পাৰ্গদের পিছনে রেখে বেরিয়ে এল হানামুরা, আনন্দে আত্মহারা। বিশাল এক কংক্রিটের মাঠে অপেক্ষা করছে সে, এলিভেটরে চড়ে পার্কিং লেভেলে উঠবে, ওখানে সে তার মুরমটো গাড়িটা রেখে এসেছে। এলিভেটরে চড়ল সে, তার সাথে চড়ল আরও প্রায় বিশজন। তার দুর্ভাগ্য, সামনের সারিতে দাঁড়িয়েছিল সে। এলিভেটর থামতেই বেরিয়ে এল, বেরিয়েই পড়ে গেল এক লোকের সামনে। লোকটা আর কেউ নয়, এঞ্জিনিয়ার মারু নাগাওয়াকি, তারই সিকিউরিটি ক্লিয়ারান্স পাস জাল করে ভেতরে ঢুকছিল সে। দুই ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে পাশের এলিভেচন থেকে বেরিয়ে এসেছে লোকটা। হানামুরার বুকে নিজের পাস আটকে আছে দেখে প্রথমে অবাক হয়ে গেল সে, তারপর চিৎকার করে গার্ডকে ডাকল। তাকে প্রচণ্ড এক ঘুসি মেরে গাড়ির দিকে ছুটল হানামুরা।
সশস্ত্র গার্ডরা টানেলের মুখে বাধা দিল তাকে। ব্যারিয়ার ভেঙে টানেলে ঢুকল হানামুরা, ক্ষতি হলেও চালু থাকল গাড়ি, তবে তিনটে গুলি খেল সে বাম হাত ও বাম কাঁধে। টানেলেই এক আমেরিকানের সাথে দেখা হয়ে গেল সে তার। এঞ্জিনে কিছু হয়েছে, নিজেই চেষ্টা করছে সারাবার। গাড়ি থামিয়ে এনভেলাপটায় কিছু লিখল হানামুরা, অনুরোধ করল মার্কিন দূতাবাসে পৌঁছে দিতে। লোকটাকে কোন কথা বলার সুযোগ না দিয়ে আবার ছেড়ে দিল গাড়ি।
টানেল থেকে বেরিয়ে জঙ্গলের দিকে ছুটল হানামুরার গাড়ি। শহরের রাস্তায় থাকলে পুলিশের হাতে ধরা পড়তে হবে, জানে সে। মাইল দশেক এগোবার পর জ্ঞান হারাল সে, গাড়িটা ধাক্কা খেল এক বাড়ির পাচিলে। ঝাঁকি খেয়ে জ্ঞান ফিরল তার। গাড়ি থেকে নেমে বাড়িটার পিছনের উঠানে ঢুকল, এই সময় শুনতে পেল আশপাশের বাড়ি লোজন চারদিক থেকে ছুটে আসছে। কোনরকমে পাঁচিল টপকে পালাল হানামুরা। দশ মিনিট পর একটা নর্দমার শেষ মাথায়, মাঝারি একটা গর্তের ভেতর পড়ে গেল সে। প্রায় আধ ঘণ্টার মত কাদা-পানিতে ডুবে থাকল, ইতোমধ্যে বার তিনেক সামনের রাস্তা দিয়ে পুলিশের গাড়িগুলোকে ছুটোছুটি করতে দেখেছে। খানিক পর আবার এল ওরা, এবার গর্তের কিনারায় থামল। একটা গাড়ি থেকে নেমে এল এক লোক, হাতে চকচক করছে খাপমুক্ত তলোয়ার। হেডলাইটের আলোয় রয় ওরশিয়াকে দেখে হাসল সে। আরে, এ যে দেখছি আমাদের বিখ্যাত আর্ট ডিলার আশিকাগা ইনশু!
কাদার মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে জিম হানামুরা, রাগে থরথর করে কাঁপছে।
এডো সিটিতে কি পেলে তুমি? জানতে চাইল মুরো কামাতোরি।
জবাব না দিয়ে জিভের ধাক্কায় নকল দাঁতটা মাড়ি থেকে ছাড়াল হানামুরা। গো টু হেল, বলে পিলটা ভেঙে ফেলল সে। মুখের ভেতর তরল বিষ ছড়িয়ে পড়ল। টিস্যুর মাধ্যমে শরীরের ভেতর ঢুকে যাবে বিষ, ত্রিশ সেকেন্ডের মধ্যে মারা যাবে সে। কি ঘটছে আন্দাজ করতে পারল কামাতোরি, তলোয়ারটা উঁচু করে নামিয়ে আনল হানামুরায় গলায়।
উল্লাসে চেঁচিয়ে উঠল মুরো কামাতোরি, শালা আমাকে ফাঁকি দিতে পারেনি।
তলোয়ারের নিখুঁত কোপে ধড় থেকে আলাদা হয়ে গেছে হানামুরার মুণ্ডু।
.
৩৪.
সেমি-ট্রেইলরে সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে চারটে ব্রাউন রঙের মুরমটো। জর্জ ফুরোকাওয়া স্বস্তির নিঃশ্বাস ছেড়ে ভাবল, এটাই শেষ চালান। বরাবরের মত সে তার স্পোর্টস কারের ফ্রন্ট সীটের তলায় রিলিজ ডকুমেন্টগুলো পেয়েছে, সাথে একটা চিরকুট, তাতে লেখা, প্রজেক্টে তার ভূমিকা এখানেই শেষ হলো। চিরকুটে একটা নির্দেশও দেয়া হয়েছে, গাড়িগুলোতে হোমিং ডিভাইস আছে কিনা পরীক্ষা করে দেখতে হবে। ফেডারেল ইনভেস্টিগেটররা কোন কারণে গাড়িগুলোকে সন্দেহ করছে হয়তো। চিন্তাটা তার মনে ভয় ধরিয়ে দিল। হাতে একটা ইলেকট্রনিক ইউনিট, রেডিও সিগন্যাল ডিটেক্ট করতে পারে। ব্যস্তভাবে চারটি গাড়িই চেক করল সে, চোখ থাকল ডিজিটাল রিড়আউট-এর ওপর। কোন কিছুর অস্তিত্ব নেই, কাজেই ড্রাইভার আর তার হেলপারকে ট্রেইলরের গাড়িগুলো তোলার নির্দেশ দিল সে, তারপর এগোল নিজের স্পোর্টস কারের দিকে।
কোন বিপদ ছাড়াই তার অ্যাসাইনমেন্ট শেষ হয়েছে, সেজন্যে খুশি জর্জ ফুরোকাওয়া। ভিনসেন্ট ল্যাবরেটরিজ-এর তার ভাইস-প্রেসিডেন্ট-এর পদটা কোন হুমকির মুখে পড়েনি। হিদেকি সুমা এই কাজের জন্যে তাকে যে মোটা টাকা দিয়েছে সেটা আমেরিকায় প্রতিষ্ঠিত এক জাপানি কোম্পানিতে বিনিয়োগ করবে সে। গেটের কাছে এসে গাড়ি থামাল একবার, রিলিজ ডকুমেন্টগুলো গার্ডের হাতে ধরিয়ে দিল। একবারও পিছন ফিরে তাকাল না, রওনা হলো নিজের অফিসের উদ্দেশ্যে। গাড়িগুলোর গোপন গন্তব্য সম্পর্কে যে আগ্রহ ছিল মনে, সেটা মরে গেছে।
হেলিকপ্টারের সাইড ডোর সরিয়ে ফেলা হয়েছে, সমুদ্রের ঠাণ্ডা বাতাস ঢুকছে কন্ট্রোল কেবিনে। ফিতে দিয়ে বেঁধে রাখলেও স্টেসি ফক্সের মুখের সামনে চুলগুলো উড়ছে। তার কোলের ওপর একটা ভিডিও ক্যামেরা সেটা তুলে টেলিফটো লেন্স অ্যাডজাস্ট করল। ডক ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছে মুরমটো স্পোর্টস কারটা।
লাইসেন্স নম্বর দেখতে পেয়েছেন? জানতে চাইল সোনালিচুলো পাইলট।
হ্যাঁ, দারুণ হয়েছে ছবিটা। ধন্যবাদ।
আপনি বললে আরও একটু কাছাকাছি যেতে পারি আমি।
না, যথেষ্ট দূরে থাকুন! নির্দেশ দিল স্টেসি, ওরা কথা বলছে হেডসেট মাইক্রোফোনে। ওদের মনে সন্দেহ হয়েছে, তা না হলে হোমিং ডিভাইসের জন্যে গাড়িগুলো চেক করত না।
