সুতোটা ধরে এগোতে পেরেছেন কারখানা থেকে এয়ারকন্ডিশনার সাপ্লায়ার্স, ওখান থেকে বোমা তৈরির প্ল্যান্ট পর্যন্ত?
সাপ্লয়ার্স পর্যন্ত এগোতে পেরেছি, তারপর সব চিহ্ন মুছে গেছে। তবে আশা করছি দুএকদিনের মধ্যে নতুন একটা সূত্র পাব।
কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেল ওরশিয়া, ড্রেসিং রুম থেকে এক লোককে বেরিয়ে আসতে দেখে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকল সে। লোকটা মাঝারি আকৃতির, মাথায় রূপালি চুল, কোমরে শুধু একটা তোয়ালে।
হু দ্য হেল আর ইউ? জিজ্ঞেস করলেন মার্ভিন, ভয়ে নীল হয়ে গেছে চেহারা। তার ধারণা, রায়ওকনের সিকিউরিটি ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়েছে আগন্তুক।
আমার নাম আশিকাগা ইনশু।
কে?
কথা না বলে কয়েক সেকেন্ড দাঁড়িয়ে থাকল লোকটা। দিশেহারা বোধ করলেন মার্ভিন, উদভ্রান্তের মত এদিক-ওদিক তাকাচ্ছেন, ভাবছেন আশপাশে সেন্ট্রিরা নেই কেন।
তারপর হাসতে শুরু করল ওরশিয়া। অদ্ভুত ছদ্মবেশ, জিম। দুজনকেই বোকা বানিয়েছ তুমি।
মাথা থেকে রূপালি উইগ নামাল জিম হানামুরা, নকল গোঁফটাও খুলে ফেলল। শুধু তোমাদেরকেই নয়, হিদেকি সুমা আর তার সেক্রেটারিকেও বোকা বানিয়েছি।
বড় করে শ্বাস নিয়ে গলা পর্যন্ত পানির তলায় নেমে গেলেন মার্ভিন। জেসাস, যা ভয় পাইয়ে দিয়েছিলেন না।
সাকির গন্ধটা দারুণ। আমার জন্যে খানিকটা আছে নাকি?
একটা গ্লাসে খানিকটা সাকি ঢালল ওরশিয়া। কিচেনে পুরো এক বাক্স আছে। পরমুহূর্তে তার চেহারায় বিস্ময় ফুটে উঠল। কি যেন বললেন, এই মাত্র?
কই?
হিদেকি সুমা।
মুরমটো অটোমোটিভ, মুরমটো এয়ারক্রাফট করপোরেশন ইত্যাদি অনেকগুলো কোম্পানির আসল মালিক কে, আমি জানতে পেরেছি। সবই ধনকুবের হিদেকি সুমার। এ-সব কোম্পানির এক বালতি পানিতে কয়েকটা ফোঁটা মাত্র। গোটা ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্য, নেভাড়া ও আরিজোনা বিক্রি করলে যে টাকা পাওয়া যাবে তারচেয়ে অনেক বেশি টাকার মালিক এই লোক।
তার মানে কি ডিভাইন স্টার, যে জাহাজটা বিস্ফোরিত হয়েছে প্রশান্ত মহাসাগরে, ওটার মালিক সুমা?
অবশ্যই।
সুমা অত্যন্ত প্রভাবশালী লোক, বললেন মার্ভিন। বলা হয়, সে যদি জাপানের প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রিসভার কোন সদস্যকে বাহুতে ডানা লাগিয়ে বিশতলা বিল্ডিংয়ের মাথা থেকে লাফ দিতে বলে, কে কার আগে লাফ দেবে তার প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়।
তুমি সত্যি সুমার সাথে দেখা করতে গিয়েছিলে? হানামুরাককে প্রশ্ন করল ওরশিয়া।
কোন সমস্যাই হয় নি। অফিস আর তার সেক্রেটারি, দুটোই ভারি সুন্দর।
ছদ্মবেশ কেন?
টিম লিঙ্কনের আইডিয়া। ষোড়শ শতাব্দীর এক জাপানি আর্টিস্ট, নাম মাসাকি শিমজু, তাঁর পেইন্টিং সংগ্রহ করে সুমা। হোয়াইট হাউসের রেইমন্ড জর্ডান এক ওস্ত দি জালিয়াতকে ভাড়া করেন, নির্দেশ দেন শিমজুর অনাবিস্কৃত একটা পেইন্টিং আঁকতে, যেটা সুমার কালেকশনে নেই। আশিকাগা ইনশু হলেন দুর্লভ ও হারানো শিল্প খুঁজে বের করায় অভিজ্ঞ এক লোক। তাঁর ছদ্মবেশ নিয়ে যাই আমি, সুমার কাছে বিক্রি করি ছবিটা।
মাথা ঝাঁকালেন মার্ভিন। দারুণ। সত্যি দারুণ। জাপানি আর্ট সম্পর্কে নিশ্চয়ই আপনাকে পড়াশোনা করতে হয়েছে?
সংক্ষিপ্ত। হেসে উঠল হানামুরা। সুমা আমাকে ব্যাখ্যা করল, শিমজু কিভাবে বেলুনে চড়ে দ্বীপের ছবি আঁকলেন। যদি জানত যে স্যাটেলাইট ফটো দেখে আমার ছবিটা আঁকা হয়েছে, নিশ্চয়ই পানিতে চুবিয়ে মারত আমাকে।
কিন্তু লাভটা কি হলো? জিজ্ঞেস করল ওরশিয়া, টান টান হয়ে আছে মুখের চামড়া।
তার অফিসে এখন ছারপোকা আছে।
কিন্তু এ-সব আমি কেন জানি না?
একজন কি করছে অপরজন তা জানতে পারবে না, এটা আমার সিদ্ধান্ত, বললেন শাভিন। ফলে কেউ ধরা পড়লে খুব বেশি তথ্য ফাস করতে পারবে না।
ছারপোকা কোথায় রেখে এসেছ? হানামুরাকে জিজ্ঞেস করল ওরশিয়া।
পেইন্টিংয়ের ফ্রেমে দুটো। জানালার সামনে দাঁড় করানো ইজেলে একটা। আরেকটা পর্দার হাতলে। শেষ দুটো একটা রিলে ট্রান্সমিটারের সাথে সম্পর্ক রাখবে, গম্বুজের বাইরে একটা গাছের ডালে বেঁধে রেখে এসেছি ওটাকে।
কিন্তু যদি ছারপাকা ধরার গোপন যন্ত্র থাকে সুমার?
তার ফ্লোরের ইলেকট্রিক্যাল ব্লুপ্রিন্ট জোড়াড় করেছি আমি। ডিটেকশন ইকুইপমেন্টগুলো প্রথম শ্রেণীর, তবু আমাদের ছারপোকার অস্তিত্ব খুঁজে বের করতে পারবে না।
কেন পারবে না?
আমাদের মিনিয়েচার রিসিভিং ও সেণ্ডিং ইউনিট দেখতে খুদে ইলেকট্রনিক বস্তুর মত নয়, ওগুলো জ্যান্ত পিঁপড়ের মত দেখতে। চোখে পড়লে হয় অগ্রাহ্য করা হবে, নয়তো পিষে মেরে ফেলা হবে।
মাথা ঝাঁকালেন মার্ভিন। বাহ।
রিলে ট্রান্সমিটারটা গলফ বল আকৃতির। সমস্ত আলোচনা রিলে করবে ওটা। টেলিফোন বা ইন্টারকমে যা বলা হবে, তা-ও আমরা শুনতে পাব, আমাদের একা স্যাটেলাইটের মাধ্যমে। স্যাটেলাইট থেকে আওয়াজগুলো সরাসরি চলে যাবে মেল পেনারের কাছে অর্থাৎ টিম ক্রাইসলারের কাছে। ওরা পালাউ-এ আছে।
আমরা নিশ্চিতভাবে জানি, সুমার কথাবার্তা ওরা শুনতে পাচ্ছে কিনা? পানির ওপর চোখ রেখে জানতে চাইল ওরশিয়া।
সিস্টেমটা চমৎকার কাজ করছে, মার্ভিন আশ্বাস দিয়ে বললেন। এখানে আমার আগে মেল পেনারের সাথে কথা হয়েছে আমার। পরিষ্কার সিগন্যাল পাচ্ছেন তিনি। পাচ্ছি আমরাও আমার টিমের এক লোক ছারপোকার দিকে কান পেতে আছে।
