ক্যালিফোর্নিয়া?
না, মন্টানা সীমান্তের কাছাকাছি।
কয়েক মুহূর্ত বিরতি, তারপর ডিরেক্টর রজার স্টিভেনসন বললেন, আশ্চর্য! ওদিকটা তো অ্যাকটিভ কোয়েক জোন-এর মধ্যে পড়ে না।
এটা কৃত্রিম, স্যার।
বিস্ফোরণ?
বড় ধরনের। ইনটেনসিটি স্কেল দেখে যতটুকু বুঝতে পারছি, নিউক্লিয়ার বলেই মনে হচ্ছে।
গড, বিড় বিড় করলেন ডিরেক্টর। তুমি নিশ্চিত?
এ-সব ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া কি সম্ভব, স্যার?
কিন্তু ওদিকটায় তো কখনোই টেস্ট করে নি পেন্টাগন।
না, আমাদেরকে সতর্ক করা হয় নি।
তাহলে ওরা নয়।
কী করব বলুন তো। নিউক্লিয়ার রেগুলেটরি কমিশনের সাথে যোগাযোগ করব?
ডিরেকটর স্টিভেনসন কয়েক মুহূর্ত চিন্তা করে বললেন লাফ দিয়ে ওদেরকে টপকাও, কথা বলল, ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সির হাঙ্ক-এর সাথে। জিজ্ঞেস করো, আসলে কী ঘটছে।
কিন্তু হাঙ্ক সয়ের যদি কিছু না বলেন?
কার কি আসে যায়? রহস্যটা ওদের কোলে ফেলে দিয়ে খালাস হতে চাই আমরা। ক্যালিফোর্নিয়ায় বড় একটা ভূমিকম্প হতে যাচ্ছে, ওদিকটায় মনোযোগ দিতে হবে আমাদের।
যা জানেন না তা বলবেন কীভাবে হাঙ্ক সয়ের? তবে কোনোটা জাতীয় সংকট কোনোটা নয়, এটুকু উপলব্ধি করার বুদ্ধি তার আছে। সোর্সের কাছে আরও তথ্য চাইলেন তিনি, দেরি না করে খবরটা পাঠিয়ে দিলেন জাতীয় নিরাপত্তা কমিশন–এর ডিরেক্টরের কাছে।
রাজনৈতিক বৈঠকে যোগ দেয়ার জন্যে সানফ্রানসিসকোয় যাবেন প্রেসিডেন্ট, এয়ারফোর্স ওয়ান-এ রয়েছেন তিনি, এ সময় জর্ডানের ফোন পেলেন। পরিস্থিতি ভালো, রেই? জানতে চাইলেন তিনি।
মন্টানা সীমান্তের কাছে পারমাণবিক বিস্ফোরণের খবর পেয়েছি আমরা, জবাব দিলেন রেইমন্ড জর্ডান।
ড্যাম! নিঃশ্বাসের সঙ্গে বিড় বিড় করলেন প্রেসিডেন্ট। আমাদের না ওদের?
অবশ্যই আমাদের নয়। এ সম্ভবত গাড়ি বোমাগুলোর একটা।
হতাহতের খবর?
নগণ্য। ফাঁকা ল্যাঞ্চল্যান্ডে বিস্ফেরণ ঘটেছে, লোকবসতি নেই বললেই চলে।
পরবর্তী প্রশ্নটা ভয়ে ভয়ে করলেন প্রেসিডেন্ট, আরো বিস্ফোরণের কোনো খবর বা লক্ষণ?
না, স্যার। আপাতত ওই একটার কথাই জানি আমরা।
আমাকে বলা হয়েছিল কেইটেন প্রজেক্ট আটচল্লিশ ঘণ্টা পিছিয়ে গেছে।
গেছে, রেইমন্ড জর্ডান জোর দিয়ে বললেন। কোড রিপ্রোগ্রাম করার মতো যথেষ্ট সময় এখনো ওরা পায় নি।
তাহলে ব্যাখ্যা করো।
পার্সিভাল ন্যাশর সাথে কথা বলেছি আমি। তার ধারনা, একেবারে কাজ থেকে হাই-পাওয়ারড রাইফেল দিয়ে ডিটোনেট করা হয়েছে বোমাটা।
রোবটের সাহায্যে?
না গুলি ছুঁড়েছে একজন লোক।
তার মানে আত্মহত্যার প্রবণতা ওদের মধ্যে এখনো আছে?
তাই তো মনে হচ্ছে।
কেন রেই? এভাবে কাউকে আত্মহত্যা করানোর পেছনে ওদের উদ্দেশ্যে কী?
সম্ভবত আমাদেরকে সাবধান করে দেওয়াই উদ্দেশ্য। সুমা যে আমাদের কাছে, এটা ওরা যুক্তি দিয়ে বুঝে নিয়েছে। আমরা পারমাণবিক আঘাত হেনে ড্রাগন সেন্টার ধ্বংস করে দিতে পারি, ওরা জানে। গাড়ি-বোমা ফাটাবার যোগ্যতা ওদের আছে, ওরা ধরে নিয়েছে এটা প্রমাণ করতে পারলে আমরা সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগব, এ সুযোগে ডিটোনেশন কোড রিপোগ্রাম করে নেবে ওরা। সবগুলো বোমা যাতে একসাথে ফাটাতে পারে।
হুম।
সমস্ত যুক্তি ও অজুহাত আমাদের পক্ষে, স্যার, রেই জর্ডান বললেন।
পারমাণবিক আক্রমণে কোন বাধা নেই।
ঠিক, কিন্তু নিরেট প্রমাণ কি আছে আমাদের হাতে, কী করে বুঝব কেইটেন। প্রজেক্ট অপারেশন্যাল নয়? এমন হতে পারে না অসম্ভবকে সম্ভব করেছে জাপানিরা, এরই মধ্যে তৈরি করে নিয়েছে কোড? এমন যদি হয়, ওরা ধোকা দিচ্ছে না?
না, নিরেট কোন প্রমাণ আমাদের হাতে নেই, রেইমন্ড জর্ডান স্বীকার করলেন।
সোসেকি দ্বীপের দিকে একটা ওয়ারহেড মিসাইল ছুটে আসছে, টের পেয়ে গেল ড্রাগন সেন্টারের কন্ট্রোলাররা, তখন ওদের একমাত্র কাজ হবে সেই মুহূর্তে গাড়ি বোমাগুলো একসাথে ফাটিয়ে দেয়া। রোবট ওগুলোকে টার্গেট এলাকায় নিয়ে যাবার আগেই, যেখানে যে অবস্থায় আছে।
সেটা হবে ভয়ঙ্কর একটা ব্যাপার, মি. প্রেসিডেন্ট। বেশিরভাগ গাড়ি লুকানো আছে মেট্রোপলিটান শহরগুলোর মাঝখানে।
গাড়িগুলোকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব খুঁজে বের করে বোমাগুলো অকেজো করতে হবে, রেই। এই আতঙ্কের কথা পাবলিককে আমরা জানাতে পারি না, অন্তত এখন আর তা সম্ভব নয়।
এফবিআই এজেন্টদের একটা বিরাট বাহিনী কাজে নেমে পড়েছে।
তারা কি জানে বোমাগুলো কীভাবে অকেজো করতে হবে?
প্রতিটি টীমে একজন করে নিউক্লিয়ার ফিজিসিস্ট আছেন।
রেইমন্ড জর্ডান প্রেসিডেন্টের চেহারায় ফুটে ওঠা উদ্বেগের রেখাগুলো দেখতে পেলেন না। এটাই আমাদের শেষ সুযোগ, রেই, বললেন প্রেসিডেন্ট।
আমি জানি, মি. প্রেসিডেন্ট। কাল এ সময় আমরা জানব দুনিয়ার মানুষ জাপানিদের ক্রীতদাসে পরিণত হতে যাচ্ছে কিনা।
.
এফবিআই টিমটা লাস ভেগাসে পৌঁছুল। নির্দিষ্ট এক হোটেলের আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিং এরিয়ার ভল্টে একটা গাড়ি-বোমা আছে, জানে তারা। টিমের নেতৃত্ব দিচ্ছে বিল ফ্রিক।
কোথাও কোনো গার্ড নেই, ইস্পাতের দরজাটাও ভোলা। লক্ষণ সুবিধের নয়, ভাবল ফ্রিক। সিকিউরিটি সিস্টেম অফ করে রাখা হয়েছে, ইলেকট্রনিক্স এক্সপার্ট জানালোর আরো উদ্বিগ্ন হয়ে উঠল ফ্রিক।
