শুনেছি।
আমরা জাপানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে পারি, এ সম্ভাবনা নিয়ে কথাবার্তা অনেক দিন ধরেই চলছে। কাজেই ওরাও সতর্ক হয়েছে। তার নমুনা, এই বোমা। কাজেই আমরা ধরে নিতে পারি, আমেরিকা বা আর কারও ভয়ে জাপানিরা ভীত নয় আমরা বেশি বাড়াবাড়ি করলে বোতাম টিপে ওগুলো ফাটিয়ে দেবে তারা, বা ফাটিয়ে দেয়ার হুমকি দেবে। পরবর্তী প্রশ্ন, আমরা এখানে কেন? বোমাগুলো কোন দেশে কোথায় আছে, জানতে হবে আমাদের। জাপানিদের ঠেকানোর এটাই একমাত্র উপায়। বোমাগুলো খুঁজে বের করতে হবে, আমরা কাজ শুরু করেছি এ কথা ওরা জানতে পারার আগেই। এখানেই টিম বুইকের প্রসঙ্গ এসে পড়ে। স্টেসি ফক্স আসলে ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সির একজন অপারেটর। টিমোথি ওয়েদারহিল একজন নিউক্লিয়ার সায়েন্টিস্ট, রেডিও অ্যাকটিভিটি ডিটেকশনে বিশেষজ্ঞ। টিম হোন্ডা, জিম হানামুরা ও রয় ওরশিয়া, সিআইএ এজেন্ট। ওদের কাজ, বোমার উৎস, কমান্ড সেন্টার, কন্ট্রোল ও ডিটোনেশন সম্পর্কে অনুসন্ধান ও তথ্য সংগ্রহ। আমরা কি একটা দুঃস্বপ্নের ভেতর রয়েছি? নিঃসন্দেহে। আমার ধারণা, একটা হিংস্র ড্রাগন গোটা পৃথিবীকে গ্রাস করতে উদ্যত হয়েছে, আগামী দুএক হপ্তার ভেতর ওটাকে বাধা দেয়া না গেলে কেউ আমরা বাঁচব না। বিশ্বাস করুন বা না করুন, ডার্ক, এমএআইটি অপারেশন হলো দুনিয়াটাকে বাঁচানোর শেষ উপায়। ছবিটা পরিষ্কার হয়েছে?
হ্যা…, ধীরে ধীরে বলল পিট। ধন্যবাদ, মি. জর্ডান। ছবিটা পরিষ্কার।
এবার অফিশিয়ালি আমাদের সাথে যোগ দিতে আপনার আপত্তি নেই তো?
চেয়ার ছেড়ে দাঁড়াল পিট, অ্যাল ও অ্যাডমিরালকে ছাড়া বাকি সবাইকে অবাক করে দিয়ে বলল, প্রস্তাবটা বিবেচনা করে দেখব আমি।
কথা শেষ করে কনফারেন্স রুম থেকে বেরিয়ে এল ও।
.
২২.
পিটের কার মিউজিয়াম ওয়াশিংটন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের একেবারে গা ঘেষে, একটা পুরানো এয়ারক্রাফট হ্যাঙ্গারের ভেতর। তবে ফেডারেল হেডকোয়ার্টার বিল্ডিং থেকে বেরিয়ে সেদিকে গেল না ও। প্রথমে অ্যালকে কয়েকটা নির্দেশ দিয়ে একটা ট্যাক্সিতে তুলে দিল, তারপর কনস্টিটিউশন অ্যাভিনিউ ধরে হাঁটতে লাগল যতক্ষণ না একটা জাপানি রেস্তোরাঁ পায়।
হেড ওয়েটারকে ডেকে এক কোণার একটা বুঁদ চাইল পিট। বসার পর অর্ডার দিল, সবই জাপানি খাবার। স্বচ্ছ চিংড়ি সুপ আর চুনো মাছের খিচুড়ি খেয়ে টেবিল ত্যাগ করল, ঢুকল রেস্ট রুমের পাশে একটা ফোন বুদে।
মানি ব্যাগ থেকে ছোট্ট একটা অ্যাড্রেস বুক বের করে পাতা ওল্টাল পিট। ফোন নম্বরটা পেয়ে ডায়াল করল। ভদ্রলোকের নাম ড. পার্সিভাল ন্যাশ। মেরিল্যান্ডে থাকেন। ডার্কের মায়ের দিকের চাচা হন স্থানীয় পার্সিভাল ন্যাশ। পিটকে অত্যন্ত হে করেন। পরপর ছয়বার রিং হলো তবু কেউ রিসিভার তুলছে না। যোগাযোগ কেটে দিতে যাচ্ছে পিট, এই সময় অপরপ্রান্ত থেকে সাড়া পাওয়া গেল।
ড. ন্যাশ বলছি, তারুণ্যে ভরপুর একটা কণ্ঠস্বর, যদিও ভদ্রলোক চলতি বছর বিরাশিতে পড়েছেন।
কাকা, আমি পিট।
ও মাই গুডনেস, ডার্ক! বুড়ো কাকাকে মনে পড়ল? সানন্দে হাসলেন পার্সিভাল ন্যাশ। পাঁচ মাস হয়ে গেল একবারও ফোন করোনি।
চার মাস, শুধরে দিল পিট। সাগরমন্থন করছিলাম কিনা।
আমার বোনের খবর কী? আর যে নোংরা বুড়ো পলিটেশিয়ানটাকে বিয়ে করেছে। তারই বা কী খবর?।
এখনো বাড়ি যাইনি আমি, বলল পিট। তবে মা আর সিনেটর ভাল আছেন বলেই জানি।
তারপর বলো। তুমি ভাল আছ তো?
আছি ভালই, তবে একটা সমস্যা দেখা দিয়েছে। আপনার সাহায্য দরকার।
বাকি দিনগুলো তো স্রেফ অবসর, বলল না কি কাজ।
ফোনে বলা যাবে না, কাকা। যদি সম্ভব হয় নুমা বিল্ডিঙে চলে আসুন।
কি আশ্চর্য, কাজটা সম্পর্কে একটা ধারণা তো দেবে! শুনলে হয়তো বলতে পারব, তোমার কোন উপকারে আসব কিনা।
বলছি। ধরুন, রেস কারে নিউক্লিয়ার রিয়্যাক্টর লাগাতে চাই আমি।
পার্সিভাল ন্যাশ সাথে সাথে বুঝতে পারলেন, টেলিফোনে আলাপ করতে রাজি নয় পিট। জানতে চাইলেন, কখন?
যত তাড়াতাড়ি আপনার পক্ষে সম্ভব, কাকা।
এক ঘণ্টা পর?
ঠিক আছে, বলল পিট।
তুমি এখন কোথায় ডার্ক?
জাপানি ডিনার খাচ্ছি।
সুস্বাদু, তবে দেখতে ভাল না, বলে যোগাযোগ কেটে দিলেন ভদ্রলোক।
টেবিলে ফিরে এসে কফি খেল পিট, একটা সিগারেট ধরাল। রেস্তোরাঁয় ঢোকার পর থেকেই কেমন যেন অস্বস্তি বোধ করছিল, এতক্ষণে কারণটা বুঝতে পারল। ভয় হচ্ছে রেস্তোরাঁয় ভেতর কোথাও পাচার করা কোন বোমা আছে কিনা। তাড়াতাড়ি ওখান থেকে বেরিয়ে এল ও।
একটা ট্যাক্সি নিয়ে দশতলা নুমা বিল্ডিঙে চলে এল পিট। পান্না-সবুজ সোলার গ্লাসে গোটা বিল্ডিংটা মোড়া, মাথার অংশটা পিরামিড আকৃতির গম্বুজ। লবিতে রয়েছে অসংখ্য জলপ্রপাত ও অ্যাকুয়ারিয়াম, সামুদ্রিক মাছ ও উদ্ভিদে সাজানো। সবুজ মার্বেল পাথরের মেঝেতে, মাঝখানে, প্রকাণ্ড একটা গ্লোব। পৃথিবীর প্রতিটি পাহাড়, সাগর, বড় লেক ও প্রধান নদীগুলো দেখানো হয়েছে তাতে। এলিভেটরে চড়ে ১০ লেখা বোতামে চাপ দিল পিট। পাঁচতলার অফিস এগিয়ে ওপরতলার কমিউনিকেশন ও ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক-এ উঠে এল ও। এখানেই রয়েছে নুমার মস্তিষ্ক। সমুদ্র সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য এখানে জমা আছে, তা সে বৈজ্ঞানিক হোক বা ঐতিহাসিক, ফিকশন হোক বা নন-ফিকশন। নুমার বাজেটের বেশিরভাগ টাকাই এখানে ব্যয় করেন স্যানডেকার।
