হুম! গম্ভীর আওয়াজ করল হিরাম ইয়েজার।
মেঝের দিকে চিন্তিতভাবে তাকিয়ে রয়েছেন পার্সিভাল ন্যাশ, বললেন, ঠিক আছে, এবার আকার-আকৃতি নিয়ে আলোচনা করা যাক।
ওটা আপনার ডিপার্টমেন্ট, কাকা, বলল পিট।
আমাকে কিছু তথ্য দাও, ডার্ক। অন্তত গাড়ির মডেলটা আমাকে জানতে হবে, আমি আবার জাপানি মেশিনারি সম্পর্কে তেমন কিছু জানি না।
ওটা যদি একটা মুরমটো হয়, স্পোর্ট সিডান হওয়ারই বেশি সম্ভাবনা।
পার্সিভাল ন্যাশর হাসিখুশি চেহারা থমথমে হয়ে উঠল। তার মানে আমরা একটা কমপ্যাক্ট নিউক্লিয়ার ডিভাইস খুঁজছি, দশ কিলোগ্রাম-এর কাছাকাছি যেটা কিনা মাঝারি সাইজের একটা সিডানে আছে, অথচ খুঁজে পাওয়া সহজ নয়।
ডিভাইসটা যথেষ্ট দূর থেকে ফাটিয়ে দেয়া যায়, যোগ করল পিট।
বলাই বাহুল্য, ড্রাইভার যদি আত্মহত্যা করতে না চায়।
বোমার আকৃতি কি হবে বলে ভাবছি আমরা? জানতে চাইল হিরাম ইয়েজার।
তেলের একটা ব্যারেল ও একটা বেসবল, এ-দুটোর মাঝখানে যে-কোন সাইজের হতে পারে, জবাব দিলেন পার্সিভাল ন্যাশ।
বেসবল, বিড়বিড় করল হিরাম ইয়েজার, যেন বিশ্বাস করতে পারছে না। কিন্তু অত ছোট একটা জিনিস কি যথেষ্ট ক্ষতি করতে পারবে?
সিলিংয়ের দিকে তাকালেন বৃদ্ধ বিজ্ঞানী, যেন ধ্বংসযজ্ঞ প্রত্যক্ষ করছেন। ওঅরহেডটার মান যদি তিন কিলোটন-এর কাছাকাছি হয় তাহলে ডেনভার, কলোরাডোর মাঝখানটা মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে পারে, আর বিস্ফোরণের ফলে যে আগুন ধরবে তাতে শহরের আশপাশ বলে কিছু অবশিষ্ট থাকবে না।
শিউরে উঠল হিরাম ইয়েজার।
ব্যবচ্ছেদ করার জন্যে একটা মডেল দরকার আমাদের। কি ব্যবহার করছি আমরা?
আমাদের পারিবারিক ফোর্ড টরাস, বলল হিরাম ইয়েজার। এক্সপেরিমেন্ট হিসেবে আমি ওটার সমস্ত পার্টস ম্যানুয়াল কম্পিউটারে ঢুকিয়ে দিয়েছি। গোটা কাঠামোটা বা প্রতিটি পার্ট আলাদাভাবে দেখাতে পারব। কীবোর্ডের ওপর কয়েক সেকেন্ড প্রজাপতির মত লাফালাফি করল তার আঙুলগুলো, তারপর চেয়ারে হেলান দিয়ে হাত দুটো কোলের ওপর ফিরিয়ে আনল। একটা ছবি ফুটে উঠল স্ক্রীনে, বহুরঙা, থ্রী ডাইমেনশনাল। আবার একটা বোতামে চাপ দিল সে। লাল ফোর্ড, চার দরজা, স্ক্রীনে বিভিন্ন ভঙ্গিতে ঘুরতে মুখ করল, ওটা যেন একটা সফল মঞ্চের ওপর রয়েছে।
তুমি কি আমাদেরকে গাড়িটার ভেতর নিয়ে যেতে পারো? জানতে চাইল পিট।
ঢুকছি, বলল হিরাম ইয়েজার। বোতামে চাপ দেয়ামাত্র মনে হলো, নিরেট ধাতব পার্টস-এর ভেতর নিয়ে উড়ে যাচ্ছে ওরা, আশপাশে দেখতে পাচ্ছে চেসিস ও বডির অভ্যন্তর-ভাগ। ভূতের মত, যেন দেয়াল ফুড়ে বেরিয়ে যাচ্ছে ওরা। গাড়ির প্রতিটি নাট-বল্ট পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছে। অবশেষে ওদেরকে নিয়ে এঞ্জিনের ভেতর ঢুকে পড়ল হিরাম ইয়েজার।
ইন্টারেস্টিং কিছু দেখতে পাচ্ছেন, কাকা? জানতে চাইল পিট।
সাদা দাড়িতে হাত বুলালেন পার্সিভাল ন্যাশ। ট্রান্সমিশন কেসিং ভাল একটা কন্টেইনার হতে পারে।
নো গুড। এঞ্জিন বা ড্রাইভট্রেনেরও কিছু থাকতে পারে না। স্বাভাবিকভাবে চলার সুবিধে থাকতে হবে গাড়িটায়।
বাদ পড়ছে ব্যাটারি কেসিং রেডিয়েটরও, বলল হিরাম ইয়েজার। শক অ্যাবজরবার?
মাথা নাড়লেন ডক্টর ন্যাশ। প্লাস্টিক এক্সপ্লোসিভ পাইপ-বোমার জায়গা হতে পারে, নিউক্লিয়ার ডিভাইসের জন্যে বড় সরু হয়ে যায়।
স্ক্রীনের দিকে নিঃশব্দে তাকিয়ে থাকল ওরা, হিরাম ইয়েজার ওদেরকে অ্যাক্সেল ও বিয়ারিং অ্যাসেম্বল, ব্রেক সিস্টেম, স্টার্টার মটর ও অলটার-নেটর-এর ভেতর দিয়ে নিয়ে গেল। প্রতিটি খুঁটিয়ে পরীক্ষা করার পর বাতিলও করে দেয়া হলো।
হাই তুলে আড়মোড়া ভাঙল পিট। উৎসাহ ও উত্তেজনা বোধ করলেও, ঘুমে জড়িয়ে আসছে ওর চোখ। হিটিং ইউনিটে থাকতে পারে?
নকশার সাথে মেলে না, বললেন পার্সিভাল ন্যাশ। উইশীল্ড বা ওয়াশার বটল?
মাথা নাড়ল হিরাম ইয়েজার। সহজেই চোখে পড়ে যাবে।
হঠাৎ প্রায় একটা ঝাঁকি খেয়ে, আড়ষ্ট হয়ে গেল পিটের পেশী। এয়ার কন্ডিশনার! শব্দ দুটো বিস্ফোরিত হয়ে বেরিয়ে এল গলা থেকে। এয়ার কন্ডিশনারের ভেতর কমপ্রেসার!
বোতাম টিপে স্ক্রীনে ভেতরের দৃশ্য ফুটিয়ে তুলল হিরাম। এয়ার কন্ডিশনারের সাথে গাড়ি চলার বা না চলার কোন সম্পর্ক নেই। কমপ্রেসার ঠাণ্ডা বাতাস ছাড়ছে না কেন, জানার জন্যে দুঘণ্টা ব্যয় করে ওটা খুলতে যাবে না কোন কাস্টমস অফিসার।
কমপ্রেসারের ভেতরের সবকিছু বের করে নাও, বোমা রাখার একটা জায়গা পেয়ে যাবে তুমি, বলল পিট, তাকিয়ে আছে কমপিউটার ইমেজ-এর দিকে।
আপনি কি বলেন, কাকা?
কনডেনসর কয়েলকে ডিটোনেট-এর রিসিভিং ইউনিটে রূপান্তর করা যেতে পারে, বললেন পার্সিভাল ন্যাশ। বেশ অনেকটা জায়গা পাওয়া যাবে। নাইস ওঅর্ক, জেন্টলমেন! আমার ধারণা, রহস্যের সমাধান হয়ে গেছে।
খালি একটা ডেস্কের দিকে এগোল পিট, তুলে নিল ফোনের রিসিভার। ডোনাল্ডের দেয়া নম্বরে ডায়াল করল। অপরপ্রান্ত থেকে সাড়া দিল এক লোক। ও বলল, দিস ইজ স্টাজ। টিম লিঙ্কনকে বলুন তার গাড়ির এয়ার কন্ডিশনারের ত্রুটি রয়েছে। গুড বাই।
ডিসপ্লে স্ক্রীনে কমপ্রেসার-এর ভেতর দিকটা আকারে বড় করেছে হিরাম ইয়েজার, সেদিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থেকে সে বলল, চায়ের কাপে আমি একটা মাছ দেখতে পাচ্ছি।
