রেস বাদ দিয়ে কথা বলতে চলে গেল?
আমি তার ওপর নজর রাখছি, বললেন ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো।
স্টার্টার দুই গাড়ির মাঝখানে দাঁড়িয়ে পতাকাটা মাথার উপর তুলল। অ্যাল আর ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো সরে এলেন তাড়াতাড়ি। পতাকা নেমে এল, সেই সাথে ছুটল গাড়ি দুটো।
প্রথমেই হিসপানো-সুইজাকে পিছনে ফেলে দিল স্টাজ। রাস্তাটা সোজা প্রায় এক হাজার গজ লম্বা, তারপর বাঁক নিয়ে চলে গেছে উত্তর দিকে। গাছপালা বা বাড়িঘর নেই, মাঠ থেকে উত্তর দিকের দুমাইল রাস্তা পরিষ্কার দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। আবার বাঁক নিয়ে তির্যকভাবে স্টার্টিং পয়েন্টে ফিরে এসেছে রাস্তাটা। পুরোটা রাস্তার দুপাশে হালকা ভিড়, হাততালি দিয়ে উৎসাহ দিচ্ছে ড্রাইভারদের। উত্তরের রাস্তায় একবার সামনে থাকল স্টাজ, একবার হিসপানো। রাস্তাটার শেষ অংশে দুটো গাড়ি একই সাথে, পাশাপাশি ছুটল। তির্যক রাস্তায় ওঠার পর, মাঝামাঝি জায়গায়, স্টাজকে ছাড়িয়ে কয়েক হাত সামনে চলে এল হিসপানো। স্টাটিং পয়েন্ট আর মাত্র কয়েক শো গজ দূরে, এখনও এগিয়ে আছেন ক্লাইভ বিউমন্ট। বোঝাই যাচ্ছে ফলাফল কি হবে। স্টাজের চেয়ে এক কি দেড় সেকেন্ড আগে ফিনিশিং লাইন স্পর্শ করবে হিসপানো।
আর মাত্র পঞ্চাশ গজ বাকি, এই সময় একটা ঝাঁকি খেয়ে বেড়ে গেল স্টাজের গতি। হিসপানো ছুটছে ফুল স্পীডে, স্পীড আর বাড়ানোর কোন সুযোগ নেই। শেষ মুহূর্তের জন্যে এঞ্জিনের খানিকটা শক্তি রিজার্ভ রেখেছিল পিট, এবার সেটা কজে লাগাচ্ছে। ঘণ্টায় আশি মাইল স্পীডে ছুটছিল ওর গাড়ি, সেটা বেড়ে নব্বইয়ে উঠে গেল।
ফিনিশিং লাইন স্পর্শ করল দুটো গাড়ি, মনে হলো একসাথে। কিন্তু না, আধ হাত এগিয়ে ছিল স্টাজ, টিভির বিরাট স্ক্রীনে তাই দেখা গেল। নিয়ম হলো, বিজয়ী ড্রাইভার মাঠটাকে এক চক্কর ঘুরে স্টার্টিং লাইনে ফিরে, কিন্তু অ্যাল আর ম্যানকিউসো পিটকে সে সুযোগ দিল না। স্টাজের সামনে দাঁড়িয়ে উন্মাদের মত হাত নাড়ছে তারা, অগত্যা বাধ্য হয়ে ব্রেক কষতে হলো পিটকে। ও লক্ষ্য করছে, হাত বাড়িয়ে সাদা লিমুসিনটাকে দেখাচ্ছেন ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো।
গাড়ি থামিয়ে জানালা দিয়ে মাথা বের করল পিট। লরেন?
স্টাজও চলছে, লাফ দিয়ে রানিং বোর্ডে উঠে পড়ল অ্যাল। হা! আমার ধারণা, লিমুসিনের জাপানিরা তাকে কিডন্যাপ করেছে।
ছুটে এলেন ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো, হাঁপাচ্ছেন। গাড়ি নিয়ে চলে গেল ওরা, বুঝতে পারিনি মিস লরেন ওটায় আছেন।
আপনার কাছে অস্ত্র আছে? জানতে চাইল পিট।
হোলস্টারে একটা কোল্ট অটো আছে, পঁচিশ ক্যালিবারের।
উঠে পড়ুন। নির্দেশ দিল পিট, তাকাল অ্যালের দিকে। তুমি একজন গার্ডের রেডিও চেয়ে নিয়ে পুলিশে খবর দাও। আমরা ধাওয়া করছি।
মাথা ঝাঁকিয়ে গার্ডের খোঁজে ছুটল অ্যাল। স্পীড বাড়িয়ে মাঠ থেকে পূর্ব দিকের রাস্তায় উঠে এল পিট। মান্ধাতা আমলের একটা গাড়ি নিয়ে আধুনিক মডেলের একটা লিমুসিনকে ধাওয়া করে কোন লাভ নেই, জানে ও। তবু চেষ্টা করে দেখতে হবে ওকে।
৩০. পার্কিং লটে কয়েকশো গাড়ি
৩০.
পার্কিং লটে কয়েকশো গাড়ি দাঁড়িয়ে রয়েছে, মাঝখানের ফাঁক দিয়ে ছুটছে পিটের স্টাজ। স্পীড ঘণ্টায় পঞ্চাশ মাইল, সাদা লিমুসিন থেকে বিশ সেকেন্ড পিছিয়ে রয়েছে ওরা।
হর্নের বোমাটা টিপে রেখেছে পিট। তবে বেশিরভাগ দর্শক রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিযোগিতা দেখছে, পার্কিং লট প্রায় নির্জনই বলা যায়। কোন বিপদ ঘটল না, রাস্তায় নেমে এল স্টাজ।
রাগে উন্মাদ হয়ে আছে পিট। সাদা লিমুসিনকে দাঁড় করিয়ে লরেনকে উদ্ধার করা প্রায় অসম্ভবই বলা যায়। বড় আকারের ডি-এইচ এঞ্জিন থাকায় স্টাজের চেয়ে দ্বিগুণ হর্সপাওয়ার রয়েছে লিমুসিনের। ও জানে, এটা ঠিক ক্রিমিন্যাল কিডন্যাপিং নয়, তারচেয়ে মারাত্মক কিছু। কিডন্যাপাররা লরেনকে মেরে ফেলবে বলে ভয় পাচ্ছে ও।
হাইওয়েতে উঠে এল ওদের গাড়ি।
ওরা আমাদের চেয়ে অনেকটা এগিয়ে আছে, ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো হতাশ গলায় বললেন।
দেখা যাক ধরতে পারি কিনা, দৃঢ় প্রতিজ্ঞ একটা ভাব ফুটে রয়েছে পিটের চেহারায়। সাইড রোড থেকে একটা গাড়ি উঠে এল হাইওয়েতে, দ্রুত হুইল ঘুরিয়ে সংঘর্ষ এড়াল ও ওরা জানে না আমরা ধাওয়া করছি, কাজেই টহল পুলিশের ভয়ে স্পীড লিমিটের বাইরে যাবে না। স্টেট, পুলিশ বাধা না দেয়া পর্যন্ত ওটাকে আমি শুধু দৃষ্টি সীমার মধ্যে রাখতে চাই।
পিটের গাড়িটার সাথে কথা বলছে পিট, অনুরোধ করছে আরও জোরে ছোটার। ওর মুখের দিকে হাঁ করে তাকিয়ে আছেন ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো। যেন ওর অনুরোধে সাড়া দিয়েই স্পীড বেড়ে গেল স্টাজের। ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো দেখলেন স্পীড মিটারের কাটা নব্লুইয়ের ঘর ছাড়িয়ে যাচ্ছে। নতুন অবস্থায়ও গাড়িটা এত জোরে ছোটেনি। একের পর এক কার, ট্রাক, ট্রেইলারকে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছে পিট। বাঁক নেয়ার সময়ও গতি কমাল না। গাড়িটা রাস্তা থেকে ছিটকে পড়ছে না দেখে বিস্মিত হলেন। ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো। এঞ্জিনের আওয়াজকে ছাপিয়ে উঠল অন্য একটা শব্দ, জানালা দিয়ে বাইরে মাথা বের করে আকাশের দিকে তাকালেন তিনি। হেলিকপ্টার।
পুলিশ?
কোন ছাপ নেই। দেখে যেন হচ্ছে কমার্শিয়াল।
