.
৩২.
পাবলিক যদি জানত সরকার কত কি গোপন রাখে, ওয়াশিংটনে আগুন ধরিয়ে দিত। তারা, বললেন অ্যাডমিরাল স্যানডেকার। ভার্জিনিয়ার শহরতলি দিয়ে ছুটছে বাস, জানালা-দরজার কাঁচগুলো রঙিন ও বুলেটপ্রুফ। বিখ্যাত একটা বাস সার্ভিসের গাড়িতে রয়েছে ওরা, এটাকে নুমার মোবাইল কমান্ড সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
সন্দেহ নেই আমরা একটা কঠিন যুদ্ধের মধ্যে জড়িয়ে পড়েছি, বললেন ডোনাল্ড কার্ন, টিমগুলোর ডেপুটি ডিরেক্টর অভ অপারেশনস।
এক ধরনের যুদ্ধ, সমর্থনের সুরে বলল পিট। লরেন ও সিনেটর ডিয়াজকে একই দিনে কিডন্যাপ করা হয়েছে, এর চেয়ে অবিশ্বাস্য ব্যাপার আর কি হতে পারে। তথ্যটা নির্ভুল তো, মি. ডোনাল্ড?
সিনেটর তার ফিশিং লজ থেকে আজ সকালে বোটে চড়েন। লেকের মাঝখানে আক্রান্ত হন তিনি। আশপাশে দুজন জেলে ছিল, তারা সব দেখেছে। একটা লঞ্চ এসে সিনেটরকে জোর করে তুলে নেয়। লোকগুলো জাপানি। দুঘন্টা পর এফবিআই একটা টেলিফোন পায়। কিডন্যাপিঙের কৃতিত্ব দাবি করেছ ব্লাড রেড ব্রাদারহুড।
কুখ্যাত টেরোরিস্ট অর্গানাইজেন, মন্তব্য করল পিট, তারপর জানতে চাইল, লিমুসিনকে যে হেলিকপ্টারটা নিয়ন্ত্রণ করছি, সেটার কোন খবর জানেন?
হাম্পটন বোড পর্যন্ত দেখা গেছে ওটাকে, তারপর আকাশেই বিস্ফোরিত হয়ে পড়ে গেছে পানিতে। এই মুহূর্তে নেভীর একটা স্যালভেজ টিম ডাইভ দিচ্ছে…
কোন লাশ পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না। দ্বিতীয় গাড়িটা পাওয়া গেছে, যেটায় লরেন ছিল?
মাথা নাড়লেন ডোনাল্ড কার্ন। কংগ্রেস সদস্য মিস লরেনকে সম্ভবত তৃতীয় কোন গাড়িতে তুলে নেয় ওরা, দ্বিতীয় গাড়িটাকে কোথাও লুকিয়ে রেখেছে।
তল্লাশি করছে কারা?
এফবিআই।
আপনার ধারণা, গাড়ি-বোমার সাথে এই কিডন্যাপিঙের সম্পর্ক আছে? জানতে চাইল অ্যাল। অনুস্থর থেকে পিট, ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো ও অ্যালকে বাসে তুলে নিয়েছেন ওঁরা।
এমন হতে পারে, ওরা আমাদেরকে আগে না বাড়ার জন্যে সাবধান করে দিতে চাইছে, বললেন ডোনাল্ড কার্ন। কিংবা হয়তো চাইছে সিনেট সাব-কমিটি বাতিল হয়ে যাক। সাব-কমিটি তদন্ত করে দেখছে যুক্তরাষ্ট্রে জাপানি পুঁজি বিনিয়োগ নিষিদ্ধ করা উচিত কিনা। মিস লরেন ও মি. ডিয়াজ, দুজনেই নিষিদ্ধ করার পক্ষে।
প্রেসিডেন্ট পড়েছেন উভয় সঙ্কটে, বললেন অ্যাডমিরাল স্যানডেকার। ওদের কিডন্যাপিং সম্পর্কে নিউজ মিডিয়াকে কিছু জানাতে নিষেধ করেছেন তিনি, তার ধারণা সবাই জেনে ফেললে কিডন্যাপাররা ওদেরকে মেরে ফেলতে পারে। আবার ভয় পাচ্ছেন, কংগ্রেস ও পাবলিক জেনে ফেললে কি কান্ডই না বেধে যায়।
আমার ধারণা, ব্লাড রেড ব্রাদারহুডের কাজ নয় এটা, বলল পিট। ওদের সংগঠন অতটা শক্তিশালী নয়।
তাহলে? জানতে চাইল অ্যাল।
ডোনাল্ড কার্ন বললেন, আমরা যতদূর জানি, জাপানের প্রধানমন্ত্রী বা তার মন্ত্রিসভার কোন সদস্য জড়িত নন। তাঁদের অগোচরে কি ঘটছে, তাঁরা বোধহয় কোন খবরই রাখেন না। এ ধরনের ঘটনা জাপানি রাজনীতিতে দুর্লভ নয়। আমরা একটা অত্যন্ত গোপন সংগঠনকে সন্দেহ করছি। একদল উগ্র জাতীয়বাদী শিল্পপতি ও আন্ডারওয়ার্ল্ড লিডার, জাপানের অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য এবং নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্যে মরিয়া হয়ে উঠেছে। টিম হোন্ড যে তথ্য পাঠিয়েছে, তা থেকে মনে হয় হিদেকি সুমা নামে এক বাস্টার্ড এই গোপন সংগঠনের নেতা। গাড়ি-বোমার পিছনে যে সুমা আছে, এ ব্যাপারে মার্ভিন শওয়াল্টার নিশ্চিত।
হিদেকি সুমা, বললেন অ্যাডমিরাল। গত তিন দশক ধরে আড়াল থেকে জাপানের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করছে।
তার আগে নিয়ন্ত্রণ করত সুমার বাবা, বললেন ডোনাল্ড, তাকালেন ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসোর দিকে। মি. ম্যানকিউসো সুমার ব্যাপারে একজন এক্সপার্ট। হিদেকি পরিবারের একটা ফাইল তৈরি করেছেন তিনি।
একটা সিগারেট ধরিয়ে ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসে জিজ্ঞেস করলেন, ঠিক কি জানতে চান আপনারা?
সংগঠনটার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস, বললেন কাঁপারফিল্ড।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানি সৈন্যরা প্রথমে মাঞ্চুরিয়া ও কোরিয়ায় লুটপাট চালায়, তারপর একে একে চীন, দক্ষিণপূর্ব এশিয়া, মালয়, সিঙ্গাপুর, ডাচ ইস্ট ইন্ডিজ ও ডেইলাইন থেকে সোনা, পাথর, মূর্তি ইত্যাদি সরিয়ে আনে। সব মিলিয়ে চলতি বাজারে ওগুলোর দাম হবে দুশো বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
মাথা নাড়লেন অ্যাডমিরাল স্যানডেকার। তা কি করে হয়।
শুধু সোনাই ওরা লুট করেছে সাত হাজার টনের ওপর।
সব তারা জাপানে নিয়ে যায়? জানতে চাইল অ্যাল।
উনিশশো তেতাল্লিশ সাল পর্যন্ত। তারপর ওদের জাহাজগুলোকে আমাদের সাবমেরিন বাধা দিলে স্রোতটা মন্থর হয়ে আসে। রেকর্ড দেখে অনুমান করা হয়, লুটের অর্ধেক মাল ফিলিপাইনে পাঠানো হয়, পরে টোকিওতে নিয়ে যাবার জন্যে। তবে যুদ্ধের শেষদিকে বিভিন্ন দ্বীপে গোপনে পুঁতে ফেলা হয়।
এসবের সাথে হিদেকি পরিবারের সম্পর্ক কি? জানতে চাইল পিট।
বলছি, সিগারেটে টান দিলেন ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো। চলতি শতাব্দীর প্রথম দিকে জাপানের আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রণ করত ব্ল্যাক স্কাই নামে একটা ক্রিমিন্যাল অর্গানাইজেশন। পরে ব্ল্যাক স্কাই-এর দুজন এজেন্ট গ্রুপ থেকে বেরিয়ে গিয়ে নিজেদের সংগঠন গড়ে তোলে, নাম দেয় গোল্ড ড্রাগন। দুজনের একজন হলো কোরোরি ইয়োশিশু, অপরজন হিদেকি সুমার বাবা।
