মনে মনে অ্যাডমিরালকে ক্ষমা করে দিল পিট, তবে জর্ডানের ওপর রাগটা এখনও আছে। জানতে চাইল, বলুন, মি. জর্ডান, আমরা এখানে কেন?
প্রতিটি টিমের সদস্যকে প্রেসিডেন্ট স্বয়ং বাছাই করেছেন, বললেন জর্ডান। আপনাদের সবার ব্যাকগ্রাউন্ড, রেকর্ড, ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য ইত্যাদি তিনি জানেন। আপনারা সবাই যে বিশ্বস্ত, এ ব্যাপারে নিশ্চিত হবার পরই তৈরি করা হয়েছে তালিকাটা।
আবার শুরু করলেন রেইমন্ড জর্ডান, অ্যাডমিরাল এবং মি. জিওর্দিনো দুজন মিলে একটা টিম। কোডনেম মার্সিডিজ। ওঁরা সাগরের নিচে কাজ করবেন।
আমার প্রশ্নের মাত্র অর্ধেকটার উত্তর দিচ্ছেন আপনি, মি. জর্ডান, মনে করিয়ে দিল পিট।
বাকি অর্ধেককটাও বলতে যাচ্ছি, জানালেন রেইমন্ড জর্ডান। আপনি এবং মি. ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো, আপনারা দুজন একটা সাপোর্ট টিম হিসেবে কাজ করবেন।
কিসের সাপোর্ট?
প্রতিটি টিমকে সহযোগিতা দেবেন আপনারা। এটা একটা বিশাল অপারেশন, কাজেই সাপোর্ট টিমের দায়িত্বই সবচেয়ে বেশি। কোন টিম বিপদে পড়লে, তাদেরকে বিপদ থেকে উদ্ধার করার দায়িত্ব আপনাদের।
আমাদের কোডনেম?
ডোনাল্ডের দিকে তাকালেন রেইমন্ড জর্ডান, ভদ্রলোক বলেন, সাপোর্ট টিমের কোডনেম…টিম স্টাজ।
বেশ, বলল পিট। নামকরণ যখন হয়ে গেল, এখানে আমার আর থাকার দরকার আছে বলে মনে হয় না। হাতঘড়ির ওপর চোখ বুলাল ও। এখানে আমাকে আমার ইচ্ছের বিরুদ্ধে টেনে আনা হয়েছে। গত আটচল্লিশ ঘণ্টায় মাত্র তিন ঘণ্টা ঘুমিয়েছি আমি, খেয়েছি মাত্র একবার। আমাকে একবার বাথরুমেও যেতে হবে। অথচ এখনও আমাকে জানানো হয়নি আসলে ঠিক কি ঘটছে। আপনাদের সেন্ট্রিরা বা মেরিনরা আমাকে বাধা দিতে পারে, জানি। কিন্তু সেক্ষেত্রে আমি আহত হব, আর আহত হলে সাপোর্ট টিমে থাকতে পারব না।
এক সাথেই বেরোই, বলে পিটের আগে চেয়ার ছাড়ল অ্যাল। পিটের মত আমাকেও জিজ্ঞেস করা হয়নি, টীমে থাকতে আমি রাজি আছি কিনা।
অসম্ভব! গম্ভীর সুরে বললেন ডোনাল্ড কার্ন। এভাবে আপনারা চলে যেতে পারেন না। ইউ আর আন্ডার কন্ট্রাক্ট টু দ্য গভর্নমেন্ট।
সিক্রেট এজেন্টের ভূমিকায় কাজ করার জন্যে কারও সাথে আমার কোন চুক্তি হয়নি, শান্ত গলায় বলল পিট। সাগরের তলা থেকে আমরা ফিরে আসার পর যদি আমেরিকায় সামরিক অভ্যুত্থান না ঘটে থাকে, এদেশে কারও স্বাধীন ইচ্ছায় হস্তক্ষেপ করার অধিকার কেউ আপনারা রাখেন না।
রেগেমেগে কিছু বলতে যাচ্ছিলেন ডোনাল্ড কার্ন, তাঁকে থামিয়ে দিয়ে কথা বললেন রেইমন্ড জর্ডান। ডার্ক, আপনার অসন্তুষ্ট হবার কারণ আমি বুঝতে পারছ। আপনি যদি দয়া করে আর একটু ধৈর্য ধরেন, তাহলে সব কথা আপনাকে জানাবার একটা সুযোগ পাই আমরা। প্রথমেই বলে রাখছি, কিছু কিছু ব্যাপার ক্লাসিফায়েড থাকবে। পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা আপনাদের কারও না থাকাই ভাল বলে মনে করি আমি। সেটা আপনাদের নিরাপত্তার স্বার্থেই। বুঝতে পারছেন তো?
আমি শুনছি, বলল পিট।
জাপানের কাছে অ্যাটম বোমা আছে, তথ্যটা ফাঁস করলেন জাতীয় নিরাপত্তা কমিশন চীফ। কতদিন থেকে আছে বা কতগুলো আছে তা এখনও আমরা জানি না। অ্যাডভান্স নিউক্লিয়ার টেকনলজিতে জাপানের যে উন্নতি, ওঅরহেড তৈরি করার ক্ষমতা দশ বছর আগেই অর্জন করেছে ওরা। পরমাণু অস্ত্র-বিরোধী চুক্তিতে সই করলেও, ওদের ক্ষমতা-বলয়ের মধ্যে কেউ বা কোন একটি গ্রুপ সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রয়োজনে অন্তত ব্যাকমেইল করার জন্যে অমোঘ একটা অস্ত্র তাদের দরকার।
খুব সামান্যই জানি আমরা, তা-ও জেনেছি বিস্ফোরণের পর। জাপানের একটা অটো ক্যারিয়ার মুরমটো অটোমোবাইল বহন করছিল, প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে এক কি দুটো বোমা বিস্ফোরিত হয় ওটার সাথে ধ্বংস হয়ে যায় নরওয়ের একটা প্যাসেঞ্জার-কাগো লাইনার ও একটা ব্রিটিশ সার্ভে শিপ, ক্রু সহ। জাপানের একটা জাহাজে অ্যাটম বোমা কেন? ওরা ওগুলো গোপনে যুক্তরাষ্ট্রের বন্দরে আনছিল। শুধুই কি যুক্তরাষ্ট্রের পাঠাচ্ছে ওরা? বোধহয় না। ওদের উদ্দেশ্যটা কি? সম্ভবত নিউক্লিয়ার হুমকি সৃষ্টি।
জাপানের কাছে নিউক্লিয়ার বোমা থাকতে পারে, কিন্তু ওটা ফেলার জন্যে দূর পাল্লার যে মিসাইল বা বহুবার দরকার তা ওদের নেই। ওরা কি ভাবছে, আমরা আন্দাজ করে নিতে পারি। জাপান একটা অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে, দুনিয়ায় এমন কোন লোক নেই যে জাপানি পণ্য ব্যবহার করছে না। এই সাম্রাজ্যটাকে রক্ষার জন্যে, আকারে আরও বড় করার জন্যে, পৃথিবীর বিভিন্ন রাষ্ট্রে গোপনে অ্যাটম বোমা পাঠাচ্ছে ওরা, লুকিয়ে রাখছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায়, প্রয়োজন হলে যাতে অল্প সময়ের নোটিশে ব্যবহার করতে পারে। কখন প্রয়োজন হবে?
ধরুন, জাপানের ব্যবসায়িক নীতি আমেরিকার পছন্দ হলো না। কিংবা ধরুন, কোন কারণে জাপানের ওপর আমেরিকা খুব রেগে গেল। আপনারা জানেন, জাপানি ব্যাংকগুলো আমেরিকারকে কয়েকশো বিলিয়ন মার্কিন ডলার ধার দিয়েছে। রেগে গিয়ে আমেরিকা জানিয়ে দিল, ধারের টাকা জাপানকে তারা ফেরত দেবে না। আরও জানাল, জাপানি পণ্য বয়কট করা হবে। এই মুহূর্তে, আপনাদের সাথে আমি যখন কথা বলছি, প্রেসিডেন্টের কাছে ঠিক এই প্রস্তাবই তুলছেন সিনেটর মাইক ডিয়াজ ও কংগ্রেস সদস্য লরেন স্মিথ। শুধু তাই নয়, এমন হতে পারে প্রেসিডেন্ট হয়তো সুপিরিয়র মিলিটারি ফোর্সকে নির্দেশ দেবেন, জাপানকে যেন অবরোধ করা হয়, আমাদের তেল ও কোন কাঁচামাল তারা যেন না পায়। আপনি শুনছেন তো, ডার্ক?
