নুমার এই ডাটা সুপার মার্কেটের অধিপতি হলো হিরাম ইয়েজার। ঝোড়ো কাকের মতো চেহারা, কমপিউটার জগতে জাদুকর হিসেবে নাম কিনেছে। কমপিউটার ডিজাইনে লেগে থাকলে এতদিনে নিজেই একটা বিশাল কোম্পানির মালিক হতে পারত সে, কিন্তু নিজে থেকে কিছু করার উৎসাহ তার কোনকালেই ছিল না, আজও নেই। একটু ঘর-কুনো টাইপের লোক, অফিস আর বাড়ি ছাড়া কিছু চেনে না। পিটের অত্যন্ত ঘনিষ্ট বন্ধু সে।
ডেস্কেই পাওয়া গেল তাকে। ডেস্কটা একটা উঁচু মঞ্চের ওপর, বিশাল কামরার মাঝখানে। মঞ্চটা গোল, চারদিক ঘোরে। বিলিয়ন ডলার মূল্যের রাজত্বের প্রতিটি কোণায় চোখ রাখতে চায়, সেজন্যে নিজেই অর্ডার দিয়ে মঞ্চটা বানিয়েছে হিরাম ইয়েজার। পিটকে দেখে চওড়া হাসি ফুটল তার মুখে। আরে, ডার্ক! তুমি ফিরে এসেছ?
কয়েকটা ধাপ টপকে মঞ্চে উঠল পিট, বন্ধুর সাথে হ্যান্ডশেক করল। কেমন আছ, হিরাম?
সগি একর ভেস্তে গেছে শুনে মনটা খারাপ হয়ে গেল, বলল হিরাম। তবে এখনও জীবিতদের মধ্যে তুমি আছ দেখে সত্যি ভাল লাগছে। দোস্ত, তোমাকে খুব ক্লান্ত দেখাচ্ছে। বসো, আরাম করো।
তোমার মত বন্ধু হারালে বাঁচার আনন্দটাই মাটি হয়ে যাবে। কিন্তু দোস্ত, শুধু আমার পিৎসা খাবার জন্যে আমার কাছে আসো নি তুমি। কি চাও, বলে ফেলো।
আমার আত্মীয় এক ভদ্রলোককে আশা করছি আমি, বলল পিট। ড. পার্সিভাল ন্যাশ, কিছুক্ষণের মধ্যে পৌঁছে যাবেন। কাজ করেছেন অ্যাটমিক এনার্জি কমিশনে, এখন অবসর জীবনযাপন করছেন। তোমার আছে সুপারকমপিউটার ইন্টেলিজেন্স, আর পার্সিভাল ন্যাশর আছে নিউক্লিয়ার অস্ত্র সম্পর্কে জ্ঞান। আমি চাই তোমরা দুজন মিলে একটা সিনারিও তৈরি করবে।
কিসের দৃশ্যপট?
একটা স্মাগলিং অপারেশন-এর।
কি স্মাগল করব আমরা?
পার্সিভাল ন্যাশ আসুন, তখন বলব।
হিরাম ইয়েজার হাসল। নিরেট কোন বস্তু? এই ধরো, একটা নিউক্লিয়ার ও অরহেউ?
বন্ধুর দিকে তাকাল পিট। হতে পারে।
ভদ্রলোকের জন্যে অপেক্ষা করো তুমি, ইতোমধ্যে আমি আমার সিএডি/ সিএএম গরম করি, বলে চেয়ার ছাড়ল হিরাম ইয়েজার। পিট কিছু বলার আগেই মঞ্চ থেকে নেমে গেল সে।
.
২৩.
ধবধবে সাদা দাড়ি, নেকটাই ছাড়িয়ে নিচে নেমে এসেছে। মোটাসোটা মানুষ, নাভির নিচে পরা ট্রাউজারটা বেল্ট দিয়ে শক্ত করে বাঁধা। বিরাশি পেরোলেও, পার্সিভাল ন্যাশর চেহারায় হাসিখুশি ভাব ও লাবণ্য আজও অম্লান। নীল স্যুট পরেছেন তিনি, লাল টাই। পায়ে গলিয়েছেন সারার্ড-স্কীন কাউবয় বুট। চিরকুমার তিনি, তবে এই বয়েসেও তার মেয়ে-বন্ধুর তালিকাটা ছোট নয়। তাঁর চরিত্রের গুরুতর বৈশিষ্ট্য একটাই, সেটা হলো পারমাণবিক মারণাস্ত্র সম্পর্কে বিপুল জ্ঞান। তৃতীয় বিশ্বের অনেক রাষ্ট্রনায়ক তাঁদের সারা জীবনের সঞ্চয় তার মেধার বিনিময়ে হাতবদল করতে রাজি আছেন। পার্সিভাল ন্যাশ সম্পর্কে বলা হয়, উনি ওঁর গ্যারেজে বসেও অ্যাটম বোমা বানাতে পারেন, দাম পড়বে একটা রিকন্ডিশন গাড়ির চেয়ে বেশি নয়।
ডার্ক, মাই বয়, পিটকে দেখে উদ্ভাসিত হলো তার চেহারা। তোমাকে এত ক্লান্ত দেখাচ্ছে কেন!
আপনাকে দেখে এখন আর ক্লান্তি বোধ করছি না, পরস্পরকে আলিঙ্গন করার সময় বলল পিট।
মোটর ভেহিকেল ডিপার্টমেন্ট আমার মটরসাইকেলের লাইসেন্সটা কেড়ে নিয়েছে, জানো! তবে জাগুয়ার জেডকে ওয়ান-টোয়েনটিটা এখনও আমি চালাতে পারি। ট্যাক্সি ভাড়া নয়, পেট্রলের খরচটা দিতে হবে তোমাকে।
আপনি আমাকে সময় দিচ্ছেন বলে আমি কৃতজ্ঞ, কাকা, বলল পিট।
চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করা আমার বেঁচে থাকার প্রধান উপকরণ, বলে হাসলেন বৃদ্ধ।
হিরাম ইয়েজারের সাথে তার পরিচয় করিয়ে দিল পিট। পরিচয় পর্বের পর একটা কমপিউটার স্ক্রীনের সামনে দুটো অতিরিক্ত চেয়ার টেনে আনল হিরাম ইয়েজার। যে-কোন ডেস্ক মেডেলের চেয়ে তিনগুণ বড় স্ক্রীনটা। পিট ও পার্সিভাল ন্যাশ বসার পর হাত নেড়ে শুরু করল সে।
কমপিউটার শিল্পের সর্বশেষ আবিষ্কার হলো সিএডি/সিএএম-কমপিউটর এইডেড ডিজাইন/কমপিউটর-এইডেড ম্যানুফাঁকচারিং। আসলে এগুলো কমপিউটার গ্রাফিক সিস্টেম, তবে সেই সাথে সুপার-সফিসটিকেটেড ডিজুয়াল মেশিনও বটে, যার সাহায্যে ড্রাফটসম্যান ও এঞ্জিনিয়াররা কল্পনাযোগ্য যে-কোন বস্তুর অপূর্ব সুন্দর বিশদ ড্রইং তৈরি করতে পারে। কোন ভিভাইডার, কমপাস বা টি স্কয়ার লাগছে ন। প্রোগ্রাম সেট করে আপনি শুধু স্ক্রীনে ইলেকট্রনিক পেন দিয়ে রাফ একটা আউটলাইন আঁকবেন, ব্যস। এরপর কমপিউটার নিজেই ওটাকে নিখ নিরেট করে তুলবে, কিংবা থ্রী ডাইমেনশন-এর প্রদর্শন করবে।
বিস্ময়কর, বিড়বিড় করলেন পার্সিভাল ন্যাশ। ড্রইং-এর বিভিন্ন অংশ কি আলাদাভাবে দেখানো সম্ভব, কিংবা আকারে বড় করা?
হ্যাঁ, অনায়াসে সম্ভব। আপনি রং লাগাতে পারেন, আকৃতি বদলাতে পারেন, পরিবর্তন এডিট করতে পারেন, তারপর ফলাফলটা মেমোরিতে জমাও রাখতে পারেন, ঠিক একটা ওয়ার্ড প্রসেসর-এর মত।
নিজের চেয়ারটায় উল্টো করে বসেছে পিট, ব্যাকরেস্টে চিবুক ঠেকাল। দেখা যাক, আমাদের সমস্যার কোন সুরাহা করতে পারে কিনা।
এবার বল, কি খুঁজছ তুমি, ডার্ক? জানতে চাইলেন পার্সিভাল ন্যাশ।
খুঁজছি একটা নিউক্লিয়ার বোমা, বলল পিট।
