাবে।
শিরদাঁড়া খাড়া হয়ে গেল পিটের। ডিটোনেশন সেন্টারের লোকেশন জানা গেছে? | সুমার কনস্ট্রাকশন ডিজাইনারের অফিসে ঢুকে পড়ে হানামুরা, একটা ইলেকট্রনিক কন্ট্রোল সেন্টারের খসড়া স্কেচ বের করে আনে। দেখে মনে হয় ওটা পাতালে, যেতে হয় টানেলের ভেতর দিয়ে।
কোথায়?
এক আমেরিকান টুরিস্টকে স্কেচ ভরা খামটা দেয় সে, দূতাবাসে পৌঁছে দিতে বলে। তাড়াহুড়ো করে খামের উপর যা লিখেছে, অর্থ উদ্ধার করা কঠিন।
কি লিখেছে?
