আলোটা ভেতরে আনতে বলো, নির্দেশ দিলেন ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো।
আলো ফেলার পর দেখা গেল ট্রেইলারের ভেতরে কিছুই নেই। ডেস্ক থেকে সমস্ত কাগজপত্র সরিয়ে ফেলা হয়েছে। দেরাজগুলো খালি, খালি ওয়েস্টপেপার বাস্কেট। কোথাও কোন ছাইদানী নেই। দেয়ালে হুকের সঙ্গে ঝুলছে শুধু একটা হ্যাঁ। আরেক দিকের দেয়ালে একটা ব্যাকবোর্ড দেখা গেল। আরবিতে লেখা কয়েকটা সংখ্যা দেখলেন ওঁরা, শিপটম লেখার কাজে ব্যবহার করা হয়েছে কাতাকানা সঙ্কেত।
কি ওগুলো?
গুপ্তধনের তালিকা বলে মনে হচ্ছে।
ডেস্কের পিছনে, একটা চেয়ারের ওপর ধপ করে বসে পড়লেন রিকো একোস্টা। কিছুই নেই, সব নিয়ে চলে গেছে।
প্রায় পঁচিশ বছর আগে, বোর্ডে লেখা তারিখ দেখে অন্তত তাই মনে হচ্ছে।
মার্কোস? জানতে চাইলেন একোস্টা।
না, মার্কোস নন, বললেন ফ্রাঙ্ক ম্যানকিউসো। জাপানিরা। ওরা ফিরে এসেছিল। আমাদের জন্যে শুধু হাড়গুলো রেখে গেছে।
.
১৪.
ওয়াশিংটনের ফোর্ডস থিয়েটারে বসে অনুষ্ঠান দেখছেন রেইমন্ড জর্ডান, পাশে স্ত্রী। হঠাৎ তার হাতঘড়ির অ্যালার্ম পিপ পিপ করে উঠল। স্ত্রীকে বললেন, আসছি। থিয়েটার থেকে শান্তভাবে বেরিয়ে এলেন তিনি। লবিতে পৌঁছে দেখলেন কার্টিস মিকার একা তার জন্যে অপেক্ষা করছেন।
কার্টিস মিকার হলেন অ্যাডভান্সড টেকনিক্যাল অপারেশনস-এর ডেপুটি ডিরেক্টর। নিজের অফিস ছেড়ে বড় একটা বেরোন না তিনি, ওখানে বসেই সারাদিন স্যাটেলাইট ইন্টেলিজেন্স ফটো পরীক্ষা করেন।
কি খরব? কোন ভূমিকা না করেই জানতে চাইলেন রেইমন্ড জর্ডান।
কোন জাহাজে বোমাটা ছিল, আমরা জানি, কার্টিস মিকার জবাব দিলেন।
কিন্তু এখানে তো কথা বলা সম্ভব নয়।
ম্যানেজারের সাথে আলাপ করেছি, তার অফিসটা ব্যবহার করতে পারি আমরা।
কামরাটা চেনেন রেইমন্ড জর্ডান। ভেতরে ঢুকে ম্যানেজারের চেয়ারে বসলেন তিনি। তুমি নিশ্চিত? কোন ভুল হচ্ছে না?
শান্তভাবে মাথা নাড়লেন কার্টিস মিকার। একটা আবহাওয়া পাখি থেকে তোলা ফটোতে দেখা যাচ্ছে এলাকায় তিনটে জাহাজ ছিল। বিস্ফোরণের পর ওই এলাকার উপর দিয়ে যাবার সময় আমরা আমাদের পুরানো স্কাই কিং ইন্টেলিজেন্স স্যাটেলাইট অ্যাকটিভেট করি। ওটা থেকে পাওয়া ফটোতে আমরা দুটো জাহাজ দেখত পাচ্ছি।
কিভাবে?
রাডার-সোনার সিস্টেমের কার্যকারিতা কমপিউটারের সাহায্যে অনেক বাড়িয়ে নেওয়ার ফলে পানির নিচেটা আমরা পরিষ্কার দেখতে পাই, দেখে মনে হয় স্বচ্ছ কাঁচ।
তুমি তোমার লোকদের ব্রিফ করেছিলে?
হ্যাঁ।
কার্টিসের চোখে চোখে রাখলেন রেই জর্ডান। তুমি সন্তুষ্ট? কোথাও কোন খুঁত নেই?
কোন খুঁত নেই, দৃঢ়কণ্ঠে বললেন কার্টিস মিকার।
হ্যাঁ।
জানো তো যে ভুল করলে তোমাকেও দায়ী হতে হবে?
তোমাকে রিপোর্ট করার পর বাড়িতে ফিরে নাক ডেকে ঘুমাব আমি।
বেশ, এবার বলো।
পকেট থেকে একটা ফোল্ডার বের করে টেবিলের ওপর রাখলেন কার্টিস মিকার।
রেইমন্ড জর্ডান হাসলেন। তুমি দেখছি ব্রিফকেসের ভক্ত নও।
হাত দুটো মুক্ত রাখতে চাই, বলে ফোল্ডারটা খুললেন কার্টিস মিকার। ভেতর থেকে পাঁচটা ফটোগ্রাফ বেরুলো। প্রথম তিনটেতে জাহাজগুলোকে পানির ওপর অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে দেখা যাচ্ছে। এখানে তুমি দেখতে পাচ্ছ জাপানি অটো ক্যারিয়ারটাকে ঘিরে চক্কর মারছে নরওয়জিয়ান প্যাসেঞ্জার কার্গো লাইনার-স্রোতে ভেসে যাচ্ছে অটো ক্যারিয়ার বারো কিলোমিটার দূরে, পানিতে একটা সাবমারসিবল নামাচ্ছে ব্রিটিশ সার্ভে শিপ।
বিস্ফোরণ ঘটার আগের পরিস্থিতি, মন্তব্য করলেন রেইমন্ড জর্ডান।
মাথা ঝাঁকালেন কার্টিস মিকার। পরের ছবি দুটো বিস্ফোরিণের পর স্কাই কিং থেকে তোলা, সাগরের তলায় ভাঙাচোরা দুটো খোল দেখা যাচ্ছে। তৃতীয় জাহাজটা গায়েব হয়ে গেছে। সাগরের মেঝেতে ওটার এঞ্জিনের কিছু টুকরো-টাকরা ছাড়া আর কিছু অবশিষ্ট ছিল না।
তিনটের মধ্যে কোনটি সেটা? ধীরে ধীরে জানতে চাইলেন রেইমন্ড জর্ডান।
যে দুটো ডুবে গেছে ওগুলোর পরিচয় পেয়েছি আমরা। বোমাটা ছিল জাপানি অটো ক্যারিয়ারে।
একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে চেয়ারে হেলান দিলেন রেইমন্ড জর্ডান। জাপানের কাছে অ্যাটম বোমা আছে, খবরটা আমার জন্যে বড় কোন বিস্ময় নয়। কারণ বহু বছর ধরেই বোমা বানাবার টেকনলজি ওদের হাতে রয়েছে।
প্রথম আভাস পাওয়া যায় ওরা যখন একটা নিকুইড মেটাল ফাস্ট-ব্রীডার রিয়্যাক্টর বানায়। ফিশনিং উইথ ফাস্ট নিউট্রনস, দ্য ব্রীডার ক্রিয়েটস মোর পুটোনিয়াম ফুয়েল দ্যাট ইট বার্নস। পারমাণবিক অস্ত্র বানাবার প্রথম পদক্ষেপ।
এবার মরীচিৎকার পিছনে ছোটো-কুঁজে বার করো কোথায় আছে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কারখানা! তিক্তকণ্ঠে বললেন রেইমন্ড জর্ডান।
জাপানিরা আমাদেরকে বোকা বানিয়েছে, মন্তব্য করলেন কার্টিস মিকার।
আমার কেন যেন মনে হয় জাপানের সরকারি নেতারাও এ ব্যাপারে কিছু জানেন না।
ওদের প্রোডাকশন ফ্যাসিলিটি মাটির ওপর হলে আমাদের নতুন স্যাটেলাইট ডিটেকশন ইকুইপমেন্ট ওগুলোর খবর ঠিকই পেয়ে যেত।
অদ্ভুত ব্যাপার, ওদের কোন এলাকাতেই অস্বাভাবিক রেডিও অ্যাকটিভিটি ধরা পড়েনি।
আমরা শুধু ওদের ইলেকট্রিক্যাল পাওয়ার রিয়্যাক্টরগুলোর কথা জানি, আর জানি একটা নিউক্লিয়ার ওয়েস্ট ডাম্প সম্পর্কে উপকূল শহর রোকোটার কাছে।
