টিম হোন্ডা উইপনস প্ল্যান্ট-এর সন্ধান করতে পেরেছে? জানতে চাইল পিট।
পাতাল শহর এডোর ষাট বর্গ কিলোমিটারের মধ্যে কোথাও, ওদের ধারণা।
কিন্তু খুঁজে পাচ্ছে না?
জিম হানামুরার ধারণা, এডো সিটির সাথে ফ্যাসিলিটির টানেল যোগাযোগ আছে। দারুণ একটা কাভার। সন্দেহ করার মত মাটির উপর কোন বিল্ডিং বা রোড নেই। এভোয় কয়েক হাজার লোক বসবাস করে, তাদের জন্যে নিয়মিত সাপ্লাই যাচ্ছে, বেরিয়ে আসছে আবর্জনা। নিউক্লিয়ার ইকুইপমেন্ট বা মেটেরিয়াল গোপনে আনা-নেয়া করা সম্ভব।
ডিটোনেশন কমান্ড সম্পর্কে কোন তথ্য? জিজ্ঞেস করল অ্যাল।
ড্রাগন সেন্টার?
ওরা ওটার ওই নাম দিয়েছে?
হ্যাঁ। হাসলেন ডোনাল্ড কার্ন। না, নিরেট কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। রয় ওরশিয়ার শেষ রিপোর্টে বলা হয়েছে, সে একটা সূত্র পেয়েছে। একটা পেইন্টিং।
পেইন্টিং মানে? বিরক্ত মনে হলো অ্যালকে।
বাসের পিছনের একটা দরজা খুলে গেল, কমিউনিকেশন কমপার্টমেন্ট থেকে বেরিয়ে এসে এক লোক ডোনাল্ডের হাতে কয়েকটা কাগজ ধরিয়ে দিল।
মেসেজটা পড়ছেন, চেহারা কঠিন হয়ে উঠল ডোনাল্ডের। শেষ পাতাটা পড়ার সময় চেয়ারের হাতল ধরা হাতটা কাঁপতে শুরু করল। ওহ মাই গড।
তাঁর দিকে ঝুঁকে পড়লেন অ্যাডমিরাল স্যানডেকার। কি ব্যাপার?
পালাউ থেকে মেল পেনারের স্ট্যাটাস রিপোর্ট। মার্ভিন শওয়াল্টারকে কিডন্যাপ করা হয়েছে, দূতাবাসের কাছাকাছি একটা রাস্তা থেকে।
বলে যান।
রয় ওরশিয়া মেল পেনারকে রিপোর্ট করেছে, সে নিশ্চিতভাবে জেনেছে মাটির দেড়শো মিটার নিচে রয়েছে ওদের উইপনস প্ল্যান্ট। মেইন অ্যাসেম্বলি এরিয়া এড়ো সিটির সাথে সংযুক্ত, চার কিলোমিটার উত্তরে। সংযোগ রক্ষা করছে একটা ইলেকট্রিক রেলওয়ে। অনেকগুলো টানেলের ভেতর দিয়ে ওই একই রেললাইন চলে গেছে অস্ত্রাগার, ওয়েস্ট ডিসপোজাল পিট ও এঞ্জিনিয়ারিং অফিসে।
আর কিছু? জানতে চাইলেন অ্যাডমিরাল।
জিম হানামুরা জানিয়েছে, একটা সূত্র ধরে ড্রাগন সেন্টারে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে সে। এইটুকুই।
রয় ওরশিয়া সম্পর্কে কোন খবর নেই? জানতে চাইল পিট।
একবার শুধু তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
তার মানে সে-ও গায়েব নাকি?
না, মেল পেনার সেরকম কিছু বলেনি। শুধু জানিয়েছে, ওরশিয়া চাইছে অনুকূল পরিবেশের জন্যে অপেক্ষা করতে।
আমরা পিছিয়ে পড়ছি, বলল পিট, অনেকটা আপনমনে। তিনজন কিডন্যাপ হয়ে গেল, উদ্ধারের কোন ব্যবস্থা করতে পারছি না। প্রতিপক্ষ আমাদের পরিচয় জানে, জানে আমরা কি খুঁজছি।
মি. রেইমন্ড জর্ডানকে খবর দিচ্ছি আমি, বললেন ডোনাল্ড কার্ন। তিনি প্রেসিডেন্টকে পরিস্থিতি সম্পর্কে জানাবেন।
জেয়ারে হেলান দিয়ে পিট বলল।হোয়াই ব্রাদার?
বুঝলাম না।
ভয় পাবার কোন কারণ দেখছি না।
কি বলছেন! গোটা দুনিয়া নিউক্লিয়ার ব্ল্যাকমেইলিঙের শিকার হতে যাচ্ছে। আশঙ্কা করছি মিস লরেন ও মি. গ্রাফটনের জন্যে মুক্তিপণ চাওয়া হবে। আপনি বুঝতে পারছে না, হিদেকি সুমা যে-কোন মুহূর্তে মাথায় হাতুড়ির বাড়ি মারবে?
না, মারবে না। অন্তত এখুনি নয়।
আপনি কিভাবে জানলেন? কঠিন সুরে প্রশ্ন করলেন ডোনাল্ড কার্ন।
কিছু একটা ঠেকিয়ে রেখেছে সুমাকে। বহু দেশে অসংখ্য গাড়ি-বোমা লুকিয়ে রেখেছে সে, ইচ্ছে করলেই দুএকটা ফাটিয়ে দিতে পারে। কিন্তু তা না ফাটিয়ে কি করছে সে? নোংরা কিডন্যাপের ভূমিকায় নেমেছে। তার মানে কি? সুমা এখনও প্রস্তুত নয়। তার আরও সময় দরকার।
মি. পিটের কথায় যুক্তি আছে, বললেন ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো। এমন হতে পারে, ডিটোনেশন কমান্ড সম্পূর্ণ তৈরি হবার আগেই সুমার এজেন্টরা গাড়ি বোমাগুলোকে পজিশনে পাঠিয়ে দিয়েছে।
হতে পারে, বললেন অ্যাডমিরাল স্যানডেকার। ওটাকে অচল করার জন্যে নতুন একটা টিম পাঠানোর সময় হয়তো এখনও আমাদের হাতে আছে।
এই মুহূর্তে সব কিছু নির্ভর করছে হানামুরার ওপর, ইতস্তত করে বললেন ডোনাল্ড। ড্রাগন সেন্টারে পৌঁছাতে গিয়ে সে যদি সুমার সিকিউরিটি ফোর্সের হাতে ধরা পড়ে যায়, তাহলে সব ভেস্তে যাবে।
অ্যাডমিরাল বললেন, হানামুরা একা কতটুকু কি করতে পারবে জানি না। দ্বিতীয় একটা টিমের কথা সিরিয়াসলি ভাবছি আমি।
.
৩৩.
জিম হানামুরা আত্মহত্যা করল, নাকি খুন হলো, বলা কঠিন। সম্ভবত দুটোই সত্যি।
তার প্ল্যানটা ভালই ছিল। সুমার এক স্ট্রাকচারাল এঞ্জিনিয়ার, মারু নাগাওয়াকির সিকিউরিটি ক্লিয়ারান্স পাস জাল করে সে। শারীরিক কাঠামো ও চেহারা দুজনের প্রায় একই রকম। এদা সিটিতে ঢুকতে কোন অসুবিধে হয়নি, চেকপয়েন্টগুলো পেরিয়ে ডিজাইন ও কনস্ট্রাকশন ডিপার্টমেন্টে চলে আসে সে। গার্ডরা জানে, অফিস টাইমের পরও স্টাফরা কাজ করে রাত দুপুর পর্যন্ত। ইলেকট্রনিক আইডেনটিটি কমপিউটারে পাসটা ঢোকাল হানামুরা, সঙ্গে সঙ্গে বেল বেজে উঠল, সন্তুষ্ট হয়ে পথ ছেড়ে দিল গার্ডরা।
দেড় ঘণ্টার মধ্যে তিনটে অফিসে তল্লাসি চালাল হানামুরা। অবশেষে এক ড্রাফটসম্যান-এর দেরাজে খুঁজে পেল একটা গোপন স্থাপনার খসড়া স্কেচ। স্কেচগুলো নষ্ট করে ফেলা উচিত ছিল, সম্ভবত ড্রাফটসম্যান গুরুত্ব দেয়নি। মেশিনে ঢুকিয়ে কপি করল ওগুলো, আসলগুলো রেখে দিল আগের জায়গায়, কপিগুলো এনভেলাপে ভরে টেপ দিয়ে আটকালো হাঁটুর পিছনে।
