রেডিও না থাকলে কত যে অসুবিধে।
লিমুসিনের দুশো মিটার পিছনে চলে এসেছে ওরা, এই সময় সামনের গাড়ির লোকজন স্টাজের অস্তিত্ব টের পেয়ে গেল। সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে গেল স্পীড, দূরত্ব ক্রমশ বাড়ছে।
সমস্যা সৃষ্টি করল বড় একটা ডজ পিকআপ ট্রাক। ক্লাসিক কারটাকে দেখে খুব মজা পেল ড্রাইভার, কৌতুক করার লোভ সামলাতে পারল না। যতবার পাশ কাটাবার চেষ্টা করছে পিট, ডজের ড্রাইভার যতবার বাধা দিচ্ছে, বত্রিশ পাটি দাঁত বের করে হাসছে সে। জানালা দিয়ে মাথা বের করে ভেঙাচ্ছে পিটকে।
হোলস্টার থেকে খুদে অটোমেটিকটা বের করলেন ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো। দেব নাকি ব্যাটার ক্যাপটা উড়িয়ে?
আমি একটু চেষ্টা করে দেখি, বলল পিট। ডজে ডান দিকে সরে ও, পরমুহূর্তে বাম দিকে একবার ডানে, তারপরই বামে, বারবার। বাধা দেয়ার জন্যে ডজের ড্রাইবারও দ্রুত ডানে বামে সরে যাচ্ছে। পিট কোন দিকে আছে দেখার জন্যে জানালা দিয়ে ঘন ঘন পিছন দিকে তাকাচ্ছে লোকটা। জানে না, কাজটা ওকে পিটই করাচ্ছে।
সামনে বাঁক, কিন্তু সেদিকে খেয়াল নেই লোকটার। রাস্তার ধারে নিচু পাঁচিল, বাঁক নিতে দেরি করায় ধাক্কা খেল ডজ, পাঁচিল ভেঙে ঢালের কিনারায় চলে গেল। ঢাল বেয়ে নেমে যাচ্ছে, ভাগ্য ভাল উল্টে পড়ল না ট্রাকটা। পাশ কাটাবার সময় লোকটার উদ্দেশ্যে হাত নাড়ল পিট। হাসছে ও।
বাঁক ঘুরতেই নিভে গেল মুখের হাসি। পরবর্তী বাঁকের মুখে একটা ট্রাক দাঁড়িয়ে রয়েছে, তেলের তিনটে ড্রাম পড়ে রয়েছে রাস্তার উপর, তার মধ্যে একটা গড়াগড়ি খাচ্ছে। শেষ ড্রামটা ফেটে গেছে, হড়হড় করে বেরিয়ে আসছে চকচকে তেল। সাদা লিমুসিন। কোন রকমে সংঘর্ষ এড়াল, তবে তেলের মধ্যে পড়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলল। কোন বিরতি ছাড়াই তিনশো ষাট ডিগ্রি ঘুরে বৃত্ত রচনা করল দুবার। অলৌকিক ক্ষমতায় ড্রাইভার আবার সিধে করে নিল গাড়ি, ছুটে গেল সামনের দিকে।
গতি কমাবার সময় পাওয়া গেল না, ব্রেক করলে উল্টে যাবে গাড়ি, প্রায় আত্মহত্যার ঝুঁকি নিয়ে পিটও ঝাঁপ দিল তেলের মধ্যে। এই সময় পিছু হটতে শুরু করল ট্রাক। সংঘর্ষ অনিবার্য, দুহাতে সিট আঁকড়ে ধরে তৈরি হলেন ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো। একেবারে শেষ মুহূর্তে গাড়িটাকে কাত করে ফেলল পিট, এক দিকের দুটো চাকা প্রায় শূন্যে উঠে পড়ল, অপর দিকের চাকা দুটো পিছলাতে শুরু করেছে। তেলের মধ্যে পড়ল গাড়ি ব্রেক করেনি পিট, শুধু ক্লাচ ঠেলে দিল, তেলের উপর দিয়ে নিজের খুশি মত ছুটতে দিল গাড়িটাকে। তারপর ঘাস মোড়া রাস্তার কিনারায় চলে এল ও, যতক্ষণ চাকায় তেল থাকল ততক্ষণ আর রাস্তায় উঠল না।
দুটো গাড়ির মাঝখানে দূরত্ব এখন খুব সামান্যই। হেলিকপ্টার? জানতে চাইল পিট।
জানালা দিয়ে মাথা বের করলেন ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো। আছে। লিমুসিনের ওপর, ডান দিকে।
আমার কেন যেন মনে হচ্ছে, দুটো একই দলের।
ফড়িংটার গায়ে কোন ছাপ না থাকাটা সন্দেহজনক, একমত হলেন ম্যানকিউসো।
ওদের কাছে অস্ত্র থাকলে আমরা গেছি।
আকাশ থেকে অটোমেটিক অ্যাসল্ট উইপন ব্যবহার করা হলে আমার খুদে কোল্ট কোন কাজে আসবে না।
কিন্তু কয়েক মাইল আগেই গুলি করে আমাদেরকে অচল করে দিতে পারত। দেয়নি কেন?
পানি নেই, রেডিয়েটরের দিকে আঙুল তাক করলেন ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো।
ফিলার ক্যাপ থেকে ধোঁয়া উঠছে।
লিমুসিনের পিছনের সীটে, কল্পনার চোখে দেখতে পেল পিট, হাত-মুখ বাঁধা অবস্থায় পড়ে রয়েছে লরেন। ভয় ও দুচিন্তায় হিম বাতাসের মত ঝাপটা মারল ওর মনে। কিডন্যাপাররা এরই মধ্যে তাকে মেরে ফেলেছে কিনা কে জানে। চিন্তাটা মাথা থেকে বের করে দিয়ে ভাবল, লরেনকে জিম্মি রেখে মুক্তিপণ চাওয়ার সুযোগটা ওরা হাতছাড়া করবে না। তবে লরেনের যদি কোন ক্ষতি করে, ওদের সব কটাকে মরতে হবে, যেন মনে প্রতিজ্ঞা করল ও।
ভূতে পাওয়া মানুষের মত, যেন একটা ঘোরের মধ্যে ধাওয়া করছে পিট। যেভাবেই হোক লরেনকে মুক্ত করতে হবে। ঘোয়ারের মত লিঙ্কনটাকে ধাওয়া করে যাচ্ছে।
স্পীড বাড়িয়ে পালাতে পারছে না ওরা, ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো এক সময় বললেন।
ওরা আমাদের সাথে খেলছে, বলল পিট, তাকিয়ে আছে পঞ্চাশ মিটার দূরের সাদা লিমুসিনের দিকে। ইচ্ছে করলেই আমাদেরকে পেছনে রেখে চলে যেতে পারে ওরা।
হতে পারে ওদের এঞ্জিনে সমস্যা দেখা দিয়েছে।
আমার তা মনে হয় না। ড্রাইভার লোকটা প্রফেশন্যাল। তেলের উপর দিয়ে আসার পর একই গতিতে ছুটছে সে।
রাস্তার পাশের গাছপালার ফাঁক দিয়ে রোদ এসে চোখে লাগছে। হাতঘড়ি দেখলেন ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো।স্টেট পুলিশ আসছে না কেন?
আশপাশের সমস্ত রাস্তা চষে ফেলছে। কোথায় রয়েছি আমরা,অ্যাল তা জানে না।
এই গতি খুব বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারবেন না আপনি।
অ্যাল ঠিকই আমাদেরকে খুঁজে নেবে, দৃঢ়কণ্ঠে বলল পিট, পুরানো বন্ধুর ওপর ওর আস্থার কোন অভাব নেই।
নতুন আরেকটা শব্দ ঢুকল কানে, মাথাটা জানালা দিয়ে আবার বের করলেন ম্যানকিউসো। তারপর শরীরের প্রায় অর্ধেকটাই বের করে আনলেন। হাত দুটো উন্মাদের মত নাড়ছেন।
কি ব্যাপার? জানতে চাইল পিট, তীক্ষ্ণ একটা বাঁক ঘুরে দেখল সামনে ছোট একটা ব্রিজ, নিচে সরু খাল।
আরেকটা হেলিকপ্টার, রুদ্ধশ্বাসে বললেন ম্যানকিউসো।
