রিপোর্টগুলো আমি দেখেছি, বললেন রেইমন্ড জর্ডান। পারমাণবিক বর্জ্য ফেলার জন্যে চার হাজার মিটার গভীর একটা শ্যাফট বানিয়েছে ওরা। এমন হতে পারে, কিছু একটা দেখার কথা ছিল, কিন্তু দেখতে পাইন আমরা?
চুপ কর থাকলেন কার্টিস মিকার।
কি সর্বনাশ! হঠাৎ বিস্ফোরিত হলেন রেইমন্ড জর্ডান। জাপান বিনা বাধায় জাহাজে করে আমেরিকায় অ্যাটম বোমা পাঠাচ্ছে অথচ আমরা কিছুই জানি না। বোমা কোথায় পেল ওরা, কিভাবে বানাল, কেন পাঠাচ্ছে, ঠিক কোথায় পাঠাচ্ছে…ওহ গড, আমরা তো কিছুই জানি না।
তুমি বলছ বোমাগুলো? বহুবচন? জিজ্ঞেস করলেন কার্টিস মিকার।
কলোরাডোর সিসমোগ্রাফিক সেন্টার-এর রিডিং অনুযায়ী প্রথম বিস্ফোরণের এক মিলিসেকেন্ড পর দ্বিতীয় একটা বিস্ফোরণ ঘটেছে।
এক সেকেন্ড চুপ করে থাকলেন কার্টিস মিকার, তারপর বললেন, খুবই খারাপ। কথা, দশ বছর আগেই সতর্ক হওনি তোমরা।
কিসের ভিত্তিতে দশ বছর আগে সতর্ক হব? রাজনীতিকরা তো শুধু রাশিয়া আর মধ্যপ্রাচ্যকে নিয়ে ব্যস্ত ছিল। প্রতি বছর ইন্ট্রেলিজেন্স বাজেটও কমিয়ে দেয়া হচ্ছে। তাছাড়া জাপান হলো আমাদের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের একজন। ওখানে আমরা শুধু অবসরপ্রাপ্ত দুজন এজেন্টকে ভাড়ায় রেখেছি। একই কথা ইসরায়েল সম্পর্কে। আমরা জানি যে-কোন দিন অ্যাটম বোমা বানিয়ে ফেলবে ওরা, কিন্তু যেহেতু ওরা আমাদের বন্ধু, তেমন গুরুত্ব দিই না।
গাফলতির খেসারত দিতে হবে এখন, মন্তব্য করলেন কার্টিস মিকার। দেখো, প্রেসিডেন্ট কি বলেন। ফোল্ডার থেকে আরেকটা ছবি বের করলেন তিনি। দেখো তো, কি এটা?
ফটোর দিতে ঝুঁকে তাকালেন রেইমন্ড জর্ডান। দেশে মনে হচ্ছে বড় একটা ফার্ম ট্র্যাক্টর।
ওটা অচেনা একটা ডীপ সী মাইনিয়ং ভেসেল। পানির পাঁচ হাজার মিটার নিচে রয়েছে। বিস্ফোরণ এলাকা থেকে খুব বেশি হলে বিশ কিলোমিটার দূরে। তুমি জানো, কাদের এটা? বা ওই সময় ওখানে কি করছিল ওরা?
হ্যা… ধীরে ধীরে বললেন রেইমন্ড জর্ডান। আগে জানতাম না, এখন জানি। ধন্যবাদ, কার্টিস।
ফটোগুলো পকেটে ভরে কামরা থেকে বেরিয়ে এলেন তিনি, পিছন থেকে তার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকলেন কার্টিস মিকার।
.
১৫.
কাদা সরিয়ে, ঢাল বেয়ে ট্রেঞ্চের ওপর উঠে এল বিগ জন্।
চীফ এঞ্জিনিয়ার প্লাঙ্কেট জানতে চাইলেন, ল্যান্ডস্লাইড থেকে তো রক্ষা পেলাম, এবার আপনার প্ল্যানটা কি, ডার্ক? চায়ের কাপে চুমুক দিলেন তিনি।
প্ল্যান হলো ওপরে ওঠা। হাত তুলে বিগ জনের ছাদটা দেখিয়ে দিল পিট।
আপনার বিগ জন ভাসতে পারে না, আর আমাদের মাথার ওপর রয়েছে পাঁচ কিলোমিটার সাগর, ওপরে ওঠার মত অসম্ভব একটা কাজ কিভাবে আপনি করতে চান?
নিঃশব্দে হাসল পিট। তারপর বলল, স্রেফ বসে থাকুন, উপভোগ করুন চারদিকের দৃশ্য। আপনাকে আমি পাহাড়ের মাথায় তুলে নিয়ে যাব।
.
ওয়েলকাম আবোর্ড, অ্যাডমিরাল! অ্যাটাক সাবমেরিন সাইন্ডারের কমান্ডার বিউ মরটন বললেন, তাকিয়ে আছেন অ্যাডমিরাল জেমস স্যানডেকারের দিকে। মুখে হাসি ধরে রাখলেও, মনে মনে খুশি নন তিনি। এধরনের ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি। আমরা একটা অভিযানে রয়েছি, হঠাৎ নির্দেশ এল সারফেসে উঠে একজন ভিজিটরকে তুলে নিতে হবে। আপনাকে জানাতে আপত্তি নেই, ব্যাপারটা আমার পছন্দ হয়নি।
সাংহাই শেলির লঞ্চ থেকে সাউন্ডারের আংশিক ভাসমান সেইল টাওয়ারে পা দিলেন অ্যাডমিরাল স্যানডেকার, বিউ মরটনের বাড়িয়ে দেয়া হাতটা ধরে এমনভাবে ঝাঁকালেন যেন কতদিন ধরে চেনেন আঁকে, চেহারায় হাসিখুশি ভাব। আপনার সাবমেরিনে চা খেতে আসার জন্যে আমি কোন কলকাঠি নাড়িনি, কমান্ডার। আমাকে আসতে হয়েছে সরাসরি প্রেসিডেনশিয়াল নির্দেশে। আপনার যদি অসুবিধে হয় বলুন, এখুনি আমি চাইনিজ জাঙ্কে ফিরে যাই।
চেহারায় আহত একটা ভাব ফুটিয়ে বিউ মরটন বললেন, নো অফেন্স, অ্যাডমিরাল। কিন্তু রুশ স্যাটেলাইট…।
আমাদের ছবি তুলবে, এই তো? তুলবে, সে ব্যাপারে আমার কোন মাথাব্যথা নেই। টাওয়ারে উঠে এল অ্যাল, তার দিকে তাকালেন স্যানডেকার। অ্যাল জিওর্দিনো, আমার অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রজেক্ট ডিরেক্টর।
কুশলাদি বিনিময়ের পর পথ দেখিয়ে ওদেরকে সাবমেরিনের কন্ট্রোল সেন্টারে নিয়ে এলেন বিউ মরটন। কমান্ডারের পিছু পিছু ট্রান্সপারেন্ট প্লটিং টেবিলের সামনে এসে দাঁড়ালেন অ্যাডমিরাল। ডিসপ্লেতে সাগরের নিচেটা দেখা যাচ্ছে। থ্রী ডাইমেনশন্যাল সোনার ভিউ।
লেফটেন্যান্ট ডেভিড ডিলুসা, সাউন্ডারের নেভিগেশন অফিসার, টেবিলের ওপর ঝকে রয়েছেন। পরিচয় করিয়ে দেয়ার সময় উষ্ণ হাসি ছড়িয়ে পড়ল মুখে।
অ্যাডমিরাল স্যানডেকার, দিস ইজ অ্যান অনার। অ্যাকাডেমিতে আপনার একটা লেকচারও আমি মিস করতাম না!
ঠোঁট টিপে হাসলেন অ্যাডমিরাল। যদি বলেন আমার লেকচার শুনে আপনার ঘুম পেত, ভারি লজ্জা পাব।
কি যে বলেন, স্যার! নুমা প্রজেক্ট সম্পর্কে আপনার লেকচার শুনে মুগ্ধ হয়ে গেছি আমি।
ডিলুসার দিকে চট করে একবার তাকিয়ে টেবিলের দিকে ইঙ্গিত করলেন বিউ মরটন। তোমার আবিষ্কার সম্পর্কে অ্যাডমিরাল জানতে চান, ডেভিড ডিলুসা।
ডিলুসার কাঁধে একটা হাত রাখলেন স্যানডেকার। কি আবিষ্কার করেছেন, মাই ডিয়ার ফ্রেন্ড?
