ওর নাম ডার্ক পিট, বলল অ্যাল।
বেশ, ডার্ক পিট। তো উনি কিভাবে পানির ওপর আসতে চান, সাঁতার দিয়ে?
অন্তত ওই গভীরতা থেকে সম্ভব নয় সেটা।
তাহলে এই পিট কি করতে চাইছে?
কেউ কোন কথা বলল না। বিউ মরটনের প্রশ্নের উত্তর ওদের কারও জানা নেই।
.
১৬.
আমরা দুহাজার মিটার পেরিয়ে এসেছি, রিপোর্ট করল পিট।
ভেরি গুড, মন্তব্য করলেন ক্লোভার প্লাঙ্কেট। চূড়া আর বেশি দূরে নয়।
এখুনি হবার কোন কারণ নেই, বলল পিট। ঢালটা ক্রমশ আরও খাড়া হচ্ছে। আর যদি পাঁচ ডিগ্রি বেশি খাড়া হয়, আমাদের ট্র্যাক মাটি কামড়াতে পারবে না।
ব্যর্থতার কথা এখন আর চিন্তা করছেন না প্লাঙ্কেট। পিটের ওপর তার আস্থা প্রায় সীমাহীন হয়ে উঠেছে। তবে ঢালের মেঝে তো দেখছি সমতল উঠে যেতে অসুবিধে হবে বলে মনে হয় না।
দেখা যাক, বলে চোখ বুজল পিট, দেখে মনে হলো ঘুমিয়ে পড়েছে।
.
দুঘণ্টা পর গুলির মত একটা আওয়াজে ঘুম ভেঙে গেল ওর। চোখ মেলে কনসোলের দিকে তাকাল ও। লাল একটা আলো জ্বলছে আর নিভছে।
যান্ত্রিক কোন ত্রুটি? জিজ্ঞেস করল ও।
একটা লিক দেখা দিয়েছে, বললেন প্লাঙ্কেট। আওয়াটার সাথে সাথে ওয়ার্নিং লাইট জ্বলে উঠল।
ড্যামেজ ও লোকশান সম্পর্কে কমপিউটার কি বলছে?
দুঃখিত, আপনি আমাকে প্রোগ্রাম ক্যাকটিভেট করার জন্যে কোড় শোনেননি।
কীবোর্ডের নির্দিষ্ট একটা বোতামে চাপ দিল পিট। ডিসপ্লে মনিটরে ফুটে উঠল রিডআউট। আমরা ভাগ্যবান, বলল ও। লাইফ সাপোর্ট ও ইলেকট্রনিক ইকুইপমেন্ট চেম্বার অক্ষতই আছে। লিকটা নিচে কোথাও, এঞ্জিনের পাশপাশে বা জেনারেটর কমপার্টমেন্টে।
তারপরও বলছেন আমরা ভাগ্যবান?
ওদিকে নড়াচড়া করার জায়গা আছে। চেয়ার থেকে নেমে ক্রল করে কন্ট্রোল কেবিনের দিকে এগোল পিট, একটা ট্র্যাপ ডোর খুলে ভেতরে ঢুকল। আলো জ্বেলে এনি কম্পার্টমেন্টের চারদিকে তাকাল ও। হিসহিস আওয়াজ হচ্ছে, কিন্তু উ+সটা দেখা গেল না। এরইমধ্যে খানিকটা পানি জমেছে ভেতরে।
লিকটা পেলেন? চিৎকার করে জানতে চাইলেন প্লাঙ্কেট।
না।
বিগ জনকে থামাব!
না, চূড়ার দিকে উঠতে থাকুন। দ্রুত চিন্তা করছে পিট। ঘন ঘন বাড়ি খেয়ে বিগ জনের বাইরের দেয়াল তুবড়ে গেছে। হিসহিস আওয়াজ শুনে ও পানি দেখে বোঝা যাচ্ছে, সূচের মত সরু একটা ফুটো তৈরি হয়েছে কোথাও। সরু একটা ফুটো দিয়ে ধীরে ধীরে পানি ঢুকলে এঞ্জিন কমপার্টমেন্ট ভরতে দুঘন্টা লাগবে। কিন্তু যদি ফুটোটা বড় হয়, কামানের মত বিস্ফোরিত হবে পানি, ভেতরের দেয়াল এক পলকে চুরমার হয়ে যাবে। প্রশ্ন হলো, সরু ফুটোটা কি এরই মধ্যে গুরুত্ত্বপূর্ণ কোন ইকুইপমেন্টের ক্ষতি করেছে? ফুটোটা কি এত বড় যে বন্ধ করা সম্ভব নয়? ক্রল করে আরও একটু এগোল পিট। আওয়াজটা কাছাকাছি কোথাও থেকে আসছে। ভেতরে মিহি পানির কণা ভাসছে, কুয়াশার মতো, ঝাপসা লাগছে সব কিছু। কুয়াশার ভেতর দিয়ে আরও একটু এগাল পিট। তারপর মাথায় একটা বুদ্ধি এল। পায়ের এক পাটি জুতো খুলে মুখের সামনে নাড়ল ও, একজন অন্ধ যেভাবে তার ছড়ি নাড়ে। এক মুহূর্ত পর প্রায় ছো দিয়ে জুতোটা কেড়ে নেয়ার চেষ্টা হল। এতক্ষণে ফুটোটা দেখতে পেল ও। ওর সামনে, ডান দিকে, উজ্জ্বল একটা চকচকে ভাব।
সুচের মত সরু একটা ফুটো, কমপ্যাক্ট স্টীম টারবাইনের গায়ে। পিছিয়ে এসে স্পেয়ার পার্টস কেবিনেটটা খুলল পিট। ভেতর থেকে বের করল এক প্রস্থ হাই প্রেশার রিপ্লেসমেন্ট পাইপ ও একটা ভারী জে-টাইপ হ্যাঁমার।
ইতোমধ্যে মেঝেতে আধ মিটার পানি জমে গেছে। টেপ বা অন্য কিছু দিয়ে ফুটোটা বন্ধ করা সম্ভব নয়। একটাই উপায় আছে, সেটা যদি ব্যর্থ হয়, নির্ঘাৎ ডুবে মরতে হবে ওদের। পাইপের একটা প্রান্ত ফুটোর ওপর ঠেকাল ও, অপর প্রান্তটা মোটা বাল্কহেড শীল্ডের ঢালু গায়ে চেপে ধরল। হাতুড়ি দিয়ে পাইপের নিচের দিকটায় ঘা মারল ও, ফুটো আর বাল্কহে শীল্ডের গায়ে শক্তভাবে আটকে গেল সেটা।
পানি ঢোকা বন্ধ হলো, তবে পুরোপুরি নয়। কোনমতেই এটাকে স্থায়ী সমাধান বলা যাবে না। ধীরে ধীরে বড় হবে ফুটোটা, ছিটকে পড়বে পাইপ। পানিতে বসে থাকল পিট। এক মিনিট পর ভাবল, ব্যাপারটা অদ্ভুত নয়? বরফের মতো ঠাণ্ডা পানিতে বসে ঘামছি?
কনরো গাইওটে উঠে এল বিগ জন্। ডিজিটাল ডেপথ রিডিং-এর দিকে তাকাল পিট। তিনশো বাইশ মিটার ওপরে সারেফস।
আপনার লোকদের কাউকে দেখতে পাচ্ছেন? জানতে চাইলেন প্লাঙ্কেট।
সোনার-রাডার প্রোবে হাত ছোঁয়াল পিট। ডিসপ্লেতে দশ বর্গ কিলোমিটার চুড়া সম্পূর্ণ খালি দেখা গেল। পিট আশা করেছিল, একটা রেসকিউ ভেহিকেল আসবে। কিন্তু আসেনি। না।
উপর থেকে ওরা আমাদের মিউজিক শুনতে পায়নি, এ স্রেফ বিশ্বাস করা যায় না।
রেসকিউ অপারেশন শুরু করতে প্রস্তুতির জন্যে সময় লাগে, বিড়বিড় করল পিট। ও জানে, অ্যাডমিরাল স্যানডেকার ও অ্যাল ওদের খোঁজে স্বর্গ-মর্ত্য তোলপাড় করে ফেলবেন। ওর প্ল্যানটা ওরা বুঝতে পারেনি, এটা মেনে নিতে মন চাইছে না। নিঃশব্দে চেয়ার ছাড়ল ও, এঞ্জিন কমপার্টমেন্টের দরজা তুলে ভেতরে তাকাল। ফুটোটা বড় হয়েছে, মেঝেতে পানি এখন এক মিটারের মতো। আর চল্লিশ মিনিটের মধ্যে টারবাইন ডুবে যাবে। টারবাইন ডুবলে জেনারেটরও ডুববে। লাইফ-সাপোর্ট সিস্টেম কাজ না করলে ওরাও বাঁচবে না।
