না, বলল অ্যাল, কাগজগুলো ফাইলে ভরে ফেলল। আমিও বাড়ি ফিরতে চাই, সাত ঘণ্টার বেশি ডিউটি করতে রাজি নই। সহযোগিতা করার জন্যে অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে। আপনাদের ইমপোর্ট ইউনিট ফিগারস সরকারী কমপিউটারে প্রোগ্রামের জন্যে ঢোকানো হবে। কি উদ্দেশ্যে? বেসমেন্ট অফিসে এক হতাশ কেরানি ছাড়া আর বোধহয় কেউ জানে না। কমার্স ডিপার্টমেন্টের ফাইলটা টেবিল থেকে তুলে নিয়ে দরজার দিকে পা বাড়াল সে। দরজার কাছে পৌঁছে ঘুরল সে, হঠাৎ যেন কিছু মনে পড়ে গেছে। একটা কথা।
বলুন?
ছোট্ট একটা খুঁত, উল্লেখ করার মত নয় অবশ্য।
ইয়েস?
আপনাদের ইনকামিং ইনভেনটরি লিস্টে ছটা গাড়ি দেখলাম, দুটো আলাদা জাহাজ থেকে বাল্টিমোর-এর খালাস করা হয়েছে, কিন্তু ওগুলো আপনাদের টোকিওর এক্সপোর্ট লিস্টে নেই।
বিস্মিত হলেন ডেনিশ সুহাকা, তার বিস্ময় নির্ভেজাল বলেই মনে হল। কই, আমার চোখে তো পড়ে নি। আপনার তালিকার সাথে মিলিয়ে দেখতে পারি?
ডিপার্টমেন্ট অভ কমার্স থেকে ধার করে আনা অ্যাকাউন্টিং শীটটা টেবিলের ওপর মেলে ধরল অ্যাল, পাশেই রয়েছে সুহাকার সেক্রেটারির দিয়ে যাওয়া তালিকাটা। তার নিজের তালিকায় ছটা গাড়ির নামের নিচে দাগ দিল অ্যাল, দেখা গেল টোকিও থেকে পাঠানো তালিকায় নেই ওগুলো। ছটাই এসপি-৫০০ স্পোর্ট সেডান।
অফিশিয়াল নিয়মের কথা যদি বলেন, এ-ধরনের গরমিল আমাদের কোন মাথাব্যথা নয়, বলল অ্যাল। এ-দেশে ওগুলো আমদানি করা সংক্রান্ত তথ্য আপনারা খাতায় লিখে রাখলে সরকারের সাথে আপনাদের কোম্পানির কোন ঝামেলা হবার কথা নয়। আমার ধারণা, এটা আপনাদের টোকিও অ্যাকাউন্টিং ডিপার্টমেন্টের গাফলতি ছাড়া কিছু নয়।
নিজেকে আমার অপরাধী মনে হচ্ছে। এ-ধরনের অক্ষমনীয় অবহেলা আমার দ্বারা কি করে যে হলো। ডেনিশ সুহাকাকে দেখে অ্যালের মনে হলো, নর্দমায় রাজমুকুট ফেলে দিয়ে হতভম্ব হয়ে পড়েছেন ভদ্রলোক। হোম অফিসের ওপর খুব বেশি ভরসা করেছিলাম। আমার চোখে না হয় পড়ল না, আমার স্টাফদের কারও চোখেও পড়ল না।
স্রেফ কৌতূহল, ওই গাড়িগুলো কারা রিসিভ করেছেন? মানে ডিলারদের নাম কি?
এক মিনিট, বলে অ্যালকে নিয়ে নিজের অফিসে চলে এলেন ডেনিশ সুহাকা। ডেস্কের পিছনে বসে কমপিউটারের চাবি টিপলেন। তারপর চেয়ারে হেলান দিয়ে অপেক্ষায় থাকলেন। একটু পরই স্ক্রীনে ছড়িয়ে পড়ল এক গাদা তথ্য। ধীরে ধীরে তার মুখের হাসি নিভে গেল। ছটা গাড়িই ছয়জন ডিলারের কাছে পাঠানো হয়েছে। কে কোথায় রয়েছে, খুঁজে বের করতে হলে কয়েক ঘণ্টা লেগে যাবে। দয়া করে কাল যদি একবার যোগাযোগ করেন আমার সাথে, ডিলারদের নামগুলো আপনাকে আমি জানাতে পারব।
কোন প্রয়োজন নেই, ভুলে যান। আপনিও ব্যস্ত মানুষ, আর আমারও কাল বিবাহ-বার্ষিকী।
কংগ্রাচুলেয়শন্স, বললেন ডেনিশ সুহাকা, চেহারায় স্বস্তি ফুটে উঠল।
সহযোগিতা করার জন্যে ধন্যবাদ।
মুখের হাসি ফিরে পেলেন ডেনিশ সুহাকা। অলওয়েজ গ্ল্যাড টু হেলপ! গুড বাই।
বিল্ডিং থেকে বেরিয়ে এসে দুশো গজ হাঁটল অ্যাল, একটা গ্যাস স্টেশন থেকে ফোন করল। শুধু হ্যালো বলে সাড়া দিল একটি পুরুষ কণ্ঠ।
আমি আপনার কার সেলসম্যান বন্ধু। নতুন একটা মডেল এসেছে হাতে, আপনার পছন্দ হতে পারে।
আপনি আসলে নিজের এলাকার বাইরে ব্যবসা করার চেষ্টা করছেন, স্যার। আপনার উচিত পানির কিনারায় খদ্দের ধরার চেষ্টা করা। আরও ভাল হয় যদি প্রশান্ত মহাসাগরে ডুব দেন।
ভাল একটা জার্মান গাড়ি যদি খুব বেশি দামী মনে হয়, মুরমটো কিনতে পারেন। আমার কাছে ছটা এসপি-৫০০ স্পোর্ট সেডান-এর খবর আছে, যেগুলোর কোন হিসেব নেই।
এক মিনিট।
এরপর অপরপ্রান্ত থেকে অন্য একটা কণ্ঠস্বর ভেসে এল। ডেপুটি ডিরেক্টর অভ অপারেশন, ডোনাল্ডের গলা, চিনতে পারল অ্যাল। বেশ, বেশ। সস্তায় গাড়ি পাওয়া যাচ্ছে, এরচেয়ে সুখবর আর কিছু হতে পারে না। বলুন, হিসেবের বাইরে আপনার গাড়িগুলো কোথায় পেতে পারি।
সে তথ্য আপনাকে উদ্ধার করতে হবে মুরমটো ডিসট্রিবিউটর-এর কাছ থেকে। ওটা আলেকজান্দ্রিয়ায়। ওদের কমপিউটার রেকর্ড বলছে, ছটা গাড়ি এ দেশে এসেছে, কিন্তু কারখানা থেকে বের হয় নি। কথাটা জানাজানি হয়ে যাবার আগেই ওখানে আপনার পৌঁছানো উচিত। তিনটে গাড়ি বাল্টিমোর-এ খালাস করা হয়েছে, চার তারিখ অগাস্টের। বাকি তিনটে এসেছে সেপ্টেম্বরের দশ তারিখে।
হোল্ড অন, নির্দেশ দিলেন ডোনাল্ড কার্ন, কথা বললেন তাঁর সহকারীর সাথে। এখুনি হাত লাগাও কাজে। মুরমটো কমপিউটার সিস্টেমে নাক গলাও, তাড়াতাড়ি বের করে আনো ওদের শিপিং রেকর্ড। দেরি করলে সমস্ত ডাটা মুছে ফেলবে ওরা। আবার অ্যালের সাথে কথা বললেন তিনি। নাইস ওঅর্ক। আপনার সমস্ত বাড়াবাড়ি ক্ষমা করা হলো। ভাল কথা, এ-ধরনের একটা ব্যবসা আপনি হঠাৎ পেলেন কিভাবে?
আইডিয়াটা আমার বন্ধুর। ওর কোন খবর পেয়েছেন?
পেয়েছি, আধ ঘণ্টা আগে ফোন করেছিলেন, বললেন ডোনাল্ড। সমস্যার উৎসটা তিনি আবিষ্কার করেছেন।
আমি জানতাম, রহস্যের সমাধান ওর দ্বারাই সম্ভব, বলল অ্যাল। ওর সাফল্যে আমি গর্ব বোধ করছি।
.
২৬.
ওয়াশিংটনের ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের এক কোণে পুরানো ও পরিত্যক্ত একটা হ্যাঁঙ্গার আছে, উনিশশো ছত্রিশ সালে তৈরি। পুরানো গাড়ি সংগ্রহ করা ওর একটা হবি, হ্যাঁঙ্গারটাকে ওর ব্যক্তিগত কার মিউজিয়াম বলা যেতে পারে। ওর বন্ধু হিরাম ইয়েজার, সন্ধ্যের পর পৌঁছে দিল ওকে। ভেতরে একটা চক্কর দিয়ে সে বলল, তোমার কার কালেকশন আরেকদিন ভাল করে দেখে যাব, আজ আমাকে বিদায় দাও। কাজ আছে, তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরতে হবে।
