ভাগ্য ভাল যে ড. টিমোথি ওয়েদারহিল সে-সময় ট্রান্সমিট করছিলেন না।
বিল ম্যাককারির দিকে তাকালেই কৌতুক বোধ না করে উপায় নেই স্টেসির। কিনারা ভেঁড়া স্ট্রম্প শর্টস পরেছে সে, গায়ের টি-শার্টে মেক্সিকান বিয়ারের বিজ্ঞাপন, পায়ে জুতোর বদলে স্যান্ডেল। এই আজব চিড়িয়াটাকে আজই প্রথম দেখে স্টেসি, দেখে বিশ্বাস করতে পারেনি ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সির একজন দক্ষ অপারেটর হতে পারে ছোকরা।
বাঁক নিয়ে হারবার ফ্রিওয়েতে উঠে যাচ্ছে ট্রেইলার, বলল স্টেসি। পিছিয়ে পড়ুন, তা না হলে ড্রাইভার দেখে ফেলবে আমাদের হেলিকপ্টার। আমরা ওয়েদারহিলের বীম অনুসরণ করব।
নির্দেশ পালন করল বিল ম্যাককারি।
এই সময় ড. টিমোথি ওয়েদারহিলের গলা ভেসে এল এয়ারফোনে। আকাশে আছ তো, টিম বুইক?
আপনার কথা আমরা শুনতে পাচ্ছি, মি. ওয়েদারহিল, বলল বিল।
ট্রান্সমিট করা নিরাপদ?
মন্দ লোকেরা হোমিং ডিভাইস আছে কিনা পরীক্ষা করে দেখেছে, বলল স্টেসি। তবে এখন ট্রান্সমিট করতে কোন অসুবিধে নেই।
ফলস প্যানেল সরিয়ে ব্যাক সিট ও পিছনের জানালার মাঝখানে, লাগেজ রাখার ঘেরা জায়গাটায় উঠে এলেন ড. টিমোথি ওয়েদারহিল। কাস্টমস এজেন্টদের একটা বিশেষ টিম মুরমটো গাড়িটার ভেতর তাঁকে লুকিয়ে পড়তে সাহায্য করে, ট্রেইলার নিয়ে জর্জ ফুরোকাওয়া পৌঁছানোর চার ঘণ্টা আগে। ফলস প্যানেলের নিচে কুণ্ডলী পাকিয়ে পড়েছিলেন তিনি, ব্যথায় টন টন করছে সারা শরীর, দরদর করে ঘামছেন। ট্রেইলারের ভেতরটা অন্ধকার, দশ মিনিট বিশ্রাম নেয়ার পর পরনের ইউনিফর্ম থেকে একটা টর্চ বের করে জ্বাললেন। তিন নম্বর। মুরমটো থেকে নেমে প্রথমটার কাছে চলে এসে হুড খুললেন, পাউচ থেকে বের করলেন ছোট একটা রেডিয়েশন অ্যানালাইজার। গাড়ির এয়ারকন্ডিশনিং কমপ্রেসর-এর চারদিকে ঘোরালেন ওটা, রিডআউটে চোখ। হাতের উল্টোপিঠে রিডিং লিখলেন। তারপর ফেন্ডারের ওপর সাজিয়ে রাখলেন কমপ্যাক্ট-এর চারদিকে ঘোরালেন ওটা, রিডআউটে চোখ। হাতের উল্টোপিঠে রিডিং লিখলেন। তারপর ফেন্ডারের উপর সাজিয়ে রাখলেন কমপ্যাক্ট টুল-এর একটা সেট। কথা বললেন রেডিওতে। হ্যালো, বুইক টিম।
কাম ইন, সাড়া দিল স্টেসি।
অপারেশন শুরু করছি।
স্ট্যাডিং বাই।
পনেরো মিনিটের মধ্যে কমপ্ৰেসর কেস খুলে। বোমাটাকে অকেজো করলেন টিমোথি ওয়েদারহিল। এখনও আছ, টিম বুইক?
আছি, সাড়া দিল স্টেসি।
আমি কোথায়?
ওয়েস্ট কোভিনায়। পূর্ব দিকে যাচ্ছে ট্রেইলার।
একটার কাজ শেষ, বাকি আছে তিনটে।
গুড লাক।
এক ঘন্টা পর চার নম্বর অর্থাৎ শেষ গাড়িটার হুড বন্ধ করলেন টিমোথি ওয়েদারহিল। স্বস্তিতে নেতিয়ে পড়ল তার শরীর। সব কয়টা বোমা অকেজো করে দিয়েছেন তিনি। জাপান থেকে যতই সিগন্যাল পাঠানো হোক, কোনটাই ফাটবে না। রেডিওর সাহায্যে স্টেসির সাথে আবার যোগাযোগ করলেন তিনি। স্টেসি পরামর্শ দিল, ট্রেইলার থেকে নামার জন্যে পঁয়তাল্লিশ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে তাকে।
করার কিছু নেই, টিমোথি ওয়েদারহিলকে একঘেয়েমিতে পেয়ে বসল। গ্লাভ কমপার্টমেন্ট খুলে গাড়ির ওয়ারেন্টি পেপার ও মালিকের ম্যানুয়াল বের করলেন তিনি। ভেতরের আলো জ্বেলে ম্যানুয়ালের পাতা ওল্টালেন অলস ভঙ্গিতে। তার বিষয় মিউক্লিয়ারফিজিক্স হলেও, ইলেকট্রনিক্স-এও তার আগ্রহ আছে। মুরমটোর ইলেকট্রিক্যাল ডায়াগ্রাম দেখার ইচ্ছে হলো, কিভাবে ওয়্যারিং করা হয়েছে দেখবেন। কিন্তু ম্যানুয়ালের পাতায় ইলেকট্রনিক্যাল ওয়্যারিয়ের চিহ্ন মাত্র নেই। আছে ম্যাপ, আর কিছু নির্দেশ_নির্দিষ্ট পজিশনে কিভাবে নিয়ে যেতে হবে গাড়িটাকে, তারপর কিভাবে ডিটোনেশন করতে হবে।
ড. টিমোথি ওয়েদারহিল আতঙ্ক বোধ করলেন। জাপানের অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যকে রক্ষা করার জন্যে গাড়ি-বোমাগুলোকে হুমকি হিসেবে ব্যবহার করা হবে, ব্যাপারটা শুধু তা-ই নয়। আসলেও ব্যবহার করা হবে ওগুলো।
.
৩৫.
শেষবার কবে এভাবে অনধিকার অনুপ্রবেশ করেছেন, মনে করতে পারলেন না ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সির ডিরেক্টর রেইমন্ড জর্ডান। দশ বছর আগে ফিল্ড এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছেন, মনে থাকার কথাও নয়। হঠাৎ খেয়াল চেপেছে, আগের সেই দক্ষতা আছে কিনা পরীক্ষা করে দেখবেন।
হ্যাঙ্গারের সিকিউরিটি অ্যালার্ম সিস্টেমের তারে ছোট্ট একটা কমপিউটার পোব ঢোকালেন তিনি, বোতাম টিপতেই কমবিনেশন নাম্বার চলে এল পোবে। কোডটা চিনতে পারল অ্যালার্ম বক্স, পরিবেশন করল একটা এলইডি ডিসপ্লেতে। এরপর বোতাম টিপে অ্যালার্ম সিস্টেম অফ করা পানির মত সহজ হয়ে গেল। দরজার তালা খুলে হ্যাঙ্গারের ভেতর ঢুকে পড়লেন তিনি।
হ্যাঙ্গারের এক প্রান্তে, স্টাজ-এর সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে পিট, তার দিকে পিছন ফিরে। একটা হেডলাইট মেরামত করছে ও।
স্থির দাঁড়িয়ে থেকে ক্ল্যাসিক গাড়িগুলোর উপর চোখ বুলালেন রেইমন্ড জর্ডান। বিস্মিত ও মুগ্ধ হলেন তিনি। অ্যাডমিরাল স্যানডেকারের মুখে পিটের কালেকশন সম্পর্কে শুনেছেন বটে, তবে আশা করেননি এত সব দুর্লভ গাড়ি দেখতে পাবেন এখানে। নিঃশব্দ পায়ে প্রথম সারির গাড়িগুলোর পিছনে চলে এলেন তিনি, এগোলেন অ্যাপার্টমেন্টের দিক থেকে। এটা একটা পরীক্ষাই দেখা যাক দুহাত দুর থেকে হঠাৎ একজন আগন্তুককে দেখে কি প্রতিক্রিয়া হয় পিটের।
