অ্যাল সামনে বাড়ল, সাথে ওয়েন মারফি অর্থাৎ সাংহাই শেলির মালিকও। রয়েছেন। মালিকের দিকেই তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালেন অ্যাডমিরাল। হ্যালো, ওয়েন। ভাবিনি এখানে তোমার সাথে দেখা হবে আমার।
ঠোঁটে মৃদু হাসি, অ্যাডমিরালের সাথে করমর্দন করলেন ওয়েন মারফি। আমারও তো সেই কথা, জেমস। তোমাকে দেখে ভারি খুশি লাগছে আমার। ইঙ্গিতে নুমার টিমটাকে দেখালেন তিনি, ওদেরকে ঘিরে দাঁড়িয়ে রয়েছে সবাই, এবার হয়তো কেউ আমাকে জানাবে কাল আলো ও বজ্রপাতের যে প্রদর্শনীটা দেখলাম, আসলে সেটা কি ছিল কারাই বা দায়ী। আরও জানতে পারব, এরা সবাই সাগরের মাঝখানে হাবুডুবু খাচ্ছিল কেন।
সরাসরি জবাব দিলেন না, অ্যাডমিরাল। ডেকের চারদিকে তাক আনা পালগুলো দেখলেন। এটা আসলে কি দেখছি আমরা?
এটা একটা চাইনিজ জাংক, শখ করে বানিয়েছি। হংকং থেকে হনলুলু যাচ্ছি আমরা, ওখান থেকে যাব সান ডিয়াগো।
পরস্পরকে আপনারা চেনেন? অবশেষে জানতে চাইল অ্যাল।
মাথা ঝাঁকালেন অ্যাডমিরাল স্যানডেকার। নেভিতে একই সাথে নাম লেখাই আমরা, কিন্তু পরে রিজাইন করে ও। ইলেকট্রনিকস্-এর ব্যবসা করে প্রচুর কামিয়েছে, ইউএস ট্রেজারিতে যত টাকা আছে, তারচেয়ে বেশি আছে ওয়েন মারফির কাছে।
বাড়িয়ে বলার দোষটা তোমার এখনও তাহলে আছে! লাজুক হাসি দেখা গেল ওয়েন মারফির ঠোঁটে।
হঠাৎ গম্ভীর হয়ে উঠলেন অ্যাডমিরাল। বেস-এর শেষ খবর কি, অ্যাল?
ওটা বোধহয় হারিয়েছি আমরা, শান্তস্বরে জবাব দিল অ্যাল। আমাদের অবশিষ্ট সাব থেকে আন্ডারওয়াটার টেলিফোনে সাড়া পাবার চেষ্টা করা হয়েছিল, কিছু শোনা যায়নি। হ্যারিসের ধারণা, বেস থেকে আমরা বেরিয়ে আসার একটু পরই প্রচণ্ড শক ওয়েভ আঘাত করেছিল। আপনাকে আমি আগেই জানিয়েছি, সাব দুটোয় আমাদের সবার জায়গা হয়নি। পিট ও ব্রিটিশ মেরিন সায়েন্টিস্ট ভদ্রলোক স্বেচ্ছায় নিচে থাকার সিদ্ধান্ত নেন।
ওদেরকে বাঁচানোর জন্যে কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে?
মাথা নিচু করল অ্যাল। দুঃখিত, অ্যাডমিরাল করার মত কিছু নেই আমাদের।
কে আমার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছে? অ্যাল? অ্যাল জিওর্দিনো? ডার্ক পিটের ঘনিষ্ঠ বন্ধু? প্রচন্ড গর্জে উঠলেন অ্যাডমিরাল, অ্যাল? সে-ই তুমি ওকে সাগরের সাড়ে পাঁচ হাজার মিটার নিচে রেখে এসে বলছ, ওকে উদ্ধার করার জন্যে কিছুই তোমার করার নেই? কেন, তুমি না বললে ব্যাকআপ সাবমারসিবল নিয়ে ফিরে যাবে?
বলেছিলাম ডেভ বাতিল ব্যাটারি নিয়ে উঠে আসার আগে। প্রথমটা ডুবে গেছে, দ্বিতীয়টা অচল, এখন আপনিই বলুন কি করার আছে আমাদের।
অ্যাডমিরাল চেহারা নরম হলো। মাথা থেকে পানামা স্ট্র হ্যাঁ নামিয়ে পায়চারি শুরু করলেন তিনি। পিটকে তিনি আপন সন্তানের মত ভালবাসেন। অ্যালের সামনে দাঁড়ালেন একবার। ব্যাটারি মেরামত করা যায় না?
ইঙ্গিতে সাবমারসিবলটা দেখার অ্যাল, বিশ মিটার দূরে ঢেউয়ের মাথায় দুলছে।চেষ্টার কোন ত্রুটি করছে না ডেভ, তবে আশা না করাই ভাল।
কেউ যদি দায়ী হয় তো আমি, মন খারাপ করে বললেন ওয়েন মারফি।
অ্যাাল বলল, আমার ধারণা, এখনও বেঁচে আছে পিট। সহজে মরার লোক নয় সে।
তার দিকে কটমট করে তাকালেন অ্যাডমিরাল, মাথার চুলে আঙুল চালাচ্ছেন।
অ্যাল বলল, এখানে যদি আমরা আরেকটা সাব আনতে পারি…।
ডীপ কোয়েস্ট দশ হাজার মিটার নিচে নামতে পারে, বললেন অ্যাডমিরাল, রেইলিঙের সামনে চলে এলেন। লস অ্যাঞ্জেলস হারবারে আমাদের ডকে রয়েছে ওটা। হাতঘড়ির ওপর চোখ বুলালেন। নিয়ে আসতে আট ঘণ্টার মত লাগবে।
কিভাবে আনবে? জানতে চাইলেন ওয়েন মারফি।
এয়ার ফোর্স সি-ফাইভে করে।
তুমি বলছ, একটা বারো টন সাবমারসিবলকে এরোপ্লেন বা হেলিকপ্টার থেকে পানিতে নামাবে?
তাছাড়া উপায় কি! বোটে করে আনতে এক সপ্তাহ লেগে যাবে।
তবু তোমাদের একটা সাপোর্ট শিপ লাগবে বলে মনে হয়, বললেন ওয়েন। তুমি চাইলে আমাদের সাংহাই শেলিকে কাজে লাগাতে পারো।
বন্ধুর কাঁধে একটা হাত রাখলেন অ্যাডমিরাল। তোমার জাহাজটাকে যদি ফ্লিট কমান্ড শিপ হিসেবে কাজে লাগানো যায়, ভারি উপকার হবে। নুমার তরফ থেকে অসংখ্য ধন্যবাদ, ওয়েন।
ফ্লিট? তার মানে?
কেন, জানো না ইউএস নেভির অর্ধেক জাহাজ চারদিক থেকে ছুটে আসছে এদিকে? জানতে চাইলেন অ্যাডমিরাল, যেন ধরেই নিয়েছেন, রেইমন্ড জর্ডান গোপনে তাঁকে যে ব্রিফ করেছেন সে কথা কারও অজানা নেই। এই মুহূর্তে যদি এখানে ওদের একটা নিউক্লিয়ার সাবমেরিন মাথা তোলে, একটুও অবাক হব না। বিশ কিলোমিটার দূরে রয়েছে অ্যাটাক সাবমেরিন টাকসন। পানির চারশো মিটার নিচে দিয়ে ছুটে আসছে সাংহাই শেলির দিকে। সাবমেরিনের কমান্ডার, বিউ মরটন পার্ল হারবারে থাকার সময় নির্দেশ পেয়েছেন, বিস্ফোরণ এলাকায় যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পৌঁছতে হবে তাকে। ওখানে পৌঁছে আন্ডারওয়াটার রেডিওলজিক্যাল কনটামিনেশন সম্পর্কে পরীক্ষা চালাতে হবে, ভাসমান কোন আবর্জনা থাকলে নিরাপদে তুলে নিতে হবে সাবমেরিনে। একটা বাল্কহেডের গায়ে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন বিউ মরটন, এক হাতে খালি একটা কাপ, তাকিয়ে আছেন ন্যাভাল রেডিওলজিক্যাল ডিফেন্স ল্যাবরেটরির কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার স্যাম হাউজারের দিকে। নেভির বিজ্ঞানী ভদ্রলোকে বিউ মরটনের উপস্থিত সম্পর্কে সচেতন বলে মনে হল না। নিজের কাজে মগ্ন তিনি। সাবমেরিনের পিছনে লেজের মত লম্বা হয়ে আছে যন্ত্রপাতি ঠাসা একাধিক প্রোব, রেডিও-কেমিক্যাল ইনস্ট্রমেন্ট ও কমপিউটারের সাহায্যে ছবিটা ও গামা-র মাত্রা ও ঘনত্ব মনিটর করছেন তিনি।
