কোথায়?
একটা গাড়িতে।
গাড়িটা কি সীমান্তে দিয়ে পাচার করা হবে? জানতে চাইলেন বৃদ্ধ বিজ্ঞানী।
ধরে নিন তাই।
সীমান্তটা কি? সাগর, নাকি মাটি?
সাগর।
দুদিন আগে প্রশান্ত মহাসাগরে যে বিস্ফোরণ ঘটল, তার সাথে কোন সম্পর্ক। আছে নাকি?
বলতে পারব না।
আরে ডার্ক, কার কাছে তুমি লুকাচ্ছ? এদেশের প্রেসিডেন্ট বাদে, আমারই রয়েছে হাইয়েস্ট সিকিউরিটি ক্লিয়ারান্স, তা জানো?
আপনি যেন আমাকে কিছু বলতে চাইছেন, কাকা?
জাতিসংঘের পারমাণবিক অনুসন্ধান কমিটিতে আছি আমি, কাজেই আমার সাথেই প্রথম প্যাসিফিক ডিটোনেশন সম্পর্কে আলোচনা করেছেন রেইমন্ড জর্ডান।
চুপসে গেল পিট। তাহলে তো আপনি আমার চেয়ে বেশি জানেন।
অন্তত একটুকু জানি যে জাপান আমেরিকায় গাড়ি-বোমা লুকিয়ে রাখছে। তবে বুড়ো মানুষ বলে জর্ডান আমাকে তার টিমে জায়গা দেয়নি।
ধরে নিন আপনাকে আমার টিমে জায়গা দেয়া হয়েছে, বলল পিট। এইমাত্র আমার টিম, স্টাজ-এ আপনি যোগ দিলেন। তুমিও, হিরাম।
মি. জর্ডান জানতে পারলে খেপে যাবে তোমার ওপর, সাবধান করলেন পার্সিভাল ন্যাশ।
আপনাদের দুজনের নাম জানিয়ে দেব ওদের, বলল পিট। টিমের সদস্য বারাবার অনুমতি আছে।
গাড়িতে জাপানি বোমা, ব্যাপারটা কি? প্রশ্ন করল হিরাম ইয়েজার, গলায় অবিশ্বাস।
তার কাঁধে একটা হাত রাখলেন ডক্টর ন্যাশ। এখানে যে কাজটা করব আমরা, হিরাম, যেকোন মূল্যে গোপন রাখতে হবে।
হিরামের বিটা-কিউ ক্লিয়ারান্স রয়েছে, বলল পিট।
তাহলে আর দেরি কিসের, আমরা কাজ শুরু করছি না কেন?
শুরু করার আগে ব্যাকগ্রাউন্ড সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পেতে চাই আমি, বৃদ্ধের চোখে চোখ রেখে বলল ল্যারি কিং।
অ্যাটমিক এক্সপার্ট বৃদ্ধ একটা দীর্ঘশ্বাস চাপলেন, তারপর শুরু করলেন, ত্রিশের দশকে জাপান যুদ্ধ শুরু করেছিল স্বয়ংসম্পূর্ণ একটা অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য গড়ে তোলার মানসে। আজ, পঞ্চাশ বছর পর, আবার একটা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা, এবার সাম্রাজ্যটাকে রক্ষা করার জন্যে। কেউ কিছু সন্দেহ করার আগে, অত্যন্ত কড়া গোপনীয়তার মধ্যে, নিজেদের নিউক্লিয়ার অস্ত্র বানিয়ে ফেলেছে তারা। সিভিলিয়ান নিউক্লিয়ার ফ্যাসিলিটি থেকে উইপনস-গ্রেড প্রটোনিয়াম ও ইউরেনিয়াম সংগ্রহ করা হয়েছে। ওদের কাছে বোমা থাকতে পারে, এটা আরও একটা কারণে সন্দেহ করা হয় নি কারণটা হলো, ওদের ডেলিভারি সিস্টেম নেই। ডেলিভারি সিস্টেম মানে লং রেঞ্জ মিসাইল, বহুবার বা মিসাইল-বহনযোগ্য সাবমেরিন।
কিন্তু আমি তো জানি পারমাণবিক নিষিদ্ধকরণ চুক্তিতে সই করেছে জাপান, বলল হিরাম ইয়েজার।
করেছে, সত্যি। এ-ও সত্যি যে বেশিরভাগ জাপানি পারমাণবিক মারণাস্ত্রের ঘোরতর বিরোধী। কিন্তু ওদের বুরোক্র্যাসীর মূলধারার গভীরে একটা গ্রুপ আছে যারা অত্যন্ত প্রভাবশালী, তারা দেখতে চায় জাপান অ্যাটম বোমার অধিকারী হয়েছে। এসব মারণাস্ত্র ঠিক সামরিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার জন্যে তৈরি করা হয় নি, তৈরি করা হয়েছে অর্থনৈতিক হুমকি প্রতিরোধ করার জন্যে। জাপানের কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী মহলে একটা আতঙ্ক আছে, ইউরোপ ও আমেরিকায় তাদের পণ্য বয়কট করা হতে পারে। যদি হয়, তখন এই মারণাস্ত্র ব্যবহার করার হুমকি দিয়ে পরিস্থিতি নিজেদের অনুকূলে আনার চেষ্টা করবে তারা।
শুধু যে অস্বস্তিবোধ করছে হিরাম ইয়েজার, তা নয়। তার ভয়ও লাগছে। আপনি বলতে চাইছেন, এমন হতে পারে এই মুহূর্তে আমরা একটা নিউক্লিয়ার বোমার ওপর বসে আছি?
জবাব দিল পিট, বোমাটা হয়তো পাঁচ-সাতশো গজের ভেতর কোথাও আছে।
এ অচিন্তনীয়! রাগে কেঁপে উঠল হিরাম ইয়েজারের নিচু গলা। কটা বোমা পাঠিয়েছে ওরা?
এখনও আমরা জানি না, বলল পিট। একশো হতে পারে, দুশো হওয়াও বিচিত্র নয়। আর শুধু আমেরিকায় পাঠিয়েছে কি না, তা-ও আমরা জানি না। সম্ভবত দুনিয়ার আরও অনেক দেশে পাঠিয়েছে।
পরিস্থিতি কতটা খারাপ, কল্পনা করতে ভয় লাগে, বললেন পার্সিভাল ন্যাশ। বোমাগুলো সত্যি যদি বিভিন্ন দেশের বড় বড় সবগুলো শহরে পাঠিয়ে থাকে ওরা, পৃথিবীটাকে নিশ্চিতভাবে ধ্বংস করার মারাক্কা ক্ষমতা পেয়ে গেছে জাপান। ইটস অ্যান এফিশিয়েন্ট সেট-আপ। বোমাগুলো একবার জায়গামত পৌঁছবার পর, ওগুলোর বিরুদ্ধে কারও কিছু করার থাকবে না। দেয়ার ইজ নো ডিফেন্স এগেইনস্ট দেম, নো টাইম টু রিয়্যাক্ট, নো অ্যালার্ট, নো সেকেণ্ড স্ট্রাইক। ওরা শুধু বোম টিপবে, পরমুহূর্তে শুরু হয়ে যাবে ধ্বংসযজ্ঞ।
গুড গড! আমরা তাহলে করবটা কি?
খুঁজে বার করব ওগুলো, বলল পিট। ধারণা করা হচ্ছে, অটো শিপ ক্যারিয়ারে করে বোমাগুলো আনা হয়েছে। আমার সন্দেহ, লুকানো আছে আমদানি করা গাড়িতে। কম্পিউটারের সাহায্যে জানতে হবে গাড়ির কোন জায়গায় লুকানো আছে ওগুলো।
গাড়ি করে আনা হলে, হিরাম ইয়েজার বলল, কাস্টমস অফিসাররা দেখতে পাবে, কারণ তারা ড্রাগস আছে কিনা সার্চ করে দেখবে।
মাথা নাড়ল পিট। এটা একটা সফিসটিকেটেড অপারেশন, হাই-টেক প্রফেশন্যালদের দ্বারা পরিচালিত। তারা তাদের কাজ বোঝে। বোমাটার ডিজাইন এমনভাবেই করবে তারা, যাতে মনে হয় গাড়িরই একটা অংশ ওটা, ফলে সার্চ করলেও খুঁজে পাওয়া যাবে না। কাস্টমস অফিসাররা সার্চ করবে টায়ার, গ্যাস ট্যাংক, সিট যেখানে ফাঁকা জায়গা আছে। কাজেই এমন জায়গায় বোমাটা লুকাবার ব্যবস্থা করা হয়েছে, বুদ্ধিমান কোন কাস্টমস অফিসারও যাতে খুঁজে না পায়।
