জাপানে কখনও যায়নি ফুরোকাওয়া, তবে তার পাঠানো ইনফরমেশন পাওয়ায় কয়েক বিলিয়ন মার্কিন ডলার বেঁচে গেছে জাপানের, গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে প্রায় কিছুই ব্যয় করতে হয়নি। আমেরিকার সাথে তার বিশ্বাসঘাতকতার ফলে পাঁচ বছর এগিয়ে এসেছে জাপান, অ্যারোস্পেস মার্কেটে দখল করেছে শীর্ষ স্থান।
হাওয়াই-এ হিদেকি সুমার সাথে একবারই মাত্র দেখা হয় তার। তখনই তাকে কেইটেন প্রজেক্টে রিট করা হয়। জাপানের সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা পবিত্র একটি দায়িত্ব দিয়ে সম্মানিত করে তাকে। তার কাজ হলো, বিশেষ একটা রঙের গাড়ি ডক থেকে গোপনে সংগ্রহ করে অজানা গন্তব্যে পাঠিয়ে দেয়া। ফুরোকাওয়া কোন প্রশ্ন করে না। অপারেশনের সবটুকু তাকে জানানো হবে না, একথা শুনে সে বরং খুশিই হয়। এসব ব্যাপারে যত কম জানা যায় ততই ভাল। গভীরভাবে জড়িয়ে পড়লে মার্কিন টেকনলজি চুরির কাজটায় বরং বিঘ্ন সৃষ্টি হবে।
সান্তা মোনিকা বুলেবার্ডে চলে এল গাড়ি। এদিকটায় যানবাহনের সংখ্যা কমই। আরও কয়েক কিলোমিটার এগিয়ে দক্ষিণ দিকে বাঁক নিল সে উঠে এল সান। ডিয়াগো ফ্রিওয়েতে। আরেকবার ডান দিকে বাঁক ঘুরল সে, চলে এল হারবার ফ্রিওয়েতে। দশ মিনিট পর পৌঁছে গেল শিপিং টার্মিনাল এরিয়ায়। গাড়ি নিয়ে একটা গলির ভেতর ঢুকল ফুরোকাওয়া। খালি একটা ওয়ারহাউসের পিছনে দাঁড়িয়ে রয়েছে বিরাট একটা ট্রাক ও একটা সেমিস্ট্রেইলার। ট্রাক ও ট্রেইলারের গায়ে নামকরা একটা স্টোরেজ কোম্পানির লোগো আঁকা রয়েছে। গাড়ি দুটোকে পাশ কাটিয়ে এসে থামল সে, হর্ন বাজাল দুবার। ট্রেইলারের ড্রাইভার সাড়া দিল তিন বার হর্ন বাজিয়ে, এগিয়ে এসে থামল স্পোর্টস কারের পিছনে।
দশ মিনিট পর লোর্ডি ডক-এর সামনে দেখা গেল ফুরোকাওয়াকে। অসংখ্য ট্রাক ঢুকছে ও বেরিয়ে আসছে, কোনরকমে গা বাঁচিয়ে একটা পাঁচিল ঘেরা উঠানের গেটে এসে থামল সে। বিদেশ থেকে আমদানি করা গাড়িগুলো রাখা হয় এখানে। এনভেলাপ থেকে বের করে ডকুমেন্টগুলো গার্ডের হাতে ধরিয়ে দিল ফুরোকাওয়া, তাকিয়ে দেখল ডিভাইন ওয়াটার থেকে আনলোড করা গাড়িতে ভরে গেছে বিশাল উঠানটা। আশপাশের প্রতিটি উঠানের একই অবস্থা কোনটায় আছে টয়োটা, কোনটায় হোন্ডা বা মাজদা। ফুরোকাওয়ার সামনের উঠানে আরেকটা গেট দিয়ে এখনও ভেতরে ঢুকছে গাড়ি, প্রতি মিনিটে আঠারোটা করে।
কাগজগুলো ফিরিয়ে দিল গার্ড, বলল, সব ঠিক আছে, স্যার। তিনটে এসপি ফাইভ হানড্রেড স্পোর্ট সেডান। প্লীজ, রাস্তার ওপারে চলে যান, কাগজগুলো ডেসপ্যাচারকে দেখালে সেই সব ব্যবস্থা করবে।
ধূমপানরত ডেসপ্যার ফুরোকাওয়াকে চিনতে পারল। আবার সেই পচা ব্রাউন রঙের গাড়িগুলো দিতে এসেছেন, স্যার? সকৌতুকে জানতে চাইল সে।
কাঁধ ঝাঁকাল ফুরোকাওয়া। আমার এক মক্কেল এগুলো তার সেলস ফ্লিট-এর জন্যে কেনে। বিশ্বাস করো বা না করো, ব্রাউন ছাড়া আর কোন রঙ পছন্দ নয় তার।
কি বেচে লোকটা, কুমীরের লেজ?
না, বিদেশী কফি।
নামটা জানতে চাই না, আমার কোন আগ্রহ নেই।
ডেসপাচারের হাতে একশো ডলারের একটা নোট গুঁজে দিল ফুরোকাওয়া। কত তাড়াতাড়ি আমি ডেলিভারি পেতে পারি? জানতে চাইল সে।
নিঃশব্দ হাসল ডেসপাচার। কার্গো হোল্ডে আপনার গাড়ি খুঁজে পাওয়া পানির মত সহজ। বিশ মিনিটের মধ্যে হাজির করছি আপনার সামনে।
এক ঘণ্টার মধ্যে সেমিট্রেইলারে ভোলা হলো গাড়ি তিনটে। উঠান থেকে রওনা হয়ে গেল ট্রেইলার। ড্রাইভারের সাথে একবারও কথা বলেনি ফুরোকাওয়া। এমনকি দুজন ভুলেও একবার পরস্পরের দিকে তাকায়নি।
গেটের বাইরে বেরিয়ে এসে রাস্তার পাশে গাড়ি থামাল ফুরোকাওয়া, ধীরে সুস্থে একটা সিগারেট ধরাল। তাকে পাশ কাটিয়ে এগিয়ে গেল সেমি ট্রেইলার, বাঁক নিয়ে চলে যাচ্ছে হারবার ফ্রিওয়ের দিকে। ট্রেইলারের নাম্বার প্লেটে ক্যালিফোর্নিয়া লেখা রয়েছে, তবে রাস্তায় কোথাও বদলে ফেলা হবে ওটা।
কৌতূহলটা তীব্র নয়, তবু ফুরোকাওয়া একবার ভাবল, ব্রাউন গাড়িগুলোর রহস্যটা কি? কি আছে ওগুলোয়? এগুলোর গন্তব্য এভাবে গোপন রাখা হয় কেন?
২০. সাফবোর্ডে দাঁড়িয়ে
২০.
প্রথমে আমরা সাফবোর্ডে দাঁড়িয়ে ম্যাকাপু পয়েন্টে সূর্যোদয় দেখব, বলল পিট, স্টেসির একটা হাত ধরে আছে। পরে, হানাউমা বে-তে চড়ব ডলফিনের পিঠে। তারপর সৈকতে শুয়ে গায়ে রোদ মাখব, যতক্ষণ না আপনার চামড়া থেকে সানট্যান তেল শুকায়। দুপুরে আমরা ছাতার নিচে বসে লাঞ্চ খাব, বিকেলটা গাছের নিচে শুয়ে। আর রাতে… রাতে, ছোট্ট একটা নির্জন রেস্তোরাঁয় নিয়ে যাব আপনাকে, ম্যানোয়া ভ্যালিতে ওটা…।
ভারি মজা পাচ্ছে স্টেসি, কথাবলার সময় কৌতুকে চিকচিক করে উঠল চোখ দুটো। একটা এসকর্ট সার্ভিস খোলার কথা ভেবেছেন কখনও?
মেয়েদের কাছ থেকে কিছু খসাবার প্রবণতা আমার ভেতর একেবারেই নেই, বলল পিট। সেজন্যেই পকেট সব সময় খালি থাকে।
এয়ার ফোর্স হেলিকপ্টারের জানালা দিয়ে বাইরে তাকাল পিট। বাইরে অন্ধকার, দূরে অস্পষ্ট একটা আলো দেখা গেল।
পিট ও প্লাঙ্কেটকে উদ্ধার করা হয় সন্ধ্যার দিকে, তার একটা পরই সবাইকে তুলে দেয়া হয় এই হেলিকপ্টারে। সবাই মানে সগি একর-এর মাইনিং টিম, ওল্ড গার্ট-এর ত্রু। সাংহাই শেলি ত্যাগ করার আগে ওয়েন মারফি ও তাঁর ক্রুদের অসংখ্য ধন্যবাদ জানিয়েছে ওরা। হেলিকপ্টারে সবার শেষে ভোলা হয় জিমি নষ্পে লাশ, ক্যানভাসে মুড়ে। চাইনিজ জাংক ও মার্কিন অ্যাটাক সাবমেরিনকে ওখানে রেখে হেলিকপ্টার রওনা হয়ে গেল হাওয়াই-এর উদ্দেশে।
