অ্যাডমিরাল স্যানডেকার সম্ভবত আপনাদেরকে জানাবেন। টিম মার্সিডিজকে কে আপাতত কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গাড়ি-বোমা বহন করছিল যে জাহাজটা, সেটার অবশিষ্ট কিছু পাওয়া যায় কিনা খোঁজ করার কাজটা ও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
কারণ?
প্রেসিডেন্ট ভাবছেন, আপাতত ব্যাপারটা বেশি নাড়াচাড়া না করাই ভাল। চারদিকে নানান সমস্যা। রুশ রাজনীতিকরা এরই মধ্যে অভিযোগ করছেন, বিস্ফোরণের জন্যে আমেরিকাই দায়ী। আন্ডার কবার স্যালভেজ অপারেশন চালু রাখা হলে, রাশিয়াকে একটা ব্যাখ্যা দিতে হবে, প্রেসিডেন্ট সে ধরনের ঝামেলায় যেতে চাইছেন না। তাছাড়া, প্রশান্ত মহাসাগরের তলায় নুমা কি করছিল, এটা তিনি গোপন রাখতে চান। সাগরের মেঝেতে মাইনিং অপারেশন পরিচালনা করা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।
হুম। ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসোর দিকে তাকাল পিট। ওয়ারহেডসহ কয়টা গাড়ি পাওয়া গেছে?
এখন পর্যন্ত শুধু আপনার ছয়টা। ওয়েস্ট কোস্টে স্টেসি ফক্স ও ড. টিমোথি ওয়েদারহিল কতদূর কি করতে পেরেছেন এখনও কোন রিপোর্ট আসেনি।
জাপানিরা নিশ্চয়ই গোটা আমেরিকার সবখানে ছড়িয়ে রেখেছে ওগুলো, বলল পিট। সবগুলো খুঁজে বের করতে হলে রেই হবে।
লোকবল কোন সমস্যা নয়। সমস্যা হলো, জাপানিদের কোণঠাসা না করে কাজটা সারতে হবে। তারা যদি দেখে তাদের নিউক্লিয়ার প্রজেক্ট হুমকির মুখে পড়ছে, অস্থির হয়ে দুএকটা ম্যানুয়ালি ফাটিয়ে দিতে পারে।
খুব ভাল হত যদি চীম টিম হোন্ডা লোকেশন-এর একটা ম্যাপ যোগাড় করতে পারত, শান্ত গলায় বলল অ্যাল।
সে চেষ্টাই করছে ওরা, জানালেন ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো।
আপাতত আমরা তাহলে কানে আঙুল ঢুকিয়ে বসে থাকব? পিট গম্ভীর।
এত হতাশ হবার কিছু নেই, ডার্ক। সবগুলো টিম মিলে গত আটচল্লিশ ঘণ্টায় যা করেছে, আপনারা প্রথম চার ঘণ্টায় তার চেয়ে অনেক বেশি করেছেন। সময় হলে আপনাদের ডাকা হবে।
কিছু ঘটার অপেক্ষায় অন্ধকারে বসে থাকতে আমার ভাল লাগে না, বলল পিট।
ভিড়ের মধ্যে চারজনের দলটাকে সম্পূর্ণ বেমানান লাগল। ক্লাসিক গাড়ির মালিক বা দর্শকরা সাধারণ শাট ট্রাউজার পরে এসেছে, তাদের মধ্যে গাঢ় রঙের স্যুট পরা একদল বেঁটেখাটো শক্ত-সমর্থ জাপানিকে হাতে অ্যাটাচি কেস নিয়ে ঘোরাঘুরি করতে দেখলে অবাক হবারই কথা। লোকের গাড়িগুলো খুঁটিয়ে দেখছে, খসখস করে নিজেদের ভাষায় কি যেন লিখছে নোটবুকে, ভাবটা যেন টোকিওর গাড়ি সংগ্রাহকদের প্রতিনিধি তারা। যতটা না বিস্মিত হচ্ছে লোকজন, তারচেয়ে বেশি কৌতুক বোধ করছে। ওরা যে আসলে ভাড়াটে টেরোরিস্ট, বুঝতে পারছে না কেউ। চারটে অ্যাটাচি কেসে ঠাসা রয়েছে গ্যাস গ্রেনেড ও অ্যাসল্ট উইপনস। ক্লাসিক গাড়ির রেস দেখতে নয়, তারা এসেছে লরেন স্মিথকে অপহরণ করতে।
সশস্ত্র সিকিউরিটি গার্ডরা কে কোথায় আছে, ভাল করে দেখে নিল ওদের লীডার। আগেই লক্ষ্য করেছে, পিটের স্টাজ মাঠের প্রায় মাঝখানে দাঁড়িয়ে। ভিড়ের মধ্যে থেকে লরেন স্মিথকে কিডন্যাপ করা সম্ভব নয়, ধরা পড়ে যেতে হবে। কাজেই অনুকূল পরিবেশের জন্যে অপেক্ষায় থাকতে হবে ওদেরকে। রাস্তার কিনারায় দাঁড়িয়ে রয়েছে ওদের লিমুসিন, তিনজনকে গাড়িতে ফিরে যেতে বলল লীডার। ভিড়ের মধ্যে একা থাকল সে, লরেনের ওপর নজর রাখছে। দূর থেকে পিট, অ্যাল ও ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসোর দিকেও নজর রাখছে সে। তার মনে হলো, তিনজনের একজনের কাছেও কোন আগ্নেয়াস্ত্র নেই।
একজন রেস স্টুয়ার্ড এসে জানাল, স্টাজ নিয়ে স্টাটিং লাইনে দাঁড়াতে হবে পিটকে। দল বেঁধে, হৈ-চৈ করতে করতে এগোল ওদের পুরো দলটা। গাড়ির হুড তুলে শেষবারের মত এঞ্জিনটা চেক করে নিল অ্যাল, পাশে দাঁড়িয়ে ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো সাহায্য করলেন তাকে। পিটকে দুহাতে জড়িয়ে ধরে শুভ কামনার চিহ্নস্বরূপ চুমো খেল লরেন, তারপর ছুটে চলে এল ট্র্যাক-এর পাশে, নিচু একটা পাঁচিলের উপর বসল পা ঝুলিয়ে। ইতোমধ্যে হিসপানো-সুইজার মালিক ক্লাইভ কিউমন্ট-এর সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়েছে পিটের। করমর্দন করে যে যার গাড়িতে উঠে বসল ওরা।
স্টিয়ারিং হুইলের পিছনে বসে ইন্সট্রুমেন্ট প্যানেল ও ড্যাশবোর্ডের ওপর চোখ বুলাল পিট, তারপর মুখ তুলে তাকাল অফিশিয়াল স্টার্টার-এর দিকে। লোকটা ধীরে ধীরে সবুজ পতাকাটার ভাঁজ খুলছে। কংক্রিটের সেফটি ওয়াল-এর কাছাকাছি, লরেনের ঠিক সামনে, একটা নিমুসিন এসে দাঁড়িয়েছে, দেখতে পেল না ও। দেখতে পেল না এক লোক গাড়িটা থেকে নেমে এগিয়ে এল, কথা বলছে লরেনের সাথে।
এখনও স্টাজ-এর এঞ্জিন পরীক্ষা করছে অ্যাল। একা শুধু ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো দেখলেন, জাপানি লোকটার উদ্দেশ্যে ছোট্ট করে মাথা ঝাঁকাল লরেন, পাঁচিল থেকে নেমে তার সাথে হেঁটে গেল লিমুসিনের দিকে, উঠে বসল গাড়িতে।
হুডটা নামাল অ্যাল, পিটের উদ্দেশ্যে চিৎকার করে বলল, নো অয়েল অর ওয়াটার রিকস। তবে খুব বেশি খাঁটিও না বেচারিকে। এঞ্জিনকে আমরা নতুন করে তৈরি করলেও, বুড়ির বয়েস ষাট বছরের ওপর।
ঠিক আছে, ঠিক আছে, বলল পিট, হঠাৎ খেয়াল করল আশপাশে কোথাও লরেনকে দেখা যাচ্ছে না। লরেন কোথায়? জানতে চাইল ও।
দরজার দিকে ঝুঁকে ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো হাত তুলে সাদা লিংকনটাকে দেখালেন। ওই লিমোর এক জাপানি ভদ্রলোক তার সাথে কথা বলছেন। সম্ভবত কোন লবিষ্ট হবেন।
