একটা সারপ্লাস ট্যাংকারে। হোক্কাইডোর এক নির্জন সৈকত থেকে পঞ্চাশ মাইল দূরে নোঙর ফেলে আছে ওটা।
আমরা কি জানি, কি কারণে ডিভাইনস্টারে বিস্ফোরণ ঘটল?
সময়ের আগে এই বিস্ফোরণ কেন ঘটল, ব্যাখ্যা দেয়া সত্যি কঠিন, বলল সুমা। প্রতিটি ক্ষেত্রে সেফগার্ড-এর ব্যবস্থা ছিল। আমরা জানি, ঝড়ের মুখে পড়েছিল জাহাজটা। নিশ্চয়ই একটা গাড়ি প্রচণ্ড ঝাঁকি খায়, ফলে ক্ষতি হয় ওঅরহেড কন্টেইনারের। রেডিয়েশন লিক করে, ছড়িয়ে পড়ে কার্গো ডেকে। ক্রুরা আতঙ্কিত হয়ে জাহাজ ছেড়ে পালায়। পরিত্যক্ত ডিভাইন স্টারকে দেখতে পায় নরওয়ের একটা জাহাজ, তারা একটা বোর্ডিং পার্টি পাঠায়। এর কিছু পর ডিভাইন স্টার বিস্ফোরিত হয়।
আর ক্রুরা? জানতে চাইলেন ইয়োশিশু। ডিভাইন স্টার ছেড়ে যারা পালাল?
তাদের কোন হদিস পাওয়া যায় নি। ঝড়ের মধ্যে গায়েব হয়ে গেছে।
গোটা সিস্টেমে গাড়ির সংখ্যা মোট কত? বৃদ্ধ জানতে চাইলেন।
ডেস্কের সামনে এসে দাঁড়াল সুমা। হাতে ধরা ছোট একটা কন্ট্রোল বক্স-এর বোতামে চাপ দিল। কামরার একদিকের দেয়াল সিলিংয়ের দিকে উঠে গেল, বেরিয়ে পড়ল বড় একটা ট্রান্সপারেন্ট স্ক্রীন। বক্সের আরেকটা বোতামে চাপ দিল সে, গোল পৃথিবীর হলোগ্রাফিক ইমেজ ফুটে উঠল, নিওনের মত রঙিন আলো মিটমিট করছে গায়ে। এরপর ডিটোনেশন সাইটগুলো দেখাবার জন্যে আরেকটা বোতাম টিপল সে, প্রায় বিশটা দেশের গায়ে সোনালি আলো জ্বলে উঠল। এরপর কোরোরি ইয়োশিশুর প্রশ্নের জবাব দিল সুমা। পনেরোটা দেশে একশো ত্রিশটা গাড়ি বোমা।
কোরোরি ইয়োশিশু কুদে আলোগুলোর দিকে তাকিয়ে চুপচাপ বসে থাকলেন। গ্লোবটা ঘুরছে, তার সাথে ঘুরছে আলোগুলো। অন্য যে-কোন দেশের চেয়ে আলোর সংখ্যা রাশিয়ায় বেশি। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র জাপানের ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বী, কিন্তু রাশিয়াকে ওরা জাপানের পরম শত্রু বলে মনে করে। আশ্চর্য ব্যাপার হলো, কোন সামরিক স্থাপনা বা বড় কোন শহরকে টার্গেট করা হয় নি। আলো দেখা যাচ্ছে শুধু ফাঁকা ও কম জনবহুল এলাকাগুলোয়।
তোমার বাবার আত্মা তোমাকে নিয়ে গর্ব অনুভব করছেন, বললেন কোরোরি ইয়োশিশু, আবেগে কেঁপে গেল তাঁর গলা। তোমার প্রতিভাকে নমস্কার, দুনিয়ার বুকে অন্যতম সুপার পাওয়ার হতে যাচ্ছে জাপান। একবিংশ শতাব্দীতে দুনিয়া শাসন করবে নিপ্পন। আমেরিকা ও রাশিয়ার দিন শেষ।
সুমা খুশি। আপনার সমর্থন ও সহযোগিতা ছাড়া কোনদিনই কেইটেন প্রজেক্ট সফল হত না, প্রিয় প্রাচীন বন্ধু। টাকা বানানোর কারিগর বা জাদুকর ইচিরো সুবোইর অবদানও কম নয়।
গোপন নিউক্লিয়ার অস্ত্র বানাবার জন্যে ফান্ড সংগ্রহ করা, সত্যি বিরাট একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দেয়, বলল ইচিরো সুবোই। তবে যার কাছে গেছি সে-ই আমাকে সাহায্য করেছে।
রুশ ও ওয়েস্টার্ন ইন্টেলিজেন্স জানে যে অ্যাটম বোমা বানাবার ক্যাপাসিটি আমাদের আছে, বলল মুরো কামাতোরি, আলোচনায় বাস্তবতার ছোঁয়া আনতে চাইছে সে।
বিস্ফোরণের আগে যদি না-ও জানত, বলল সুমা, এখন তারা জানে। আমেরিকানরা তো কয়েক বছর ধরেই সন্দেহ করছে আমাদের। তবে আমাদের সিকিউরিটি রিঙ পেনিট্রেট করতে পারে নি ওরা, আমাদের ফ্যাসিলিটির সঠিক অবস্থান খুঁজে পায় নি।
তবে আমাদের ভুলে থাকা উচিত নয় যে রাশিয়া বা আমেরিকার চোখে এক সময় আমরা ঠিকই ধরা পড়ে যাব, গম্ভীর সুরে বললেন কোরোরি ইয়োশিশু।
আমাদের একজন এজেন্ট আমাকে জানিয়েছে, বলল কামাতোরি, ডিভাইন স্টারে বিস্ফোরণ ঘটার পর আমরা জড়িত কিনা জানার জন্যে গোপন তদন্ত শুরু করেছে আমেরিকানরা। গন্ধ শুঁকে এরই মধ্যে মুরমটো অটো ডিসট্রিবিউটরস-এ গিয়েছিল ওরা।
কোবোরি ইয়োশিশুর কপালের বলিরেখাগুলো কুঁচকে উঠল। আমেরিকান ইন্টেলিজেন্সকে খাটো করে দেখার উপায় নেই। আমার ভয় হচ্ছে কেইটেন প্রজেক্ট না বানচাল হয়ে যায়।
আজকালকের মধ্যেই খবর পাব আমরা, কতটা কি জানে ওরা, বলল কামাতোরি। আমাদের এজেন্ট ওয়াশিংটন থেকে ফিরে এসেছে, তার সঙ্গে আমার দেখা হবে। সে দাবি করছে, তার কাছে লেটেস্ট ইনফরমেশন আছে।
ইয়োশিশুর কপালে দুশ্চিন্তার রেখাগুলো আরও গম্ভীর হলো। কমান্ড সেন্টার স্বংসম্পূর্ণ হয়ে ওঠার আগে প্রজেক্টটা যদি কোন বিপদের মধ্যে পড়ে, আমাদের নতুন সাম্রাজ্যের স্বপ্ন চুরমার হয়ে যাবে।
আমি একমত, বলল ইচিরো সুবোই। আগামী তিন হপ্তা অরক্ষিত অবস্থায় থাকব আমরা। ওঅরহেডগুলো কোন কাজে আসবে না। কিছু যদি ফাঁস হয়ে যায়, পশ্চিমা দেশগুলো একযোগে চারদিক থেকে হামলা শুরু করবে অর্থনৈতিক, সামরিক, দুধরনেরই।
অত চিন্তার কিছু নেই, আশ্বাস দিল সুমা। ওদের এজেন্ট আমাদের নিউক্লিয়ার উইপনস্ ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্ট যদি খুঁজে বের করেও ফেলে, কেইটেন প্রজেক্টের ব্রেন সেন্টার কোনদিনই খুঁজে পাবে না। একশো বছরেও নয়, তিন হপ্তার মধ্যে তো প্রশ্নই ওঠে না।
তাছাড়া, ওদের ভাগ্য যদি সুপ্রসন্নও হয়, বলল কামাতেরি, সময়মত ওটাকে নিউট্রালাইজ করা সম্ভব হবে না। ভেতরে ঢোকার পথ তো একটাই, সেটাকে স্টীল ব্যারিয়ার দিয়ে দুর্ভেদ্য দুর্গ বানিয়ে রাখা হয়েছে, পাহারায় আছে দক্ষ একদল সশস্ত্র সিকিউরিটি গার্ড। ওটাকে আমরা এমনভাবেই তৈরি করেছি, অ্যাটম বোমা আঘাত করলেও চালু রাখতে পারব।
