মার্ভিন শওয়াল্টার দাঁড়ালেন, মাথা নত করে সবিনয়ে জানালেন, আপনাদের সাথে কাজ করার সুযোগ পেয়ে নিজেকে আমি ধন্য মনে করছি।
ডোনাল্ড কার্ন এরপর ফিরলেন স্টেসি ও তার পাশে বসা দাড়িঅলা ভদ্রলোকের দিকে। মিস স্টেসি ও মি. টিমোথি ওয়েদারহিল, আপনারা দুজন দেশের ভেতর তদন্ত চালাবেন। আপনাদের কাভার, ডেনভার ট্রিউবুন-এর জার্নালিস্ট ও ফটোগ্রাফার। টিমের কোডনেম, টিম বুইক। এরপর তিনি এশিয়ান ভদ্রলোকের। দিকে তাকালেন। টিম হোন্ডা হলো মি. রয় ওরশিয়া ও জেমস হানামুরা। আপনারাই সবচেয়ে বিপজ্জনক অ্যাসাইনমেন্ট পেয়েছেন জাপানে।
মি. ডোনাল্ড ব্রিফ শেষ করার আগে কারও কোন প্রশ্ন আছে? জানতে চাইলেন রেইমন্ড জর্ডান।
আমরা যোগাযোগ করব কিভাবে? জানতে চাইলেন ওয়েদারহিল।
জবাব দিলেন ডোনাল্ড কান, ফোনে। টেবিলের ওপর একটা কনসোল রয়েছে, অনেকগুলো বোতামের একটায় চাপ দিলেন তিনি, তাকালেন দেয়ালের দিকে দেয়ালে সাঁটা একটা কালো স্ক্রীন উজ্জ্বল হয়ে উঠল। আরও কয়েকটা বোতামে চাপ দিলেন তিনি, কয়েকটা সংখ্যা ফুটে উঠল স্ক্রীনে। টেলিফোন নম্বরটা মুখস্থ করে নিন সবাই। এই নম্বরে চব্বিশ ঘণ্টা একজন অপারেটর থাকবে, নিরাপদ লাইন, তার জানা থাকবে কে কোথায় আছি আমরা।
খুক করে কেশে রেইমন্ড জর্ডান বললেন, প্রতি বাহাত্তর ঘণ্টায় একবার যোগাযোগ করবেন টিম লীডার। যদি না করেন, আপনাদের খোঁজে এখান থেকে কাউকে আমরা পাঠাব।
নিজের চেয়ারের পিছনের পায়া দুটোর ওপর ভর চাপিয়ে দোল খাচ্ছে পিট, দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যে একটা হাত তুলল। আমার একটা প্রশ্ন আছে।
ইয়েস, ডার্ক?
কৃতজ্ঞবোধ করব, দয়া করে কেউ যদি বলে দেন এখানে ঠিক কি ঘটছে।
অস্বস্তিতে ভরপুর নিস্তব্ধতা নামল কনফারেন্স রুমে। অ্যাল ছাড়া সবাই ভুরু কুঁচকে তাকাল পিটের দিকে, দৃষ্টিতে অসন্তোষ।
জেমস স্যানডেকারের দিকে তাকালেন রেইমন্ড জর্ডান, অ্যাডমিরাল মাথা নেড়ে বললেন, তুমি যেমন অনুরোধ করেছিলে, পিট বা অ্যালকে আমি পরিস্থিতি সম্পর্কে কিছুই জানাইনি।
মাথা ঝাঁকালেন রেইমন্ড জর্ডান। দ্রমহোদয়গণ, আপনাদেরকে ব্রিফ করা হয়নি, এটা সম্পূর্ণ আমার ব্যর্থতা। আপনাদের ওপর দিয়ে যে ধরনের ধকল গেছে, তারপর যদি অমর্যাদাকর আচরণ করা হয়ে থাকে, সেজন্যে আমি ক্ষমাপ্রার্থী।
জর্ডানের দিকে কড়া চোখে তাকিয়ে আছে পিট। নুমার মাইনিং অপারেশনে অবৈধভাবে নজর রাখার জন্যে একটা ষড়যন্ত্র করা হয়। আমি জানতে চাই, ষড়যন্ত্রের পিছনের ব্যক্তিটি কি আপনি?
এক মুহূর্ত ইতস্তত করলেন রেইমন্ড জর্ডান, তারপর বললেন, আমরা কখনও অবৈধভাবে নজর রাখি না, ডার্ক। আমরা পর্যবেক্ষণ করি। হ্যাঁ, নির্দেশটা আমিই দেই। উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরে একটা ব্রিটিশ সার্ভে টিম আগে থেকেই কাজ করছিল, আপনাদের এলাকায় সরে গিয়ে তারা আমার সাথে সহযোগিতা করে।
আর পানির ওপর যে বিস্ফোরণটা হলো, যে বিস্ফোরণে ডুবে গেল ক্রু সহ ব্রিটিশ জাহাজটা, ভূমিকম্পের কারণ সৃষ্টি করল, আট বছরে গবেষণা ও পরিশ্রম ব্যর্থ হয়ে গেল নুমার, সেটাও কি আপনার নির্দেশে?
না, ওটা ছিল একটা আকস্মিক ট্রাজেডি। কেউ জানত না এধরনের কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে।
ভাবতে আশ্চর্য লাগছে আমার, নুমার পিছনে আপনি স্পাই লাগালেন!
পিটের দিকে নয়, তাকালেন জেমস স্যানডেকারের দিকে, বললেন, তোমার ফ্যাসিলিটি, যেটাকে তোমরা সগি একর বলছ, এমন কড়া গোপনীয়তার মধ্যে তৈরি করা হয় যে আমাদের কোন ইন্টেলিজেন্স এজিন্সি জানেই না তোমরা কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে কাজ করছ কিনা।
কাজেই প্রজেক্টের কথা জানতে পারার সাথে সাথে গলাবার জন্যে লম্বা হয়ে গেল আপনার নাকটা? জিজ্ঞেস করল পিট।
রেইমন্ড জর্ডান এত বড় পদের অধিকারী, এত বেশি তার দক্ষতা, কেইউ কখনও তাঁকে ব্যঙ্গ করার স্পর্ধা দেখায়নি। তাঁর আচরণে কখনোই আত্মরক্ষার ভঙ্গি থাকে না। অথচ পিটের চোখের দিকে তাকালেন না তিনি। যা হবার হয়ে গেছে, বললেন তিনি। এতগুলো মানুষ মারা যাওয়ায় সত্যি আমি দুঃখিত। কিন্তু ভুল একটা সময়ে দুর্ভাগ্যজনক একটা পজিশনে অপারেটরদের পাঠানোর জন্যে পুরোপুরি আমাদেরকে দায়ী করা যায় না। কেউ আমাদেরকে জানায়নি যে একটা জাপানি অটো ক্যারিয়ার সাগরের ওপর দিয়ে অ্যাটম বোমা বয়ে আনছে। ওগুলো। যে দুর্ঘটনাবশত প্রায় আপনাদের মাথার ওপর ফেটে যেতে পারে, তা-ও আমরা জানতাম না।
মুহূর্তের জন্যে হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে তাকল পিট। প্রচণ্ড একটা ধাক্কা খেয়েছে সত্যি, তবে ধাক্কাটা দুসেকেন্ডেই সামলে নিল ও। ধাঁধার উত্তরগুলো ধীরে ধীরে মিলে যাচ্ছে। কথা বলার সময় তাকিয়ে থাকল জেমস স্যানডেকারের দিকে, অনুভব করল আহত বোধ করছে। আপনি জানতেন, অ্যাডমিরাল, অথচ কিছুই আমাকে বলেননি। আপনি ওয়াশিংটন ত্যাগ করার আগেই জানতেন। অ্যাটাক সাবমেরিন টাকসন মি. প্লাঙ্কেট ও আমাকে উদ্ধার করতে আসেনি, এসেছিল রেডিওঅ্যাকটিভিটি রেকর্ড ও আবর্জনার সন্ধানে।
কেউ জ্বালাতন করায় এই প্রথম লাল হয়ে উঠল অ্যাডমিরালের চেহারা। প্রেসিডেন্ট আমাকে দিয়ে কথা আদায় করিয়ে নেন, আমি গোপনীয়তা রক্ষা করব, ধীরে ধীরে বললেন তিনি। এর আগে কখনও তোমাকে আমি মিথ্যে কথা বলিনি, পিট। কিন্তু এক্ষেত্রে যোবা না থেকে আমার উপায় ছিল না।
