কোন তথ্য যদি আমাদের তদন্তে কাজে লাগে, জানাতে দেরি করবেন না।
অবশ্যই দেরি করব না, বললেন মার্ভিন। দুঃখের বিষয় হলো, সুমা আর কোরোরি ইয়োশিশুর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটা আলোচনা হচ্ছিল, এই সময় দূতাবাস থেকে বেরিয়ে আমি আমি। মাত্র দুমিনিট শোনার সুযোগ হয়েছে আমার।
ইয়োশিশু, কোরোরি ইয়োশিশু, বিড়বিড় করল রয় ওরশিয়া। গুড গড, বুড়ো শয়তানটা আজও তাহলে বেঁচে আছে।
.
ভোর হতে আর ঘণ্টাখানেক বাকি, একটা মুরমটো লিমোজিন এসে থামল গাঢ় ছায়ার ভেতর। আসাকুসার সরু রাস্তা ধরে ধীরগতিতে আবার এগোল গাড়িটা।
মি. সুমার অফিসে আড়িপাতা যন্ত্র ফিট করা হয়েছে, বলল রয় ওরশিয়া। আমাদের একজন এজেন্ট আর্ট ডিলারের ছদ্মবেশে ভেতরে ঢুকেছিল। একটা পেইন্টিংয়ের ফ্রেমে, ইজেলে আর পর্দার হাতলে আছে ওগুলো।
তুমি ঠিক জানো? জানতে চাইল মুরো কামাতোরি, হতভম্ব হয়ে গেছে সে। ডিলার লোকটা আসল একটা শিমজু নিয়ে এসেছিল।
আসল নয়। স্যাটেলাইট ফটো দেখে নকল করা হয়েছে।
হিস হিস করে উঠল কামাতোরি, আমাকে আরও আগে জানানো উচিত ছিল তোমার।
আমি নিজেই জানতে পেরেছি মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে।
কথা না বলে আধো ছায়া আধো অন্ধকারে রয় ওরশিয়ার দিকে তাকিয়ে থাকল কামাতোরি, যেন তার ওপর বিশ্বাস ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে।
রয় ওরশিয়া একজন ইন্টেলিজেন্স স্লিপার, জাপানি মা-বাবার ঘরে আমেরিকায় জন্ম, সিআইএ-তে চাকরি পাবার জন্যে ছোটবেলা থেকে ট্রেনিং দেয়া হয়েছে। তাকে।
অবশেষে কামাতোরি বলল, আজ বিকেলে অনেক কথাই আলোচনা হয়েছে, সে-সব জানাজানি হয়ে গেলে মি. সুমার বিরাট ক্ষতি হবে। তুমি নিশ্চিত, কোথাও কোন ভুল হচ্ছে না?
আর্ট ডিলার কি নাম বলল তার? আশিকাগা ইনশু?
শিউরে উঠল কামাতোরি, নিজেকে অপরাধী মনে হলো তার। সুমার অর্গানাইজেশনে কেউ যাতে নাক গলাতে না পারে সেটা সেটাই তার কাজ। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে সে। হ্যাঁ, ইনশু।
তার আসল নাম জিম হানামুরা। আমার টিমের দ্বিতীয় লোক সে। তার কাজ নিউক্লিয়ার গাড়িবোমার উৎস খুঁজে বের করা।
গাড়ির সাথে ও অরহেডের সম্পর্ক আছে, এই রহস্য ভেদ করল কে?
ডার্ক পিট নামের এক অ্যামেচার। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল আন্ডারওয়াটার অ্যান্ড মেরিন এজেন্সির লোক সে।
সে কি আমাদের জন্যে বিপজ্জনক?
আমি নিশ্চিত নই। সে এখনো অফিশিয়ালি আমাদের পিছনে নেই। কিন্তু উদ্ভট প্রচুর জিনিস আবিষ্কার করেছে সে।
সীটে হেলান দিল কামাতোরি, জানালা দিয়ে বাইরে তাকাল। কিছুক্ষণ পর ওরশিয়ারের দিকে ফিরল সে। তুমি যে-সব এজেন্টদের সাথে কাজ করছ তাদের নামের একটা তালিকা দিতে পারো আমাকে? কে কি করছে তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ সহ?
মাথা ঝাঁকাল ওরশিয়া। নামগুলো দেয়া যাবে। তৎপরতা, সম্ভব নয়। সবাই আমরা আলাদাভাবে কাজ করছি। কেউ কারও সম্পর্কে কিছু জানি না।
ঠিক আছে, যখন যতটা পারো জানিয়ে আমাকে।
পিটের ব্যাপারে কি করবে বলে ভাবছ?
ওরশিয়ার দিকে ঠাণ্ডা চোখে তাকাল কামাতোরি। প্রথম সুযোগেই মেরে ফেলতে হবে।
.
২৯.
সবগুলোই ক্লাসিক অ্যান্টিকস কার, কোনটার বয়সই ষাট-সত্তরের কম নয়। লক্ষ্য করার মত বিষয় হলো, গাড়িগুলোর মালিকরাও প্রায় সবাই পৌঢ় বা বৃদ্ধ, যুবকদের সংখ্যা খুবই কম। পুরানো গাড়ি সংগ্রহ খরচবহুল হবি, এ ধরনের শখ মেটাবার সামর্থ্য যুবক বয়সে খুব কম লোকেরই হয়। সব মিলিয়ে প্রায় একশোর মতো গাড়ি এসেছে মাঠে, দর্শকের সংখ্যা কয়েক হাজার। পিটের স্টাজকে দাঁড় করানো হয়েছে উনিশশো ছাব্বিশ সালে ফ্রান্সে তৈরি একটা হিসপানো-সুইজার পাশে। প্রতিবার দুটো করে গাড়ি প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে। বিচার করে পরীক্ষা করে ঠিক করবেন কোন দুটো গাড়ি পরস্পরের সাথে প্রতিযোগিতা করবে।
পিটের দুপাশে দাঁড়িয়ে রয়েছে লরেন স্মিথ ও অ্যাল জিওর্দিনো। মাথা চুলকে অ্যাল বলল, রেস শুরু হতে মনে হচ্ছে দেরি আছে, কিন্তু আমার যে খিদে পেয়েছে।
হেসে উঠে স্টাজের ব্যাক সিট থেকে পিকনিক বাস্কেটটা নামাল লরেন।
ঘাসের ওপরই বসে পড়ল তিনজন। ওরা খাচ্ছে, দুজন বিচারক এসে পিটের স্টাজ ও পাশের গাড়িটা পরীক্ষা করলেন। স্টাজের সিগারেট লাইটার ঠিকমত কাজ করছে না, এগজস্ট সিস্টেম মূল ডিজাইনের সাথে মিলছে না, এসব কারণে তিন পয়েন্ট কাটা গেল। পয়েন্ট কাটা যাবার অর্থ হলো, প্রতিযোগিতায় জিতলেও টাকা কিছু কম পাবে বিজয়ী। হিসপানো-সুইজার সাথেই প্রতিযোগিতা করতে হবে স্টাজকে, সিদ্ধান্ত দিলেন বিচারকরা।
জিতবে তো? জানতে চাইল অ্যাল।
বলা কঠিন, জবাব দিল পিট। ওটার চেয়ে আমার গাড়ির বয়স ছয় বছর কম, তবে হিসপানোর এঞ্জিনটা বড়, শরীরটা হালকা। কি হয় বলা যায় না।
আপনিই জিতবেন, ওদের কাছে এসে দাঁড়ালেন ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো।
মাইনিং এঞ্জিনিয়ারের দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকল পিট। হঠাৎ কোত্থেকে উদয় হলেন আপনি? জানতে চাইল ও।
কানে এল, এখানে আপনাকে পাওয়া যাবে, সহাস্যে বললেন ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো। ভাবলাম আপনার গাড়িটাও দেখা হবে, মি. অ্যাল জিওর্দিনোর সাথে কথাও বলা যাবে, তাই চলে এলাম?
কোথাও ডাক পড়েছে নাকি? জানতে চাইল পিট।
এখুনি নয়।
লরেন স্মিথের সাথে ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসোর পরিচয় করিয়ে দিল পিট। হাসিমুখে ম্যানকিউসোর হাতে এক গ্লাস বিয়ার ধরিয়ে দিল লরেন। ইতোমধ্যে খাওয়া-দাওয়া শেষ হয়েছে ওদের, লরেনের কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নিয়ে মাঠের ওপর হাঁটতে শুরু করল তিনজন। কি ঘটছে? ধৈর্য হারিয়ে জিজ্ঞেস করল অ্যাল।
