সরাসরি মেয়েটার চোখে তাকালো ডার্ক। হ্যাঁ, এখানে আমরা সবাই আমেরিকান।
হাবভাব দেকে মনে হলো, পিটকে যেন ভয় পাচ্ছে স্টেসি, একটা হরিণ যেমন পাহাড়ী সিংহকে ভয় পায়। অথচ প্রবল একটা আকর্ষণও বোধ করছে। জ্ঞান হারাবার আগে অদ্ভুত একটা সাবমারসিবলে আপনাকেই আমি দেখেছিলাম।
ওটা ছিল ডিএসএমভি, ডীপ সী মাইনিং ভেসেল। আমরা ওটাকে বিগ জন বলি। সাগর থেকে জিওলজিক্যাল নমুনা সংগ্রহ করাই ওটার কাজ।
এটা একটা আমেরিকান মাইনিং উদ্যোগ? গলায় অবিশ্বাস, জানতে চাইলেন প্লাঙ্কেট।
হাসল পিট। অত্যন্ত গোপনীয় একটা উদ্যোগ–সাগরতলে মাইনিং এবং সার্ভে প্রজেক্ট, টাকা দিচ্ছে মার্কিন সরকার। প্রায় আট বছর হতে চললো প্রকল্পটার বয়স।
নাম কি এই প্রকল্পের?
আমরা বলি, সগি একর।
এধরনের একটা প্রজেক্ট গোপন বা ক্লাসিফায়েড হয় কি করে? জানতে চাইলেন ড. স্যালাজার। সারফেসে নিশ্চয়ই আপনাদের সাপোর্ট ভেহিকের আছে স্যাটেলাইট বা আশপাশের জাহাজ থেকে ওটাকে দেখা যাবে।
সাগরের তলায় সচল এই আবাসটি আমাদের স্বয়ংসম্পূর্ণ, বলল পিট। হাই টেক লাইফ সাপোর্ট সিটে আমাদেরকে সাগরের পানি থেকে অক্সিজেন সাপ্লাই দিচ্ছে। ডিস্যালিনেশন ইউনিট যোগান দিচ্ছে সুপেয় পানি। হাইড্রোথারম্যাল ডেন্টস থেকে পাচ্ছি উত্তাপ। খাবার যোগান দিচ্ছে শামুক, চিংড়ি আর কাঁকড়া। আলট্রাভায়োলেট লাইটে গোসল করি, নিজেদের ধুয়ে নিই অ্যান্টিসেপটিক শাওয়ারে, ফলে জীবাণুমুক্ত থাকা কোন সমস্যা নয়। কোন সাপ্লাই বা ইকুইপমেন্ট আমরা নিজেরা যদি যোগাড় করতে না পারি, আকাশ থেকে সাগরে ফেলা হয় সেটা, সাগরের তলা থেকে সংগ্রহ করে নিই আমরা। সদস্যদের কাউকে যদি ফেরত পাঠাবার দরকার হয়, আমাদের একটা সাবমারসিবল সারফেসে উঠে যায়, সেখানে দেখা হয় জেট-পাওয়ারড ফ্লাইং বোটের সাথে।
বিস্মিত হলেও, ধীরে ধীরে মাথা ঝাঁকালেন প্লাঙ্কেট। স্বপ্ন দেখতে ভালবাসেন তিনি, তাঁর জানার কথা এ-ধরনের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেয়া অসম্ভব নয়।
বাইরের দুনিয়ার সাথে যোগাযোগ রাখার জন্যে নিশ্চয়ই চমৎকার একটা পদ্ধতি আছে আপনাদের? জানতে চাইলেন ড. স্যালাজার।
তার জড়ানো একটা সারফেস রিলে বয়া সাহায্য করে। আমরা ট্রান্সটি ও রিসিভ করি ভাষা স্যাটেলাইট।
পানির নিচে কতদিন আছেন আপনারা?
দুমাসের উপর হলো আমরা কেউ সূর্য দেখিনি।
এত গভীরে রিসার্চ স্টেশন চালু করার মতো টেকনলজি আছে আমেরিকানদের, আমার ধারণা ছিল না। একদৃষ্টে কফির কাপে তাকিয়ে আছেন প্লাঙ্কেট।
কাঁধ ঝাঁকাল পিট, কোন মন্তব্য করল না।
সব মিলিয়ে কতজন ক্রু আপনার?
উত্তর দেয়ার আগে কাপে চুমুক দিল পিট। বেশি নয়, বারোজন পুরুষ, দুজন মেয়ে।
দেখতে পাচ্ছি এখানেও মেয়েদেরকে তাদের সেই পুরানো কাজই করতে হয়, কণ্ঠে সামান্য ব্যঙ্গ, গ্যালির দিকে তাকিয়ে বলল স্টেসি, ওদিকে একটি স্বর্ণকেশী মেয়ে তরকারি কাটাবাছা করছে।
ক্রুরা সবাই ভলান্টিয়ার হিসেবে এসেছে, সারাও, বলল পিট। কমপিউটার সায়েন্সে মাস্টার ডিগ্রি আছে ওর, কমপিউটর সেকশনের দায়িত্বও পালন করে। আমরা সবাই একই সাথে দুটো করে দায়িত্ব পালন করি।
অপর মেয়েটি বোধহয় চাকরানী ও ইকুইপমেন্ট মেকানিক?
ক্ষীণ হাসল পিট। প্রায় ঠিক ধরেছেন। জিল আমাদের মেরিন ইকুইপমেন্ট এঞ্জিনিয়ার, আবার আমাদের রেসিডেন্ট বায়োলজিস্টও আর, আপনার জায়গায় আমি হলে, নারী স্বাধীনতা সম্পর্কে ওকে কোন উপদেশ দিতাম না। মিস কলোরাডো বডি-বিল্ডিং কমপিটিশনে প্রথম হয়েছে ও।
একটা জিনিস ব্যাখ্যা করা হলে খুশি হব আমি, বললেন প্লাঙ্কেট। আপনারা জানলেন কিভাবে যে আমরা বিপদে পড়েছি বা কোথায় আমাদের পাওয়া যাবে?
বিগ জন্ থেকে গোল্ড-ডিটেকশন সেনসর পড়ে গিয়েছিল কোথাও, সেটা খোঁজার জন্যে ফিরে আসছিলাম আমি আর অ্যাল, এই সময় আপনাদের আন্ডারওয়াটার ফোনের রেঞ্জে চলে আসি।
অস্পষ্ট হলেও আপনাদের ডিসট্রেস কল শুনতে পাই আমরা, বলল অ্যাল।
প্রথমে আপনাদেরকে অক্সিজেন সাপ্লাই দেই, বলল পিট, তারপর বিগ জনের ম্যানিপুলেটর আর্মস আপনাদের সাবমারসিবলের লিপট হুকে আটকাই, ওটাকে তুলে আনি আমাদের ইকুইপমেন্ট চেম্বারে, প্রেশার এয়ারলকের ভেতর দিয়ে।
আপনারা আমাদের ওল্ড গার্টকে রক্ষা করেছেন? হঠাৎ বলে প্লাঙ্কেট।
চেম্বারে গেলেই দেখতে পাবেন।
বলুন তো, কত তাড়াতাড়ি আমাদেরকে সাপোর্ট শিপে পৌঁছে দেয়া যাবে? ঠিক প্রশ্ন নয়, যেন দাবি জানালেন ড. স্যালাজার।
দুঃখিত, দেরি হবে, বলল পিট।
আমাদের সাপোর্ট শিপকে জানানো দরকার যে আমরা বেঁচে আছি, বলল স্টেসি, প্রতিবাদের সুরে। নিশ্চয়ই আপনারা ওটার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন?
অ্যালের সাথে দৃষ্টি বিনিময় করল পিট। আপনাদেরকে উদ্ধার করতে আসার পথে একটা বিধ্বস্ত জাহাজকে পাশ কাটিয়ে এসেছি আমরা, সম্প্রতি নেমে এসেছে সাগরে তলায়।
না, ওটা ইনভিনসিবল হতে পারে না!
অ্যাল বলল, দেখে মনে হলো, প্রচণ্ড কোন বিস্ফোরণে বিধ্বস্ত হয়েছে। কেউ বেঁচেছে বলে মনে হয় না।
আমরা যখন নিচে নামি, আশপাশে আরও দুটো জাহাজ ছিল, বললেন প্লাঙ্কেট। আপনারা সম্ভত ওই দুটোর একটাকে দেখেছেন।
বলা কঠিন। পিটকে চিন্তিত দেখাল। ওপরে কিছু একটা ঘটেছে। গোটা মহাসাগর লাফিয়ে উঠেছিল। তদন্ত করার সময় পাইনি আমরা।
