সুমার ঠোঁটে টান টান হাসি ফুটল। সব কিছুই আমাদের অনুকূলে রয়েছে। সামান্য একটু বিপদের আঁচ পেয়ে বা যদি বুঝি যে শত্রুপক্ষ হামলা করতে যাচ্ছে, দুএটা গাড়ি-বোমা ফাটিয়ে দেয়ার হুমকি দেয়া যাবে।
ইচিরো সুবোই সন্তুষ্ট হতে পারল না। মিথ্যে হুমকি দিয়ে কি লাভ?
সুমার কথায় যুক্তি আছে, বলল কামাতোরি। শুধু আমরা এই কজন আর কমান্ড সেন্টারের এঞ্জিনিয়াররা জানি যে আমাদের সিস্টেমটা স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে তিন হপ্তা সময় লাগবে। পশ্চিমা নেতৃত্বকে সহজেই ধোঁকা দেয়া যাবে, ওরা জানবে সিস্টেমটা পুরাপুরি কাজ করছে।
কোরোরি ইয়োশিশু সন্তুষ্টচিত্তে মাথা ঝাঁকালেন। তাহলে ভয় পাবার কিছু নেই। আমাদের।
প্রায় এক মিনিট আর কেউ কিছু বলল না। তারপর ডেস্কের ইন্টারঅফিস ফোনটা বেজে উঠল। রিসিভার তুলে কানে ঠেকাল সুমা। কথা না বলে শুনল শুধু, তারপর ক্রেডলে নামিয়ে রাখল রিসিভার। সেক্রেটারি জানাল, আমার প্রাইভেট ডাইনিংরুমে ডিনার দেয়া হচ্ছে। নিজেকে আমি অত্যন্ত সম্মানিত মনে করব, শ্রদ্ধেয় অতিথিরা যদি আমার সাথে খেতে বসেন।
ধীরে ধীরে দাঁড়ালেন কোরোরি ইয়োশিশু। আমি আনন্দের সাথে তোমার নিমন্ত্রণ গ্রহণ করলাম। তোমার শেফকে আমি চিনি, জাপানের সেরা শেফদের একজন। আমি আশা করছিলাম, তুমি আমাকে খেতে বলবে।
আলোচনা শেষ করার আগে, বলল ইচিরো সুবোই, আমি একটা সমস্যার কথা বলতে চাই।
মাথা ঝাঁকাল সুমা। তোমাকে ফ্লোর দেয়া হলো, ইচিরো।
এ তো জানা কথা যে বৈরী কোন সরকার আমাদের বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক বাধা সৃষ্টি করলে বা আমদানি শুল্ক বাড়ালে প্রতিশোধ হিসেবে প্রতিবার আমরা অ্যাটম বোমা ফাটাবার হুমকি দিতে পারব না। আরও হালকা কোন বিকল্প আমাদের থাকা উচিত বলে মনে করি আমি।
কামাতোরি ও সুমা দৃষ্টি বিনিময় করল। এ-ব্যাপারে যথেষ্ট চিন্তা ভাবনা করেছি আমরা, বলল সুমা, সমস্যার চমৎকার সমাধান হলো, কিডন্যাপিং। শত্রুদের কাউকে অপহরণ।
সন্ত্রাস আমাদের কালচারের একমাত্র বৈশিষ্ট্য নয়, প্রতিবাদের সুরে বলল ইচিরো সুবোই।
ব্লাড রেড ব্রাদারহুডকে কি বলো তুমি, বৎস? জানতে চাইলেন কোরোরি ইয়োশিশু।
উন্মাদ ফ্যানাটিকাল কসাই। ওরা নিরীহ মেয়ে মানুষ ও বাচ্চাদের কোন কারণ ছাড়াই খুন করে। যে আদর্শের কথা বলে, সাধারণ লোকের কাছে তার কোন অর্থ। নেই।
কিন্তু তারা জাপানি।
অল্প কিছু বেশিরভাগই জার্মানির লোক, কেজিবি ট্রেনিং দিয়েছে।
ওদেরকে ব্যবহার করা যেতে পারে, বলল সুমা, উৎসাহে চকচক করছে চোখ দুটো।
আমি সাবধান করে দিচ্ছি, ওদের সাথে কোন রকম সম্পর্ক রাখা উচিত হবে না। ওদের সাথে সম্পর্ক আছে, এটা যদি কেউ সন্দেহও করে, বাইরে থেকে এমন সব নাজুক জায়গায় হামলা আসবে যে ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি অবস্থা হবে আমাদের।
সুমা খুন-খারাবির কথা বলছে না, ব্যাখ্যা করল কামাতোরি। ওর প্রস্তাব হলো, অপহরণের পর জিম্মিকে আমরা অক্ষত ও সুস্থাবস্থায় রাখব, তবে অপহরণের জন্যে দায়ী করব ব্লড রেড ব্রাদারহুডকে।
এতক্ষণে ব্যাপারটার তাৎপর্য ধরা পড়ল, হেসে উঠে বললেন বৃদ্ধ ইয়োশিশু। তোমরা আসলে সিল্কেন প্রিজন এর কথা বলছ।
মাথা নাড়ল ইচিরো সুবোই। জীবনে কখনও শুনি নি।
এটা আসলে আমাদের কালচারের পুরানো একটা ঐতিহ্য, বললেন ইয়োশিশু। যখন একজন শোগুন তার কোন শত্রুকে খুন করতে চাইছে না, তখন সে কি করে? শত্রুকে অপহরণ করে সে, গোপনে বন্দী করে রাখে বিলাসবহুল জীবনযাপন করতে দেয় শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে। তারপর অপহরণের জন্যে দায়ী করে বন্দীর ঈর্ষাকাতর কোন প্রতিদ্বন্দ্বীকে।
ঠিক তাই, বলল সুমা। আজিমা দ্বীপে এ-ধরনের ফ্যাসিলিটি তৈরি করেছি আমি। ছোট, তবে আধুনিক একটা এস্টেট।
এর মধ্যে সামান্য ঝুঁকি রয়েছে না? জানতে চাইল সবুই ইচিরো।
দ্য অবভিয়াস ইজ নেভার সাসপেক্টেড।
হাসিমুখে ইচিরোর দিকে তাকার কামাতোরি। কাকে বা কাদেরকে অপরহণ করা যেতে পারে, তুমি শুধু তাদের নামগুলো আমাকে জানালেই চলবে।
মাথা নিচু করে চিন্তা করল সবুই ইচিরো। তারপর মাথা উঁচু করে তাকাল সে। যুক্তরাষ্ট্রে দুজন মানুষ বড় বেশি বিরক্ত করছে আমাদের। কিন্তু অত্যন্ত সাবধানে কাজ করতে হবে তোমাকে। দুজনেই তারা কংগ্রেসের সদস্য। ওদেরকে কিডন্যাপ করা হলে মার্কিন মুলুকে বিরাট আলোড়ন উঠবে।
দায়ী করা হবে ব্ল্যাড রেড ব্রাদারহুডকে। মোটা টাকা মুক্তিপণও চাইবে ওরা, বলল সুমা, যেন আবহাওয়ার সংবাদ দিচ্ছে।
আপনি ঠিক কাদের কথা বলছেন, ইচিরো সুবোই? জানতে চাইল কামাতোরি।
কংগ্রেস সদস্য লরেন স্মিথ আর সিনেটর মাইকেল ডিয়াজ।
মাথা ঝাঁকালেন কোরোরি ইয়োশিশু। ও, হ্যাঁ, ওরাই তো জাপানের বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক অবরোধ সৃষ্টির সুপারিশ করছে।
আমাদের লবি যথেষ্ট শক্তিশালী হওয়া সত্ত্বেও, সিনেট ও কংগ্রেসে আইন পাস করাবার মত ভোট ওরা পেয়ে যাবে বলে মনে হচ্ছে। ওদের দুজনকে সরিয়ে আনতে পারলে এই উদ্যোগে ভাটা পড়বে।
যুক্তরাষ্ট্র সরকার খেপে যাবে, সাবধান করল সুমা। হিতে বিপরীত হবে না তো?
কংগ্রেসে আমাদের লবির প্রভাব আছে, টেরোরিস্টদের ষড়যন্ত্র বলে সরকারের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরানো কঠিন হবে না। সিলেক্ট সাব-কমিটি যে আচরণ করেছে তার সাথে, সে-কথা ভুলেনি ইচিরো সুবোই। মার্কিন রাজনীতিকদের দ্বারা কম অপমানিত হই নি আমরা। এবার এই শিক্ষাটা দেয়া উচিত যে নিজেদের শক্তি ওদেরকে রক্ষা করার জন্যে যথেষ্ট নয়।
