কোরোরি ইয়োশিশুর বাবা ছিল কাঠমিস্ত্রী। দশ বছর বয়েসে তার বাবা তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। ব্ল্যাক স্কাই-এর যোগ দেয় সে। অল্পদিনে নামও করে। উনিশশো সাতাশ সালে,তার বয়েস যখন আঠারো ব্ল্যাক স্কাই-এর লীডাররা তাকে আর্মিতে পাঠায়। রাজকীয় সেনাবাহিনী মারিয়া দখল করল, ইয়োশিশু ইতোমধ্যে ক্যাপটেন হয়েছে। মাঞ্চুরিয়ায় গোপনে হিরোইন ব্যবসা শুরু করল সে, তার এই অপারেশন থেকে ব্ল্যাক স্কাই কয়েক মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করে।
এক মিনিট, বলল অ্যাল। আপনি বলতে চাইছেন জাপানি সেনাবাহিনী ড্রাগ বিজনেসের সাথে জড়িত ছিল?
ছিল না মানে! যুদ্ধের সময় যেখানে গেছে ওরা সেখানেই আফিম আর হিরোইনের ব্যবসা করেছে। শুধু তাই নয়, ওদের দখল করা প্রতিটি দেশে কালোবাজারীদের হাট বসে যেত। গুন্ডাপাণ্ডাদের ডেকে লটারির আয়োজন আর জুয়ার আসর বসাতে বলেছে…।
মাই গড।
হিদেকি সুমার বাবা আর কোরোরি ইয়োশিশু এক বয়েসী। প্রথমে রাজকীয় নৌ-বাহিনীতে ভর্তি হলেও, পালিয়ে গিয়ে নাম লেখায় ব্ল্যাক স্কাই-এর। গ্যাঙ লিডাররা তার রেকর্ড-পত্র মুছে ফেলার ব্যবস্থা করে, আবার নৌ-বাহিনীতে ভর্তি করে দেয় তাকে, এবার অফিসার হিসেবে। দুজনে একই সংগঠনের সদস্য, কাজেই একসাথে কাজ শুরু করল ওরা। একজন ড্রাগ ব্যবসা ধরল, অপরজন দায়িত্ব নিল লুট করা সোনা রাজকীয় জাহাজে তুলে দেয়ার।
লুট করা সোনার কত ভাগ জাপানে পৌঁছায়? জানতে চাইল পিট। চেয়ার, থেকে উঠে আড়মোড়া ভাঙল ও, বাসের সিলিঙে ঠেকে গেল আঙুলগুলো।
জাপানের ইমপেরিয়াল ওঅর ট্রেজারিতে খুব সামান্যই জমা পড়ে। বেশিরভাগই সাবমেরিনে করে টোকিওতে পাঠিয়ে দেয় ওরা, বিশেষ করে মূল্যবান পাথর ও প্রাটিনিয়াম। গ্রামের দিকে, এক বনভূমিতে, মাটির তলায় লুকিয়ে রাখার ব্যবস্থা করা হয়। আর সোনার বেশিরভাগটাই রয়ে যায় পুজোর-এর মূল দ্বীপে। কয়েকশো মিটার লম্বা টানেলে রাখা হয় ওগুলো। টানেলগুলো কাটানো হয় মিত্রবাহিনীর বন্দী সৈনিকদের দিয়ে। কাজ শেষ হলে, মেরে ফেলা হয় সবাইকে। আমি কোরিগিদর-এ একটা টানেল আবিষ্কার করি, লাশ পাই তিনশো বন্দীর। ওদেরকে জ্যান্ত পুঁতে ফেলা হয়েছিল।
এসব ঘটনার কথা প্রকাশ করা হয়নি কেন? জানতে চাইল পিট।
কাঁধ ঝাঁকালেন ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো। তা বলতে পারব না। শুধু জানি, চল্লিশ বছর পর দুএকটা বইতে কিছু কিছু আভাস দেয়া হয়েছে মাত্র।
নাৎসী অপরাধীদের এখনও ধরে ধরে বিচার করা হচ্ছে, বলল পিট। কিন্তু জাপানি আর ক্রিমিন্যালরা বেঁচে গেল কেন?
সে সময় যারা বিশ্বকে নেতৃত্বে দিয়েছেন, তারা দায়ী, বললেন অ্যাডমিয়াল। নাৎসীদের নিয়ে এত ব্যস্ত হয়ে ওঠে সবাই যে জাপানিদের কথা কারও মনেই পড়েনি।
গম্ভীর স্বরে অ্যাল জানতে চাইল, যুদ্ধের পর জাপান কি ও-সব উদ্ধার করেছে?
কিছু উদ্ধার করে জাপানি ঠিকাদার কোম্পানিগুলো। ডেইলাইনকে শিল্পসমৃদ্ধ দেখে পরিণত করবে, এই আশ্বাস দিয়ে আন্তর্জাতিক টেন্ডারের মাধ্যমে দেশটার ভেতর ঢোকার সুযোগ করে নেয়। কিছু উদ্ধার করেন ফার্দিনান্দ মার্কোস। কিছু মানে কয়েকশো টন। সবই তিনি দেশের বাইরে পাচার করেন। বিশ বছর পর বাকিটুকু উদ্ধার করে কোরোরি ইয়োশিশু আর হিদেকি পরিবার। তারপরও লুট করা সম্পদের প্রায় অর্ধেক রয়ে গেছে মাটির তলায়, তা আর কোনদিন খুঁজে পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না।
যুদ্ধের পর কি হলো ওদের? জানতে চাইল পিট।
ভারি চালাক, উনিশশো তেতাল্লিশ সালেই বুঝে ফেলে যুদ্ধে জাপান জিততে পারবে না। যুদ্ধে প্রাণ হারানোর বা জাপানি স্টাইলে দলবেঁধে আত্মহত্যার করার কোন ইচ্ছে ওদের ছিল না। একটা সাবমেরিন নিয়ে চিলিতে পালিয়ে যায় ওরা, সাথে ছিল বিপুল ধন-সম্পদ। ওখানে পাঁচ বছর কাটিয়ে ফিরে আসে জাপানে, গড়ে তোলে নিজেদের সংগঠন। পরবর্তী দশ বছরের আন্ডারগ্রাউন্ডে ও ব্যবসা-বাণিজ্যে অজেয় শক্তিতে পরিণত হয়।
হিদেকি সুমার বাবা লাঙ ক্যান্সারে মারা যায় উনিশশো তিয়াত্তর সালে। কোরোরি ইয়োশিশু আর হিদেকি সুমা বিশাল সংগঠনের দায়িত্ব ভাগাভাগি করে নেয়। ইয়োশিশু নিয়ন্ত্রণ করে জাপানের আন্ডারওয়ার্ল্ড, শিল্প ও রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করে সুমা।
টিম হোভার রিপোর্ট অনুসারে, ওদেরকে জানালেন ডোনাল্ড কার্ন, ইয়োশিশু আর সুমা নিউক্লিয়ার উইপনস প্ল্যান্ট ও কেইটেন প্রজেক্ট সফল করার জন্যে নিজেদের সমস্ত শক্তি এক করেছে।
কেইটেন প্রজেক্ট? পুনরাবৃত্তি করল পিট।
গাড়ি-বোমা অপারেশন-এর কোড নেম।
কিন্তু জাপান সরকার পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের বিপক্ষে, বলল পিট। সরকারের সাহায্য ছাড়া ওরা নিউক্লিয়ার উইপনস ফ্যাসিলিটি তৈরি করেছে, এ কি বিশ্বাস করার মত একটা কথা?
রাজনীতিকরা জাপানকে চালায় না। আমলাদের পিছনে বসে প্রভাবশালী মহল সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করে। জাপান একটা লিকুইড মেটাল ফাস্ট রিডার রিয়্যাক্টর তৈরি করল, আমরা সবাই তা জানি। তবে খুব কম লোকই জানে যে, রিয়্যাক্টরটা পুটোনিয়ামও তৈরি করে, লিথিয়ামকে রূপান্তরিত করে ট্রিটিয়াম-এ। দুটো থার্মোনিউক্লিয়ারের জন্যে জরুরি উপাদান। আমার ধারণা, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ব্যাপারে জাপানকে প্রস্তুত অবস্থায় দেখতে পেলে খুশিই হবেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। তবে কেইটেন প্রজেক্ট সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না বলেই আমার ধারণা।
