লস অ্যাঞ্জেলেসে আমাদের আন্ডারকভার এজেন্ট কে? জানতে চাইল হিদেকি সুমা।
দক্ষিণ-পশ্চিম রাজ্যগুলোর আমাদের গোপন ব্যাপারগুলো দেখাশোনা করেন জর্জ ফুরোকাওয়া।
সীটে হেলান, দিল সুমা। ফুরোকাওয়া অত্যন্ত যোগ্য মানুষ। মার্কিন কাস্টমস কড়াকড়ি করলে আগাম খবর পাবে সে। কামাতোরির দিকে তাকাল, দেখল টেলিফোনে কথা বলছে তার সহকারী। আরও তথ্য না পাওয়ার আগে ডিভাইন স্কাইকে জ্যামাইকার দিকে ঘুরে যেতে বললো। তবে ডিভাইন লেক লস অ্যাঞ্জেলেসে যেমন যাচ্ছে যাক।
ফোনে কথা শেষ করে মাথা আঁকাল কামাতোরি, তারপর আবার ডায়াল করল।
আমরা কি ধরা পড়ার ঝুঁকি নিচ্ছি না, মি. সুমা? নরম সুরে জিজ্ঞেস করল তোশি।
ঠোঁটে ঠোঁট চেপে মাথা নাড়ল সুমা। মার্কিন ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস জাহাজগুলো সার্চ করবে, করুক। বোমাগুলো কোনদিন খুঁজে পাবে না ওরা। আমাদের টেকনলজির কাছে হার মানতে হবে ওদের।
ডিভাইন স্টারে বিস্ফোরণটা হলো খারাপ একটা সময়ে, বলল তোশি। ভাবছি কারণটা কোনদিন আমরা জানতে পারব কিনা।
ও-সব নিয়ে আমি মাথা ঘামাই না, ঠাণ্ডা সুরে বলল সুমা। অ্যাকসিডেন্টটা দুর্ভাগ্যজনক, তবে সেটা আমাদের কেইটেন প্রজেক্ট শেষ করতে কোন বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। তার চেহারায় হিংস্র একটা ভাব ফুটে উঠল। আমাদের নতুন। সাম্রাজ্যের জন্যে হুমকি হয়ে দাঁড়ালে যেকোন রাষ্ট্রকে ধ্বংস করে দেয়ার মত খুঁটি ইতোমধ্যেই সাজিয়ে ফেলেছি আমরা।
.
১৯.
নামকরা প্রতিষ্ঠান স্যামুয়েল জে, ভিনসেন্ট ল্যাবরেটরিজ-এর অফিসে বসে ভাইস প্রেসিডেন্ট জর্জ ফুরোকাওয়া টেলিফোনে তার স্ত্রীর সাথে কথা বলছে। দাঁতের ডাক্তারের সাথে অ্যাপয়েন্টমেন্ট আছে, একথা মনে করিয়ে দেয়ায় স্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাল সে, দুএকটা ভালবাসার কথা বলল, তারপর রেখে দিল রিসিভার।
অপরপ্রান্তের মহিলাটি তার স্ত্রী নয়, হিদেকি সুমার একজন এজেন্ট, মিসেস ফুরোকাওয়ার গলা হুবহু নকল করতে পারে। ডেন্টাল অ্যাপয়েন্টমেন্ট আসলে একটা সঙ্কেত, এর আগে পাঁচবার পেয়েছে সে। এর অর্থ হলো, মুরমটো গাড়ি দিয়ে একটা জাহাজ ভিড়েছে বন্দরে, কার্গো খালাসের প্রস্তুতি চলছে।
বিকেলের বাকি সময়টা দাঁতের ডাক্তারের কাছে থাকতে হবে, একথা সেক্রেটারিকে বলে এলিভেটরে চড়ল জর্জ ফুরোকাওয়া, নেমে এল আন্ডারগ্রাউন্ড গ্যারেজে। কয়েক পা হেঁটে একটা মুরমটো স্পোর্টস কারে উঠে বসল সে।
সীটের তলাটা হাতড়াল জর্জ ফুরোকাওয়া। হ্যাঁ, একটা এনভেলাপ রয়েছে। প্রতিবারের মত এবারও এটা রেখে গেছে সুমার কোন লোক। ডক এরিয়া থেকে তিনটে গাড়ি ছাড়াবার জন্যে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট যা লাগবে, সবই রয়েছে এনভেলাপের ভেতর। পরীক্ষা করে সন্তুষ্ট হলো সে, কাগজগুলোয় কোন খুঁত নেই।
গাড়িতে স্টার্ট দিল ফুরোকাওয়া। ইস্পাতের উঁচু গেটের কাছে এসে দাঁড়াল গাড়ি। গেটহাউস থেকে হাসিমুখে বেরিয়ে এল গার্ড।
আজ আপনি এত তাড়াতাড়ি বেরিয়ে যাচ্ছেন, মি. ফুরোকাওয়া?
আমার একটা ডেন্টাল অ্যাপয়েন্টমেন্ট আছে।
আপনার দাঁতের চিকিৎসা করে ডাক্তার নিশ্চয়ই একটা ইয়ট কিনে ফেলেছে।
শুধু ইয়ট, ফ্রান্সে একটা ভিলাও নয় কেন? পাল্টা কৌতুক করল জর্জ ফুরোকাওয়া।
হেসে উঠল গার্ড, তারপর রুটিন প্রশ্ন করল, আজ রাতের জন্যে কোন ক্লাসিফায়েড কাজ বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন?
না। অ্যাটাচী কেসটা অফিসে ফেলে এসেছি।
দেয়ালের দিকে পিছু হটল গার্ড, একটা বোতামে চাপ দিতেই ইস্পাতের গেট ধীরে ধীরে খুলে গেল, গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে এল জর্জ ফুরোকাওয়া।
লম্বা একটা কাঁচ মোড়া বিল্ডিঙের দুটো ফ্লোর নিয়ে ভিনসেন্ট ল্যাব, পাঁচিলের ভেতর সার সার ইউক্যালিপটাস থাকায় রাস্তা থেকে ভাল দেখা যায় না। ভিনসেন্ট ল্যাব একটা মিলিটারি রিসার্চ ও ডিজাইন সেন্টার, মালিক হলো একাধিক স্পেস ও অ্যাভিয়েশন কোম্পানির একটা কনসোটিংয়াম। এখানের কাজগুলো অত্যন্ত গোপনীয়, ফলাফল কড়া পাহারায় রাখা হয়। কাজগুলো বেশিরভাগই আসে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে, এখানের আবিষ্কারগুলো একা শুধু সামরিক বাহিনী ব্যবহার করতে পারে।
এসপিওনাজ জগতে যাদেরকে স্লীপার বলা হয়, জর্জ ফুরোকাওয়া তাদেরই একজন। তার মা-বাবা যুদ্ধের পরপরই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসে, হাজার হাজার জাপানিদের সাথে। ফুরোকাওয়া দম্পতি আমেরিকায় আসে ঠিকই, কিন্তু আমেরিকাকে ভালবেসে নয়। চিরকালই তারা শুধু জাপানের প্রতি অনুগত ছিল, আমেরিকাকে জাপানের প্রধান শত্রু বলে মনে করেছে।
ফুরোকাওয়া দম্পতি তাদের একমাত্র সন্তানকে মার্কিন ব্যবসা জগতে প্রতিষ্ঠিত করার জন্যে সম্ভাব্য সবকিছু করেছে। আমেরিকার সবচেয়ে নামী-দামী স্কুলে পড়িয়েছে ছেলেকে। টাকা তাদের জন্যে কোন সমস্যা হয়নি, জাপানি ব্যাঙ্ক থেকে টাকা এসেছে পারিবারিক অ্যাকাউন্টে। অবশেষে অ্যারোডাইনামিক ফিজিক্সে পিএইচডি করল জর্জ ফুরোকাওয়া, অর্জন করল ভিনসেন্ট ল্যাবে সম্মানজনক ও উঁচু মানের পদ। অ্যাভিয়েশন ডিজাইনারদের চোখে অত্যন্ত শ্রদ্ধার পাত্র, জর্জ ফুরোকাওয়া এখন আমেরিকার সর্বশেষ অ্যারোস্পেস টেকনলজি সংক্রান্ত মহামূল্য ও টপ সিক্রেট তথ্যাদি গোপনে পাচার করছে জাপানে, সরাসরি সুমার কাছে।
