সাব-কমিটির সদস্যরা প্রশংসা-মুখর হয়ে উঠলেন। ডেস্কের ওপর হা সবাইকে থামতে বললেন সিনেটর মাইক ডিয়াজ।
ভবিষ্যতে কি ঘটতে যাচ্ছে কে বলবে, নরম হাসি দেখা গেল ইচিরো সুবোইর ঠোঁটে। আপনাদের সরকারকে উৎখাত করার কোন গোপন প্ল্যান আমাদের নেই। তবে এ-কথা ঠিক যে অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতায় আপনারা হেরে গেছেন। আর কে না জানে যে হারু পার্টিকে অনেক নিষ্ঠুর শর্তও মেনে নিতে হয়।
আমরা যদি হেরে থাকি, হেরেছি জাপানি ব্যবসায়ীদের অন্যায় ব্যবসায়িক নীতির কাছে, কঠিন সুরে বলল লরেন স্মিথ।
আপনারা, আমেরিকানরা, বাস্তবতা মেনে নিন। আমরা যদি আমেরিকাকে কিনিনি, কিনছি শুধু আপনারা বিক্রি করে দিচ্ছেন বলে।
সাব-কমিটির সদস্য ছাড়াও কনফারেন্স রুমে রয়েছেন তাদের উপদেষ্টা ও বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের অসংখ্য পর্যবেক্ষক। ইচিরো সুবোইর প্রচ্ছন্ন হুমকি সবাইকে যেমন বিস্মিত করল তেমনি খেপিয়েও তুলল। জাপানি বিলিওনিয়ার সবার মনে। একটা ভয় ধরিয়ে দিয়েছে।
ডেস্কের ওপর ঝুঁকে পড়লেন সিনেটর মাইক ডিয়াজ, তাঁর চোখে কঠিন দৃষ্টি। পরিবেশটাকে আপনারা তিক্ত করে তুলেছেন, কোন সন্দেহ নেই, বললেন তিনি। তবু অন্তত দুটো সুবিধে পাচ্ছি আমরা।
এই প্রথম ইচিরো সুবোইকে খানিকটা বিচলিত হতে দেখা গেল। কি ধরনের সুবিধের কথা বলছেন আপনি, সিনেটর?
এক, আপনারা যদি বেশি বাড়াবাড়ি করেন, আপনাদের পাওনা টাকার হিসেব মুছে ফেলতে পারব আমরা। কিভাবে শুনবেন? টাকা তো আপনারা কাগজে পত্রে পাবেন, তাই না? হিসাবটা আছে কাগজে আর কমপিউটার মনিটরে। ওগুলো মুছে ফেলতে মাত্র কয়েক সেকেন্ড লাগবে আমাদের। দুই, আজ আর আগলি আমেরিকান-এর কোন অস্তিত্ব নেই। তার জায়গা দখল করেছে আগলি জাপানিজ।
.
২৫.
কি করতে হবে বলে দিল পিট, ফেডারেল হেডকোয়ার্টার বিল্ডিং থেকে বেরিয়ে ডিপার্টমেন্ট অভ কমার্স-এর চলে এল অ্যাল। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ব্যবসার উপ-পরিচালক ভদ্রলোক তার আত্মীয়, মুরমটো মোটর গাড়ি আমদানি সম্পর্কিত ফাইলটা তার কাছ থেকে চেয়ে নিল। এরপর ট্যাক্সি নিয়ে আলেকজান্দ্রিয়া, ভার্জিনিয়ায় চলে এল সে। একটু খুঁজতেই পাওয়া গেল বিল্ডিংটা, মুরমটো, মোটর করপোরেশন এখান থেকে পাঁচটা রাজ্যে তাদের আমদানি করা গাড়ি বিলিবণ্টন করে।
ট্যাক্সি ছেড়ে দিয়ে বিল্ডিংয়ের সামনে কয়েক মুহূর্ত দাঁড়িয়ে থাকল অ্যাল। লাল ইটের আধুনিক ভবন, জানালাগুলো কাঁচ আর ব্রোঞ্চ দিয়ে মোড়া। পার্কিং লটে অনেক গাড়ি রয়েছে, সবগুলোই মুরমটো কোন আমেরিকান বা ইউরোপিয়ান গাড়ি চোখে পড়ল না। দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকল অ্যাল, এক জাপানি রিসেপশনিস্টের সামনে দাঁড়াল।
বলুন, আপনার জন্যে কি করতে পারি? জানতে চাইল মেয়েটা।
অ্যাল জিওর্দিনো, কমার্স ডিপার্টমেন্ট। নতুন গাড়ি আমদানি সম্পর্কে কার সাথে কথা বলব?
এক সেকেন্ড চিন্তা করল মেয়েটা, তারপর একটা নোটবুক খুলে কর্মকর্তাদের নামগুলোর ওপর চোখ বুলাল। আমাদের ট্রান্সপোর্টেশন ডিরেক্টর ডেনিশ সুহাকার সাথে। আমি তাঁকে জানাচ্ছি, মি. অ্যাল জিওর্দিনো দেখা করতে এসেছেন।
অ্যাল জিওর্দিনো।
সরি। অ্যাল জিওর্দিনো।
খানিক পর এক জাপানি সেক্রেটারি ডেনিশ সুহাকার অফিসে নিয়ে এল অ্যালকে। হলওয়েতে দামী কার্পেট, দুপাশের দরজায় লেখাগুলো দেখে কৌতুক বোধ করল সে। কেউ এখানে ম্যানেজার, সুপারিনটেনডেন্ট বা ভাইস-প্রেসিডেন্ট নয়, সবাই ডিরেক্টর।
ডেনিশ সুহাকা, গোলগাল আকৃতির হাসিখুশি মানুষ। ডেস্কের পিছন থেকে উঠে এসে অ্যালের সাথে করমর্দন করলেন। ডেনিশ সুহাকা, মি. জিওর্দিনো। বলুন কমার্স ডিপার্টমেন্টের জন্যে কি করতে পারি আমি।
স্বস্তিবোধ করল অ্যাল, ডেনিশ সুহাকা ওর বিধ্বস্ত ও দাড়ি-না-কামানো চেহারা দেখে কোন প্রশ্ন তোলেন নি বা পরিচয়পত্রও দেখতে চান নি। তেমন জরুরি কোন ব্যাপার না। রেকর্ড ঠিকঠাক রাখার জন্যে স্বাভাবিক আমলাতান্ত্রিক ছুটোছুটি।
সুপারভাইজার বললেন, বাড়ি ফেরার পথে আমি যেন একবার এখান থেকে তথ্যটা সংগ্রহ করি।
কি তথ্য, মি. অ্যাল জিওর্দিনো?
আপনারা যে-কটা গাড়ি আমাদনি করে ডিলারদের কাছে পাঠিয়েছেন, তার সংখ্যাটা আমাকে জানতে হবে। আপনাদের টোকিও হেডকোয়ার্টার থেকে একটা সংখ্যা আমরা পেয়েছি, ওটার সঙ্গে মিলিয়ে দেখব।
কতদিনের হিসেব চান আপনি? আমরা তো প্রচুর গাড়ি আনাই।
গত নব্বই দিনের হিসেব পেলেই বলবে।
কোন সমস্যা নয়, বললেন ডেনিশ সুহাকা। আমাদের শিপমেন্ট লিস্ট পুরোটাই কমপিউটারাইজড, দশ মিনিটের মধ্যে পেয়ে যাবেন। সংখ্যাগুলো মিলবে। টোকিও প্রায় কোন ভুল করে না বললেই চলে। অপেক্ষা করার সময়টা আপনি এক কাপ কফি খান, প্লীজ?
সাজানো ছোট্ট একটা অফিসে নিয়ে আসা হল অ্যালকে, সুন্দরী সেক্রেটারি কফি পরিবেশন করল। কাপে চুমুক দিচ্ছে অ্যাল, একগাদা কাগজ-পত্র দিয়ে গেল মেয়েটা।
যে জিনিসের খোঁজে পাঠিয়েছে পিট, আধ ঘণ্টার মধ্যে পেয়ে গেল অ্যাল। চেয়ারে হেলান নিয়ে চোখ বুজল সে, একটু ঝিমিয়ে নিচ্ছে। ঠিক পাঁচটার সময় কামরায় ঢুকলেন ডেনিশ সহাকা। স্টাফরা বাড়ি ফিরে যাচ্ছে, তবে আমি আরও বেশ কিছুক্ষণ আছি। আপনার আর কিছু লাগবে?
